
মো. কাফি খান

বিশ্বের বড় অর্থনৈতিক সংকট সাধারণত দক্ষিণ এশিয়ায় শুরু হয় না। কিন্তু এর মূল্য এই অঞ্চলের মানুষকে দিতে হয় জ্বালানি ও খাদ্যের উচ্চ দাম, মুদ্রার অবমূল্যায়ন, কর্মসংস্থানের অনিশ্চয়তা এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির মাধ্যমে।
আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ক্রিস্টালিনা জর্জিয়েভা গত ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ এক বক্তব্যে তিনটি আন্তসম্পর্কিত ঝুঁকির কথা বলেছেন। এগুলো হলো দীর্ঘস্থায়ী জ্বালানি সরবরাহ সংকট, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক প্রভাব এবং উচ্চ সরকারি ঋণের মধ্যে সুদহার ও মূল্যস্ফীতির চাপ।
দক্ষিণ এশিয়ার বিশেষ ঝুঁকি
বিশ্বব্যাংকের এপ্রিল ২০২৬-এর পর্যালোচনা অনুযায়ী, অন্যান্য উদীয়মান ও উন্নয়নশীল অঞ্চলের তুলনায় দক্ষিণ এশিয়া আমদানি করা জ্বালানির ওপর সবচেয়ে বেশি নির্ভরশীল। জ্বালানি বাজারের অস্থিরতায় ২০২৬ সালে অঞ্চলের প্রবৃদ্ধি প্রায় ৬.৩ শতাংশে নেমে আসতে পারে। ভারতকে বাদ দিলে সম্ভাব্য প্রবৃদ্ধি মাত্র ৪.১ শতাংশ।
তেল ও গ্যাসের দাম বাড়লে শুধু পরিবহন ব্যয় বাড়ে না। বিদ্যুৎ, কৃষি, সার, শিল্প, খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ ও আমদানি ব্যয়ও বেড়ে যায়। বৈদেশিক মুদ্রার চাহিদা বৃদ্ধি পায় এবং স্থানীয় মুদ্রা দুর্বল হতে পারে।
সরকার ভর্তুকি বজায় রাখলে বাজেটের ওপর চাপ বাড়ে। মূল্য সমন্বয় করলে জনগণ ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানকে উচ্চ ব্যয় বহন করতে হয়।
এই সংকটে নিম্ন আয়ের মানুষ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কারণ তাদের আয়ের বড় অংশ খাদ্য, যাতায়াত ও মৌলিক সেবায় ব্যয় হয়। জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি তখন শুধু অর্থনৈতিক পরিসংখ্যান থাকে না। তা পুষ্টি, শিক্ষা ও চিকিৎসা ব্যয় কমানোর কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
বাংলাদেশের সম্ভাব্য অভিঘাত
বাংলাদেশে জ্বালানির উচ্চমূল্য আমদানি ব্যয়, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ, বিনিময় হার, বিদ্যুৎ ভর্তুকি এবং মূল্যস্ফীতির ওপর একযোগে চাপ সৃষ্টি করতে পারে।
শিল্পের উৎপাদন ব্যয় বাড়লে রপ্তানিকারক ও ক্ষুদ্র ব্যবসার নগদ প্রবাহ দুর্বল হতে পারে। এর পরোক্ষ প্রভাব ব্যাংকের ঋণমান ও খেলাপি ঋণের ওপরও পড়তে পারে।
তাই শুধু সুদের হার পরিবর্তন করে এ ধরনের মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। জ্বালানি দক্ষতা, বাজারে প্রতিযোগিতা, সরবরাহব্যবস্থা, বিনিময় হার এবং সরকারি ব্যয়ের সুশৃঙ্খল ব্যবস্থাপনাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
ঋণের বৈশ্বিক চাপ
উন্নত দেশের সরকারি বন্ডে সুদ বাড়লে দক্ষিণ এশিয়ার সরকার ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের বৈদেশিক ঋণ গ্রহণও ব্যয়বহুল হয়। পুরোনো ঋণ বেশি সুদে নবায়ন করতে হলে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সামাজিক সুরক্ষা ও অবকাঠামোর জন্য সরকারের আর্থিক সক্ষমতা কমে যায়।
