
ডেস্ক, রাজনীতি ডটকম

ভারতের মধ্যপ্রদেশ রাজ্যের ধার শহরের বাসিন্দা ৭৮ বছর বয়সী মোহাম্মদ রফিকের কাছে ‘কামাল মওলা মসজিদ’ ছিল তার দ্বিতীয় বাড়ির মতো। গত ৫০ বছর ধরে তিনি এই মসজিদে মুয়াজ্জিন হিসেবে আজান দিয়ে আসছিলেন। তার আগে, ১৯৪৭ সালে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসন থেকে ভারতের স্বাধীনতার পূর্ববর্তী সময় থেকে এখানে নামাজ পড়াতেন তার দাদা হাফিজ নাজিরুদ্দিন।
কিন্তু প্রত্নতাত্ত্বিক গুরুত্বসম্পন্ন ও সংরক্ষিত স্মৃতিস্তম্ভ ‘ভোজশালা কমপ্লেক্সে’র মধ্যে অবস্থিত এই মসজিদটি এখন রফিক এবং ধারের অন্যান্য মুসলমানদের জন্য সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ হয়ে গেছে।
মসজিদটি একটি মন্দিরের ওপর নির্মিত হয়েছিল— এমন একটি আবেদনের ওপর শুনানি শেষে গত শুক্রবার মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্ট রায় দিয়েছে যে, এই মধ্যযুগীয় কমপ্লেক্সটি আসলে একজন হিন্দু দেবীর উদ্দেশ্যে উৎসর্গীকৃত একটি মন্দির।
এরপর গত রোববার ১৩-১৪ শতকের এই ঐতিহাসিক স্থাপনাটি গেরুয়া পতাকায় ছেয়ে যায়— যা কট্টরপন্থি হিন্দুত্ববাদী আন্দোলনের প্রতীক। সেখানে পুলিশ মোতায়েনের মধ্যেই বিপুলসংখ্যক হিন্দু উপাসক জড়ো হন, তরুণরা ধর্মীয় গানের তালে তালে নাচেন এবং মুঠোফোনে সেই আচার-অনুষ্ঠানের দৃশ্য ধারণ করেন। স্থানীয় হিন্দুত্ববাদী কর্মীরা সেখানে দেবীর একটি অস্থায়ী মূর্তিও স্থাপন করেছেন।

ধারের এই কামাল মওলা মসজিদটিই একমাত্র উদাহরণ নয়। ২০১৪ সালে নরেন্দ্র মোদি ভারতের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর থেকে কট্টরপন্থি হিন্দুত্ববাদী কর্মীরা দেশের বিভিন্ন প্রান্তে থাকা প্রাচীন মসজিদগুলোকে মন্দিরের ওপর তৈরি বলে দাবি করছেন। এমনকি বিশ্বের অন্যতম সপ্তাশ্চার্য ‘তাজমহল’ও এই হিন্দুত্ববাদী অভিযান থেকে রেহাই পায়নি। তাজমহল কোনো মসজিদ না হলেও এর ১৭ শতকের মুঘল আমলের শিকড়কে কেন্দ্র করে বিতর্ক তৈরির চেষ্টা চলছে।
ভারতের কোটি কোটি মুসলমানের কাছে নিজেদের ধর্মীয় স্মৃতির এই বিলোপ অত্যন্ত বেদনাদায়ক। রফিক অত্যন্ত দুর্বল কণ্ঠে আল জাজিরাকে বলেন, ‘গত শুক্রবার পর্যন্ত আমাদের মসজিদটি আমাদেরই ছিল; কিন্তু আজ এটি আর আমাদের নেই। আমি কখনো স্বপ্নেও ভাবিনি যে এমন কিছু ঘটবে।’
‘মজ্জাগত ইসলামোফোবিয়া’
কামাল মওলা মসজিদ তথা তথাকথিত ভোজশালা কমপ্লেক্সের এই স্থানটি নিয়ে কয়েক দশক ধরে বিরোধ চলছে। ১৯৫০-এর দশকের শেষের দিকে প্রথম হিন্দু জাতীয়তাবাদীরা এই জায়গার ওপর দাবি তুলতে শুরু করে।
ঐতিহাসিক নিদর্শন সংরক্ষণের দায়িত্বে থাকা সরকারি সংস্থা ‘আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অব ইন্ডিয়া’র (এএসআই) ২০০৩ সালের একটি চুক্তি অনুযায়ী, হিন্দুরা প্রতি মঙ্গলবার এই স্থানটি পরিদর্শন করার সুযোগ পেত এবং মুসলমানরা প্রতি শুক্রবার সেখানে জুমা ও অন্যান্য নামাজ আদায় করতে পারত।

কিন্তু বর্তমান আদালতের রায়ে এই স্থানটিকে ‘বাগদেবী’র (সরস্বতী) মন্দির হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে এবং সেখানে হিন্দুদের পূজার অনুমতি দিয়ে মুসলিম সম্প্রদায়ের আবেদনগুলো খারিজ করে দেওয়া হয়েছে। তবে তাদের মসজিদ নির্মাণের জন্য জেলার অন্য কোনো স্থানে বিকল্প জমি খোঁজার অনুমতি দিয়েছে আদালত।
