ভারতে এনটিএর ৪৭ কর্মকর্তা-কর্মচারী বরখাস্ত, বিভিন্ন রাজ্যে ছড়িয়েছে বিক্ষোভ

ডেস্ক, রাজনীতি ডটকম
আন্দোলন দমাতে নানা ধরনের বিধিনিষেধ আরোপ করছে ভারত সরকার। অনেকে সংবিধান নিয়ে হাজির হয়ে বলছেন, আন্দোলন করা তাদের অধিকার। ছবি: সংগৃহীত
আন্দোলন দমাতে নানা ধরনের বিধিনিষেধ আরোপ করছে ভারত সরকার। অনেকে সংবিধান নিয়ে হাজির হয়ে বলছেন, আন্দোলন করা তাদের অধিকার। ছবি: সংগৃহীত

নিট পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় ৪৭ কর্মকর্তা-কর্মচারীকে বরখাস্ত করেছে ভারতের জাতীয় পরীক্ষা সংস্থা (এনটিএ)। তবে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) নেতৃত্বে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন আরও তীব্র হয়েছে। গত ২০ জুলাই সংসদ অভিমুখে মিছিলে পুলিশের কঠোর দমন-পীড়নের পর এই বিক্ষোভ দিল্লি ছাড়িয়ে বিভিন্ন রাজ্যে ছড়িয়ে পড়েছে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়্যারের খবরে বলা হয়েছে, শুক্রবার কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে বৈঠক শেষে সিজেপি হুঁশিয়ারি দিয়েছে, আগামী এক-দুই দিনের মধ্যে ধর্মেন্দ্র প্রধান পদ না ছাড়লে আরও বড় পরিসরে দেশব্যাপী আন্দোলনের ডাক দেওয়া হবে।

খবরে বলা হয়েছে, নিট ও পুনঃনিট (রি-নিট) পরীক্ষা পরিচালনাকারী এনটিএতে ‘বড় ধরনের পুনর্গঠন’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে ৪৭ কর্মকর্তা-কর্মচারীকে বরখাস্ত করা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরেই এনটিএ তীব্র জনবল সংকটে ভুগছিল। এর মধ্যেই সংস্থাটিতে এই ব্যাপক ছাঁটাইয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

আগামী কয়েক দিনের মধ্যে আরও কর্মকর্তা-কর্মচারীকে বরখাস্ত করা হতে পারে বলেও বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে বৃহস্পতিবার গভীর রাতে দেওয়া ভিডিও বার্তায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি কিংবা কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে দেওয়া আশ্বাসে এই পদক্ষেপের কোনো উল্লেখ ছিল না।

নয়া দিল্লির যন্তর-মন্তরে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের অন্যতম প্রধান দাবি— কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে পদত্যাগ করতে হবে অথবা তাকে পদ থেকে সরিয়ে দিতে হবে।

শুক্রবার কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে বৈঠক শেষে যন্তর-মন্তরে সিজেপির মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা বলেন, ‘আমরা সরকারকে জানিয়েছি, এ বিষয়ে আর বেশি অপেক্ষা করা সম্ভব নয়। আগামী এক-দুই দিনের মধ্যে ধর্মেন্দ্র প্রধান যদি পদ না ছাড়েন, তাহলে আমরা নতুন করে দেশব্যাপী আন্দোলনের ডাক দেবো।’

তিনি আরও বলেন, ‘২০ জুলাইয়ের কর্মসূচির চেয়েও এটি অনেক বড় হবে। আমরা সবকিছু সরকারকে স্পষ্টভাবে জানিয়েছি। আমাদের বিশ্বাস, তারা বুঝেছে যে দেশের মানুষ এখন শুধু ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগই চায়। এর কম কিছু আমাদের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়।’

