
ডেস্ক, রাজনীতি ডটকম

কূটনৈতিক ব্যস্ততায় সরগরম ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লি। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানসহ ব্রিকসের সদস্য দেশগুলোর রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানরা রয়েছেন সেখানে। অংশীদার দেশগুলোর গুরুত্বপূর্ণ প্রতিনিধিরাও যোগ দিচ্ছেন ব্রিকসের ১৮তম এই শীর্ষ সম্মেলনে, যেটিকে বর্তমান বিশ্ব বাস্তবতায় রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক দিক থেকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ মনে করা হচ্ছে।
আজ শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) শুরু হচ্ছে এই সম্মেলন। দুই দিনের সম্মেলন চলবে আগামীকাল রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) পর্যন্ত।
ভারতের সভাপতিত্বে এবারের সম্মেলন এমন একসময়ে হচ্ছে, যখন ইউক্রেন যুদ্ধ, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের সংকট, বৈশ্বিক বাণিজ্যে অস্থিরতা এবং যুক্তরাষ্ট্র-চীন প্রতিদ্বন্দ্বিতা— সব মিলিয়ে আন্তর্জাতিক ব্যবস্থায় বড় ধরনের টানাপোড়েন চলছে।
২০২৬ সালে ব্রিকসের সদস্যসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১১-তে— ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত, চীন, দক্ষিণ আফ্রিকা, মিসর, ইথিওপিয়া, ইরান, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ইন্দোনেশিয়া ও সৌদি আরব। এর বাইরে রয়েছে অংশীদার দেশের একটি পৃথক কাঠামো। ব্রিকস ২০২৪ ও ২০২৫ সালে সম্প্রসারিত হওয়ার পর এখন বিশ্বের প্রায় অর্ধেক মানুষের প্রতিনিধিত্ব করে এবং বৈশ্বিক অর্থনীতি ও বাণিজ্যে এর ওজনও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
তবে এই সম্প্রসারণ যেমন ব্রিকসের প্রভাব বাড়িয়েছে, তেমনি ভেতরের মতপার্থক্যও বাড়িয়েছে। ইরান ও সংযুক্ত আরব আমিরাত মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতে বিপরীত অবস্থানে রয়েছে। রাশিয়া ও চীন পশ্চিমা নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার বিকল্প কাঠামোর পক্ষে তুলনামূলক জোরালো অবস্থান নিলেও ভারত একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ, রাশিয়া, ইরান ও উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক ধরে রাখছে। ফলে নয়াদিল্লির জন্য এবারের সম্মেলন কেবল বহুপাক্ষিক বৈঠক নয়— এটি বড় ধরনের কূটনৈতিক ভারসাম্যের পরীক্ষাও।
রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন শুক্রবারই নয়াদিল্লি পৌঁছেছেন। ব্রিকস সম্মেলনের আগে শুক্রবার মোদির সঙ্গে তার দ্বিপাক্ষিক বৈঠকও হয়েছে। চলতি বছর এটি দুই নেতার দ্বিতীয় বৈঠক। এর আগে ৩১ আগস্ট কিরগিজস্তানের বিশকেকে সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার সম্মেলনের ফাঁকে তাদের বৈঠক হয়েছিল।
দুই নেতা রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, প্রতিরক্ষা, জ্বালানি, মহাকাশ, দক্ষ জনশক্তির চলাচলসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা পর্যালোচনা করেছেন। ২০৩০ সালের মধ্যে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ১০ হাজার কোটি ডলারে নেওয়ার লক্ষ্য নিয়েও কাজ চলছে।
ইউক্রেন যুদ্ধ ও পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও ভারত রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক কমায়নি। বিশেষ করে রুশ তেল ভারতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি উৎস হয়ে আছে। অন্যদিকে রাশিয়ার কাছে ভারত দীর্ঘদিনের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষা বাজার।
পুতিনের এবারের সফরের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো ব্রিকসের ভবিষ্যৎ ভূমিকা। তিনি শুক্রবার ব্রিকস বিজনেস ফোরামে পশ্চিমা নেতৃত্বাধীন বাণিজ্যব্যবস্থা, নিষেধাজ্ঞা ও পরিবহন অবরোধের সমালোচনা করে ব্রিকসকে বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধির জন্য একটি নতুন প্ল্যাটফর্ম হিসেবে গড়ে তোলার কথা বলেছেন।
বৈঠকে মধ্যপ্রাচ্য ও কৃষ্ণসাগরীয় অঞ্চলের সংঘাতের কারণে সামুদ্রিক বাণিজ্য এবং ভারতীয় নাবিকদের নিরাপত্তা নিয়েও আলোচনা হয়েছে। পুতিন মোদিকে রাশিয়ায় ২৪তম ভারত-রাশিয়া বার্ষিক সম্মেলনে যাওয়ার আমন্ত্রণ জানিয়েছেন এবং মোদি তা গ্রহণ করেছেন।
ব্রিকস সম্মেলনের মধ্যেও সবচেয়ে বেশি নজর থাকবে নরেন্দ্র মোদি ও শি জিনপিংয়ের বৈঠকের দিকে। সাত বছর পর ভারতে আসছেন চীনা প্রেসিডেন্ট। ২০২০ সালের গালওয়ান সংঘর্ষের পর এটিই তার প্রথম ভারত সফর।
দুই দেশের সম্পর্কের উত্তেজনা কমাতে ২০২৪ সালের অক্টোবরে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখার বিভিন্ন সংঘাতপূর্ণ এলাকা থেকে সেনা সরানোর বিষয়ে সমঝোতার পর ধীরে ধীরে সম্পর্কের বরফ গলেছে।