এই রায় দেওয়ার ক্ষেত্রে আদালত দুই বছর আগে এএসআই-এর করা একটি জরিপ প্রতিবেদনের ওপর গভীরভাবে নির্ভর করেছে। হিন্দু পক্ষ এই রায়কে ‘ঐতিহাসিক’ বলে স্বাগত জানালেও, মুসলিম পক্ষ এই রায়কে সুপ্রিম কোর্টে চ্যালেঞ্জ করার ঘোষণা দিয়েছে।
উপমহাদেশের ইতিহাস বিশেষজ্ঞ অড্রে ট্রুশকে এএসআই-এর এই জরিপ প্রসঙ্গে আল জাজিরাকে বলেন, ‘পণ্ডিতরা এমন কার্যপ্রণালী ও নিবিড়তা খোঁজেন যা আন্তর্জাতিক মানের সাথে মেলে। রাজনৈতিকভাবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও নিম্নমানের জরিপের কোনো গ্রহণযোগ্যতা নেই।’
তিনি আরও যোগ করেন, ‘ভারতে বর্তমানে মসজিদগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করার এই প্রবণতা হিন্দু জাতীয়তাবাদের মজ্জাগত ইসলামোফোবিয়ার (ইসলামভীতি) অংশ। এটি মুসলিম সম্প্রদায়কে হয়রানি, হুমকি ও ক্ষতি করার জন্য হিন্দু জাতীয়তাবাদীদের অনেকগুলো উপায়ের একটি। ভারতে মুসলমানদের ধর্মীয় স্বাধীনতা খর্ব করার এই চলমান অভিযান অত্যন্ত উদ্বেগজনক।’
‘সব দাবির দুয়ার খুলে গেছে’
মুসলিম পক্ষের আইনজীবী এবং আদালতের এই রায়ের সমালোচকরা বলছেন, হিন্দুদের পক্ষে রায় দিতে গিয়ে আদালত প্রচলিত নিয়মের বাইরে গিয়ে অতিরিক্ত পদক্ষেপ নিয়েছে।
১৯৩৫ সালের আগস্ট মাসের একটি সরকারি গেজেট নোটিশ পর্যালোচনা করেছে আল জাজিরা। সেখানে তৎকালীন সরকারি কর্মকর্তারা লিখেছিলেন যে, এই কমপ্লেক্সে মুসলমানদের নামাজ পড়ার ক্ষেত্রে কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই এবং তা অব্যাহত থাকবে, কারণ ‘এটি একটি মসজিদ এবং ভবিষ্যতেও এটি মসজিদ হিসেবেই থাকবে।’
কিন্তু আদালত ব্রিটিশ আমলের এই নোটিশটি গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানিয়ে বলেছে, এটি বর্তমান আইনের আগের সময়ের দলিল।
এ ছাড়া হিন্দু পক্ষের দাবি অনুযায়ী লন্ডনের ব্রিটিশ মিউজিয়ামে প্রদর্শিত বাগদেবীর একটি মূর্তি ভারতে ফিরিয়ে আনার বিষয়টি বিবেচনা করতে আদালত ভারত সরকারকে নির্দেশ দিয়েছে। হিন্দু পক্ষের দাবি, এই মূর্তিটি ওই বিতর্কিত স্থানের মন্দিরের।
ব্রিটিশ মিউজিয়ামে এই নিদর্শনটিকে শ্বেতপাথরে খোদাই করা ‘অম্বিকা’ (দেবীর আরেকটি নাম) হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। মিউজিয়ামের বিবরণ অনুযায়ী, এটি পরমার রাজবংশের নিদর্শন এবং ১৮৭৫ সালে ধারের সিটি প্যালেসের ধ্বংসাবশেষ থেকে ব্রিটিশ মেজর জেনারেল উইলিয়াম কিনকায়েড এটি উদ্ধার করেছিলেন।
মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্টে মুসলিমদের পক্ষে লড়া আইনজীবী আশহার ওয়ারসি আল জাজিরাকে বলেন, “মিউজিয়ামের বিবরণের সাথে থাকা মানচিত্রে পরিষ্কার দেখা যায় যে, ‘কামাল মওলা মসজিদ’ এবং ‘সিটি প্যালেস’ দুটি সম্পূর্ণ আলাদা জায়গা হিসেবে চিহ্নিত। ঐতিহাসিক নথি স্পষ্ট প্রমাণ করে যে মূর্তিটি কামাল মওলা মসজিদের স্থান থেকে পাওয়া যায়নি, বিপক্ষ দল এখানে পরিষ্কার মিথ্যা বলছে।”
এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ওয়ারসি আরও বলেন, “এটি একটি ত্রুটিপূর্ণ রায় এবং প্রতিষ্ঠিত আইনের শাসনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।” তিনি ভারতের ১৯৯১ সালের ‘উপাসনালয় আইনে’র (Places of Worship Act) কথা উল্লেখ করেন, যাতে বলা হয়েছে, ১৯৪৭ সালের ১৫ আগস্ট স্বাধীনতার সময়ে যেকোনো ধর্মীয় উপাসনালয় যে অবস্থায় ছিল, তার ধর্মীয় চরিত্র পরিবর্তন করা যাবে না। মূলত নতুন কোনো ধর্মীয় দাবি বা বিতর্ক এড়াতেই এই আইন করা হয়েছিল।
ভারতের হায়দ্রাবাদের পাঁচবারের সংসদ সদস্য আসাদুদ্দিন ওয়াইসি আল জাজিরাকে বলেন, ‘হাইকোর্টের এই সিদ্ধান্ত অযৌক্তিক, কারণ এএসআই এখন হিন্দুত্ববাদী শক্তির হাতের পুতুলে পরিণত হয়েছে। বর্তমান সরকার যদি সব মসজিদকে মন্দিরে রূপান্তর করতে চায়, তবে তা ভারতের সবচেয়ে বড় সংখ্যালঘু সম্প্রদায় মুসলিমদের উপাসনালয়ের জন্য এক মারাত্মক হুমকির বার্তা দেয়।’
তিনি আরও উল্লেখ করেন, মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্টের এই রায়ের মধ্যে ২০১৯ সালে উত্তরপ্রদেশের অযোধ্যায় ১৬ শতকের বাবরি মসজিদ ধ্বংসের পর সুপ্রিম কোর্ট যে রায় দিয়েছিল, তার স্পষ্ট প্রতিধ্বনি পাওয়া যাচ্ছে। ওয়াইসি বলেন, ‘বাবরি মসজিদের রায়ই মূলত এই ধরনের সমস্ত দাবি ও রায়ের দুয়ার খুলে দিয়েছে। এই ধারা কোথায় গিয়ে থামবে? নিশ্চিতভাবেই ধারের কামাল মওলা মসজিদে এটি শেষ হচ্ছে না।’
‘বাবরি মসজিদের পতন ও হিন্দু গৌরব’
ভারতের হিন্দু জাতীয়তাবাদী নেতারা উগ্রপন্থি জনতাকে নেতৃত্ব দিয়ে ১৬ শতকের বাবরি মসজিদটি ধ্বংস করেছিলেন। তাদের দাবি ছিল, প্রথম মুঘল সম্রাট বাবরের আমলে তাদের প্রধান উপাস্য দেবতা ‘রামে’র জন্মস্থানের মন্দিরের ওপর এই মসজিদটি তৈরি করা হয়েছিল।
১৯৪৯ সাল পর্যন্ত মুসলমানরা সেখানে নামাজ পড়তেন, কিন্তু পরবর্তীতে হিন্দু পুরোহিতরা মসজিদের ভেতরে মূর্তি স্থাপন করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। ১৯৯২ সালে মসজিদটি ধ্বংসের পর দেশ জুড়ে হিন্দু-মুসলিম দাঙ্গা ছড়িয়ে পড়ে, যাতে ২ হাজারেরও বেশি মানুষ নিহত হন— যাদের বেশিরভাগই ছিলেন মুসলমান।
দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর, ভারতের সুপ্রিম কোর্ট বিতর্কিতভাবে ওই জমিটি রাম মন্দির নির্মাণের জন্য হিন্দুদের দিয়ে দেয়। ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নিজেই সেই মন্দিরের প্রাণপ্রতিষ্ঠা অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন, যা হিন্দুত্ববাদী আন্দোলনের জন্য একটি বড় বিজয় হিসেবে দেখা হয়। সে সময় মোদি বলেছিলেন, ‘কালের চাকা আবার ঘুরেছে এবং হিন্দুদের গৌরবের দিন ফিরে এসেছে।’
বাস্তবে, অন্যান্য ঐতিহাসিক মসজিদের ওপর একই ধরনের দাবি তোলা মোদির দল বিজেপির রাজনৈতিক প্রচারণার একটি অন্যতম প্রধান ভিত্তি। বাবরি মসজিদ ধ্বংসের পর তাদের স্লোগান ছিল— ‘অযোধ্যা কেবল ঝাঁকি হ্যায়; কাশি, মথুরা বাকি হ্যায়’ (অযোধ্যা তো কেবল শুরু, কাশি ও মথুরা এখনো বাকি)। উত্তরপ্রদেশের এই দুটি শহরে অবস্থিত মসজিদগুলোকেও হিন্দুত্ববাদীরা মন্দির বলে দাবি করে আসছে।
