ক্রিপ্টো— ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ‘নির্লজ্জ দুর্নীতি’ ও ‘অসীম লোভে’র অভিযোগ

ডেস্ক, রাজনীতি ডটকম
লাস ভেগাসে বিটকয়েন সম্মেলনে বিটকয়েন হাতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি প্রতিকৃতি। ছবি: সংগৃহীত

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে হোয়াইট হাউজে ফেরার পর তার পরিবারের ক্রিপ্টোকারেন্সি ব্যবসা থেকে শত কোটি ডলারেরও বেশি আয় করেছেন। এ তথ্য প্রকাশের পর নতুন করে সমালোচনার মুখে পড়েছেন ট্রাম্প।

ডেমোক্র্যাট নেতারা অভিযোগ করেছেন, প্রেসিডেন্ট পদ ব্যবহার করে ট্রাম্প ও তার পরিবারের সদস্যরা বিপুল আর্থিক সুবিধা নিচ্ছেন। তাদের ভাষায়, এর মধ্য দিয়ে ‘নির্লজ্জ ক্রিপ্টো দুর্নীতি’ ও ‘অসীম লোভে’র দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।

গার্ডিয়ানের খবরে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি নৈতিকতা দপ্তর ৯২৭ পৃষ্ঠার একটি আর্থিক বিবরণী প্রকাশ করে। সেখানে দেখা যায়, গত বছরে ট্রাম্পের মোট আয় ২২০ কোটিরও বেশি ডলার। এ আয় এসেছে তার রিয়েল এস্টেট ব্যবসা, গলফ রিসোর্ট, ব্র্যান্ডেড পণ্য, লাইসেন্সিং চুক্তি ও বিভিন্ন আদালতের মামলার নিষ্পত্তি থেকে পাওয়া অর্থের মাধ্যমে।

এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে ট্রাম্প পরিবারের ক্রিপ্টোকারেন্সি ব্যবসা। প্রকাশিত তথ্যে দেখা যায়, ট্রাম্প পরিবার ও ট্রাম্পের মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক দূত স্টিভ উইটকফের পরিবারের যৌথ উদ্যোগ ওয়ার্ল্ড লিবারটি ফাইন্যান্সিয়াল তথাকথিত ‘গভর্ন্যান্স টোকেন’ বিক্রি করে ৫০ কোটি ডলারেরও বেশি আয় করেছে।

এ ছাড়া ট্রাম্প-সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান সিআইসি ডিজিটাল এলএলসি মার্কিন প্রেসিডেন্টের দ্বিতীয় মেয়াদের শপথ গ্রহণের কয়েক দিন আগে চালু করা ট্রাম্প ব্র্যান্ডের ‘মিম কয়েন’ বিক্রি করে ৬০ কোটি ডলারেরও বেশি আয় করেছে। দুই প্রতিষ্ঠানের সম্মিলিত আয় ১০০ কোটির ডলার ছাড়িয়ে গেছে।

বুধবার সাংবাদিকরা এ বিষয়ে প্রশ্ন করলে অভিযোগকে গুরুত্ব না দিয়ে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি প্রেসিডেন্ট হওয়ার আগেই অনেক অর্থ উপার্জন করেছি।’

হোয়াইট হাউজও দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে আসছে, ট্রাম্পের ব্যবসাগুলো তার সরকারি দায়িত্ব থেকে সম্পূর্ণ আলাদা এবং সেগুলো পরিচালনা করেন তার প্রাপ্তবয়স্ক ছেলেরা। তবে সবশেষ প্রকাশিত তথ্য নিয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি হোয়াইট হাউজ।

এ তথ্য প্রকাশের পর কংগ্রেসে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। সিনেট ব্যাংকিং কমিটির শীর্ষ ডেমোক্র্যাট এলিজাবেথ ওয়ারেন মন্তব্য করেন, এ ঘটনাই প্রমাণ করে যে ক্রিপ্টোকারেন্সি-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করা প্রয়োজন।