শনিবার মোদি ও শির দ্বিপাক্ষিক বৈঠক হওয়ার কথা। ২০২৪ সালের অক্টোবরের পর এটি হবে তাদের তৃতীয় বৈঠক।
তবে সম্পর্কের উন্নতি মানেই সব সমস্যা মিটে গেছে— এমন নয়। সীমান্তবিরোধ, বাণিজ্য, বিনিয়োগ, প্রযুক্তি ও নিরাপত্তা নিয়ে দুই দেশের মধ্যে অবিশ্বাস এখনো রয়েছে। ভারত কিছু চীনা বিনিয়োগের ওপর বিধিনিষেধ শিথিল করলেও নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগ রয়ে গেছে। অন্যদিকে চীনা ব্যবসায়ীরাও ভারতে নতুন বিনিয়োগে সতর্ক।
ফলে এবারের বৈঠকে মূল প্রশ্ন হবে— সীমান্তে স্থিতিশীলতার পর দুই দেশ অর্থনৈতিক সম্পর্ক কতটা স্বাভাবিক করতে পারে।
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের ভারত সফরও এবারের সম্মেলনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। ২০২৪ সালে প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর এটাই তার প্রথম ভারত সফর।
শুক্রবার মোদির সঙ্গে তার বৈঠক হয়েছে। মাত্র দুই সপ্তাহের মধ্যে এটি দুই নেতার দ্বিতীয় বৈঠক। এর আগে ৩১ আগস্ট বিশকেকে এসওসি সম্মেলনের ফাঁকে তারা কথা বলেন।
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের মধ্যে এই বৈঠকের বিশেষ তাৎপর্য রয়েছে। মোদি বৈঠকে মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তি ও স্থিতিশীলতার পাশাপাশি নৌ চলাচলের স্বাধীনতা, বাণিজ্যিক রুট খোলা রাখা এবং নাবিকদের নিরাপত্তার ওপর জোর দিয়েছেন।
ভারতের জন্য বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। হরমুজ প্রণালি দিয়ে বৈশ্বিক জ্বালানি বাণিজ্যের বড় অংশ চলাচল করে এবং যুদ্ধের কারণে এই নৌপথে দীর্ঘস্থায়ী অস্থিরতা ভারতের জ্বালানি সরবরাহ ও বাণিজ্যকে সরাসরি প্রভাবিত করছে।
পেজেশকিয়ান একই দিনে ব্রিকস বিজনেস ফোরামে অর্থনৈতিক চাপ ও নিষেধাজ্ঞার সমালোচনা করে বলেন, এসব পদক্ষেপ অন্য দেশের বৈধ বাণিজ্যকে বাধাগ্রস্ত করছে।
ইরানের সঙ্গে ভারতের সম্পর্কের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো চাবাহার বন্দর। যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার কারণে প্রকল্পটি আগের গতিতে এগোয়নি। তবু মধ্য এশিয়া ও আফগানিস্তানের সঙ্গে ভারতের যোগাযোগের জন্য ইরানকে নয়াদিল্লি কৌশলগত অংশীদার হিসেবে দেখে।
আরও বড় প্রশ্ন— ইরান ও সংযুক্ত আরব আমিরাত যখন একই সংঘাতে বিপরীত অবস্থানে, তখন ভারত কি ব্রিকসের চূড়ান্ত ঘোষণায় উভয় পক্ষকে এক জায়গায় আনতে পারবে? এই প্রশ্নের উত্তর এবারের সম্মেলনের সাফল্যের সঙ্গে সরাসরি জড়িত।
দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা ব্রিকসের গুরুত্বপূর্ণ আফ্রিকান সদস্যের প্রতিনিধিত্ব করবেন। দক্ষিণ আফ্রিকা ২০১১ সালে ব্রিকসে যোগ দেওয়ার পরই নামটি ব্রিকস হয়।
ভারত ও দক্ষিণ আফ্রিকার মধ্যে ব্রিকস ছাড়াও জি২০, বাণিজ্য ও উন্নয়ন সহযোগিতার সম্পর্ক রয়েছে। রামাফোসা ও মোদির দ্বিপাক্ষিক বৈঠক রোববার হওয়ার কথা।
দক্ষিণ আফ্রিকা ঐতিহাসিকভাবে গ্লোবাল সাউথের স্বার্থ, আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সংস্কার এবং উন্নয়নশীল দেশগুলোর প্রতিনিধিত্ব বাড়ানোর পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। ফলে ব্রিকসের অর্থনৈতিক ও আর্থিক সংস্কার এজেন্ডায় দেশটির ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।
মিসরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি শুক্রবার রাতে ভারতে পৌঁছেছেন। ২০২৩ সালে দুই দেশ সম্পর্ককে ‘কৌশলগত অংশীদারত্বে’ উন্নীত করে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে মোদি-সিসি যোগাযোগ তুলনামূলক সীমিত। রোববার দুই নেতার দ্বিপাক্ষিক বৈঠক হওয়ার কথা।
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ, সুয়েজ খাল, জ্বালানি ও ভারত-মধ্যপ্রাচ্য-বাণিজ্য করিডরের মতো বিষয়গুলোতে মিসরের অবস্থান ভারতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। ব্রিকসের সম্প্রসারণের পর মিসর আরব বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রতিনিধি হিসেবেও গোষ্ঠীটিতে জায়গা নিয়েছে।
ইথিওপিয়ার প্রধানমন্ত্রী আবি আহমেদ দেশটির প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেবেন। ভারত-ইথিওপিয়া সম্পর্ক গত কয়েক বছরে দ্রুত ঘনিষ্ঠ হয়েছে।
২০২৫ সালের ডিসেম্বরে মোদি প্রথমবার দ্বিপাক্ষিক সফরে ইথিওপিয়া যান। সফরে তাকে দেশটির অন্যতম সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মানে ভূষিত করা হয়।
শনিবার মোদি ও আবির বৈঠক হওয়ার কথা। আফ্রিকার সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক জোরদারের বৃহত্তর কৌশলে ইথিওপিয়া গুরুত্বপূর্ণ— বিশেষ করে কৃষি, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, অবকাঠামো ও উন্নয়ন সহযোগিতায়।