কাশি বা বারাণসী হলো প্রধানমন্ত্রী মোদির নিজস্ব সংসদীয় আসন। ২০২৪ সালে বারাণসীর একটি আদালত রায় দেয় যে, সেখানকার ১৭ শতকের ‘জ্ঞানবাপী মসজিদে’র নিচে হিন্দু মন্দিরের চিহ্ন রয়েছে এবং হিন্দুদের সেখানে পূজা করার অনুমতি দেওয়া হয়। অন্যদিকে, মথুরায় হিন্দু সংগঠনগুলো দাবি করছে যে, মুঘল আমলের ‘শাহী ঈদগাহ মসজিদ’টি যেখানে অবস্থিত, ঠিক সেখানেই তাদের দেবতা ভগবান শ্রীকৃষ্ণ জন্মগ্রহণ করেছিলেন।
এদিকে গত রোববার ধারের বিতর্কিত ভোজশালা কমপ্লেক্সে যখন হিন্দু উপাসকরা জড়ো হন, তখন জেলা প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তা এবং জ্যেষ্ঠ পুলিশ কর্মকর্তারাও সেখানে হিন্দু মূর্তি স্থাপনের ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানে অংশ নেন। এই মামলার অন্যতম পক্ষ এবং স্থানীয় একটি হিন্দু সংগঠনের আহ্বায়ক গোপাল শর্মা আল জাজিরাকে বলেন, রোববারের ওই অনুষ্ঠান তার কাছে একটি উৎসবের মতো মনে হয়েছে।
গোপাল শর্মা বলেন, ‘৭২০ বছরেরও বেশি সময় ধরে আমরা আমাদের দেবীর মর্যাদা ফিরিয়ে আনার জন্য অপেক্ষা করছি, যাকে ইসলামিক শাসকরা অপমান করেছিল এবং তার মন্দির ভেঙে দিয়েছিল।’ তবে ১৩০০ শতাব্দীতে কোনো মুসলিম শাসক সেখানে মন্দির ধ্বংস করেছিলেন— এমন দাবির পক্ষে স্বাধীন কোনো ঐতিহাসিক উৎস খুঁজে পায়নি আল জাজিরা।
তিনি আরও বলেন, “এটি কেবল একটি প্রাচীন স্থাপনার লড়াই ছিল না। এটি ছিল হিন্দু সভ্যতার লড়াই। বাবরি মসজিদের পতনের পর থেকে হিন্দুদের মধ্যে এক ধরনের গৌরববোধ তৈরি হয়েছে। আর সেই আত্মবিশ্বাসই এখন আমাদের দেশে ‘হিন্দু শাসন’ প্রতিষ্ঠা করতে উদ্বুদ্ধ করছে। এত বছর ধরে ভারতে ধর্মনিরপেক্ষ রাজনীতির অজুহাতে তথাকথিত ধর্মীয় সম্প্রীতি সহ্য করা হয়েছে। এখন ভারতে আর ধর্মনিরপেক্ষ রাজনীতি চলে না, এখন চলে মোদির হিন্দুত্ব।”
হায়দ্রাবাদের সংসদ সদস্য আসাদুদ্দিন ওয়াইসি বলেন, মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্ট কামাল মওলা মসজিদের রায় দেওয়ার ক্ষেত্রে বাবরি মসজিদের রায়ের পথই অনুসরণ করেছে। উভয় ক্ষেত্রেই আদালত মুসলিম পক্ষকে সান্ত্বনা হিসেবে মসজিদ তৈরির জন্য বিকল্প জমি দেওয়ার কথা বলেছে।
তিনি আল জাজিরাকে বলেন, ‘বাবরি মসজিদের রায় এবং হাইকোর্টের এই রায়— উভয়ই জনগণের ধর্মীয় বিশ্বাসের ওপর ভিত্তি করে দেওয়া হয়েছে, কোনো প্রমাণ বা ন্যায়ের ভিত্তিতে নয়।’

ভারতের মধ্যপ্রদেশ রাজ্যের ধার শহরের বাসিন্দা ৭৮ বছর বয়সী মোহাম্মদ রফিকের কাছে ‘কামাল মওলা মসজিদ’ ছিল তার দ্বিতীয় বাড়ির মতো। গত ৫০ বছর ধরে তিনি এই মসজিদে মুয়াজ্জিন হিসেবে আজান দিয়ে আসছিলেন। তার আগে, ১৯৪৭ সালে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসন থেকে ভারতের স্বাধীনতার পূর্ববর্তী সময় থেকে এখানে নামাজ পড়াতেন তার দাদা হাফিজ নাজিরুদ্দিন।
কিন্তু প্রত্নতাত্ত্বিক গুরুত্বসম্পন্ন ও সংরক্ষিত স্মৃতিস্তম্ভ ‘ভোজশালা কমপ্লেক্সে’র মধ্যে অবস্থিত এই মসজিদটি এখন রফিক এবং ধারের অন্যান্য মুসলমানদের জন্য সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ হয়ে গেছে।
