
অরুণাভ বিশ্বাস

তিব্বতের আধ্যাত্মিক নেতা দালাই লামা এখন ভারতের মাটিতে বাস করছেন, সেটি দীর্ঘদিনের ইতিহাসের ফসল। পৃথিবীর অনেকেই ভাবেন, দালাই লামার স্থান তো হওয়ার কথা তিব্বতের রাজধানী লাসায়। তিনি কেন এত দূরে, হিমালয়ের অন্য পাশে ভারতের ধর্মশালায় বসবাস করছেন? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজলে আমাদের ফিরে যেতে হবে বিংশ শতকের মাঝামাঝি সময়ে, যখন চীনের হাতে তিব্বত একরকম দখল হয়ে যায়, আর এক ঐতিহাসিক দমন-পীড়নের অধ্যায় শুরু হয়।
১৯৫০ সালে চীনের কমিউনিস্ট বাহিনী তিব্বতে প্রবেশ করে। চীনা সরকার দাবি করে, তিব্বত ঐতিহাসিকভাবে চীনের অংশ, যদিও তিব্বতের নিজস্ব সরকার, ধর্ম, সংস্কৃতি এবং ভাষা ছিল হাজার হাজার বছর ধরে। ১৯৫১ সালে তিব্বত এবং চীনের মধ্যে একটি তথাকথিত 'শান্তি চুক্তি' স্বাক্ষরিত হয়, যেখানে বলা হয়, তিব্বত চীনের অংশ হবে, কিন্তু তাকে সংস্কৃতিগত এবং ধর্মীয় স্বায়ত্তশাসন দেওয়া হবে। এই চুক্তির নামে চীন তিব্বতে শুরু করে একের পর এক দমন-পীড়ন।
১৯৫৯ সালে ঘটে এক গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। লাসায় একটি বিশাল জনসমাবেশ হয় দালাই লামাকে চীনা সেনার হাত থেকে রক্ষার জন্য। এই সমাবেশ দমন করতে চীনা বাহিনী চালায় ট্যাংক, কামান, গুলি। হাজার হাজার তিব্বতি নিহত হন। এই ভয়ঙ্কর পরিস্থিতিতে, ১৪তম দালাই লামা—তখন মাত্র ২৩ বছর বয়স—রাতে ছদ্মবেশে পালিয়ে যান। তিনি তিব্বতের পাহাড় পেরিয়ে পৌঁছান ভারতের অরুণাচল প্রদেশে, তারপর আসেন আসামে। সেখান থেকে ভারত সরকার তাঁকে আশ্রয় দেন হিমাচল প্রদেশের ধর্মশালায়। সেদিন থেকেই তিনি সেখানেই বাস করছেন, আর সেখান থেকেই পরিচালনা করছেন তিব্বতের নির্বাসিত সরকার।
ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরু মানবিক ও রাজনৈতিক কারণে দালাই লামাকে আশ্রয় দেন। কিন্তু চীন এটাকে গ্রহণ করেনি। তাদের চোখে এটা ভারতের পক্ষ থেকে এক রকম বিদ্রোহীদের পৃষ্ঠপোষকতা। তখন থেকেই ভারত ও চীনের সম্পর্ক উত্তপ্ত হতে থাকে, যার পরিণতি হয় ১৯৬২ সালের ভারত-চীন যুদ্ধ।
বর্তমানে ধর্মশালায় তিব্বতের নির্বাসিত সংসদ, তিব্বতি মেডিকেল সেন্টার, স্কুল, তিব্বতি শিল্পকলা কেন্দ্র এবং বিভিন্ন সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান রয়েছে। দালাই লামা এখান থেকেই বৌদ্ধ ধর্ম প্রচার করেন, বিশ্বজুড়ে মানবতা, সহিংসতাহীনতা এবং করুণার বার্তা ছড়িয়ে দেন। ১৯৮৯ সালে তিনি শান্তিতে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন।