আবুধাবির ক্রাউন প্রিন্স শেখ খালেদ বিন মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেবেন।
ভারতের সঙ্গে আমিরাতের সম্পর্ক গত কয়েক বছরে কৌশলগত পর্যায়ে পৌঁছেছে। জ্বালানি, বিনিয়োগ, বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা ও প্রবাসী ভারতীয়দের স্বার্থ—সব ক্ষেত্রেই দুই দেশের সম্পর্ক গুরুত্বপূর্ণ।
কিন্তু এবারের ব্রিকস সম্মেলনে আমিরাতের গুরুত্ব আরও বেড়েছে ইরানের সঙ্গে তার বিরোধের কারণে। চলমান সংঘাতে তেহরান ও আবুধাবি বিপরীত অবস্থানে থাকায় একই সম্মেলনকক্ষে দুই দেশের প্রতিনিধিত্ব ব্রিকসের ঐক্যের জন্য একটি বড় পরীক্ষা।
সৌদি আরবের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেবেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান আল সৌদ। দেশটি ব্রিকসের সদস্যপদ গ্রহণের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক অবস্থান স্পষ্ট না করলেও গোষ্ঠীর বৈঠক ও কার্যক্রমে অংশ নিচ্ছে।
রিয়াদ ভারতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি অংশীদার। তেল, বিনিয়োগ, অবকাঠামো ও প্রবাসী ভারতীয়দের কারণে সৌদি-ভারত সম্পর্কের কৌশলগত গুরুত্ব অনেক।
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ ও হরমুজ সংকটের সময় সৌদি অবস্থান ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তো ব্রিকসের নতুন সদস্য হিসেবে প্রথমবার নয়াদিল্লির এই সম্মেলনে অংশ নিচ্ছেন। ইন্দোনেশিয়া ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ব্রিকসে যোগ দেয়।
ভারত-ইন্দোনেশিয়া সম্পর্ক সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আরও গভীর হয়েছে। ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল, সামুদ্রিক নিরাপত্তা, বাণিজ্য এবং আসিয়ান কাঠামোয় সহযোগিতা দুই দেশের সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র।
মোদি ও প্রাবোওর আনুষ্ঠানিক দ্বিপাক্ষিক বৈঠক নির্ধারিত না থাকলেও সম্মেলনের ফাঁকে তাঁদের বৈঠক হতে পারে।
১১ সদস্য দেশের বাইরে ব্রিকসের অংশীদার দেশগুলোর প্রতিনিধিরাও সম্মেলনে যোগ দিচ্ছেন। এই কাঠামোটি ২০২৪ সালের কাজান সম্মেলনে তৈরি করা হয়। অংশীদার দেশের তালিকায় রয়েছে বেলারুশ, বলিভিয়া, কিউবা, কাজাখস্তান, মালয়েশিয়া, নাইজেরিয়া, থাইল্যান্ড, উগান্ডা, উজবেকিস্তানসহ আরও কয়েকটি দেশ।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী ম্যাক্সিম রিজেনকভ বেলারুশের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেবেন। রাশিয়ার ঘনিষ্ঠ মিত্র বেলারুশ ইউরেশিয়ান ইকোনমিক ইউনিয়নের সদস্য। ভারতের সঙ্গে এই ইউনিয়নের মুক্তবাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা চলছে।
দিল্লিতে বলিভিয়া দূতাবাসের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স আরলেত্তে গার্সিয়া প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেবেন। বলিভিয়া ব্রিকসের পূর্ণ সদস্য হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্রুনো রদ্রিগেজ পারিলা কিউবার প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেবেন। মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ও জ্বালানি সংকটের মধ্যে কিউবার অংশগ্রহণ ব্রিকসের পশ্চিমা অর্থনৈতিক চাপবিরোধী অবস্থানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
কাজাখস্তানলনের প্রেসিডেন্ট কাসিম-জোমার্ট তোকায়েভ রোববারের আউটরিচ সম্মেলনে অংশ নেবেন। মোদির সঙ্গে তার দ্বিপাক্ষিক বৈঠকও হওয়ার কথা। মধ্য এশিয়ায় ভারতের কৌশলগত যোগাযোগের ক্ষেত্রে কাজাখস্তান গুরুত্বপূর্ণ। তেল, ইউরেনিয়াম, পরিবহন ও আঞ্চলিক নিরাপত্তায় দুই দেশের স্বার্থ রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম মালয়েশিয়ার প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেবেন। শনিবার মোদির সঙ্গে তার বৈঠক হওয়ার কথা। আসিয়ান ও ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে মালয়েশিয়ার ভূমিকার কারণে নয়াদিল্লির কাছে দেশটির গুরুত্ব বাড়ছে।
ভাইস প্রেসিডেন্ট কাশিম শেত্তিমা নাইজেরিয়ার প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেবেন। রোববার মোদির সঙ্গে তার বৈঠক নির্ধারিত। আফ্রিকার বৃহৎ অর্থনীতি ও গুরুত্বপূর্ণ তেল উৎপাদক দেশ হিসেবে নাইজেরিয়া ভারতের জ্বালানি ও বাণিজ্যিক স্বার্থের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। মোদি ২০২৪ সালে নাইজেরিয়া সফর করেছিলেন।
উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী সিহাসাক ফুয়াংকেতকেও থাইল্যান্ড প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেবেন। থাইল্যান্ড গত বছর ব্রিকসের অংশীদার দেশ হয়। ভারত ও থাইল্যান্ডের সম্পর্ক বাণিজ্যের পাশাপাশি ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক যোগাযোগের ওপরও দাঁড়িয়ে আছে। আসিয়ান ও বিমসটেক কাঠামোতেও দুই দেশের ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রয়েছে।
