সিইসির পদত্যাগ দাবি: শুক্রবার দিল্লিতে ‘তেরঙা’ মিছিলের ডাক সিজেপির
-478c5b-480x270.webp)
ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে চলমান আন্দোলনের মধ্যে আগামীকাল শুক্রবার নয়াদিল্লিতে ‘তেরঙা’ মিছিলের ডাক দিয়েছেন ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে। বিকেল পাঁচটায় কনট প্লেসের সেন্ট্রাল পার্কে জাতীয় পতাকা হাতে এই কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। অভিজিতের আশঙ্কা, কর্মসূচির পর তাকেও গ্রেপ্তার করা হতে পারে।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের খবরে বলা হয়, সিজেপির দুই জ্যেষ্ঠ নেতা সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কাকে যন্তর মন্তরে ঢুকে জাতীয় পতাকা ওড়ানোর ঘটনায় গ্রেপ্তার করে পাঁচ দিনের বিচার বিভাগীয় হেফাজতে পাঠানো হয়েছে। এ কারণে শুক্রবারের ‘তেরঙা’ মিছিলের কর্মসূচিতে তাদের অংশ নেওয়া অনিশ্চিত।
তেরঙা মিছিল হলো ভারতের জাতীয় পতাকা (তিনটি রঙের সমন্বয়) হাতে নিয়ে আয়োজিত এক ধরনের শোভাযাত্রা বা দেশাত্মবোধক মিছিল। এটি সাধারণত জাতীয় সংহতি, দেশপ্রেমের প্রচার এবং বিশেষ কোনো জাতীয় দিবস বা আন্দোলনের অংশ হিসেবে আয়োজন করা হয়।
‘জাতীয় পতাকা ওড়ানো কোনো অপরাধ নয়’
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে অভিজিৎ বলেন, ‘আপনারা জানেন, যন্তর মন্তরে জাতীয় পতাকা ওড়ানোর জন্য আশুতোষ ও সৌরভকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তাই যারা দেশকে ভালোবাসেন, জাতীয় পতাকাকে ভালোবাসেন, তাদের সবাইকে ১৬ অক্টোবর (শুক্রবার) বিকেল পাঁচটায় কনট প্লেসের সেন্ট্রাল পার্কে আসার অনুরোধ জানাচ্ছি।’
কর্মসূচিতে জাতীয় পতাকা নিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা আমাদের জাতীয় পতাকা ওড়াব। সবাইকে জানিয়ে দেবো, এই পতাকা ওড়ানো কোনো অপরাধ নয়। যারা দিল্লিতে আসতে পারবেন না, তারা নিজ নিজ শহরে তেরঙা মিছিলের আয়োজন করুন। এই স্বৈরাচারীদের জানিয়ে দিন, জাতীয় পতাকা আমাদের গর্ব। এই পতাকা ওড়ানো কোনো অপরাধ নয়।’
নিজেও গ্রেপ্তার হতে পারেন— এমন আশঙ্কার কথা জানিয়ে অভিজিৎ বলেন, ‘আমার জাতীয় পতাকা আমার গর্ব। আমি এই কাজ করবই।’
তবে কর্মসূচি আয়োজন নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, সেন্ট্রাল পার্কে মিছিলের জন্য আয়োজকরা অনুমতি চাননি। এ ধরনের কর্মসূচি পালনে অনুমতি নেওয়া বাধ্যতামূলক। এ ছাড়া কর্মসূচিস্থলে ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার ১৬৩ ধারা অনুযায়ী নিষেধাজ্ঞা জারি থাকায় মিছিলের অনুমতি পাওয়া নিয়েও সংশয় রয়েছে।
যন্তর মন্তর অভিমুখে মিছিল, আটক বিরোধী নেতাকর্মীরা
এদিকে সিইসি জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ এবং ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়া বাতিলের দাবিতে গতকাল বুধবারও দিল্লিতে বিক্ষোভ ও মিছিল করেছেন বিরোধী দলগুলোর ছাত্র ও যুবসংগঠনের নেতাকর্মীরা। যন্তর মন্তরের দিকে এগোনোর চেষ্টা করলে বিভিন্ন স্থানে তাদের বাধা দেয় পুলিশ। এ সময় কয়েকজন আন্দোলনকারীকে আটক করা হয়।
সিপিএমের ছাত্রসংগঠন এসএফআই ও যুবসংগঠন ডিওয়াইএফআইয়ের মিছিল শুরু হয় ফিরোজ শাহ রোড থেকে। একই সময়ে কংগ্রেসের ছাত্রসংগঠন এনএসইউআই ও যুব কংগ্রেসের কর্মীরা প্যাটেল চক মেট্রোস্টেশনের কাছ থেকে মিছিল বের করেন। পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানার কাছে পুলিশ তাদের পথ আটকে দিলে দুই পক্ষের মধ্যে কিছুক্ষণ ধস্তাধস্তি হয়। পরে আন্দোলনকারীদের বাসে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। ফিরোজ শাহ রোড থেকে আটক করা হয় সিপিএমের রাজ্যসভার সদস্য ভি শিবদাসনকেও।