তবে দালাই লামা কেবল একজন ধর্মীয় নেতা নন, তিনি তিব্বতের আত্মপরিচয়ের প্রতীক। চীনের দাবি অনুযায়ী, তিব্বত তাদের অংশ হলেও, দালাই লামার নেতৃত্বে হাজার হাজার তিব্বতি আজও নিজেদের স্বাধীন জাতি হিসেবে বিবেচনা করেন। তারা চান তিব্বত সংস্কৃতি, ভাষা এবং ধর্মীয় বিশ্বাস টিকে থাকুক। দালাই লামা নিজেও বর্তমানে সম্পূর্ণ স্বাধীনতার দাবি না করে 'সত্যিকারের স্বায়ত্তশাসনের' পক্ষে কথা বলেন।
নরওয়ের ওসলো বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনৈতিক গবেষক ফ্রেডরিক ফুয়েন বলেন, “চীন তিব্বতে যে দমননীতি চালিয়েছে, তা কেবল ভূখণ্ড দখলের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটা ছিল সংস্কৃতি ধ্বংস করার চেষ্টাও। দালাই লামা ভারতে থেকে যেটা করেছেন, তা হলো তিব্বতের জাতিগত ও ধর্মীয় পরিচয় রক্ষা।” তাঁর মতে, “দালাই লামার উপস্থিতি ভারতের নৈতিক অবস্থানকে উচ্চতর করেছে, যদিও তার জন্য কূটনৈতিকভাবে মূল্যও চুকাতে হয়েছে।”
যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের তিব্বত বিশেষজ্ঞ মেরি লাভ বলেন, “দালাই লামা হচ্ছেন এমন একজন নেতা যিনি অস্ত্র ছাড়াই একটি জনগোষ্ঠীকে বাঁচিয়ে রাখার চেষ্টা করছেন। ভারতে তাঁর উপস্থিতি শুধু রাজনৈতিক নয়, মানবিক ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।”
চীন কিন্তু থেমে নেই। তারা এখন নিজেরাই এক ‘দালাই লামা’ তৈরি করার চেষ্টা করছে। ১৪তম দালাই লামা এখন প্রায় ৯০-এর কাছাকাছি। চীন বলছে, পরবর্তী দালাই লামা তারাই নির্বাচিত করবে। অথচ, ঐতিহ্য অনুযায়ী, দালাই লামার পরবর্তী দেহধারী খোঁজা হয় তার মৃত্যুর পর, বিভিন্ন ধর্মীয় প্রক্রিয়া অনুসরণ করে। চীন সেই প্রক্রিয়াকে অস্বীকার করে ‘সরকারি দালাই লামা’ তৈরি করতে চায়, যেন দালাই লামার বৌদ্ধিক ও রাজনৈতিক প্রভাব শেষ করে ফেলা যায়।
এই প্রেক্ষাপটে দালাই লামার ভারতে থাকা কেবল এক ধর্মীয় নির্বাসনের গল্প নয়, এটা বিশ্বের বৃহত্তর নৈতিকতা ও মানবাধিকার সংক্রান্ত এক গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু। ভারতে থাকা মানে নিরাপত্তা, ধর্মীয় স্বাধীনতা এবং তিব্বতের অস্তিত্ব রক্ষা।
তিব্বতের এক নির্বাসিত লেখক তেনজিন তেসোর কথায়, “ভারত আমাদের দ্বিতীয় জন্মভূমি। এখানে আমরা শ্বাস নিতে পারি, কথা বলতে পারি, বেঁচে থাকতে পারি আমাদের মতো করে। এই আশ্রয় না পেলে আজ তিব্বত সংস্কৃতি ইতিহাসেই হারিয়ে যেত।”
তবে ভারতের জন্য এই আশ্রয়দান সবসময় সহজ ছিল না। চীনের চাপ, আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক চ্যালেঞ্জ, বাণিজ্যিক সম্পর্ক—সব কিছু মিলিয়ে ভারতে এক ভারসাম্যের কৌশল নিতে হয়েছে। তারপরও ভারত কখনো দালাই লামাকে ত্যাগ করেনি। বরং ধর্মশালাকে গড়ে তুলেছে এক বৌদ্ধ সাংস্কৃতিক কেন্দ্র হিসেবে, যেখানে বিশ্বজুড়ে গবেষকরা আসেন তিব্বত সভ্যতা নিয়ে কাজ করতে।