ভাইস প্রেসিডেন্ট জেসিকা আলুপো উগান্ডার প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেবেন। রোববার মোদির সঙ্গে তার বৈঠক হওয়ার কথা। আফ্রিকায় ভারতের উন্নয়ন সহযোগিতা ও কূটনৈতিক উপস্থিতি বাড়ানোর ক্ষেত্রে উগান্ডা গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার।
উপপ্রধানমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রী জামশিদ কুচকারভ উজবেকিস্তানের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেবেন। মধ্য এশিয়ায় ভারতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার উজবেকিস্তান। মোদি গত মাসেই দেশটির প্রেসিডেন্ট শাভকাত মিরজিয়োয়েভের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। ফলে এবারের সম্মেলনে মধ্য এশিয়া নিয়ে ভারতের ধারাবাহিক কূটনৈতিক উদ্যোগও সামনে আসবে।
প্রধানমন্ত্রী লে মিন হুং ভিয়েতনামের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেবেন। শনিবার মোদির সঙ্গে তার দ্বিপাক্ষিক বৈঠক হওয়ার কথা। ভিয়েতনাম ভারতের ‘অ্যাক্ট ইস্ট’ নীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। দক্ষিণ চীন সাগর, সামুদ্রিক নিরাপত্তা, প্রতিরক্ষা ও বাণিজ্যে দুই দেশের সহযোগিতা বাড়ছে।
দিল্লির সম্মেলনে আসা নেতাদের তালিকাই দেখিয়ে দিচ্ছে, ব্রিকস এখন শুধু অর্থনৈতিক সহযোগিতার প্ল্যাটফর্ম নয়। এটি ক্রমেই বৈশ্বিক শক্তির ভারসাম্য নিয়ে আলোচনার একটি গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চে পরিণত হয়েছে।
একদিকে রাশিয়া ও চীন পশ্চিমা-নিয়ন্ত্রিত বৈশ্বিক আর্থিক ও রাজনৈতিক কাঠামোর সংস্কার চায়। ব্রিকসের অর্থমন্ত্রী ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নররা এরই মধ্যে আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের মতো প্রতিষ্ঠানে উন্নয়নশীল দেশগুলোর প্রতিনিধিত্ব বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে আন্তঃদেশীয় লেনদেনে বিকল্প পেমেন্ট ব্যবস্থা এবং দ্রুত ও কম খরচের সীমান্তপারের পেমেন্ট ব্যবস্থার ওপর জোর দিয়েছেন।
অন্যদিকে সদস্যদের মধ্যে বড় ধরনের রাজনৈতিক বিভাজন রয়েছে। ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ, ইরান ও আমিরাতের বিরোধ, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ এবং ভারত-চীন সম্পর্ক— সবগুলোই ব্রিকসের ভেতরে ভিন্ন ভিন্ন অবস্থান তৈরি করেছে।
এই কারণেই এবারের সম্মেলনের সবচেয়ে বড় পরীক্ষা হবে একটি গ্রহণযোগ্য যৌথ ঘোষণা তৈরি করা। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্য নিয়ে ভাষা নির্ধারণে ইরান ও আমিরাতকে একই জায়গায় আনা ভারতের জন্য কঠিন কূটনৈতিক কাজ।
অর্থনৈতিক দিক থেকেও সম্মেলনটি গুরুত্বপূর্ণ। ব্রিকসের আলোচনায় স্টার্টআপ সহযোগিতা, সরবরাহব্যবস্থার স্থিতিস্থাপকতা, ডিজিটাল পেমেন্ট, নতুন আর্থিক ব্যবস্থা এবং আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সংস্কার গুরুত্ব পাচ্ছে।
আর ভারতের জন্য এই সম্মেলনের সবচেয়ে বড় তাৎপর্য হলো— একই সময়ে মস্কো, বেইজিং, তেহরান, আবুধাবি, রিয়াদ, জাকার্তা ও আফ্রিকার শক্তিগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক পরিচালনা করা।
পুতিনের সঙ্গে ভারতের গভীর প্রতিরক্ষা ও জ্বালানি সম্পর্ক, জিনপিংয়ের সঙ্গে সীমান্ত উত্তেজনা কাটিয়ে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার চেষ্টা এবং পেজেশকিয়ানের সঙ্গে যুদ্ধের মধ্যেও যোগাযোগ— তিনটি বৈঠকই ভারতের বর্তমান পররাষ্ট্রনীতির তিনটি আলাদা দিক তুলে ধরছে।
এ কারণেই দিল্লির ব্রিকস সম্মেলন শুধু ১১ দেশের একটি শীর্ষ বৈঠক নয়। এটি একই সঙ্গে যুদ্ধের মধ্যে গ্লোবাল সাউথের অবস্থান, পশ্চিমা নেতৃত্বাধীন অর্থনৈতিক ব্যবস্থার বিকল্প তৈরির চেষ্টা এবং ভারতের ‘সব পক্ষের সঙ্গে সম্পর্ক’ রাখার কূটনীতির বড় পরীক্ষা।
দ্য প্রিন্ট অবলম্বনে

কূটনৈতিক ব্যস্ততায় সরগরম ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লি। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানসহ ব্রিকসের সদস্য দেশগুলোর রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানরা রয়েছেন সেখানে। অংশীদার দেশগুলোর গুরুত্বপূর্ণ প্রতিনিধিরাও যোগ দিচ্ছেন ব্রিকসের ১৮তম এই শীর্ষ সম্মেলনে, যেটিকে বর্তমান বিশ্ব বাস্তবতায় রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক দিক থেকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ মনে করা হচ্ছে।
আজ শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) শুরু হচ্ছে এই সম্মেলন। দুই দিনের সম্মেলন চলবে আগামীকাল রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) পর্যন্ত।
