
ডেস্ক, রাজনীতি ডটকম

ভারতে গত চার দশকে উচ্চশিক্ষার প্রসার ব্যাপক পরিসরে ঘটলেও সে অনুপাতে কর্মসংস্থান তৈরি না হওয়ায় এখন দেশটির বেকার তরুণদের বড় অংশই বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রিধারীতে পরিণত হয়েছে। নতুন এক গবেষণা বলছে, বর্তমানে দেশটিতে প্রতি তিনজন বেকার তরুণের মধ্যে প্রায় দুজনই স্নাতক। অথচ চার দশক আগে ১৯৮৩ সালে এই অনুপাত ছিল প্রতি আটজনে মাত্র একজন।
আজিম প্রেমজি বিশ্ববিদ্যালয় প্রকাশিত ‘স্টেট অব ওয়ার্কিং ইন্ডিয়া ২০২৬’ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০ থেকে ২৯ বছর বয়সী স্নাতকের সংখ্যা ১৯৮৩ সালের ৫০ লাখ থেকে বেড়ে এখন ছয় কোটি ৩০ লাখে পৌঁছেছে। একই সময়ে বেকার স্নাতকের সংখ্যা সাত লাখ থেকে বেড়ে হয়েছে প্রায় এক কোটি ১০ লাখ। অর্থাৎ চার দশকে স্নাতকের সংখ্যা ১৩ গুণ বাড়লেও বেকার স্নাতকের সংখ্যা বেড়েছে ১৬ গুণ।
ওই গবষণার বিস্তারিত তুলে ধরে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ইন্ডিয়া টুডে। তাতে বলা হয়েছে, ২৫ বছরের কম বয়সী স্নাতকদের বেকারত্বের হার গত চার দশকে প্রায় অপরিবর্তিত রয়েছে। ১৯৮৩ সালে এ হার ছিল ৩৫ শতাংশ, যা ২০২৩ সালে দাঁড়িয়েছে ৩৯ দশমিক ৩ শতাংশে। অর্থাৎ এ সমস্যাটি নতুন নয়, তবে এখন অনেক বেশি সংখ্যক তরুণ এই বেকারত্বের মধ্যে আটকে পড়ছেন।

২৫ থেকে ২৯ বছর বয়সী স্নাতকদের চিত্র আরও উদ্বেগজনক। এ বয়সী স্নাতকদের বেকারত্বের হার ১২ দশমিক ২ শতাংশ থেকে বেড়ে ২০ শতাংশে পৌঁছেছে। ফলে চাকরির অপেক্ষা এখন আগের তুলনায় আরও দীর্ঘ হচ্ছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উচ্চশিক্ষায় প্রবেশের সুযোগ বাড়ানো ভারতের একটি বড় অর্জন। ১৯৮৩ সালে ২০-২৯ বছর বয়সীদের মধ্যে মাত্র ৪ শতাংশ স্নাতক ছিলেন। বর্তমানে সেই হার বেড়ে হয়েছে ২৮ শতাংশ। বিশেষ করে নারীদের উচ্চশিক্ষায় অংশগ্রহণ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
তবে কর্মসংস্থানের বাজার সেই গতিতে সম্প্রসারিত হয়নি। ২০০৪ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে প্রতি বছর গড়ে প্রায় ৫০ লাখ নতুন স্নাতক শ্রমবাজারে প্রবেশ করেছেন। কিন্তু তাদের মধ্যে মাত্র ২৮ লাখ কোনো না কোনো ধরনের কাজ পেয়েছেন। আর স্থায়ী বেতনভিত্তিক চাকরি পেয়েছেন গড়ে মাত্র ১৭ লাখ।
গবেষণায় আরও দেখা গেছে, এক বছর ধরে অনুসরণ করা বেকার তরুণ স্নাতকদের মধ্যে প্রায় অর্ধেক কোনো ধরনের কাজ পেলেও মাত্র ৭ শতাংশ স্থায়ী বেতনভিত্তিক চাকরি পান। আর হোয়াইট-কলার বা অফিসভিত্তিক পেশায় প্রবেশ করতে পারেন মাত্র ৩ দশমিক ৭ শতাংশ।
রাজ্যভেদেও বেকারত্বের পরিমাণে রয়েছে বড় ব্যবধান। ৩০ বছরের কম বয়সী পুরুষ স্নাতকদের বেকারত্ব দিল্লিতে ৮ দশমিক ৮ শতাংশ হলেও উড়িষ্যায় তা ৪০ দশমিক ৩ শতাংশ। নারী স্নাতকদের ক্ষেত্রে জম্মু ও কাশ্মিরে এই হার ৭৩ দশমিক ৫ শতাংশ, তেলেঙ্গানায় ৫২ দশমিক ৩ শতাংশ ও অন্ধ্র প্রদেশে ৫১ দশমিক ৬ শতাংশ। বিপরীতে জাতীয় পর্যায়ে স্নাতক পুরুষদের বেকারত্ব ২৫ দশমিক ১ শতাংশ এবং নারীদের ৩৬ দশমিক ৬ শতাংশ।
তবে গবেষকরা বলছেন, ডিগ্রির মূল্য এখনো শেষ হয়ে যায়নি। স্নাতকদের গড় বেতন এখনো এর চেয়ে কম ডিগ্রিধারীদের তুলনায় বেশি এবং কর্মজীবনের শুরুতেও তারা তুলনামূলক ভালো আয় করেন। কিন্তু ২০১৭ সালের পর থেকে সেই আয়ের প্রবৃদ্ধি স্থবির হয়ে পড়েছে। ফলে ডিগ্রির আর্থিক সুবিধা পেতে এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, এই দীর্ঘ অপেক্ষার আর্থিক চাপও বহন করছে পরিবারগুলো। ২০২৫ সালে উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের প্রায় ৩৭ শতাংশ শিক্ষার্থী বেসরকারি কোচিংয়ের ওপর নির্ভর করেছে। একজন উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষার্থীর পেছনে পরিবার যেখানে গড়ে ২০ হাজার ১৩০ রুপি স্কুলে ব্যয় করেছে, সেখানে শুধু কোচিংয়েই খরচ হয়েছে আরও ৬ হাজার ৩৮০ রুপি।