ওয়ারেন বলেন, সিনেটে উঠতে যাওয়া নতুন ক্রিপ্টো আইন এমন হতে হবে যেন প্রেসিডেন্ট, ভাইস প্রেসিডেন্ট, প্রশাসনের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ও কংগ্রেস সদস্য এবং তাদের পরিবারের কেউ ক্রিপ্টো শিল্প থেকে ব্যক্তিগতভাবে লাভবান হতে না পারেন। যদি আইনটি এমন সুরক্ষা না দেয়, তাহলে তা ট্রাম্পের ‘নির্লজ্জ ক্রিপ্টো দুর্নীতি’কে আরও উৎসাহিত করবে।

ডেমোক্র্যাটদের হয়ে সিনেট নির্বাচনে প্রার্থী জুলিয়ানা স্ট্র্যাটন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রাম্পকে কঠোর ভাষায় আক্রমণ করেন। তিনি লিখেছেন, ‘ট্রাম্পের অসীম লোভ ঘৃণ্য। সাধারণ মার্কিন পরিবার যখন নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ মেটাতে হিমশিম খাচ্ছে, তখন ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রেসিডেন্টের পদ ব্যবহার করে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার আয় করছেন।’

ট্রাম্প পরিবারের ক্রিপ্টো ব্যবসা নিয়ে বিতর্ক অবশ্য নতুন নয়। গত জুনে আলটিমেট ফাইটিং চ্যাম্পিয়নশিপ (ইউএফসি) ঘোষণা দেয়, হোয়াইট হাউজের দক্ষিণ লনে ট্রাম্পের জন্মদিন উপলক্ষ্যে আয়োজিত একটি মিক্সড মার্শাল আর্টস অনুষ্ঠানে বিজয়ী যোদ্ধাদের বোনাস দেওয়া হবে ইউএসডি১ নামে একটি স্টেবলকয়েনে। এই স্টেবলকয়েনটি ইস্যু করেছে ওয়ার্ল্ড লিবার্টি ফাইন্যান্সিয়াল, যা ওই আয়োজনের আনুষ্ঠানিক স্পন্সরও ছিল।

এদিকে এলিজাবেথ ওয়ারেনের কার্যালয়ের এক প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে, সংযুক্ত আরব আমিরাত-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা ওয়ার্ল্ড লিবার্টি ফাইন্যান্সিয়ালে প্রায় ৫০ কোটি ডলার বিনিয়োগ করার পর ট্রাম্প প্রশাসন অন্তত ১০টি সিদ্ধান্ত নেয়, যা আমিরাতের স্বার্থে গেছে। এর মধ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) চিপ রপ্তানিসংক্রান্ত সিদ্ধান্তও রয়েছে। ওয়ারেন এ ঘটনাকে সম্ভাব্য ‘পে-টু-প্লে’ বা অর্থের বিনিময়ে রাজনৈতিক সুবিধা দেওয়ার ব্যবস্থা বলে বর্ণনা করেছেন।

গত ২৩ জুন এলিজাবেথ ওয়ারেনসহ পাঁচজন ডেমোক্র্যাট সিনেটর সিনেটের সংশ্লিষ্ট কমিটির কাছে এ বিষয়ে শুনানির দাবি জানান। তাদের অভিযোগ, ট্রাম্পের শপথ গ্রহণের মাত্র চার দিন আগে আবুধাবির রাজপরিবার-সংশ্লিষ্ট একদল বিনিয়োগকারী প্রায় ৫০ কোটি ডলারের বিনিময়ে ওয়ার্ল্ড লিবার্টি ফাইন্যান্সিয়ালের ৪৯ শতাংশ মালিকানা কিনে নেয়।

