
ডেস্ক, রাজনীতি ডটকম

কাশ্মীর উপত্যকা দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে জটিল ও বিতর্কিত অঞ্চলগুলোর একটি। ভারত, পাকিস্তান এবং চীন—এই তিনটি দেশই কাশ্মীরের বিভিন্ন অংশ নিয়ন্ত্রণ করে, যা বহু দশক ধরে রাজনৈতিক, সামরিক ও কূটনৈতিক উত্তেজনার কেন্দ্রবিন্দু।
কাশ্মীরের বিভাজনের সূচনা: ১৯৪৭ সালের দেশভাগ
১৯৪৭ সালে ব্রিটিশ ভারতের বিভাজনের সময়, জম্মু ও কাশ্মীর একটি স্বাধীন রাজ্য ছিল। রাজ্যটির হিন্দু মহারাজা হরি সিং মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ প্রজাদের শাসন করতেন। পাকিস্তান-সমর্থিত উপজাতীয় বাহিনীর আক্রমণের মুখে, মহারাজা ভারতের সঙ্গে অন্তর্ভুক্তির চুক্তি (Instrument of Accession) স্বাক্ষর করেন। এর ফলে ভারতীয় সেনাবাহিনী কাশ্মীরে প্রবেশ করে এবং প্রথম ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ শুরু হয়। ১৯৪৯ সালে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি হয় এবং কাশ্মীরের একটি অংশ পাকিস্তানের নিয়ন্ত্রণে চলে যায়, যা আজ "আজাদ কাশ্মীর" ও "গিলগিট-বালতিস্তান" নামে পরিচিত।
চীনের আগমন: আকসাই চিন ও ১৯৬২ সালের যুদ্ধ
কাশ্মীরের পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত আকসাই চিন অঞ্চলটি ঐতিহাসিকভাবে ভারতের লাদাখ অঞ্চলের অংশ হিসেবে বিবেচিত। তবে চীন এই অঞ্চলকে তাদের শিনজিয়াং প্রদেশের অংশ দাবি করে। ১৯৫৭ সালে চীন আকসাই চিনে একটি রাস্তা নির্মাণ করে, যা ভারতীয় ভূখণ্ডের মধ্য দিয়ে যায়। এই ঘটনার পর ১৯৬২ সালে ভারত ও চীনের মধ্যে সীমান্ত যুদ্ধ শুরু হয়। তখনে চীন আকসাই চিনসহ বেশ কিছু এলাকা দখল করে নেয়। এই যুদ্ধের ফলে চীন বর্তমানে আকসাই চিন অঞ্চল নিয়ন্ত্রণ করে, কিন্তু সেই অংশটি ভারতের মানচিত্রে এখনো অন্তর্ভুক্ত আছে।
১৯৬৩ সালের চীন-পাকিস্তান সীমান্ত চুক্তি
১৯৬৩ সালে পাকিস্তান ও চীন একটি সীমান্ত চুক্তি স্বাক্ষর করে। এর মাধ্যমে পাকিস্তান গিলগিট-বালতিস্তানের একটি অংশ চীনের কাছে হস্তান্তর করে। এই অঞ্চলটি "শাকসগাম ভ্যালি" নামে পরিচিত। ভারত এই চুক্তিকে অবৈধ ঘোষণা করে, কারণ এটি ভারতের দাবি করা ভূখণ্ডের ওপর প্রভাব ফেলে।
১৯৬৫ ও ১৯৭১ সালের ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ
১৯৬৫ সালে পাকিস্তান কাশ্মীরের ভারতীয় অংশে "অপারেশন জিব্রালটার" চালায়, যার ফলে দ্বিতীয় ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ শুরু হয়। যুদ্ধের পর তাসখন্দ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়, কিন্তু কাশ্মীর সমস্যার সমাধান হয়নি। ১৯৭১ সালের যুদ্ধের পর সিমলা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়, যেখানে উভয় দেশ কাশ্মীর সমস্যা দ্বিপাক্ষিকভাবে সমাধানের প্রতিশ্রুতি দেয়।
২০১৯ সালের ৩৭০ অনুচ্ছেদ বাতিল ও বর্তমান পরিস্থিতি
২০১৯ সালে ভারত সরকার সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদ বাতিল করে, যা জম্মু ও কাশ্মীরকে বিশেষ স্বায়ত্তশাসন প্রদান করত। এর ফলে জম্মু ও কাশ্মীর রাজ্যকে দুটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে বিভক্ত করা হয়: জম্মু ও কাশ্মীর এবং লাদাখ। এই পদক্ষেপ পাকিস্তান ও চীনের তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। চীন এই পদক্ষেপকে তাদের আঞ্চলিক সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি হিসেবে বিবেচনা করে এবং জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে বিষয়টি উত্থাপন করে।
বিশেষজ্ঞদের দৃষ্টিতে কাশ্মীর সমস্যা