এ পরিস্থিতিকে ভারতের ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ডের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করেছে গবেষণাটি। গত জুনে নীতি আয়োগের গভর্নিং কাউন্সিলের বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তরুণদের দেশের সবচেয়ে বড় সম্পদ আখ্যা দিয়ে শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধিতে জোর দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন।
তবে গবেষণার পর্যবেক্ষণ বলছে, ভারত শিক্ষিত তরুণ তৈরি করতে সফল হলেও তাদের জন্য প্রয়োজনীয় মানসম্মত চাকরি এখনো পর্যাপ্ত হারে তৈরি করতে পারেনি।

ভারতে গত চার দশকে উচ্চশিক্ষার প্রসার ব্যাপক পরিসরে ঘটলেও সে অনুপাতে কর্মসংস্থান তৈরি না হওয়ায় এখন দেশটির বেকার তরুণদের বড় অংশই বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রিধারীতে পরিণত হয়েছে। নতুন এক গবেষণা বলছে, বর্তমানে দেশটিতে প্রতি তিনজন বেকার তরুণের মধ্যে প্রায় দুজনই স্নাতক। অথচ চার দশক আগে ১৯৮৩ সালে এই অনুপাত ছিল প্রতি আটজনে মাত্র একজন।
আজিম প্রেমজি বিশ্ববিদ্যালয় প্রকাশিত ‘স্টেট অব ওয়ার্কিং ইন্ডিয়া ২০২৬’ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০ থেকে ২৯ বছর বয়সী স্নাতকের সংখ্যা ১৯৮৩ সালের ৫০ লাখ থেকে বেড়ে এখন ছয় কোটি ৩০ লাখে পৌঁছেছে। একই সময়ে বেকার স্নাতকের সংখ্যা সাত লাখ থেকে বেড়ে হয়েছে প্রায় এক কোটি ১০ লাখ। অর্থাৎ চার দশকে স্নাতকের সংখ্যা ১৩ গুণ বাড়লেও বেকার স্নাতকের সংখ্যা বেড়েছে ১৬ গুণ।
ওই গবষণার বিস্তারিত তুলে ধরে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ইন্ডিয়া টুডে। তাতে বলা হয়েছে, ২৫ বছরের কম বয়সী স্নাতকদের বেকারত্বের হার গত চার দশকে প্রায় অপরিবর্তিত রয়েছে। ১৯৮৩ সালে এ হার ছিল ৩৫ শতাংশ, যা ২০২৩ সালে দাঁড়িয়েছে ৩৯ দশমিক ৩ শতাংশে। অর্থাৎ এ সমস্যাটি নতুন নয়, তবে এখন অনেক বেশি সংখ্যক তরুণ এই বেকারত্বের মধ্যে আটকে পড়ছেন।