মসজিদটি একটি মন্দিরের ওপর নির্মিত হয়েছিল— এমন একটি আবেদনের ওপর শুনানি শেষে গত শুক্রবার মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্ট রায় দিয়েছে যে, এই মধ্যযুগীয় কমপ্লেক্সটি আসলে একজন হিন্দু দেবীর উদ্দেশ্যে উৎসর্গীকৃত একটি মন্দির।
এরপর গত রোববার ১৩-১৪ শতকের এই ঐতিহাসিক স্থাপনাটি গেরুয়া পতাকায় ছেয়ে যায়— যা কট্টরপন্থি হিন্দুত্ববাদী আন্দোলনের প্রতীক। সেখানে পুলিশ মোতায়েনের মধ্যেই বিপুলসংখ্যক হিন্দু উপাসক জড়ো হন, তরুণরা ধর্মীয় গানের তালে তালে নাচেন এবং মুঠোফোনে সেই আচার-অনুষ্ঠানের দৃশ্য ধারণ করেন। স্থানীয় হিন্দুত্ববাদী কর্মীরা সেখানে দেবীর একটি অস্থায়ী মূর্তিও স্থাপন করেছেন।

ধারের এই কামাল মওলা মসজিদটিই একমাত্র উদাহরণ নয়। ২০১৪ সালে নরেন্দ্র মোদি ভারতের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর থেকে কট্টরপন্থি হিন্দুত্ববাদী কর্মীরা দেশের বিভিন্ন প্রান্তে থাকা প্রাচীন মসজিদগুলোকে মন্দিরের ওপর তৈরি বলে দাবি করছেন। এমনকি বিশ্বের অন্যতম সপ্তাশ্চার্য ‘তাজমহল’ও এই হিন্দুত্ববাদী অভিযান থেকে রেহাই পায়নি। তাজমহল কোনো মসজিদ না হলেও এর ১৭ শতকের মুঘল আমলের শিকড়কে কেন্দ্র করে বিতর্ক তৈরির চেষ্টা চলছে।
ভারতের কোটি কোটি মুসলমানের কাছে নিজেদের ধর্মীয় স্মৃতির এই বিলোপ অত্যন্ত বেদনাদায়ক। রফিক অত্যন্ত দুর্বল কণ্ঠে আল জাজিরাকে বলেন, ‘গত শুক্রবার পর্যন্ত আমাদের মসজিদটি আমাদেরই ছিল; কিন্তু আজ এটি আর আমাদের নেই। আমি কখনো স্বপ্নেও ভাবিনি যে এমন কিছু ঘটবে।’
‘মজ্জাগত ইসলামোফোবিয়া’
কামাল মওলা মসজিদ তথা তথাকথিত ভোজশালা কমপ্লেক্সের এই স্থানটি নিয়ে কয়েক দশক ধরে বিরোধ চলছে। ১৯৫০-এর দশকের শেষের দিকে প্রথম হিন্দু জাতীয়তাবাদীরা এই জায়গার ওপর দাবি তুলতে শুরু করে।
ঐতিহাসিক নিদর্শন সংরক্ষণের দায়িত্বে থাকা সরকারি সংস্থা ‘আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অব ইন্ডিয়া’র (এএসআই) ২০০৩ সালের একটি চুক্তি অনুযায়ী, হিন্দুরা প্রতি মঙ্গলবার এই স্থানটি পরিদর্শন করার সুযোগ পেত এবং মুসলমানরা প্রতি শুক্রবার সেখানে জুমা ও অন্যান্য নামাজ আদায় করতে পারত।

কিন্তু বর্তমান আদালতের রায়ে এই স্থানটিকে ‘বাগদেবী’র (সরস্বতী) মন্দির হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে এবং সেখানে হিন্দুদের পূজার অনুমতি দিয়ে মুসলিম সম্প্রদায়ের আবেদনগুলো খারিজ করে দেওয়া হয়েছে। তবে তাদের মসজিদ নির্মাণের জন্য জেলার অন্য কোনো স্থানে বিকল্প জমি খোঁজার অনুমতি দিয়েছে আদালত।
এই রায় দেওয়ার ক্ষেত্রে আদালত দুই বছর আগে এএসআই-এর করা একটি জরিপ প্রতিবেদনের ওপর গভীরভাবে নির্ভর করেছে। হিন্দু পক্ষ এই রায়কে ‘ঐতিহাসিক’ বলে স্বাগত জানালেও, মুসলিম পক্ষ এই রায়কে সুপ্রিম কোর্টে চ্যালেঞ্জ করার ঘোষণা দিয়েছে।
উপমহাদেশের ইতিহাস বিশেষজ্ঞ অড্রে ট্রুশকে এএসআই-এর এই জরিপ প্রসঙ্গে আল জাজিরাকে বলেন, ‘পণ্ডিতরা এমন কার্যপ্রণালী ও নিবিড়তা খোঁজেন যা আন্তর্জাতিক মানের সাথে মেলে। রাজনৈতিকভাবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও নিম্নমানের জরিপের কোনো গ্রহণযোগ্যতা নেই।’
