সীমান্তে সাপ ছাড়ার খবর ঠিক নয়: বিক্রম মিশ্রি

কূটনৈতিক প্রতিবেদক, রাজনীতি ডটকম
আপডেট : ০৬ মে ২০২৬, ২০: ২৩
সীমান্তে সাপ ছাড়ার খবর ঠিক নয়: বিক্রম মিশ্রি

অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকাতে বাংলাদেশে সীমান্তে সাপ ও কুমির ছাড়ার খবর সঠিক নয় বলে জানিয়েছেন ভারতের পররাষ্ট্র সচিব বিক্রম মিশ্রি।

নয়া দিল্লিতে সফররত বাংলাদেশি সাংবাদিকদের একটি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে গত সোমবার মতবিনিময়কালে তিনি এ কথা জানান।

বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক এগিয়ে নিতে চায় উল্লেখ করে বিক্রম মিশ্রি বলেন, পারস্পরি মর্যাদা ও স্বার্থের ভিত্তি বাংলাদেশ-ভারতের সম্পর্কের ভিত্তি হবে। আমরা বাংলাদেশের সঙ্গে এনগেজমেন্ট করতে আগ্রহী। ভারত সম্পর্ক সামনে এগিয়ে নিয়ে যেতে চায়। বাংলাদেশ তার অগ্রাধিকার নির্ধারণ করলে আমরা আলোচনায় বসতে আগ্রহী। আমরা বিশ্বাস করি, দুই দেশের জনগণের কল্যাণে উভয় পক্ষ কাজ করবে।

বাংলাদেশের নির্বাচনে ভারতের কোনো সম্পৃক্ততা ছিল না জানিয়ে দেশটির পররাষ্ট্র সচিব বলেন, অতীতে আমরা বাংলাদেশের সব সরকারের সঙ্গে কাজ করেছি। কিন্তু ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং’-এ ভারতের সহযোগিতা ছিল না। আমরা প্রত্যাশা করি, বাংলাদেশের জনগণ তাদের নেতা নির্বাচন করে এবং করবে। বাংলাদেশে যে সরকারই ক্ষমতায় তার সঙ্গে আমরা কাজ করব। এ সময় বিক্রিম মিশ্রি তিস্তার পানিবণ্টন, গঙ্গা চুক্তির নবায়ন, শেখ হাসিনার প্রত্যাবাসন, বাংলাদেশ নিয়ে আসামের মুখ্যমন্ত্রীর বিতর্কিত মন্তব্য, পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচন ও ভিসাসহ নানা বিষয়ে আলাপ করেন।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্কের সোনালী অধ্যায়ের কথা বলা হতো। কিন্তু সেসময় তিস্তার জট খোলেনি। আর এর পেছনে বারবারই পশ্চিবঙ্গের মূখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়ের বাধার কথা এসেছে।

বিধানসভা নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের রাজনৈতিক অবস্থান পরিবর্তনের ফলে চুক্তিতে কোনো গতি আসবে কি না, জানতে চাইলে বিক্রম মিশ্রি বলেন, দুই দেশের মধ্যে ৫৪টি অভিন্ন নদী রয়েছে। যৌথ নদী কমিশনের বৈঠকে পানি ব্যবস্থার সামগ্রিক বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়। যৌথ নদী কমিশন ও কারিগরি কমিটির মাধ্যমে এই আলোচনাগুলো এগিয়ে নেওয়া হবে।

গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তির সবায়ন প্রসঙ্গে বিক্রম মিশ্রি বলেন, প্রায় তিন দশক আগের এই চুক্তিটি কার্যকরভাবে কাজ করেছে এবং প্রতিষ্ঠিত প্রাতিষ্ঠানিক চ্যানেলের মাধ্যমে এটি নবায়ন করা হবে।

ভারতে অবস্থানরত ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রত্যাবর্তনের প্রশ্নে সরাসরি কোনো জবাব দেননি দেশটির বিদেশ সচিব। তিনি বলেন, সব বিষয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে বাস্তবসম্মত উপায়ে যোগাযোগ বাড়াতে চায় ভারত।

সম্প্রতি আসামের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত বিশ্ব শর্মার বাংলাদেশ বিতর্কিত মন্তব্য নিয়ে করা প্রশ্নের জবাবে বিক্রম মিশ্রি বলেন, ওই মন্তব্যগুলো একটি নির্দিষ্ট প্রেক্ষাপটে করা হয়েছিল যা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। এ ধরনের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বক্তব্যকে দ্বিপাক্ষিক কূটনীতির সঙ্গে মিলিয়ে বড় করে না দেখাই শ্রেয়।

মধ্যপ্রাচ্যের সংটকের প্রেক্ষাপটে রাশিয়া থেকে বাংলাদেশের জ্বালানি আনার ক্ষেত্রে ভারতের সহযোগিতা নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে বিক্রম মিশ্রি বলেন, আমরা বিশ্বের প্রায় ৪০টি দেশ থেকে অপরিশোধিত তেল আমদানি করে থাকি। বাংলাদেশ পরিশোধিত তেল আনে। মধ্যপ্রাচ্যের সংকটের মধ্যে আমরা বাংলাদেশে ডিজেল সরাবরাহ করেছি। আমরা এই সহযোগিতা অব্যাহত রাখব।

এ সময় বাংলাদেশিদের জন্য ভিসা নিয়ে সুখবর দেন বিক্রিম মিশ্রি। বলেন, ইতমধ্যে আমরা মেডিকেল ভিসা বাড়িয়েছি। ভিসা সহজীকরণ করা হয়েছে। শিগগিরই অন্যান্য ভিসা স্বাভাবিক করা হবে।

ত্রিপক্ষীয় জোট নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে ভারতের পররাষ্ট্র সচিব বলেন, বাংলাদেশ একটি স্বাধীন রাষ্ট্র। স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশ তার সিদ্ধান্ত নিতেই পারে। তবে আমরা চাইব না তৃতীয় কোন দেশের সঙ্গে বাংলাদেশ এমন কোন সম্পর্কে জড়াবে না, যাতে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।

Ad
ad
Ad 300x250

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

Ad 300x250
ad
Advertisement