২৫ থেকে ২৯ বছর বয়সী স্নাতকদের চিত্র আরও উদ্বেগজনক। এ বয়সী স্নাতকদের বেকারত্বের হার ১২ দশমিক ২ শতাংশ থেকে বেড়ে ২০ শতাংশে পৌঁছেছে। ফলে চাকরির অপেক্ষা এখন আগের তুলনায় আরও দীর্ঘ হচ্ছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উচ্চশিক্ষায় প্রবেশের সুযোগ বাড়ানো ভারতের একটি বড় অর্জন। ১৯৮৩ সালে ২০-২৯ বছর বয়সীদের মধ্যে মাত্র ৪ শতাংশ স্নাতক ছিলেন। বর্তমানে সেই হার বেড়ে হয়েছে ২৮ শতাংশ। বিশেষ করে নারীদের উচ্চশিক্ষায় অংশগ্রহণ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
তবে কর্মসংস্থানের বাজার সেই গতিতে সম্প্রসারিত হয়নি। ২০০৪ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে প্রতি বছর গড়ে প্রায় ৫০ লাখ নতুন স্নাতক শ্রমবাজারে প্রবেশ করেছেন। কিন্তু তাদের মধ্যে মাত্র ২৮ লাখ কোনো না কোনো ধরনের কাজ পেয়েছেন। আর স্থায়ী বেতনভিত্তিক চাকরি পেয়েছেন গড়ে মাত্র ১৭ লাখ।
গবেষণায় আরও দেখা গেছে, এক বছর ধরে অনুসরণ করা বেকার তরুণ স্নাতকদের মধ্যে প্রায় অর্ধেক কোনো ধরনের কাজ পেলেও মাত্র ৭ শতাংশ স্থায়ী বেতনভিত্তিক চাকরি পান। আর হোয়াইট-কলার বা অফিসভিত্তিক পেশায় প্রবেশ করতে পারেন মাত্র ৩ দশমিক ৭ শতাংশ।
রাজ্যভেদেও বেকারত্বের পরিমাণে রয়েছে বড় ব্যবধান। ৩০ বছরের কম বয়সী পুরুষ স্নাতকদের বেকারত্ব দিল্লিতে ৮ দশমিক ৮ শতাংশ হলেও উড়িষ্যায় তা ৪০ দশমিক ৩ শতাংশ। নারী স্নাতকদের ক্ষেত্রে জম্মু ও কাশ্মিরে এই হার ৭৩ দশমিক ৫ শতাংশ, তেলেঙ্গানায় ৫২ দশমিক ৩ শতাংশ ও অন্ধ্র প্রদেশে ৫১ দশমিক ৬ শতাংশ। বিপরীতে জাতীয় পর্যায়ে স্নাতক পুরুষদের বেকারত্ব ২৫ দশমিক ১ শতাংশ এবং নারীদের ৩৬ দশমিক ৬ শতাংশ।
তবে গবেষকরা বলছেন, ডিগ্রির মূল্য এখনো শেষ হয়ে যায়নি। স্নাতকদের গড় বেতন এখনো এর চেয়ে কম ডিগ্রিধারীদের তুলনায় বেশি এবং কর্মজীবনের শুরুতেও তারা তুলনামূলক ভালো আয় করেন। কিন্তু ২০১৭ সালের পর থেকে সেই আয়ের প্রবৃদ্ধি স্থবির হয়ে পড়েছে। ফলে ডিগ্রির আর্থিক সুবিধা পেতে এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, এই দীর্ঘ অপেক্ষার আর্থিক চাপও বহন করছে পরিবারগুলো। ২০২৫ সালে উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের প্রায় ৩৭ শতাংশ শিক্ষার্থী বেসরকারি কোচিংয়ের ওপর নির্ভর করেছে। একজন উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষার্থীর পেছনে পরিবার যেখানে গড়ে ২০ হাজার ১৩০ রুপি স্কুলে ব্যয় করেছে, সেখানে শুধু কোচিংয়েই খরচ হয়েছে আরও ৬ হাজার ৩৮০ রুপি।

এ পরিস্থিতিকে ভারতের ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ডের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করেছে গবেষণাটি। গত জুনে নীতি আয়োগের গভর্নিং কাউন্সিলের বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তরুণদের দেশের সবচেয়ে বড় সম্পদ আখ্যা দিয়ে শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধিতে জোর দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন।
তবে গবেষণার পর্যবেক্ষণ বলছে, ভারত শিক্ষিত তরুণ তৈরি করতে সফল হলেও তাদের জন্য প্রয়োজনীয় মানসম্মত চাকরি এখনো পর্যাপ্ত হারে তৈরি করতে পারেনি।

অন্যদিকে ইরান জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে নতুন নৌ পথ নির্ধারণের বিষয়ে ওমানের সঙ্গে একটি সমঝোতার খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছে তারা। তবে তেহরান স্পষ্ট করে দিয়েছে, এমন কোনো সমঝোতা হলেও প্রণালিটি যুদ্ধ শুরুর আগের অবস্থায় ফিরে যাবে না।
৪ ঘণ্টা আগে
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হামলাকারীরা অনেক বাড়িতে আগুন দিয়েছে। এর মধ্যে একটি বাড়িতে আগুন দিলে পরিবারের সদস্যরা বের হতে পারেননি। ঘরে বন্দি হয়ে আগুনে পুড়ে মৃত্যু হয় ওই বাড়িতে থাকা ছয়জনের।
৪ ঘণ্টা আগে
শ্রীলঙ্কা পুলিশের উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) সঞ্জীবা মেদাওয়াত্তে সাংবাদিকদের জানান, 'সেনাবাহিনী ও এসটিএফ কমান্ডোদের যৌথ সহায়তায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে এবং বন্দিদের আবার তাদের কক্ষে ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে।'
১ দিন আগে
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘বোর্ড অব পিস’ গাজায় যুদ্ধবিরতি চুক্তি বাস্তবায়নে ১৫ দফার একটি রোডম্যাপ প্রকাশ করে। ওই প্রস্তাবে হামাসের নিরস্ত্রীকরণ এবং ধাপে ধাপে ইসরায়েলি বাহিনী প্রত্যাহারের কথা বলা হয়। তবে প্রস্তাবটি এখনও মাঠপর্যায়ে আলোর মুখ দেখেনি।
১ দিন আগে