মনোহর পারিকর ইনস্টিটিউট ফর ডিফেন্স স্টাডিজ অ্যান্ড অ্যানালাইসিস (MP-IDSA)-এর সহযোগী ফেলো ড. প্রিয়াঙ্কা সিং চীন-পাকিস্তান সম্পর্ক ও কাশ্মীর বিষয়ে গবেষণা করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, চীন ও পাকিস্তান কাশ্মীর ইস্যুকে তাদের কৌশলগত স্বার্থে ব্যবহার করে, বিশেষ করে চীন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডোর (CPEC) প্রকল্পের মাধ্যমে। এই প্রকল্পটি পাকিস্তান-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের মধ্য দিয়ে যায়, যা ভারতের জন্য কৌশলগত চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করে।
কাশ্মীরের বর্তমান বিভাজন ইতিহাস, ভূরাজনীতি ও কৌশলগত স্বার্থের জটিল সমন্বয়ের ফল। ভারত, পাকিস্তান ও চীন—তিনটি দেশের মধ্যে এই অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ চলছে, যা দক্ষিণ এশিয়ার স্থিতিশীলতার জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। এই সমস্যার সমাধান কেবলমাত্র কূটনৈতিক সংলাপ, পারস্পরিক বিশ্বাস এবং আঞ্চলিক সহযোগিতার মাধ্যমে সম্ভব।
সূত্র:

কাশ্মীর উপত্যকা দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে জটিল ও বিতর্কিত অঞ্চলগুলোর একটি। ভারত, পাকিস্তান এবং চীন—এই তিনটি দেশই কাশ্মীরের বিভিন্ন অংশ নিয়ন্ত্রণ করে, যা বহু দশক ধরে রাজনৈতিক, সামরিক ও কূটনৈতিক উত্তেজনার কেন্দ্রবিন্দু।
কাশ্মীরের বিভাজনের সূচনা: ১৯৪৭ সালের দেশভাগ
১৯৪৭ সালে ব্রিটিশ ভারতের বিভাজনের সময়, জম্মু ও কাশ্মীর একটি স্বাধীন রাজ্য ছিল। রাজ্যটির হিন্দু মহারাজা হরি সিং মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ প্রজাদের শাসন করতেন। পাকিস্তান-সমর্থিত উপজাতীয় বাহিনীর আক্রমণের মুখে, মহারাজা ভারতের সঙ্গে অন্তর্ভুক্তির চুক্তি (Instrument of Accession) স্বাক্ষর করেন। এর ফলে ভারতীয় সেনাবাহিনী কাশ্মীরে প্রবেশ করে এবং প্রথম ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ শুরু হয়। ১৯৪৯ সালে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি হয় এবং কাশ্মীরের একটি অংশ পাকিস্তানের নিয়ন্ত্রণে চলে যায়, যা আজ "আজাদ কাশ্মীর" ও "গিলগিট-বালতিস্তান" নামে পরিচিত।
চীনের আগমন: আকসাই চিন ও ১৯৬২ সালের যুদ্ধ
কাশ্মীরের পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত আকসাই চিন অঞ্চলটি ঐতিহাসিকভাবে ভারতের লাদাখ অঞ্চলের অংশ হিসেবে বিবেচিত। তবে চীন এই অঞ্চলকে তাদের শিনজিয়াং প্রদেশের অংশ দাবি করে। ১৯৫৭ সালে চীন আকসাই চিনে একটি রাস্তা নির্মাণ করে, যা ভারতীয় ভূখণ্ডের মধ্য দিয়ে যায়। এই ঘটনার পর ১৯৬২ সালে ভারত ও চীনের মধ্যে সীমান্ত যুদ্ধ শুরু হয়। তখনে চীন আকসাই চিনসহ বেশ কিছু এলাকা দখল করে নেয়। এই যুদ্ধের ফলে চীন বর্তমানে আকসাই চিন অঞ্চল নিয়ন্ত্রণ করে, কিন্তু সেই অংশটি ভারতের মানচিত্রে এখনো অন্তর্ভুক্ত আছে।
১৯৬৩ সালের চীন-পাকিস্তান সীমান্ত চুক্তি
১৯৬৩ সালে পাকিস্তান ও চীন একটি সীমান্ত চুক্তি স্বাক্ষর করে। এর মাধ্যমে পাকিস্তান গিলগিট-বালতিস্তানের একটি অংশ চীনের কাছে হস্তান্তর করে। এই অঞ্চলটি "শাকসগাম ভ্যালি" নামে পরিচিত। ভারত এই চুক্তিকে অবৈধ ঘোষণা করে, কারণ এটি ভারতের দাবি করা ভূখণ্ডের ওপর প্রভাব ফেলে।
১৯৬৫ ও ১৯৭১ সালের ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ
১৯৬৫ সালে পাকিস্তান কাশ্মীরের ভারতীয় অংশে "অপারেশন জিব্রালটার" চালায়, যার ফলে দ্বিতীয় ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ শুরু হয়। যুদ্ধের পর তাসখন্দ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়, কিন্তু কাশ্মীর সমস্যার সমাধান হয়নি। ১৯৭১ সালের যুদ্ধের পর সিমলা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়, যেখানে উভয় দেশ কাশ্মীর সমস্যা দ্বিপাক্ষিকভাবে সমাধানের প্রতিশ্রুতি দেয়।