উচ্চ সরকারি ঋণ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বাধীনতাকেও পরোক্ষভাবে সীমিত করতে পারে। সরকারের অর্থায়নের প্রয়োজন যদি মূল্যস্থিতির লক্ষ্যকে প্রভাবিত করে, তবে বাজারে ভবিষ্যৎ মূল্যস্ফীতি সম্পর্কে উদ্বেগ বাড়তে পারে। এর ফলে সুদহার ও ঋণের ব্যয় আরও বেড়ে একটি দুষ্টচক্র তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা: সুযোগ ও অনিশ্চয়তা
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দীর্ঘমেয়াদে উৎপাদনশীলতা বাড়াতে পারে। কিন্তু তথ্যকেন্দ্র, উন্নত গণনাব্যবস্থা ও ডিজিটাল অবকাঠামো নির্মাণে বিপুল বিদ্যুৎ ও বিনিয়োগ প্রয়োজন। ফলে স্বল্পমেয়াদে জ্বালানি ও সামগ্রিক চাহিদার ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি হতে পারে।
কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রেও এর ফল একমুখী নয়। আইএমএফের এক বিশ্লেষণে ভারতের প্রায় ২৬ শতাংশ কর্মীকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার উচ্চ সংস্পর্শে থাকা পেশায় চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে কারও উৎপাদনশীলতা ও আয় বাড়তে পারে, আবার কারও কাজ স্থানচ্যুত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।
বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার তথ্যপ্রযুক্তি, হিসাবরক্ষণ, গ্রাহকসেবা, অনুবাদ ও ব্যবসায়িক প্রক্রিয়া আউটসোর্সিং খাত এই পরিবর্তনের মুখোমুখি হবে। তাই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে প্রতিরোধ নয়, দক্ষতা উন্নয়ন, নৈতিক ব্যবহার ও মানবিক সক্ষমতার সঙ্গে সমন্বয় করাই হবে যথার্থ পথ।
করণীয়
দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোকে নির্বিচার জ্বালানি ভর্তুকির পরিবর্তে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য লক্ষ্যভিত্তিক সহায়তা দিতে হবে। নবায়নযোগ্য জ্বালানি, বিদ্যুৎ সঞ্চয় এবং আন্তদেশীয় বিদ্যুৎ বাণিজ্য বাড়াতে হবে।
স্বল্পমেয়াদি ও বৈদেশিক মুদ্রার ঋণের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমাতে হবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বাধীনতা ও মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের বিশ্বাসযোগ্যতা রক্ষা করতে হবে।
ব্যাংকগুলোর চাপ পরীক্ষায় তেলের মূল্যবৃদ্ধি, মুদ্রার অবমূল্যায়ন, উচ্চ সুদহার ও রপ্তানি হ্রাসের সম্মিলিত পরিস্থিতি অন্তর্ভুক্ত করা প্রয়োজন।
একই সঙ্গে শিক্ষা ও প্রশিক্ষণে বিচারবোধ, সৃজনশীলতা, সমস্যা সমাধান এবং প্রযুক্তির সঙ্গে কাজ করার সক্ষমতা বাড়াতে হবে।
দক্ষিণ এশিয়ার সামনে সংকটটি শুধু জ্বালানি, ঋণ কিংবা প্রযুক্তির নয়। এগুলোর পারস্পরিক সংযোগই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি মূল্যস্ফীতি বাড়ায়। মূল্যস্ফীতি সুদহারকে উঁচু রাখে। উচ্চ সুদ ঋণের ব্যয় বাড়ায়। আর বাড়তি ঋণ উন্নয়ন ও মানবসম্পদে বিনিয়োগের সুযোগ কমিয়ে দেয়।