ভারতের সভাপতিত্বে এবারের সম্মেলন এমন একসময়ে হচ্ছে, যখন ইউক্রেন যুদ্ধ, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের সংকট, বৈশ্বিক বাণিজ্যে অস্থিরতা এবং যুক্তরাষ্ট্র-চীন প্রতিদ্বন্দ্বিতা— সব মিলিয়ে আন্তর্জাতিক ব্যবস্থায় বড় ধরনের টানাপোড়েন চলছে।
২০২৬ সালে ব্রিকসের সদস্যসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১১-তে— ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত, চীন, দক্ষিণ আফ্রিকা, মিসর, ইথিওপিয়া, ইরান, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ইন্দোনেশিয়া ও সৌদি আরব। এর বাইরে রয়েছে অংশীদার দেশের একটি পৃথক কাঠামো। ব্রিকস ২০২৪ ও ২০২৫ সালে সম্প্রসারিত হওয়ার পর এখন বিশ্বের প্রায় অর্ধেক মানুষের প্রতিনিধিত্ব করে এবং বৈশ্বিক অর্থনীতি ও বাণিজ্যে এর ওজনও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
তবে এই সম্প্রসারণ যেমন ব্রিকসের প্রভাব বাড়িয়েছে, তেমনি ভেতরের মতপার্থক্যও বাড়িয়েছে। ইরান ও সংযুক্ত আরব আমিরাত মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতে বিপরীত অবস্থানে রয়েছে। রাশিয়া ও চীন পশ্চিমা নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার বিকল্প কাঠামোর পক্ষে তুলনামূলক জোরালো অবস্থান নিলেও ভারত একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ, রাশিয়া, ইরান ও উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক ধরে রাখছে। ফলে নয়াদিল্লির জন্য এবারের সম্মেলন কেবল বহুপাক্ষিক বৈঠক নয়— এটি বড় ধরনের কূটনৈতিক ভারসাম্যের পরীক্ষাও।
রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন শুক্রবারই নয়াদিল্লি পৌঁছেছেন। ব্রিকস সম্মেলনের আগে শুক্রবার মোদির সঙ্গে তার দ্বিপাক্ষিক বৈঠকও হয়েছে। চলতি বছর এটি দুই নেতার দ্বিতীয় বৈঠক। এর আগে ৩১ আগস্ট কিরগিজস্তানের বিশকেকে সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার সম্মেলনের ফাঁকে তাদের বৈঠক হয়েছিল।
দুই নেতা রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, প্রতিরক্ষা, জ্বালানি, মহাকাশ, দক্ষ জনশক্তির চলাচলসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা পর্যালোচনা করেছেন। ২০৩০ সালের মধ্যে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ১০ হাজার কোটি ডলারে নেওয়ার লক্ষ্য নিয়েও কাজ চলছে।
ইউক্রেন যুদ্ধ ও পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও ভারত রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক কমায়নি। বিশেষ করে রুশ তেল ভারতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি উৎস হয়ে আছে। অন্যদিকে রাশিয়ার কাছে ভারত দীর্ঘদিনের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষা বাজার।
পুতিনের এবারের সফরের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো ব্রিকসের ভবিষ্যৎ ভূমিকা। তিনি শুক্রবার ব্রিকস বিজনেস ফোরামে পশ্চিমা নেতৃত্বাধীন বাণিজ্যব্যবস্থা, নিষেধাজ্ঞা ও পরিবহন অবরোধের সমালোচনা করে ব্রিকসকে বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধির জন্য একটি নতুন প্ল্যাটফর্ম হিসেবে গড়ে তোলার কথা বলেছেন।
বৈঠকে মধ্যপ্রাচ্য ও কৃষ্ণসাগরীয় অঞ্চলের সংঘাতের কারণে সামুদ্রিক বাণিজ্য এবং ভারতীয় নাবিকদের নিরাপত্তা নিয়েও আলোচনা হয়েছে। পুতিন মোদিকে রাশিয়ায় ২৪তম ভারত-রাশিয়া বার্ষিক সম্মেলনে যাওয়ার আমন্ত্রণ জানিয়েছেন এবং মোদি তা গ্রহণ করেছেন।
ব্রিকস সম্মেলনের মধ্যেও সবচেয়ে বেশি নজর থাকবে নরেন্দ্র মোদি ও শি জিনপিংয়ের বৈঠকের দিকে। সাত বছর পর ভারতে আসছেন চীনা প্রেসিডেন্ট। ২০২০ সালের গালওয়ান সংঘর্ষের পর এটিই তার প্রথম ভারত সফর।
দুই দেশের সম্পর্কের উত্তেজনা কমাতে ২০২৪ সালের অক্টোবরে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখার বিভিন্ন সংঘাতপূর্ণ এলাকা থেকে সেনা সরানোর বিষয়ে সমঝোতার পর ধীরে ধীরে সম্পর্কের বরফ গলেছে।
শনিবার মোদি ও শির দ্বিপাক্ষিক বৈঠক হওয়ার কথা। ২০২৪ সালের অক্টোবরের পর এটি হবে তাদের তৃতীয় বৈঠক।
তবে সম্পর্কের উন্নতি মানেই সব সমস্যা মিটে গেছে— এমন নয়। সীমান্তবিরোধ, বাণিজ্য, বিনিয়োগ, প্রযুক্তি ও নিরাপত্তা নিয়ে দুই দেশের মধ্যে অবিশ্বাস এখনো রয়েছে। ভারত কিছু চীনা বিনিয়োগের ওপর বিধিনিষেধ শিথিল করলেও নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগ রয়ে গেছে। অন্যদিকে চীনা ব্যবসায়ীরাও ভারতে নতুন বিনিয়োগে সতর্ক।
ফলে এবারের বৈঠকে মূল প্রশ্ন হবে— সীমান্তে স্থিতিশীলতার পর দুই দেশ অর্থনৈতিক সম্পর্ক কতটা স্বাভাবিক করতে পারে।
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের ভারত সফরও এবারের সম্মেলনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। ২০২৪ সালে প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর এটাই তার প্রথম ভারত সফর।