এখন প্রশ্ন ওঠে, ভবিষ্যতে দালাই লামার মৃত্যু হলে কী হবে? তিব্বতিদের একাংশ মনে করেন, তাঁর পরবর্তী জন্ম ভারতেই হতে পারে। কেউ কেউ বলেন, আগামী দালাই লামা হয়তো নির্বাসনে থাকবেন, কিন্তু তিব্বতের সংস্কৃতি ও চেতনাকে তিনি বহন করবেন নতুন রূপে।
শেষ পর্যন্ত বলা যায়, দালাই লামার ভারতে থাকার মধ্য দিয়ে ইতিহাস, ধর্ম, রাজনীতি এবং মানবতা—এই চারটি জগতের এক দুর্লভ মিলন ঘটেছে। একদিকে তিনি বৌদ্ধ ধর্মের প্রতীক, অন্যদিকে তিনি ইতিহাসের জীবন্ত দলিল, যে ইতিহাস বলে দেয়—ভূগোল দিয়ে সবকিছু থেমে যায় না, আত্মার স্থান সবসময় মানচিত্রে সীমাবদ্ধ নয়।

তিব্বতের আধ্যাত্মিক নেতা দালাই লামা এখন ভারতের মাটিতে বাস করছেন, সেটি দীর্ঘদিনের ইতিহাসের ফসল। পৃথিবীর অনেকেই ভাবেন, দালাই লামার স্থান তো হওয়ার কথা তিব্বতের রাজধানী লাসায়। তিনি কেন এত দূরে, হিমালয়ের অন্য পাশে ভারতের ধর্মশালায় বসবাস করছেন? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজলে আমাদের ফিরে যেতে হবে বিংশ শতকের মাঝামাঝি সময়ে, যখন চীনের হাতে তিব্বত একরকম দখল হয়ে যায়, আর এক ঐতিহাসিক দমন-পীড়নের অধ্যায় শুরু হয়।
১৯৫০ সালে চীনের কমিউনিস্ট বাহিনী তিব্বতে প্রবেশ করে। চীনা সরকার দাবি করে, তিব্বত ঐতিহাসিকভাবে চীনের অংশ, যদিও তিব্বতের নিজস্ব সরকার, ধর্ম, সংস্কৃতি এবং ভাষা ছিল হাজার হাজার বছর ধরে। ১৯৫১ সালে তিব্বত এবং চীনের মধ্যে একটি তথাকথিত 'শান্তি চুক্তি' স্বাক্ষরিত হয়, যেখানে বলা হয়, তিব্বত চীনের অংশ হবে, কিন্তু তাকে সংস্কৃতিগত এবং ধর্মীয় স্বায়ত্তশাসন দেওয়া হবে। এই চুক্তির নামে চীন তিব্বতে শুরু করে একের পর এক দমন-পীড়ন।
১৯৫৯ সালে ঘটে এক গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। লাসায় একটি বিশাল জনসমাবেশ হয় দালাই লামাকে চীনা সেনার হাত থেকে রক্ষার জন্য। এই সমাবেশ দমন করতে চীনা বাহিনী চালায় ট্যাংক, কামান, গুলি। হাজার হাজার তিব্বতি নিহত হন। এই ভয়ঙ্কর পরিস্থিতিতে, ১৪তম দালাই লামা—তখন মাত্র ২৩ বছর বয়স—রাতে ছদ্মবেশে পালিয়ে যান। তিনি তিব্বতের পাহাড় পেরিয়ে পৌঁছান ভারতের অরুণাচল প্রদেশে, তারপর আসেন আসামে। সেখান থেকে ভারত সরকার তাঁকে আশ্রয় দেন হিমাচল প্রদেশের ধর্মশালায়। সেদিন থেকেই তিনি সেখানেই বাস করছেন, আর সেখান থেকেই পরিচালনা করছেন তিব্বতের নির্বাসিত সরকার।
ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরু মানবিক ও রাজনৈতিক কারণে দালাই লামাকে আশ্রয় দেন। কিন্তু চীন এটাকে গ্রহণ করেনি। তাদের চোখে এটা ভারতের পক্ষ থেকে এক রকম বিদ্রোহীদের পৃষ্ঠপোষকতা। তখন থেকেই ভারত ও চীনের সম্পর্ক উত্তপ্ত হতে থাকে, যার পরিণতি হয় ১৯৬২ সালের ভারত-চীন যুদ্ধ।