তবু এই ভবিষ্যৎ অনিবার্য নয়। দূরদর্শী নীতি, শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান, দায়িত্বশীল ঋণ ব্যবস্থাপনা, বৈচিত্র্যময় জ্বালানি কাঠামো এবং আঞ্চলিক সহযোগিতা দক্ষিণ এশিয়াকে অধিকতর স্থিতিশীল করতে পারে।
শেষ কথা হচ্ছে, যে অঞ্চলের জ্বালানি আসে দূর সমুদ্রপথে, ঋণের মূল্য নির্ধারিত হয় বিদেশি বাজারে এবং কর্মসংস্থান বদলে যায় অদৃশ্য অ্যালগরিদমে, তার অর্থনৈতিক স্বাধীনতা রক্ষিত হয় নীতির দূরদর্শিতায়।
[এই নিবন্ধটি প্রকাশ্য ও বিশ্বাসযোগ্য তথ্যের ভিত্তিতে লেখকের স্বাধীন বিশ্লেষণ। এটি কোনো প্রতিষ্ঠান বা রাষ্ট্রের আনুষ্ঠানিক অবস্থান নয়।]
লেখক: কলামিস্ট ও অর্থনীতি বিষয়ক বিশ্লেষক

বিশ্বের বড় অর্থনৈতিক সংকট সাধারণত দক্ষিণ এশিয়ায় শুরু হয় না। কিন্তু এর মূল্য এই অঞ্চলের মানুষকে দিতে হয় জ্বালানি ও খাদ্যের উচ্চ দাম, মুদ্রার অবমূল্যায়ন, কর্মসংস্থানের অনিশ্চয়তা এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির মাধ্যমে।
আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ক্রিস্টালিনা জর্জিয়েভা গত ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ এক বক্তব্যে তিনটি আন্তসম্পর্কিত ঝুঁকির কথা বলেছেন। এগুলো হলো দীর্ঘস্থায়ী জ্বালানি সরবরাহ সংকট, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক প্রভাব এবং উচ্চ সরকারি ঋণের মধ্যে সুদহার ও মূল্যস্ফীতির চাপ।
দক্ষিণ এশিয়ার বিশেষ ঝুঁকি
বিশ্বব্যাংকের এপ্রিল ২০২৬-এর পর্যালোচনা অনুযায়ী, অন্যান্য উদীয়মান ও উন্নয়নশীল অঞ্চলের তুলনায় দক্ষিণ এশিয়া আমদানি করা জ্বালানির ওপর সবচেয়ে বেশি নির্ভরশীল। জ্বালানি বাজারের অস্থিরতায় ২০২৬ সালে অঞ্চলের প্রবৃদ্ধি প্রায় ৬.৩ শতাংশে নেমে আসতে পারে। ভারতকে বাদ দিলে সম্ভাব্য প্রবৃদ্ধি মাত্র ৪.১ শতাংশ।
তেল ও গ্যাসের দাম বাড়লে শুধু পরিবহন ব্যয় বাড়ে না। বিদ্যুৎ, কৃষি, সার, শিল্প, খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ ও আমদানি ব্যয়ও বেড়ে যায়। বৈদেশিক মুদ্রার চাহিদা বৃদ্ধি পায় এবং স্থানীয় মুদ্রা দুর্বল হতে পারে।
সরকার ভর্তুকি বজায় রাখলে বাজেটের ওপর চাপ বাড়ে। মূল্য সমন্বয় করলে জনগণ ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানকে উচ্চ ব্যয় বহন করতে হয়।
এই সংকটে নিম্ন আয়ের মানুষ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কারণ তাদের আয়ের বড় অংশ খাদ্য, যাতায়াত ও মৌলিক সেবায় ব্যয় হয়। জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি তখন শুধু অর্থনৈতিক পরিসংখ্যান থাকে না। তা পুষ্টি, শিক্ষা ও চিকিৎসা ব্যয় কমানোর কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
বাংলাদেশের সম্ভাব্য অভিঘাত