শুক্রবার মোদির সঙ্গে তার বৈঠক হয়েছে। মাত্র দুই সপ্তাহের মধ্যে এটি দুই নেতার দ্বিতীয় বৈঠক। এর আগে ৩১ আগস্ট বিশকেকে এসওসি সম্মেলনের ফাঁকে তারা কথা বলেন।
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের মধ্যে এই বৈঠকের বিশেষ তাৎপর্য রয়েছে। মোদি বৈঠকে মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তি ও স্থিতিশীলতার পাশাপাশি নৌ চলাচলের স্বাধীনতা, বাণিজ্যিক রুট খোলা রাখা এবং নাবিকদের নিরাপত্তার ওপর জোর দিয়েছেন।
ভারতের জন্য বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। হরমুজ প্রণালি দিয়ে বৈশ্বিক জ্বালানি বাণিজ্যের বড় অংশ চলাচল করে এবং যুদ্ধের কারণে এই নৌপথে দীর্ঘস্থায়ী অস্থিরতা ভারতের জ্বালানি সরবরাহ ও বাণিজ্যকে সরাসরি প্রভাবিত করছে।
পেজেশকিয়ান একই দিনে ব্রিকস বিজনেস ফোরামে অর্থনৈতিক চাপ ও নিষেধাজ্ঞার সমালোচনা করে বলেন, এসব পদক্ষেপ অন্য দেশের বৈধ বাণিজ্যকে বাধাগ্রস্ত করছে।
ইরানের সঙ্গে ভারতের সম্পর্কের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো চাবাহার বন্দর। যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার কারণে প্রকল্পটি আগের গতিতে এগোয়নি। তবু মধ্য এশিয়া ও আফগানিস্তানের সঙ্গে ভারতের যোগাযোগের জন্য ইরানকে নয়াদিল্লি কৌশলগত অংশীদার হিসেবে দেখে।
আরও বড় প্রশ্ন— ইরান ও সংযুক্ত আরব আমিরাত যখন একই সংঘাতে বিপরীত অবস্থানে, তখন ভারত কি ব্রিকসের চূড়ান্ত ঘোষণায় উভয় পক্ষকে এক জায়গায় আনতে পারবে? এই প্রশ্নের উত্তর এবারের সম্মেলনের সাফল্যের সঙ্গে সরাসরি জড়িত।
দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা ব্রিকসের গুরুত্বপূর্ণ আফ্রিকান সদস্যের প্রতিনিধিত্ব করবেন। দক্ষিণ আফ্রিকা ২০১১ সালে ব্রিকসে যোগ দেওয়ার পরই নামটি ব্রিকস হয়।
ভারত ও দক্ষিণ আফ্রিকার মধ্যে ব্রিকস ছাড়াও জি২০, বাণিজ্য ও উন্নয়ন সহযোগিতার সম্পর্ক রয়েছে। রামাফোসা ও মোদির দ্বিপাক্ষিক বৈঠক রোববার হওয়ার কথা।
দক্ষিণ আফ্রিকা ঐতিহাসিকভাবে গ্লোবাল সাউথের স্বার্থ, আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সংস্কার এবং উন্নয়নশীল দেশগুলোর প্রতিনিধিত্ব বাড়ানোর পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। ফলে ব্রিকসের অর্থনৈতিক ও আর্থিক সংস্কার এজেন্ডায় দেশটির ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।
মিসরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি শুক্রবার রাতে ভারতে পৌঁছেছেন। ২০২৩ সালে দুই দেশ সম্পর্ককে ‘কৌশলগত অংশীদারত্বে’ উন্নীত করে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে মোদি-সিসি যোগাযোগ তুলনামূলক সীমিত। রোববার দুই নেতার দ্বিপাক্ষিক বৈঠক হওয়ার কথা।
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ, সুয়েজ খাল, জ্বালানি ও ভারত-মধ্যপ্রাচ্য-বাণিজ্য করিডরের মতো বিষয়গুলোতে মিসরের অবস্থান ভারতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। ব্রিকসের সম্প্রসারণের পর মিসর আরব বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রতিনিধি হিসেবেও গোষ্ঠীটিতে জায়গা নিয়েছে।
ইথিওপিয়ার প্রধানমন্ত্রী আবি আহমেদ দেশটির প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেবেন। ভারত-ইথিওপিয়া সম্পর্ক গত কয়েক বছরে দ্রুত ঘনিষ্ঠ হয়েছে।
২০২৫ সালের ডিসেম্বরে মোদি প্রথমবার দ্বিপাক্ষিক সফরে ইথিওপিয়া যান। সফরে তাকে দেশটির অন্যতম সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মানে ভূষিত করা হয়।
শনিবার মোদি ও আবির বৈঠক হওয়ার কথা। আফ্রিকার সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক জোরদারের বৃহত্তর কৌশলে ইথিওপিয়া গুরুত্বপূর্ণ— বিশেষ করে কৃষি, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, অবকাঠামো ও উন্নয়ন সহযোগিতায়।
আবুধাবির ক্রাউন প্রিন্স শেখ খালেদ বিন মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেবেন।
ভারতের সঙ্গে আমিরাতের সম্পর্ক গত কয়েক বছরে কৌশলগত পর্যায়ে পৌঁছেছে। জ্বালানি, বিনিয়োগ, বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা ও প্রবাসী ভারতীয়দের স্বার্থ—সব ক্ষেত্রেই দুই দেশের সম্পর্ক গুরুত্বপূর্ণ।
কিন্তু এবারের ব্রিকস সম্মেলনে আমিরাতের গুরুত্ব আরও বেড়েছে ইরানের সঙ্গে তার বিরোধের কারণে। চলমান সংঘাতে তেহরান ও আবুধাবি বিপরীত অবস্থানে থাকায় একই সম্মেলনকক্ষে দুই দেশের প্রতিনিধিত্ব ব্রিকসের ঐক্যের জন্য একটি বড় পরীক্ষা।
সৌদি আরবের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেবেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান আল সৌদ। দেশটি ব্রিকসের সদস্যপদ গ্রহণের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক অবস্থান স্পষ্ট না করলেও গোষ্ঠীর বৈঠক ও কার্যক্রমে অংশ নিচ্ছে।