তিনি আরও যোগ করেন, ‘ভারতে বর্তমানে মসজিদগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করার এই প্রবণতা হিন্দু জাতীয়তাবাদের মজ্জাগত ইসলামোফোবিয়ার (ইসলামভীতি) অংশ। এটি মুসলিম সম্প্রদায়কে হয়রানি, হুমকি ও ক্ষতি করার জন্য হিন্দু জাতীয়তাবাদীদের অনেকগুলো উপায়ের একটি। ভারতে মুসলমানদের ধর্মীয় স্বাধীনতা খর্ব করার এই চলমান অভিযান অত্যন্ত উদ্বেগজনক।’
‘সব দাবির দুয়ার খুলে গেছে’
মুসলিম পক্ষের আইনজীবী এবং আদালতের এই রায়ের সমালোচকরা বলছেন, হিন্দুদের পক্ষে রায় দিতে গিয়ে আদালত প্রচলিত নিয়মের বাইরে গিয়ে অতিরিক্ত পদক্ষেপ নিয়েছে।
১৯৩৫ সালের আগস্ট মাসের একটি সরকারি গেজেট নোটিশ পর্যালোচনা করেছে আল জাজিরা। সেখানে তৎকালীন সরকারি কর্মকর্তারা লিখেছিলেন যে, এই কমপ্লেক্সে মুসলমানদের নামাজ পড়ার ক্ষেত্রে কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই এবং তা অব্যাহত থাকবে, কারণ ‘এটি একটি মসজিদ এবং ভবিষ্যতেও এটি মসজিদ হিসেবেই থাকবে।’
কিন্তু আদালত ব্রিটিশ আমলের এই নোটিশটি গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানিয়ে বলেছে, এটি বর্তমান আইনের আগের সময়ের দলিল।
এ ছাড়া হিন্দু পক্ষের দাবি অনুযায়ী লন্ডনের ব্রিটিশ মিউজিয়ামে প্রদর্শিত বাগদেবীর একটি মূর্তি ভারতে ফিরিয়ে আনার বিষয়টি বিবেচনা করতে আদালত ভারত সরকারকে নির্দেশ দিয়েছে। হিন্দু পক্ষের দাবি, এই মূর্তিটি ওই বিতর্কিত স্থানের মন্দিরের।
ব্রিটিশ মিউজিয়ামে এই নিদর্শনটিকে শ্বেতপাথরে খোদাই করা ‘অম্বিকা’ (দেবীর আরেকটি নাম) হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। মিউজিয়ামের বিবরণ অনুযায়ী, এটি পরমার রাজবংশের নিদর্শন এবং ১৮৭৫ সালে ধারের সিটি প্যালেসের ধ্বংসাবশেষ থেকে ব্রিটিশ মেজর জেনারেল উইলিয়াম কিনকায়েড এটি উদ্ধার করেছিলেন।
মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্টে মুসলিমদের পক্ষে লড়া আইনজীবী আশহার ওয়ারসি আল জাজিরাকে বলেন, “মিউজিয়ামের বিবরণের সাথে থাকা মানচিত্রে পরিষ্কার দেখা যায় যে, ‘কামাল মওলা মসজিদ’ এবং ‘সিটি প্যালেস’ দুটি সম্পূর্ণ আলাদা জায়গা হিসেবে চিহ্নিত। ঐতিহাসিক নথি স্পষ্ট প্রমাণ করে যে মূর্তিটি কামাল মওলা মসজিদের স্থান থেকে পাওয়া যায়নি, বিপক্ষ দল এখানে পরিষ্কার মিথ্যা বলছে।”
এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ওয়ারসি আরও বলেন, “এটি একটি ত্রুটিপূর্ণ রায় এবং প্রতিষ্ঠিত আইনের শাসনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।” তিনি ভারতের ১৯৯১ সালের ‘উপাসনালয় আইনে’র (Places of Worship Act) কথা উল্লেখ করেন, যাতে বলা হয়েছে, ১৯৪৭ সালের ১৫ আগস্ট স্বাধীনতার সময়ে যেকোনো ধর্মীয় উপাসনালয় যে অবস্থায় ছিল, তার ধর্মীয় চরিত্র পরিবর্তন করা যাবে না। মূলত নতুন কোনো ধর্মীয় দাবি বা বিতর্ক এড়াতেই এই আইন করা হয়েছিল।
ভারতের হায়দ্রাবাদের পাঁচবারের সংসদ সদস্য আসাদুদ্দিন ওয়াইসি আল জাজিরাকে বলেন, ‘হাইকোর্টের এই সিদ্ধান্ত অযৌক্তিক, কারণ এএসআই এখন হিন্দুত্ববাদী শক্তির হাতের পুতুলে পরিণত হয়েছে। বর্তমান সরকার যদি সব মসজিদকে মন্দিরে রূপান্তর করতে চায়, তবে তা ভারতের সবচেয়ে বড় সংখ্যালঘু সম্প্রদায় মুসলিমদের উপাসনালয়ের জন্য এক মারাত্মক হুমকির বার্তা দেয়।’