বিরোধীদের অভিযোগ, এসআইআরের নামে বিপুলসংখ্যক ভোটারের নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে, যা ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টিকে (বিজেপি) সুবিধা দিচ্ছে। এ কারণে সিইসির পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন জোরালো করেছে তারা। এসআইআর প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও কারিগরি ত্রুটি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে বিরোধী দলগুলো।
প্রসঙ্গত, এসআইআরের নামে ভারতে প্রায় ১৩ কোটি ভোটারের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে মুসলিমরাও রয়েছেন। এই প্রক্রিয়ায় কারিগরি ত্রুটি এবং স্বচ্ছতার ঘাটতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নির্বাচন কমিশনের অন্য দুই কমিশনার সিইসি জ্ঞানেশ কুমারের নেওয়া একাধিক সিদ্ধান্ত নিয়ে আপত্তি জানিয়েছিলেন। তিন সদস্যের সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান নির্বাচন কমিশনে সংখ্যাগরিষ্ঠের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এর পর থেকেই সিইসির পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন জোরদার করেছে কংগ্রেসসহ বিরোধী দলগুলো। দিল্লির বিভিন্ন স্থানে এ দাবিতে হোর্ডিংও টাঙিয়েছে কংগ্রেস।
সৌরভ-আশুতোষের কারাবাসের নিন্দা রাহুলের
সিজেপির দুই নেতা সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কাকে পাঁচ দিনের বিচার বিভাগীয় হেফাজতে পাঠানোর ঘটনায় বিরোধী দলগুলোর প্রতিক্রিয়া আরও তীব্র হয়েছে। মঙ্গলবার যন্তর মন্তরে ঢুকে জাতীয় পতাকা ওড়ানোর পর তাদের আটক করা হয়।
পুলিশের অভিযোগ, তারা নিরাপত্তাব্যবস্থা ভেঙে সেখানে প্রবেশ করেন এবং শান্তি ভঙ্গ করেন। তাদের ছেড়ে দিলে আবারও বিশৃঙ্খলা তৈরি হতে পারে— এমন যুক্তিতে তাদের হেফাজতে রাখার আবেদন জানায় পুলিশ। পরে তাদের তিহার কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন সংশ্লিষ্ট ম্যাজিস্ট্রেট।
এই ঘটনার নিন্দা জানিয়ে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী বলেন, ‘যন্তর মন্তরে জাতীয় পতাকা ওড়ানো কোনো অপরাধ নয়। সে জন্য তরুণদের কারাগারে পাঠানো কাপুরুষতার লক্ষণ।’ তিনি আরও বলেন, ‘ছাত্র, তরুণ, সাংবাদিক, ইন্ডিয়া জোট— প্রত্যেকের ব্যানার আলাদা হতে পারে, কিন্তু লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য এক এবং অভিন্ন।’
সিজেপির আহ্বায়ক অভিজিৎ দীপকেও দলীয় নেতাদের কারাগারে পাঠানোর নিন্দা জানিয়েছেন। বুধবার সকালে নাগপুর থেকে দেওয়া এক বার্তায় তিনি বলেন, ‘ওদের অপরাধ কী? যন্তর মন্তরে জাতীয় পতাকা ওড়ানো?’ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীজি, একটু সাহস দেখান। এভাবে ভিন্নমত দমাতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ হলে বরং জরুরি অবস্থা জারি করে দিন। কাপুরুষের মতো কৌশলের আড়ালে লুকোনোর দরকার নেই।’
একই ঘটনায় রাহুল গান্ধী ও অভিজিৎ দীপকের বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী মোদিকে ‘কাপুরুষ’ আখ্যা, সরকারের সমালোচনা এবং আন্দোলনের লক্ষ্য নিয়ে মিল দেখা গেছে। দুজনেই জানিয়েছেন, তাদের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য এক। এতে কংগ্রেসসহ বিরোধী জোট এবং সিজেপির আন্দোলন ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে।
পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও সিজেপির দুই নেতাকে কারাগারে পাঠানোর নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘তোমাদের দিদি তোমাদের সঙ্গে আছে। চিরকাল থাকবেও।’


-027dc7.jpg)











-027dc7-256x144.webp)

-dcc02f-256x144.webp)