রিয়াদ ভারতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি অংশীদার। তেল, বিনিয়োগ, অবকাঠামো ও প্রবাসী ভারতীয়দের কারণে সৌদি-ভারত সম্পর্কের কৌশলগত গুরুত্ব অনেক।
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ ও হরমুজ সংকটের সময় সৌদি অবস্থান ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তো ব্রিকসের নতুন সদস্য হিসেবে প্রথমবার নয়াদিল্লির এই সম্মেলনে অংশ নিচ্ছেন। ইন্দোনেশিয়া ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ব্রিকসে যোগ দেয়।
ভারত-ইন্দোনেশিয়া সম্পর্ক সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আরও গভীর হয়েছে। ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল, সামুদ্রিক নিরাপত্তা, বাণিজ্য এবং আসিয়ান কাঠামোয় সহযোগিতা দুই দেশের সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র।
মোদি ও প্রাবোওর আনুষ্ঠানিক দ্বিপাক্ষিক বৈঠক নির্ধারিত না থাকলেও সম্মেলনের ফাঁকে তাঁদের বৈঠক হতে পারে।
১১ সদস্য দেশের বাইরে ব্রিকসের অংশীদার দেশগুলোর প্রতিনিধিরাও সম্মেলনে যোগ দিচ্ছেন। এই কাঠামোটি ২০২৪ সালের কাজান সম্মেলনে তৈরি করা হয়। অংশীদার দেশের তালিকায় রয়েছে বেলারুশ, বলিভিয়া, কিউবা, কাজাখস্তান, মালয়েশিয়া, নাইজেরিয়া, থাইল্যান্ড, উগান্ডা, উজবেকিস্তানসহ আরও কয়েকটি দেশ।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী ম্যাক্সিম রিজেনকভ বেলারুশের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেবেন। রাশিয়ার ঘনিষ্ঠ মিত্র বেলারুশ ইউরেশিয়ান ইকোনমিক ইউনিয়নের সদস্য। ভারতের সঙ্গে এই ইউনিয়নের মুক্তবাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা চলছে।
দিল্লিতে বলিভিয়া দূতাবাসের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স আরলেত্তে গার্সিয়া প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেবেন। বলিভিয়া ব্রিকসের পূর্ণ সদস্য হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্রুনো রদ্রিগেজ পারিলা কিউবার প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেবেন। মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ও জ্বালানি সংকটের মধ্যে কিউবার অংশগ্রহণ ব্রিকসের পশ্চিমা অর্থনৈতিক চাপবিরোধী অবস্থানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
কাজাখস্তানলনের প্রেসিডেন্ট কাসিম-জোমার্ট তোকায়েভ রোববারের আউটরিচ সম্মেলনে অংশ নেবেন। মোদির সঙ্গে তার দ্বিপাক্ষিক বৈঠকও হওয়ার কথা। মধ্য এশিয়ায় ভারতের কৌশলগত যোগাযোগের ক্ষেত্রে কাজাখস্তান গুরুত্বপূর্ণ। তেল, ইউরেনিয়াম, পরিবহন ও আঞ্চলিক নিরাপত্তায় দুই দেশের স্বার্থ রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম মালয়েশিয়ার প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেবেন। শনিবার মোদির সঙ্গে তার বৈঠক হওয়ার কথা। আসিয়ান ও ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে মালয়েশিয়ার ভূমিকার কারণে নয়াদিল্লির কাছে দেশটির গুরুত্ব বাড়ছে।
ভাইস প্রেসিডেন্ট কাশিম শেত্তিমা নাইজেরিয়ার প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেবেন। রোববার মোদির সঙ্গে তার বৈঠক নির্ধারিত। আফ্রিকার বৃহৎ অর্থনীতি ও গুরুত্বপূর্ণ তেল উৎপাদক দেশ হিসেবে নাইজেরিয়া ভারতের জ্বালানি ও বাণিজ্যিক স্বার্থের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। মোদি ২০২৪ সালে নাইজেরিয়া সফর করেছিলেন।
উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী সিহাসাক ফুয়াংকেতকেও থাইল্যান্ড প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেবেন। থাইল্যান্ড গত বছর ব্রিকসের অংশীদার দেশ হয়। ভারত ও থাইল্যান্ডের সম্পর্ক বাণিজ্যের পাশাপাশি ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক যোগাযোগের ওপরও দাঁড়িয়ে আছে। আসিয়ান ও বিমসটেক কাঠামোতেও দুই দেশের ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রয়েছে।
ভাইস প্রেসিডেন্ট জেসিকা আলুপো উগান্ডার প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেবেন। রোববার মোদির সঙ্গে তার বৈঠক হওয়ার কথা। আফ্রিকায় ভারতের উন্নয়ন সহযোগিতা ও কূটনৈতিক উপস্থিতি বাড়ানোর ক্ষেত্রে উগান্ডা গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার।
উপপ্রধানমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রী জামশিদ কুচকারভ উজবেকিস্তানের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেবেন। মধ্য এশিয়ায় ভারতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার উজবেকিস্তান। মোদি গত মাসেই দেশটির প্রেসিডেন্ট শাভকাত মিরজিয়োয়েভের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। ফলে এবারের সম্মেলনে মধ্য এশিয়া নিয়ে ভারতের ধারাবাহিক কূটনৈতিক উদ্যোগও সামনে আসবে।