সিজেপির মুখপাত্র আশুতোষ বলেন, ‘নিট প্রশ্নফাঁসের কারণে যেসব শিক্ষার্থী প্রাণ হারিয়েছে, তাদের জন্য দায়ী কে? আমরা এর উত্তর জানি। ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ বা তাকে মন্ত্রিসভা থেকে অপসারণ— এটি কোনোভাবেই আলোচনার বিষয় নয়। এটি না হওয়া পর্যন্ত এই আন্দোলন এবং দেশের বিভিন্ন প্রান্তে চলমান সমান্তরাল আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। আমরা সরকারকে জানিয়েছি, শিক্ষা সংস্কার নিয়ে মানুষের ভিন্নমত থাকতে পারে, কিন্তু সারা দেশের মানুষ একমত যে ধর্মেন্দ্র প্রধানকে পদত্যাগ করতেই হবে।’

রাঙ্কা জানান, সরকার আবারও শনিবার (২৫ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৩টায় সিজেপিকে আলোচনায় ডেকেছে।

সিজেপির প্রধান মুখপাত্র সৌরভ দাস বলেন, আমরা সরকারকে লিখিতভাবে আমাদের তিনটি প্রধান দাবি খুব স্পষ্টভাবে জানিয়েছি। প্রথমত, ‘ধর্মেন্দ্র প্রধান ইস্তফা দো’— এটি নিয়ে কোনো আপস হবে না। তাকে অবশ্যই পদত্যাগ করতে হবে, অথবা মন্ত্রিসভা থেকে অপসারণ করতে হবে। দ্বিতীয়ত, নিট প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় যারা প্রাণ হারিয়েছেন, তাদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। তৃতীয়ত, আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা সব এফআইআর প্রত্যাহার করতে হবে এবং ভবিষ্যতে আর কোনো এফআইআর করা হবে না— এ মর্মে নিশ্চয়তা দিতে হবে।’

‘এ ছাড়া আমাদের পাঁচ দফা কর্মসূচি রয়েছে। তবে সরকার আগে এই তিনটি মূল দাবি পূরণ করলে পরে সেই পাঁচ দফা নিয়ে আলোচনা করতে চাই। সরকার নীতিগতভাবে দ্বিতীয় ও তৃতীয় দাবির সঙ্গে একমত হয়েছে,’— বলেন সৌরভ দাস।

এদিকে সিজেপির অবস্থান কর্মসূচিকে ঘিরে নয়া দিল্লির যন্তর মন্তরে প্রতিদিনই বিপুলসংখ্যক বিক্ষোভকারী জড়ো হচ্ছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মধ্য দিল্লির কয়েকটি মেট্রো স্টেশন, গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় ইন্টারনেট সেবা এবং কয়েকটি প্রবেশপথ বন্ধ করে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

তবে এসব পদক্ষেপেও আন্দোলনকারীদের উপস্থিতি কমেনি। শুধু দিল্লিতেই নয়, দেশের বিভিন্ন শহরেও সংহতি জানিয়ে বিক্ষোভ হচ্ছে। এদিকে দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের চলমান আন্দোলন থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানিয়ে এবং অংশ নিলে ‘আইনি ব্যবস্থা’ নেওয়া হতে পারে বলে সতর্ক করায় এর সমালোচনা করেছেন লোকসভার বিরোধী দলীয় নেতা রাহুল গান্ধী।

অন্যদিকে শুক্রবার সিজেপি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠক শেষে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জে পি নাড্ডা বলেন, সরকার তাদের উদ্বেগের বিষয়গুলো শুনেছে এবং বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে সেগুলো নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমরা তাদের দাবিগুলো শুনেছি এবং জানিয়েছি, বিষয়গুলো পর্যালোচনা করে পরে তাদের জানানো হবে।’

উল্লেখ্য, শিক্ষাবিদ ও সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক বৃহস্পতিবার গভীর রাতে তার ২৬ দিনের অনশন কর্মসূচি প্রত্যাহার করেন। সরকারের পক্ষ থেকে তার গুরুত্বপূর্ণ দাবিগুলো পূরণের আশ্বাস পাওয়ার পর তিনি অনশন ভাঙেন।

৫৯ বছর বয়সী ওয়াংচুক পরে জানান, প্রথমে তাকে মৌখিক আশ্বাস দেওয়া হলেও তিনি লিখিত নথি দাবি করেছিলেন। এ কারণেই তার অনশন শেষ করতে আরও দুই দিন দেরি হয়।

Ad
ad
Ad 300x250

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

Ad 300x250
ad
Advertisement