বাংলাদেশে জ্বালানির উচ্চমূল্য আমদানি ব্যয়, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ, বিনিময় হার, বিদ্যুৎ ভর্তুকি এবং মূল্যস্ফীতির ওপর একযোগে চাপ সৃষ্টি করতে পারে।
শিল্পের উৎপাদন ব্যয় বাড়লে রপ্তানিকারক ও ক্ষুদ্র ব্যবসার নগদ প্রবাহ দুর্বল হতে পারে। এর পরোক্ষ প্রভাব ব্যাংকের ঋণমান ও খেলাপি ঋণের ওপরও পড়তে পারে।
তাই শুধু সুদের হার পরিবর্তন করে এ ধরনের মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। জ্বালানি দক্ষতা, বাজারে প্রতিযোগিতা, সরবরাহব্যবস্থা, বিনিময় হার এবং সরকারি ব্যয়ের সুশৃঙ্খল ব্যবস্থাপনাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
ঋণের বৈশ্বিক চাপ
উন্নত দেশের সরকারি বন্ডে সুদ বাড়লে দক্ষিণ এশিয়ার সরকার ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের বৈদেশিক ঋণ গ্রহণও ব্যয়বহুল হয়। পুরোনো ঋণ বেশি সুদে নবায়ন করতে হলে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সামাজিক সুরক্ষা ও অবকাঠামোর জন্য সরকারের আর্থিক সক্ষমতা কমে যায়।
উচ্চ সরকারি ঋণ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বাধীনতাকেও পরোক্ষভাবে সীমিত করতে পারে। সরকারের অর্থায়নের প্রয়োজন যদি মূল্যস্থিতির লক্ষ্যকে প্রভাবিত করে, তবে বাজারে ভবিষ্যৎ মূল্যস্ফীতি সম্পর্কে উদ্বেগ বাড়তে পারে। এর ফলে সুদহার ও ঋণের ব্যয় আরও বেড়ে একটি দুষ্টচক্র তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা: সুযোগ ও অনিশ্চয়তা
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দীর্ঘমেয়াদে উৎপাদনশীলতা বাড়াতে পারে। কিন্তু তথ্যকেন্দ্র, উন্নত গণনাব্যবস্থা ও ডিজিটাল অবকাঠামো নির্মাণে বিপুল বিদ্যুৎ ও বিনিয়োগ প্রয়োজন। ফলে স্বল্পমেয়াদে জ্বালানি ও সামগ্রিক চাহিদার ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি হতে পারে।
কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রেও এর ফল একমুখী নয়। আইএমএফের এক বিশ্লেষণে ভারতের প্রায় ২৬ শতাংশ কর্মীকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার উচ্চ সংস্পর্শে থাকা পেশায় চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে কারও উৎপাদনশীলতা ও আয় বাড়তে পারে, আবার কারও কাজ স্থানচ্যুত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।
বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার তথ্যপ্রযুক্তি, হিসাবরক্ষণ, গ্রাহকসেবা, অনুবাদ ও ব্যবসায়িক প্রক্রিয়া আউটসোর্সিং খাত এই পরিবর্তনের মুখোমুখি হবে। তাই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে প্রতিরোধ নয়, দক্ষতা উন্নয়ন, নৈতিক ব্যবহার ও মানবিক সক্ষমতার সঙ্গে সমন্বয় করাই হবে যথার্থ পথ।
করণীয়
দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোকে নির্বিচার জ্বালানি ভর্তুকির পরিবর্তে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য লক্ষ্যভিত্তিক সহায়তা দিতে হবে। নবায়নযোগ্য জ্বালানি, বিদ্যুৎ সঞ্চয় এবং আন্তদেশীয় বিদ্যুৎ বাণিজ্য বাড়াতে হবে।