প্রধানমন্ত্রী লে মিন হুং ভিয়েতনামের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেবেন। শনিবার মোদির সঙ্গে তার দ্বিপাক্ষিক বৈঠক হওয়ার কথা। ভিয়েতনাম ভারতের ‘অ্যাক্ট ইস্ট’ নীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। দক্ষিণ চীন সাগর, সামুদ্রিক নিরাপত্তা, প্রতিরক্ষা ও বাণিজ্যে দুই দেশের সহযোগিতা বাড়ছে।
দিল্লির সম্মেলনে আসা নেতাদের তালিকাই দেখিয়ে দিচ্ছে, ব্রিকস এখন শুধু অর্থনৈতিক সহযোগিতার প্ল্যাটফর্ম নয়। এটি ক্রমেই বৈশ্বিক শক্তির ভারসাম্য নিয়ে আলোচনার একটি গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চে পরিণত হয়েছে।
একদিকে রাশিয়া ও চীন পশ্চিমা-নিয়ন্ত্রিত বৈশ্বিক আর্থিক ও রাজনৈতিক কাঠামোর সংস্কার চায়। ব্রিকসের অর্থমন্ত্রী ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নররা এরই মধ্যে আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের মতো প্রতিষ্ঠানে উন্নয়নশীল দেশগুলোর প্রতিনিধিত্ব বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে আন্তঃদেশীয় লেনদেনে বিকল্প পেমেন্ট ব্যবস্থা এবং দ্রুত ও কম খরচের সীমান্তপারের পেমেন্ট ব্যবস্থার ওপর জোর দিয়েছেন।
অন্যদিকে সদস্যদের মধ্যে বড় ধরনের রাজনৈতিক বিভাজন রয়েছে। ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ, ইরান ও আমিরাতের বিরোধ, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ এবং ভারত-চীন সম্পর্ক— সবগুলোই ব্রিকসের ভেতরে ভিন্ন ভিন্ন অবস্থান তৈরি করেছে।
এই কারণেই এবারের সম্মেলনের সবচেয়ে বড় পরীক্ষা হবে একটি গ্রহণযোগ্য যৌথ ঘোষণা তৈরি করা। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্য নিয়ে ভাষা নির্ধারণে ইরান ও আমিরাতকে একই জায়গায় আনা ভারতের জন্য কঠিন কূটনৈতিক কাজ।
অর্থনৈতিক দিক থেকেও সম্মেলনটি গুরুত্বপূর্ণ। ব্রিকসের আলোচনায় স্টার্টআপ সহযোগিতা, সরবরাহব্যবস্থার স্থিতিস্থাপকতা, ডিজিটাল পেমেন্ট, নতুন আর্থিক ব্যবস্থা এবং আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সংস্কার গুরুত্ব পাচ্ছে।
আর ভারতের জন্য এই সম্মেলনের সবচেয়ে বড় তাৎপর্য হলো— একই সময়ে মস্কো, বেইজিং, তেহরান, আবুধাবি, রিয়াদ, জাকার্তা ও আফ্রিকার শক্তিগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক পরিচালনা করা।
পুতিনের সঙ্গে ভারতের গভীর প্রতিরক্ষা ও জ্বালানি সম্পর্ক, জিনপিংয়ের সঙ্গে সীমান্ত উত্তেজনা কাটিয়ে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার চেষ্টা এবং পেজেশকিয়ানের সঙ্গে যুদ্ধের মধ্যেও যোগাযোগ— তিনটি বৈঠকই ভারতের বর্তমান পররাষ্ট্রনীতির তিনটি আলাদা দিক তুলে ধরছে।
এ কারণেই দিল্লির ব্রিকস সম্মেলন শুধু ১১ দেশের একটি শীর্ষ বৈঠক নয়। এটি একই সঙ্গে যুদ্ধের মধ্যে গ্লোবাল সাউথের অবস্থান, পশ্চিমা নেতৃত্বাধীন অর্থনৈতিক ব্যবস্থার বিকল্প তৈরির চেষ্টা এবং ভারতের ‘সব পক্ষের সঙ্গে সম্পর্ক’ রাখার কূটনীতির বড় পরীক্ষা।
দ্য প্রিন্ট অবলম্বনে

ট্রাম্প বলেন, ৯/১১-এর পর ‘সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধে’ দায়িত্ব পালন করা মার্কিন সামরিক সদস্যদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হচ্ছে। এরপর তিনি ইরানকে ‘বিশ্বের এক নম্বর সন্ত্রাসের পৃষ্ঠপোষক’ হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেন, ইরান যেন কখনো পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে না পারে, তা নিশ্চিত করতে মার্কিন সেনারা এখনো কাজ করছ
১৩ ঘণ্টা আগে
ডিজেলের দামে এই ঊর্ধ্বগতি সরাসরি জ্বালানি বাজারের পাশাপাশি পরিবহন খাতেও চাপ তৈরি করছে। যুক্তরাষ্ট্রের পণ্য পরিবহন ও সরবরাহব্যবস্থার বড় অংশ ট্রাক, রেল, কৃষিযন্ত্র, মাছ ধরার নৌযানসহ ডিজেলচালিত যান ও যন্ত্রের ওপর নির্ভরশীল। ফলে জ্বালানির দাম বাড়লে পরিবহন খরচও দ্রুত বাড়ে।
১৩ ঘণ্টা আগে
নাইটনের ভাষ্য, বিপুল সেনা মোতায়েন করেও রুশ বাহিনী ইউক্রেনের যুদ্ধক্ষেত্রে বড় ধরনের অগ্রগতি অর্জন করতে পারছে না। পশ্চিমা কর্মকর্তা ও সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, চলতি বছরে রুশ বাহিনীর অগ্রযাত্রার গতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।
১৬ ঘণ্টা আগে
ব্রিকস সম্মেলন সামনে রেখেই তিন দিনের সফরে ভারত গেছেন ভ্লাদিমির পুতিন। তার নয়াদিল্লি সফর ভারতের জন্য একই সঙ্গে কূটনৈতিক ভারসাম্য রক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত। কয়েক দশক ধরে রাশিয়া ভারতের অন্যতম ঘনিষ্ঠ প্রতিরক্ষা ও অর্থনৈতিক অংশীদার। ভারতের সামরিক সরঞ্জামের বড় একটি অংশ ঐতিহাসিকভাবে রাশিয়া থেকে এসেছ
১৬ ঘণ্টা আগে