এ ছাড়া ডেমোক্র্যাট সিনেটর অ্যাডাম শিফ বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ ক্রিপ্টো এক্সচেঞ্জ বিন্যান্সের বিরুদ্ধে তদন্তের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। অভিযোগ রয়েছে, প্রতিষ্ঠানটি ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে কার্যক্রম পরিচালনা করেছে এবং তাদের সঙ্গে ওয়ার্ল্ড লিবার্টি ফাইন্যান্সিয়ালের ব্যবসায়িক সম্পর্ক রয়েছে।

তবে ট্রাম্প ও অন্যান্য শীর্ষ মার্কিন কর্মকর্তাদের ক্রিপ্টো ব্যবসা সীমিত করার সব উদ্যোগ সফল হয়নি। প্রেসিডেন্ট, ভাইস প্রেসিডেন্ট, কংগ্রেস সদস্য ও তাদের পরিবারের সদস্যদের ক্রিপ্টো ব্যবসার মালিকানা রাখা বা এর প্রচার নিষিদ্ধ করার একটি সংশোধনী সিনেট ব্যাংকিং কমিটিতে দলীয় ভোটে প্রত্যাখ্যাত হয়। যদিও একই বৈঠকে ক্রিপ্টো খাতের জন্য প্রস্তাবিত ক্ল্যারিটি অ্যাক্টের অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকে।

ট্রাম্প পরিবারের ক্রিপ্টো ব্যবসা নিয়ে এই নতুন বিতর্ক এমন সময় সামনে এলো, যখন ট্রাম্প কাতারের উপহার হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রকে দেওয়া নতুন বোয়িং ৭৪৭ বিমান, যা নতুন এয়ার ফোর্স ওয়ান হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে, তাতে প্রথমবারের মতো যাত্রা করেন। তিনি নর্থ ডাকোটায় থিওডোর রুজভেল্ট প্রেসিডেন্সিয়াল লাইব্রেরির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দিতে গিয়ে বিমানটিকে ‘এখন পর্যন্ত নির্মিত সেরা বিমান’ বলে মন্তব্য করেন।

ad
ad

বিশ্ব রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক নয়, সাফ জানাল ইরান

১৩ ঘণ্টা আগে

দক্ষিণ সুদানে ত্রাণবাহী বহরে অতর্কিত হামলা, ৫ সহায়তাকর্মী নিহত

মঙ্গলবার জাতিসংঘের মুখপাত্র স্টিফেন ডুজারিক এক সংবাদ সম্মেলনে দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান। চলতি বছরের শুরু থেকে এই পর্যন্ত দেশটিতে ২৯ জন ত্রাণকর্মী নিহত হওয়ার পর এই অঞ্চলে মানবিক সহায়তাকর্মীদের নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও চরম সংকটে পড়ল।

১৩ ঘণ্টা আগে

ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্পের ছয় দিন পর তিন বছরের শিশুকে জীবিত উদ্ধার

সাধারণত ভূমিকম্পের পর প্রথম তিন দিন উদ্ধার কাজের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময় বলে ধরা হয়, যখন ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়া ব্যক্তিদের জীবিত পাওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি থাকে। তারও অনেক পরে এই শিশুকে জীবিত উদ্ধার করা হলো।

১৩ ঘণ্টা আগে

ভারতের ৩১তম সেনাপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব নিলেন জেনারেল ধীরাজ শেঠ

ভারতের মহারাষ্ট্র রাজ্যের খড়কওয়াসলা ন্যাশনাল ডিফেন্স অ্যাকাডেমির সাবেক শিক্ষার্থী ধীরাজ শেঠ ১৯৮৬ সালে ভারতীয় সেনাবাহিনীতে যোগ দেন। প্রায় চার দশকব্যাপী ক্যারিয়ারে তিনি অপারেশনাল, কৌশলগত, সক্ষমতা উন্নয়ন এবং প্রাতিষ্ঠানিক ক্ষেত্রে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং ভারতীয় সেনাবাহিনীর যুদ্ধ প্রস্তুতি বৃদ্ধি ও

১৪ ঘণ্টা আগে