স্বল্পমেয়াদি ও বৈদেশিক মুদ্রার ঋণের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমাতে হবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বাধীনতা ও মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের বিশ্বাসযোগ্যতা রক্ষা করতে হবে।
ব্যাংকগুলোর চাপ পরীক্ষায় তেলের মূল্যবৃদ্ধি, মুদ্রার অবমূল্যায়ন, উচ্চ সুদহার ও রপ্তানি হ্রাসের সম্মিলিত পরিস্থিতি অন্তর্ভুক্ত করা প্রয়োজন।
একই সঙ্গে শিক্ষা ও প্রশিক্ষণে বিচারবোধ, সৃজনশীলতা, সমস্যা সমাধান এবং প্রযুক্তির সঙ্গে কাজ করার সক্ষমতা বাড়াতে হবে।
দক্ষিণ এশিয়ার সামনে সংকটটি শুধু জ্বালানি, ঋণ কিংবা প্রযুক্তির নয়। এগুলোর পারস্পরিক সংযোগই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি মূল্যস্ফীতি বাড়ায়। মূল্যস্ফীতি সুদহারকে উঁচু রাখে। উচ্চ সুদ ঋণের ব্যয় বাড়ায়। আর বাড়তি ঋণ উন্নয়ন ও মানবসম্পদে বিনিয়োগের সুযোগ কমিয়ে দেয়।
তবু এই ভবিষ্যৎ অনিবার্য নয়। দূরদর্শী নীতি, শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান, দায়িত্বশীল ঋণ ব্যবস্থাপনা, বৈচিত্র্যময় জ্বালানি কাঠামো এবং আঞ্চলিক সহযোগিতা দক্ষিণ এশিয়াকে অধিকতর স্থিতিশীল করতে পারে।
শেষ কথা হচ্ছে, যে অঞ্চলের জ্বালানি আসে দূর সমুদ্রপথে, ঋণের মূল্য নির্ধারিত হয় বিদেশি বাজারে এবং কর্মসংস্থান বদলে যায় অদৃশ্য অ্যালগরিদমে, তার অর্থনৈতিক স্বাধীনতা রক্ষিত হয় নীতির দূরদর্শিতায়।
[এই নিবন্ধটি প্রকাশ্য ও বিশ্বাসযোগ্য তথ্যের ভিত্তিতে লেখকের স্বাধীন বিশ্লেষণ। এটি কোনো প্রতিষ্ঠান বা রাষ্ট্রের আনুষ্ঠানিক অবস্থান নয়।]
লেখক: কলামিস্ট ও অর্থনীতি বিষয়ক বিশ্লেষক

সংবাদমাধ্যমটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঘোষণায় কোনো দেশের নাম উল্লেখ না করে ‘সব ধরনের আগ্রাসনের’ নিন্দা জানানো হবে। পশ্চিম এশিয়ায় চলমান সংঘাতের মধ্যে ব্রিকসের এমন অবস্থানকে তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
৪ ঘণ্টা আগে
এক্সে দেওয়া পোস্টে শু ফেইহং লেখেন, ‘দুই নেতার কৌশলগত দিকনির্দেশনা বাস্তবায়নে চীন ভারতের সঙ্গে কাজ করবে। কৌশলগত উচ্চতা ও দীর্ঘমেয়াদি দৃষ্টিভঙ্গি থেকে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক পরিচালনা করবে, যোগাযোগ বাড়াবে, সহযোগিতা জোরদার করবে এবং মতপার্থক্য যথাযথভাবে মোকাবিলা করবে। একই সঙ্গে দুই দেশ ভালো প্রতিবেশী হিসেবে
৫ ঘণ্টা আগে
ভারতের সভাপতিত্বে এবারের সম্মেলন এমন একসময়ে হচ্ছে, যখন ইউক্রেন যুদ্ধ, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের সংকট, বৈশ্বিক বাণিজ্যে অস্থিরতা এবং যুক্তরাষ্ট্র-চীন প্রতিদ্বন্দ্বিতা— সব মিলিয়ে আন্তর্জাতিক ব্যবস্থায় বড় ধরনের টানাপোড়েন চলছে।
৭ ঘণ্টা আগে
যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানিয়েছে, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৩৫৮.৬ কিলোমিটার (২২২.৮ মাইল) গভীরে।
৮ ঘণ্টা আগে