তিনি আরও উল্লেখ করেন, মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্টের এই রায়ের মধ্যে ২০১৯ সালে উত্তরপ্রদেশের অযোধ্যায় ১৬ শতকের বাবরি মসজিদ ধ্বংসের পর সুপ্রিম কোর্ট যে রায় দিয়েছিল, তার স্পষ্ট প্রতিধ্বনি পাওয়া যাচ্ছে। ওয়াইসি বলেন, ‘বাবরি মসজিদের রায়ই মূলত এই ধরনের সমস্ত দাবি ও রায়ের দুয়ার খুলে দিয়েছে। এই ধারা কোথায় গিয়ে থামবে? নিশ্চিতভাবেই ধারের কামাল মওলা মসজিদে এটি শেষ হচ্ছে না।’
‘বাবরি মসজিদের পতন ও হিন্দু গৌরব’
ভারতের হিন্দু জাতীয়তাবাদী নেতারা উগ্রপন্থি জনতাকে নেতৃত্ব দিয়ে ১৬ শতকের বাবরি মসজিদটি ধ্বংস করেছিলেন। তাদের দাবি ছিল, প্রথম মুঘল সম্রাট বাবরের আমলে তাদের প্রধান উপাস্য দেবতা ‘রামে’র জন্মস্থানের মন্দিরের ওপর এই মসজিদটি তৈরি করা হয়েছিল।
১৯৪৯ সাল পর্যন্ত মুসলমানরা সেখানে নামাজ পড়তেন, কিন্তু পরবর্তীতে হিন্দু পুরোহিতরা মসজিদের ভেতরে মূর্তি স্থাপন করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। ১৯৯২ সালে মসজিদটি ধ্বংসের পর দেশ জুড়ে হিন্দু-মুসলিম দাঙ্গা ছড়িয়ে পড়ে, যাতে ২ হাজারেরও বেশি মানুষ নিহত হন— যাদের বেশিরভাগই ছিলেন মুসলমান।
দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর, ভারতের সুপ্রিম কোর্ট বিতর্কিতভাবে ওই জমিটি রাম মন্দির নির্মাণের জন্য হিন্দুদের দিয়ে দেয়। ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নিজেই সেই মন্দিরের প্রাণপ্রতিষ্ঠা অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন, যা হিন্দুত্ববাদী আন্দোলনের জন্য একটি বড় বিজয় হিসেবে দেখা হয়। সে সময় মোদি বলেছিলেন, ‘কালের চাকা আবার ঘুরেছে এবং হিন্দুদের গৌরবের দিন ফিরে এসেছে।’
বাস্তবে, অন্যান্য ঐতিহাসিক মসজিদের ওপর একই ধরনের দাবি তোলা মোদির দল বিজেপির রাজনৈতিক প্রচারণার একটি অন্যতম প্রধান ভিত্তি। বাবরি মসজিদ ধ্বংসের পর তাদের স্লোগান ছিল— ‘অযোধ্যা কেবল ঝাঁকি হ্যায়; কাশি, মথুরা বাকি হ্যায়’ (অযোধ্যা তো কেবল শুরু, কাশি ও মথুরা এখনো বাকি)। উত্তরপ্রদেশের এই দুটি শহরে অবস্থিত মসজিদগুলোকেও হিন্দুত্ববাদীরা মন্দির বলে দাবি করে আসছে।
কাশি বা বারাণসী হলো প্রধানমন্ত্রী মোদির নিজস্ব সংসদীয় আসন। ২০২৪ সালে বারাণসীর একটি আদালত রায় দেয় যে, সেখানকার ১৭ শতকের ‘জ্ঞানবাপী মসজিদে’র নিচে হিন্দু মন্দিরের চিহ্ন রয়েছে এবং হিন্দুদের সেখানে পূজা করার অনুমতি দেওয়া হয়। অন্যদিকে, মথুরায় হিন্দু সংগঠনগুলো দাবি করছে যে, মুঘল আমলের ‘শাহী ঈদগাহ মসজিদ’টি যেখানে অবস্থিত, ঠিক সেখানেই তাদের দেবতা ভগবান শ্রীকৃষ্ণ জন্মগ্রহণ করেছিলেন।
এদিকে গত রোববার ধারের বিতর্কিত ভোজশালা কমপ্লেক্সে যখন হিন্দু উপাসকরা জড়ো হন, তখন জেলা প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তা এবং জ্যেষ্ঠ পুলিশ কর্মকর্তারাও সেখানে হিন্দু মূর্তি স্থাপনের ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানে অংশ নেন। এই মামলার অন্যতম পক্ষ এবং স্থানীয় একটি হিন্দু সংগঠনের আহ্বায়ক গোপাল শর্মা আল জাজিরাকে বলেন, রোববারের ওই অনুষ্ঠান তার কাছে একটি উৎসবের মতো মনে হয়েছে।
