গাজায় একদিনে ৬৪ ফিলিস্তিনি নিহত, ত্রাণ নিতে গিয়ে ১৩ জনের মৃত্যু

ডেস্ক, রাজনীতি ডটকম
ইসরায়েলের আক্রমণ তীব্রতর হওয়ায় ফিলিস্তিনি পরিবারগুলি গাজা শহর থেকে পালাচ্ছে। ছবি: রয়টার্স

গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় একদিনে ৬৪ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে ত্রাণ নিতে গিয়ে মারা গেছেন ১৩ জন। ইসরায়েলি আক্রমণে গাজা নগরী ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। একই সময়ে, অনাহার ও অপুষ্টিতে আরও তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। গত বছরের অক্টোবর থেকে এখন পর্যন্ত অনাহারে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩০৩ জনে।

সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা বুধবার (২৭ আগস্ট) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।

সংবাদমাধ্যমটি বলছে, ইসরায়েলি সেনারা গাজার সবচেয়ে বড় শহর গাজা নগরীতে আরও গভীরভাবে ঢুকে পড়েছে। পুরো মহল্লা-মহল্লা ধ্বংস করে ফেলা হচ্ছে, ফলে ফিলিস্তিনি পরিবারগুলোর আর কোথাও আশ্রয় নেওয়ার সুযোগ থাকছে না। এর মধ্যেই ইসরায়েলি অবরোধ সৃষ্ট দুর্ভিক্ষ ভয়াবহ আকার নিয়েছে।

মঙ্গলবার গাজা নগরীর পূর্বাঞ্চলে একটি জনবহুল বাজারে ইসরায়েলি হামলায় কমপক্ষে পাঁচজন ফিলিস্তিনি নিহত এবং আরও অনেকে আহত হয়েছেন। আল-আহলি আরব হাসপাতালের সূত্র জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে দুইজন নারী ছিলেন।

আল জাজিরার যাচাইকৃত ভিডিওতে দেখা গেছে, ইসরায়েলি হামলার মুখে উত্তর গাজার আস-সাফতাওয়ি এলাকা থেকে মানুষ পালাচ্ছে। প্রায় ১০ লাখ মানুষকে জোর করে দক্ষিণ দিকে ‘কনসেন্ট্রেশন জোনে’ ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করছে ইসরায়েল।

ছবিগুলোতে দেখা যায়, ধ্বংসস্তূপে ভরা ধুলোমাখা রাস্তায় লম্বা সারি বেঁধে হাঁটছে নারী-পুরুষ-শিশুরা। কারও হাতে ব্যাগ, কম্বল, খাটিয়া, কেউ ঠেলাগাড়িতে বোঝাই করে নিয়ে যাচ্ছে সামান্য জিনিসপত্র, আবার কেউ ছোট ছোট বাচ্চাদের হাত ধরে হাঁটছে।

প্যালেস্টাইনি সিভিল ডিফেন্সের হিসাব অনুযায়ী, গত ৬ আগস্ট থেকে শুরু হওয়া টানা অভিযানে গাজা নগরীর জায়তুন ও সাবরা এলাকায় এক হাজারেরও বেশি ভবন সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দিয়েছে ইসরায়েল।

গাজা নগরীর বাসিন্দা ও লেখক সারা আওয়াদ বলেন, ফিলিস্তিনি পরিবারগুলোকে প্রতিদিন এই কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে— নিজ ঘরে থেকে অবিরাম বোমাবর্ষণের ঝুঁকি নেবে, নাকি আবারও উদ্বাস্তু হবে। তিনি বলেন, “আমি সব সময় ভাবি, কেন আমাকে পালিয়ে গিয়ে তাঁবুতে থাকতে হবে, অথচ আমার ঘর তো এখানেই? প্রতিদিন দেখি পরিবারগুলো ঘর ছাড়ছে, অথচ তাদের যাওয়ার জায়গা নেই।”

আওয়াদের মতে, এখন মনে হচ্ছে ফিলিস্তিনিরা গাজা নগরীতে তাদের জীবনের শেষ দিনগুলো পার করছে।

আল জাজিরাকে হাসপাতাল সূত্র জানায়, মঙ্গলবার ভোর থেকে শুরু হওয়া ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ৬৪ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে ১৩ জন নিহত হয়েছেন সাহায্যের আশায় লাইনে দাঁড়ানো অবস্থায়।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সমর্থিত জিএইচএফ চলতি বছরের মে মাসের শেষ দিকে ত্রাণ বিতরণের দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে সাহায্য সংগ্রহের চেষ্টায় এখন পর্যন্ত ২ হাজার ১০০ জনেরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

জাতিসংঘের মানবিক দপ্তর (ওসিএইচএ) সর্বশেষ প্রতিবেদনে সতর্ক করেছে— গাজা উপত্যকায় ক্ষুধা আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করছে, হতাহতের সংখ্যা বাড়ছে এবং জরুরি সেবাগুলো ভেঙে পড়ছে।

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় অনাহারে মারা গেছেন আরও তিনজন, ফলে গত বছরের ৭ অক্টোবর থেকে এ পর্যন্ত অনাহারে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩০৩ জনে, যার মধ্যে ১১৭ জনই শিশু।

ad
ad

বিশ্ব রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন

পাকিস্তানে কোচিং সেন্টারের ছাদ ধসে ১৪ শিশু শিক্ষার্থী নিহত

পাঞ্জাব রাজ্য সরকারের স্বাস্থ্যমন্ত্রী খাজা ইমরান নাজির পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম জিও নিউজকে জানান, ছাদ ধসের সময় মোট ৩০ জনেরও বেশি শিক্ষার্থী ছিল সেই কোচিং সেন্টারটিতে। ধসের জেরে সবাই কমবেশি আহত হয়েছে। তাদের মধ্যে অপেক্ষাকৃত বেশি আহত ২০ জন শিশুকে উদ্ধার করে খানা তহসিল হেডকোয়ার্টার (টিএইচকিউ) হাসপাতালে

১৩ ঘণ্টা আগে

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক নয়, সাফ জানাল ইরান

১৩ ঘণ্টা আগে

দক্ষিণ সুদানে ত্রাণবাহী বহরে অতর্কিত হামলা, ৫ সহায়তাকর্মী নিহত

মঙ্গলবার জাতিসংঘের মুখপাত্র স্টিফেন ডুজারিক এক সংবাদ সম্মেলনে দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান। চলতি বছরের শুরু থেকে এই পর্যন্ত দেশটিতে ২৯ জন ত্রাণকর্মী নিহত হওয়ার পর এই অঞ্চলে মানবিক সহায়তাকর্মীদের নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও চরম সংকটে পড়ল।

১৪ ঘণ্টা আগে

ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্পের ছয় দিন পর তিন বছরের শিশুকে জীবিত উদ্ধার

সাধারণত ভূমিকম্পের পর প্রথম তিন দিন উদ্ধার কাজের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময় বলে ধরা হয়, যখন ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়া ব্যক্তিদের জীবিত পাওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি থাকে। তারও অনেক পরে এই শিশুকে জীবিত উদ্ধার করা হলো।

১৪ ঘণ্টা আগে