২০১৯ সালের ৩৭০ অনুচ্ছেদ বাতিল ও বর্তমান পরিস্থিতি
২০১৯ সালে ভারত সরকার সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদ বাতিল করে, যা জম্মু ও কাশ্মীরকে বিশেষ স্বায়ত্তশাসন প্রদান করত। এর ফলে জম্মু ও কাশ্মীর রাজ্যকে দুটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে বিভক্ত করা হয়: জম্মু ও কাশ্মীর এবং লাদাখ। এই পদক্ষেপ পাকিস্তান ও চীনের তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। চীন এই পদক্ষেপকে তাদের আঞ্চলিক সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি হিসেবে বিবেচনা করে এবং জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে বিষয়টি উত্থাপন করে।
বিশেষজ্ঞদের দৃষ্টিতে কাশ্মীর সমস্যা
মনোহর পারিকর ইনস্টিটিউট ফর ডিফেন্স স্টাডিজ অ্যান্ড অ্যানালাইসিস (MP-IDSA)-এর সহযোগী ফেলো ড. প্রিয়াঙ্কা সিং চীন-পাকিস্তান সম্পর্ক ও কাশ্মীর বিষয়ে গবেষণা করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, চীন ও পাকিস্তান কাশ্মীর ইস্যুকে তাদের কৌশলগত স্বার্থে ব্যবহার করে, বিশেষ করে চীন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডোর (CPEC) প্রকল্পের মাধ্যমে। এই প্রকল্পটি পাকিস্তান-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের মধ্য দিয়ে যায়, যা ভারতের জন্য কৌশলগত চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করে।
কাশ্মীরের বর্তমান বিভাজন ইতিহাস, ভূরাজনীতি ও কৌশলগত স্বার্থের জটিল সমন্বয়ের ফল। ভারত, পাকিস্তান ও চীন—তিনটি দেশের মধ্যে এই অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ চলছে, যা দক্ষিণ এশিয়ার স্থিতিশীলতার জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। এই সমস্যার সমাধান কেবলমাত্র কূটনৈতিক সংলাপ, পারস্পরিক বিশ্বাস এবং আঞ্চলিক সহযোগিতার মাধ্যমে সম্ভব।
সূত্র:

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সংঘর্ষে বড় ধরনের কোনো ক্ষয়ক্ষতি না হলেও পাকিস্তানি নৌযানের এই আচরণ ১৯৯১ সালে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে স্বাক্ষরিত একটি চুক্তির ১০ নম্বর ধারার সরাসরি পরিপন্থি। ওই চুক্তিতে সামরিক মহড়া, সামরিক গতিবিধি ও সেনা চলাচলের বিষয়ে আগাম তথ্য দেওয়ার বিধান রয়েছে।
১৬ ঘণ্টা আগে
ইরান-সমর্থিত হুতিদের মোকাবিলায় যুক্তরাজ্যের কাছে সামরিক সহায়তা চেয়েছে সৌদি আরব। সৌদির অনুরোধের মধ্যে বাব আল-মান্দেব প্রণালির দিকে হুথিদের অগ্রযাত্রা ঠেকাতে সহায়তা এবং সৌদি তেল অবকাঠামোতে হামলা প্রতিরোধের বিষয় রয়েছে। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম আরও সহায়তার অনুরোধগুলো বিবেচনা করছেন।
১৬ ঘণ্টা আগে
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) ইরান-সমর্থিত হুতি গোষ্ঠীর সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় সৌদি এফ-১৫ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করার দাবি করেন। তার ভাষ্য, ইয়েমেনের ভূখণ্ডের ওপর স্থানীয়ভাবে তৈরি একটি ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে যুদ্ধবিমানটি ভূপাতিত করা হয়েছে।
১৭ ঘণ্টা আগে
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) রয়টার্সের খবরে বলা হয়, এ বিষয়ে অবগত এক মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বড় ধরনের অস্ত্র বিক্রির বিষয়ে মতামত দেওয়ার দায়িত্বে থাকা মার্কিন কংগ্রেসের সংশ্লিষ্ট কমিটিগুলোকে প্রস্তাবিত এই বিক্রির বিষয়ে অনানুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছে।
১৯ ঘণ্টা আগে