বিদায় নিয়ে ভাবছেন স্টারমার, শরতেই প্রধানমন্ত্রী হতে পারেন অ্যান্ডি বার্নহ্যাম

ডেস্ক, রাজনীতি ডটকম
অ্যান্ডি বার্নহ্যাম (বাঁয়ে) ও কিয়ের স্টারমার (ডানে)। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার সোমবার নিজের পদত্যাগের সময়সূচি ঘোষণা করতে পারেন বলে জোরালো আলোচনা চলছে। এতে শরৎকালেই আনুষ্ঠানিক নেতৃত্বের লড়াই ছাড়াই অ্যান্ডি বার্নহ্যামের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পথ উন্মুক্ত হতে পারে।

মন্ত্রিসভার একাধিক সদস্যের বরাতে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ান জানিয়েছে, স্টারমার সোমবার (২২ জুন) ১০ ডাউনিং স্ট্রিটের সামনে নিজের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরবেন। এর মধ্য দিয়ে এক দশকে যুক্তরাজ্যের সপ্তম প্রধানমন্ত্রী দায়িত্ব নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে।

যদিও শুক্রবার পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে বলা হচ্ছিল, মেকারফিল্ড উপনির্বাচনে জয়ী হয়ে ওয়েস্টমিনস্টারে ফেরা বার্নহ্যামের সম্ভাব্য নেতৃত্ব চ্যালেঞ্জের মুখেও স্টারমার পদে থাকার প্রতিশ্রুতিতে অটল রয়েছেন। তবে স্থানীয় নির্বাচনের পর থেকে অন্তত সাতজন মন্ত্রিসভার সদস্য ব্যক্তিগতভাবে তাকে সরে দাঁড়ানোর পরামর্শ দিয়েছেন। গত সপ্তাহের উত্তপ্ত মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর চাপ আরও বেড়েছে।

খবরে বলা হয়েছে, সপ্তাহান্তে সরকারি অবকাশকেন্দ্র চেকার্সে অবস্থান করে স্টারমার তার বিদায়ের পরিকল্পনা চূড়ান্ত করেন। শনিবার থেকেই সম্ভাব্য পদত্যাগ বক্তৃতার খসড়াও তৈরি শুরু হয়। সবচেয়ে সম্ভাব্য পরিকল্পনা হলো— তিনি সেপ্টেম্বরের শেষ পর্যন্ত দায়িত্বে থাকবেন, যেন নতুন নেতা লেবার পার্টির বার্ষিক সম্মেলনে দলকে নেতৃত্ব দিতে পারেন।

তবে মেকারফিল্ড উপনির্বাচনের ফলের পর স্টারমার এ বিষয়ে বার্নহ্যামের সঙ্গে কোনো আলোচনা করেননি বলে জানা গেছে।

মন্ত্রিসভার এক সদস্য বলেন, ‘স্টারমার ও বার্নহ্যাম— দুজনের জন্যই সেপ্টেম্বর সবচেয়ে যৌক্তিক সময়। বার্নহ্যামের এখনো ডাউনিং স্ট্রিটে যাওয়ার মতো পূর্ণাঙ্গ টিম প্রস্তুত নয়। এই সময়টুকু তাকে প্রস্তুতির সুযোগ দেবে, আর স্টারমারও সুশৃঙ্খলভাবে দায়িত্ব ছাড়তে পারবেন।’

এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন— বার্নহ্যাম একাই প্রার্থী হবেন নাকি নেতৃত্বের প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে। সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিং আগেই ঘোষণা দিয়েছেন, প্রয়োজনীয় সংসদ সদস্যের সমর্থন পেলে তিনি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। যদিও দলীয় অনেকের ধারণা, শেষ পর্যন্ত তিনি প্রতিযোগিতায় নামবেন না। কারণ প্রয়োজনীয় সমর্থন জোগাড় করা কঠিন হতে পারে, আর ভোট হলেও বার্নহ্যামের কাছে পরাজয়ের ঝুঁকি রয়েছে।

স্ট্রিটিং প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নামলে মন্ত্রিসভার এক বা একাধিক নারী সদস্যও প্রার্থী হতে পারেন, যেন নেতৃত্বের লড়াই কেবল দুই পুরুষ প্রার্থীর মধ্যে সীমাবদ্ধ না থাকে।

স্টারমারের ঘনিষ্ঠদের একটি অংশ মনে করছেন, বিদায়ের সিদ্ধান্ত নিজ থেকেই ঘোষণা করলে তিনি দেখাতে পারবেন যে চাপের কাছে নতি স্বীকার না করে নিজের শর্তেই দায়িত্ব ছাড়ছেন। তবে সরকারি একটি সূত্রের ভাষ্য, ‘স্টারমার দেশের স্বার্থকেই অগ্রাধিকার দেবেন। আর বার্নহ্যাম এখনো পুরোপুরি প্রস্তুত নন। তাই শরৎকালই সবচেয়ে সম্ভাব্য সময়।’

