‘অনুপ্রবেশকারী’ বাংলাদেশিদের বের করে দেবে পশ্চিমবঙ্গ, জানালেন মুখ্যমন্ত্রী

ডেস্ক, রাজনীতি ডটকম
পশ্চিমবঙ্গে বিতর্কিত সিএএ আইন কার্যকর করার কথা জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ছবি: আনন্দবাজার

বাংলাদেশ থেকে ‘অবৈধভাবে অনুপ্রবেশকারী’দের রাজ্য ছাড়া করার প্রক্রিয়া শুরু করেছে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকার। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন, যারা নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের (সিটিজেনশিপ অ্যামেন্ডমেন্ট অ্যাক্ট, সিএএ) অন্তর্ভুক্ত নন, তাদের গ্রেপ্তার করে সরাসরি তুলে দেওয়া হবে সীমান্ত সুরক্ষা বাহিনী বিএসএফের হাতে। তারা বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিবির সঙ্গে যোগাযোগ করে এসব ব্যক্তিকে ভারত থেকে বের করে দিতে ব্যবস্থা নেবে।

পশ্চিমবঙ্গের পত্রিকা আনন্দবাজারের খবরে বলা হয়েছে, বুধবার (২০ মে) বিকেলে রাজ্য সরকার ভবন ‘নবান্ন’তে বৈঠক করে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান তিনি।

এর আগে গত বছর ভারত সরকার বিতর্কিত সিএএ আইন পাস করে। ওই সময় এ নিয়ে প্রচুর সমালোচনা হয়। কংগ্রেসসহ বিরোধী দলগুলো এ আইনের তীব্র বিরোধিতা করে। কিন্তু নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন বিজেপি সরকার এ আইনের বিষয়ে অনড় ছিল।

এ সময় শুভেন্দু বলেন, গত বছরই ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার এ সংক্রান্ত একটি নির্দেশিকা পশ্চিমবঙ্গে পাঠিয়েছিল। কিন্তু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেস সরকার তা কার্যকর করেনি। রাজ্যে প্রথমবার ক্ষমতায় এসে বিজেপি সরকার সে আইন কার্যকর করল।

খবরে বলা হয়েছে, শুভেন্দু বুধবার সকালে উত্তরবঙ্গে গিয়েছিলেন। সেখান থেকে ফিরে নবান্নে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন। বিএসএফের কর্মকর্তারাও তার সঙ্গে ছিলেন। এ সময় জানানো হয়, সীমান্ত সুরক্ষা বাহিনীর হাতে রাজ্যের ২৭ কিলোমিটার দীর্ঘ জমি তুলে দিয়েছেন নতুন মুখ্যমন্ত্রী।

এরপরই অনুপ্রবেশ নিয়ে মুখ খোলেন শুভেন্দু অধিকারী। বলেন, বিএসএফের সঙ্গে সুদৃঢ় বন্ধন তৈরি করে আমরা রাজ্য ও দেশকে সুরক্ষিত করব। ভারত সরকারের পক্ষ থেকে ২০২৫ সালের ১৪ মে অবৈধ বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের সরাসরি বিএসএফের হাতে তুলে দেওয়ার জন্য নির্দেশিকা পাঠানো হয়েছিল। আমাদের আগের সরকার একদিকে শরণার্থীদের সিএএ (সুরক্ষা) দেওয়ার বিরোধিতা করেছে, অন্যদিকে, এ গুরুত্বপূর্ণ আইনকে কাজে লাগায়নি। আজ থেকে এই আইন আমরা কার্যকর করলাম।

বুধবার বিএসএফ কর্মকর্তাদের হাতে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের ২৭ কিলোমিটার জমি তুলে দেন শুভেন্দু অধিকারী। ছবি: সংগৃহীত
বুধবার বিএসএফ কর্মকর্তাদের হাতে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের ২৭ কিলোমিটার জমি তুলে দেন শুভেন্দু অধিকারী। ছবি: সংগৃহীত

এই আইনের আওতায় কাদের দেশ ছাড়তে বাধ্য করা হবে— এমন প্রশ্নের জবাবে শুভেন্দু বলেন, সিএএ আইন অনুযায়ী, সাতটি সম্প্রদায়ের মানুষ নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের আওতাভুক্ত। ২০২৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত যারা এ রাজ্যে এসেছেন, তাদের পুলিশ হেনস্থা বা আটক করতে পারবে না। কিন্তু যারা সিএএর অন্তর্ভুক্ত নন, তারা সম্পূর্ণ অবৈধ অনুপ্রবেশকারী।

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী বলেন, তাদের সরাসরি রাজ্য পুলিশ গ্রেপ্তার করবে এবং বিএসএফের হাতে তুলে দেবে। বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিবির সঙ্গে কথা বলে তাদের দেশ থেকে বের করে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে। সীমান্তসংলগ্ন সব থানায় দেশের স্বার্থে, রাজ্যের স্বার্থে এ আইন কার্যকর করলাম।

পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য পুলিশের মহাপরিচালক ও মুখ্য সচিবকে এ সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

এর আগে গত বছর ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক গেজেট বিজ্ঞপ্তি জারি করে জানায়, ধর্মীয় নিপীড়নের শিকার হয়ে বা ধর্মীয় নিপীড়নের ভয়ে ২০২৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও আফগানিস্তান থেকে ভারতে পালিয়ে আসা, হিন্দু, শিখ, বৌদ্ধ, জৈন, পার্সি ও খ্রিষ্টানদের শরণার্থীর মর্যাদা দেওয়া হবে। ভারত সরকার তাদের তাড়িয়ে দেবে না।

২০২৫ সালের ৪ এপ্রিল কার্যকর হওয়া অভিবাসন ও বিদেশি আইনের ৩৩ ধারা অনুযায়ী এ বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়। সংসদের বাজেট অধিবেশনে এ আইন পাস হয়েছিল। প্রবল বিরোধিতা সত্ত্বেও সংখ্যার জোরে আইন পাস করিয়ে নেয় কেন্দ্র সরকার।

আনন্দবাজার বলছে, এ আইনের উদ্দেশ্য স্পষ্ট— কোন কোন বিদেশি ভারতে ঢুকবেন, কীভাবে ঢুকবেন, কী নথি থাকলে তারা ঢুকতে পারবেন, সেসব বিষয়ে ভারত সরকারের হাতে কী কী ক্ষমতা থাকবে— এ আইনে তা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বলা রয়েছে। এ আইনেই বলা আছে, বৈধ পাসপোর্ট-ভিসা ছাড়া কেউই ভারতে প্রবেশ করতে পারবেন না।

এ আইনেরই ৩৩ ধারায় ভারত সরকারের হাতে এ সংক্রান্ত ব্যাপক ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, পরিস্থিতি বিচার করে গেজেট বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ আইনের বিভিন্ন ধারায় যা বলা আছে, তাতে কেন্দ্রীয় সরকার দরকারে অদলবদল করতে পারবে। পরিস্থিতি সাপেক্ষে কোনটা ‘ব্যতিক্রম’, তা-ও কেন্দ্রীয় সরকার ঠিক করতে পারবে। সেই আইন এবার পশ্চিমবঙ্গে কার্যকর করার কথা ঘোষণা করল বিজেপি সরকার।

ad
ad

বিশ্ব রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন

শেষ বিদায় খামেনির, সপ্তাহব্যাপী রাষ্ট্রীয় কর্মসূচির ঘোষণা করল তেহরান

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি এক বিমান হামলায় টানা ৩৬ বছর ৬ মাস ইরানের রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত থাকা এই শীর্ষ নেতার মৃত্যু হয়। তার মৃত্যুর পর থেকেই মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্ব রাজনীতিতে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। অবশেষে দীর্ঘ প্রক্রিয়া শেষে তার শেষকৃত্যের তারিখ ঘোষণা করল দেশটির প্রশাসন।

১৭ ঘণ্টা আগে

ট্রাম্প বললেন রোববারই চুক্তি, নিশ্চিত করেনি ইরান

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরানের সঙ্গে বহুল প্রতীক্ষিত সমঝোতা চুক্তি সই হতে যাচ্ছে আগামীকাল রোববার (১৪ জুন)। তবে ইরানের পক্ষ থেকে চুক্তির সময় এখনো নিশ্চিত করা হয়নি। উলটো রোববার এ চুক্তি সই হবে না বলে জানিয়েছে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র।

১ দিন আগে

হরমুজ প্রণালিতে ইরানি ড্রোন বিধ্বস্ত করল মার্কিন বাহিনী

তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে চলমান শান্তি আলোচনায় অগ্রগতির খবরের মাঝেই পারস্য উপসাগরে নতুন করে সামরিক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। শুক্রবার হরমুজ প্রণালির দিকে ধেয়ে আসা ইরানের বেশ কয়েকটি ‘ওয়ান-ওয়ে অ্যাটাক ড্রোন’ (আত্মঘাতী ড্রোন) গুলি করে বিধ্বস্ত করেছে মার্কিন বাহিনী।

১ দিন আগে

২৪ ঘণ্টার মধ্যে ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের প্রাথমিক শান্তি চুক্তি: পাকিস্তান

দীর্ঘ তিন মাসেরও বেশি সময় ধরে চলা রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর অবশেষে একটি শান্তি চুক্তির রূপরেখায় সম্মত হয়েছে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই দেশ দুটির মধ্যে এই প্রাথমিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। আজ শনিবার পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ এমনটাই জানিয়েছেন।

১ দিন আগে