বর্তমানে ধর্মশালায় তিব্বতের নির্বাসিত সংসদ, তিব্বতি মেডিকেল সেন্টার, স্কুল, তিব্বতি শিল্পকলা কেন্দ্র এবং বিভিন্ন সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান রয়েছে। দালাই লামা এখান থেকেই বৌদ্ধ ধর্ম প্রচার করেন, বিশ্বজুড়ে মানবতা, সহিংসতাহীনতা এবং করুণার বার্তা ছড়িয়ে দেন। ১৯৮৯ সালে তিনি শান্তিতে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন।
তবে দালাই লামা কেবল একজন ধর্মীয় নেতা নন, তিনি তিব্বতের আত্মপরিচয়ের প্রতীক। চীনের দাবি অনুযায়ী, তিব্বত তাদের অংশ হলেও, দালাই লামার নেতৃত্বে হাজার হাজার তিব্বতি আজও নিজেদের স্বাধীন জাতি হিসেবে বিবেচনা করেন। তারা চান তিব্বত সংস্কৃতি, ভাষা এবং ধর্মীয় বিশ্বাস টিকে থাকুক। দালাই লামা নিজেও বর্তমানে সম্পূর্ণ স্বাধীনতার দাবি না করে 'সত্যিকারের স্বায়ত্তশাসনের' পক্ষে কথা বলেন।
নরওয়ের ওসলো বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনৈতিক গবেষক ফ্রেডরিক ফুয়েন বলেন, “চীন তিব্বতে যে দমননীতি চালিয়েছে, তা কেবল ভূখণ্ড দখলের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটা ছিল সংস্কৃতি ধ্বংস করার চেষ্টাও। দালাই লামা ভারতে থেকে যেটা করেছেন, তা হলো তিব্বতের জাতিগত ও ধর্মীয় পরিচয় রক্ষা।” তাঁর মতে, “দালাই লামার উপস্থিতি ভারতের নৈতিক অবস্থানকে উচ্চতর করেছে, যদিও তার জন্য কূটনৈতিকভাবে মূল্যও চুকাতে হয়েছে।”
যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের তিব্বত বিশেষজ্ঞ মেরি লাভ বলেন, “দালাই লামা হচ্ছেন এমন একজন নেতা যিনি অস্ত্র ছাড়াই একটি জনগোষ্ঠীকে বাঁচিয়ে রাখার চেষ্টা করছেন। ভারতে তাঁর উপস্থিতি শুধু রাজনৈতিক নয়, মানবিক ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।”
চীন কিন্তু থেমে নেই। তারা এখন নিজেরাই এক ‘দালাই লামা’ তৈরি করার চেষ্টা করছে। ১৪তম দালাই লামা এখন প্রায় ৯০-এর কাছাকাছি। চীন বলছে, পরবর্তী দালাই লামা তারাই নির্বাচিত করবে। অথচ, ঐতিহ্য অনুযায়ী, দালাই লামার পরবর্তী দেহধারী খোঁজা হয় তার মৃত্যুর পর, বিভিন্ন ধর্মীয় প্রক্রিয়া অনুসরণ করে। চীন সেই প্রক্রিয়াকে অস্বীকার করে ‘সরকারি দালাই লামা’ তৈরি করতে চায়, যেন দালাই লামার বৌদ্ধিক ও রাজনৈতিক প্রভাব শেষ করে ফেলা যায়।
এই প্রেক্ষাপটে দালাই লামার ভারতে থাকা কেবল এক ধর্মীয় নির্বাসনের গল্প নয়, এটা বিশ্বের বৃহত্তর নৈতিকতা ও মানবাধিকার সংক্রান্ত এক গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু। ভারতে থাকা মানে নিরাপত্তা, ধর্মীয় স্বাধীনতা এবং তিব্বতের অস্তিত্ব রক্ষা।
তিব্বতের এক নির্বাসিত লেখক তেনজিন তেসোর কথায়, “ভারত আমাদের দ্বিতীয় জন্মভূমি। এখানে আমরা শ্বাস নিতে পারি, কথা বলতে পারি, বেঁচে থাকতে পারি আমাদের মতো করে। এই আশ্রয় না পেলে আজ তিব্বত সংস্কৃতি ইতিহাসেই হারিয়ে যেত।”