এরই মধ্যে ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রাথমিক প্রস্তুতিও শুরু হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের চিফ সেক্রেটারি ড্যারেন জোনস বার্নহ্যামের ঘনিষ্ঠ সহযোগী লুইস হেইগের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। সামনে আরও আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।

রোববার সরকারের পক্ষে গণমাধ্যমে কথা বলতে গিয়ে ব্যবসামন্ত্রী পিটার কাইলও কার্যত স্বীকার করেন যে স্টারমারের নেতৃত্ব বড় চ্যালেঞ্জের মুখে। তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বকে ঘিরে কোনো প্রক্রিয়া বা চাপ নেই— এমন ভান করতে চাই না। বাস্তবে সেটাই ঘটছে।’

কাইল জানান, শুক্রবার তিনি স্টারমারের সঙ্গে দীর্ঘ সময় কথা বলেছেন এবং কিছু পরামর্শও দিয়েছেন। তবে কী পরামর্শ দিয়েছেন, তা প্রকাশ করেননি। তার ভাষায়, স্টারমার ‘দেশের স্বার্থের বিষয়টি গভীরভাবে বিবেচনা করছেন।’

নেতৃত্ব পরিবর্তন হলে সেটি যেন দ্রুত ও সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন হয়, সে আহ্বান জানিয়ে কাইল বলেন, লেবার পার্টির উচিত কনজারভেটিভদের ভুল থেকে শিক্ষা নেওয়া এবং এমনভাবে পরিবর্তন আনা, যাতে সরকারের কার্যক্রম ও জনগণের স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত না হয়।

Ad
Ad
ad
ad
ad

বিশ্ব রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন

ইউক্রেন যুদ্ধে ৫ লক্ষাধিক রুশ সেনার প্রাণহানি— দাবি ব্রিটিশ প্রতিরক্ষাপ্রধানের

নাইটনের ভাষ্য, বিপুল সেনা মোতায়েন করেও রুশ বাহিনী ইউক্রেনের যুদ্ধক্ষেত্রে বড় ধরনের অগ্রগতি অর্জন করতে পারছে না। পশ্চিমা কর্মকর্তা ও সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, চলতি বছরে রুশ বাহিনীর অগ্রযাত্রার গতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।

১১ ঘণ্টা আগে

ব্রিকস সম্মেলনের আগে দিল্লিতে পুতিন-মোদি বৈঠক

ব্রিকস সম্মেলন সামনে রেখেই তিন দিনের সফরে ভারত গেছেন ভ্লাদিমির পুতিন। তার নয়াদিল্লি সফর ভারতের জন্য একই সঙ্গে কূটনৈতিক ভারসাম্য রক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত। কয়েক দশক ধরে রাশিয়া ভারতের অন্যতম ঘনিষ্ঠ প্রতিরক্ষা ও অর্থনৈতিক অংশীদার। ভারতের সামরিক সরঞ্জামের বড় একটি অংশ ঐতিহাসিকভাবে রাশিয়া থেকে এসেছ

১১ ঘণ্টা আগে

৯/১১ হামলার ২৫ বছর: প্রযুক্তির ওপর অতিভরসাই কি নতুন দুর্বলতা?

তবে দুই দশকের বেশি সময় ধরে বিভিন্ন ধরনের নিরাপত্তাব্যবস্থা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণের অভিজ্ঞতায় বিশ্লেষকরা বলছেন, আপাতদৃষ্টিতে এসব কাঠামো শক্তিশালী ও সুরক্ষিত মনে হলেও এর মধ্যে থেকে গেছে গুরুতর দুর্বলতা। সেই দুর্বলতাই নতুন ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

১১ ঘণ্টা আগে

যুদ্ধ-দ্বন্দ্বের বিশ্বে নয়াদিল্লিতে ব্রিকসের ঐক্যের পরীক্ষা

সদস্য বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বেড়েছে স্বার্থের বৈচিত্র্যও। ফলে ব্রিকসকে এখন একই সঙ্গে একটি অর্থনৈতিক সহযোগিতার প্ল্যাটফর্ম, বৈশ্বিক দক্ষিণের রাজনৈতিক কণ্ঠস্বর এবং পশ্চিমানির্ভর আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার বিকল্প হিসেবে নিজেদের ভূমিকা নির্ধারণ করতে হচ্ছে।

১৬ ঘণ্টা আগে
Advertisement