গোপাল শর্মা বলেন, ‘৭২০ বছরেরও বেশি সময় ধরে আমরা আমাদের দেবীর মর্যাদা ফিরিয়ে আনার জন্য অপেক্ষা করছি, যাকে ইসলামিক শাসকরা অপমান করেছিল এবং তার মন্দির ভেঙে দিয়েছিল।’ তবে ১৩০০ শতাব্দীতে কোনো মুসলিম শাসক সেখানে মন্দির ধ্বংস করেছিলেন— এমন দাবির পক্ষে স্বাধীন কোনো ঐতিহাসিক উৎস খুঁজে পায়নি আল জাজিরা।
তিনি আরও বলেন, “এটি কেবল একটি প্রাচীন স্থাপনার লড়াই ছিল না। এটি ছিল হিন্দু সভ্যতার লড়াই। বাবরি মসজিদের পতনের পর থেকে হিন্দুদের মধ্যে এক ধরনের গৌরববোধ তৈরি হয়েছে। আর সেই আত্মবিশ্বাসই এখন আমাদের দেশে ‘হিন্দু শাসন’ প্রতিষ্ঠা করতে উদ্বুদ্ধ করছে। এত বছর ধরে ভারতে ধর্মনিরপেক্ষ রাজনীতির অজুহাতে তথাকথিত ধর্মীয় সম্প্রীতি সহ্য করা হয়েছে। এখন ভারতে আর ধর্মনিরপেক্ষ রাজনীতি চলে না, এখন চলে মোদির হিন্দুত্ব।”
হায়দ্রাবাদের সংসদ সদস্য আসাদুদ্দিন ওয়াইসি বলেন, মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্ট কামাল মওলা মসজিদের রায় দেওয়ার ক্ষেত্রে বাবরি মসজিদের রায়ের পথই অনুসরণ করেছে। উভয় ক্ষেত্রেই আদালত মুসলিম পক্ষকে সান্ত্বনা হিসেবে মসজিদ তৈরির জন্য বিকল্প জমি দেওয়ার কথা বলেছে।
তিনি আল জাজিরাকে বলেন, ‘বাবরি মসজিদের রায় এবং হাইকোর্টের এই রায়— উভয়ই জনগণের ধর্মীয় বিশ্বাসের ওপর ভিত্তি করে দেওয়া হয়েছে, কোনো প্রমাণ বা ন্যায়ের ভিত্তিতে নয়।’

কিউবাকে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একটি ‘জাতীয় নিরাপত্তা ঝুঁকি’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। দেশটির সঙ্গে শান্তিপূর্ণ চুক্তির সম্ভাবনা ‘খুব বেশি নেই’ বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি। কিউবার সাবেক প্রেসিডেন্ট রাউল কাস্ত্রোর বিরুদ্ধে হত্যা মামলার অভিযোগ গঠনের একদিন পরই তিনি এই মন্তব
৫ ঘণ্টা আগে
ভারতের পাঞ্জাবে একটি সন্দেহভাজন গুপ্তচর চক্রের নেটওয়ার্কের সন্ধান পেয়েছে দেশটির পুলিশ। ভারতীয় সেনাবাহিনী ও আধাসামরিক বাহিনীর চলাচলের সংবেদনশীল তথ্য পাকিস্তানের হ্যান্ডলারদের (যোগাযোগকারী) কাছে পাচারের অভিযোগে বলজিৎ সিং ওরফে বিট্টু নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
৬ ঘণ্টা আগে
পোল্যান্ডে সেনা না পাঠানোর সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসে দেশটিতে আরও ৫ হাজার অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন করতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেই এই নতুন সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন। এর মাত্র এক সপ্তাহ আগেই পেন্টাগন পোল্যান্ডে ৪ হাজার সেনা মোতায়েনের একটি পূর্বপরিকল্পনা বাতিল করেছিল। ব্রি
৮ ঘণ্টা আগে
শুনানি শেষে ডিভিশন বেঞ্চ পূর্ববর্তী রায়ের সূত্র ধরে রাজ্য সরকারকে বেশ কিছু নির্দেশনা দেন। আদালত মনে করিয়ে দেন, ‘বিহার রাজ্য বনাম মোহাম্মদ হানিফ কুরেশি’ মামলায় সুপ্রিম কোর্ট পর্যবেক্ষণ দিয়েছিলেন— গরু জবাই ঈদুল আজহার কোনো অপরিহার্য অংশ বা ইসলাম ধর্মের বাধ্যতামূলক ধর্মীয় প্রয়োজনীয়তা নয়।
১০ ঘণ্টা আগে