তবে ভারতের জন্য এই আশ্রয়দান সবসময় সহজ ছিল না। চীনের চাপ, আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক চ্যালেঞ্জ, বাণিজ্যিক সম্পর্ক—সব কিছু মিলিয়ে ভারতে এক ভারসাম্যের কৌশল নিতে হয়েছে। তারপরও ভারত কখনো দালাই লামাকে ত্যাগ করেনি। বরং ধর্মশালাকে গড়ে তুলেছে এক বৌদ্ধ সাংস্কৃতিক কেন্দ্র হিসেবে, যেখানে বিশ্বজুড়ে গবেষকরা আসেন তিব্বত সভ্যতা নিয়ে কাজ করতে।
এখন প্রশ্ন ওঠে, ভবিষ্যতে দালাই লামার মৃত্যু হলে কী হবে? তিব্বতিদের একাংশ মনে করেন, তাঁর পরবর্তী জন্ম ভারতেই হতে পারে। কেউ কেউ বলেন, আগামী দালাই লামা হয়তো নির্বাসনে থাকবেন, কিন্তু তিব্বতের সংস্কৃতি ও চেতনাকে তিনি বহন করবেন নতুন রূপে।
শেষ পর্যন্ত বলা যায়, দালাই লামার ভারতে থাকার মধ্য দিয়ে ইতিহাস, ধর্ম, রাজনীতি এবং মানবতা—এই চারটি জগতের এক দুর্লভ মিলন ঘটেছে। একদিকে তিনি বৌদ্ধ ধর্মের প্রতীক, অন্যদিকে তিনি ইতিহাসের জীবন্ত দলিল, যে ইতিহাস বলে দেয়—ভূগোল দিয়ে সবকিছু থেমে যায় না, আত্মার স্থান সবসময় মানচিত্রে সীমাবদ্ধ নয়।

এই চুক্তির আওতায় লেবাননে ইসরায়েল এবং হিজবুল্লাহর মধ্যকার চলমান যুদ্ধেরও অবসান ঘটবে। একটি ইসরায়েলি সূত্রের দাবি, গতকাল শনিবার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে এক ফোনালাপে এই শর্তটি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।
১ দিন আগে
রেলওয়ে কর্মকর্তাদের বরাতে রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস পাকিস্তান (এপিপি) জানিয়েছে, শাটল ট্রেনটি কোয়েটা ক্যান্টনমেন্ট থেকে রেলওয়ে স্টেশনের দিকে যাচ্ছিল। সকাল ৮টার কিছুক্ষণ পর চামান ফটকের কাছে বিস্ফোরণটি ঘটে। এতে ট্রেনের কয়েকটি বগি, আশপাশের বাড়িঘর ও যানবাহন ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং ঘটনাস্থলে
১ দিন আগে
ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জিন-নোয়েল ব্যারো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে বলেন, 'আজ থেকে ইতামার বেন-গভিরকে ফরাসি ভূখণ্ডে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হলো।' তিনি অভিযোগ করেন, ওই ভিডিওতে ফরাসি ও ইউরোপীয় নাগরিকদের প্রতি তার 'নিন্দনীয় আচরণ' দেখা গেছে, যারা ওই ত্রাণবাহী ফ্লোটিলার অংশ ছিলেন।
১ দিন আগে
ভূতাত্ত্বিকভাবে সক্রিয় একাধিক ফল্ট লাইনের ওপর অবস্থান করায় তুরস্কে প্রায়ই ভূমিকম্প হয়ে থাকে। দেশটি এখনো ২০২৩ সালের ভয়াবহ ভূমিকম্পের ক্ষত সামলাচ্ছে, যেখানে দক্ষিণ তুরস্ক ও উত্তর সিরিয়ায় ৫০ হাজারেরও বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছিল।
১ দিন আগে