ফ্লাইদুবাই কাণ্ড: ৩১ মুসলিমপ্রধান দেশের ক্রু নিষিদ্ধ করল এয়ার ফ্রান্স

ফ্লাইদুবাইয়ের উড়োজাহাজে দুই পাইলটের মারামারির ঘটনার পর ইসরায়েলের নতুন নিরাপত্তা নির্দেশনা মেনে চলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ফরাসি বিমান সংস্থা এয়ার ফ্রান্স। এর ফলে পাকিস্তানসহ ৩১টি মুসলিমপ্রধান দেশের নাগরিকত্ব থাকা পাইলট ও কেবিন ক্রুরা ইসরায়েলগামী ফ্লাইটে দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়বেন। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়ার খবরে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
ইসরায়েলের নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, দেশটির সঙ্গে যেসব দেশের আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই, সেসব দেশের নাগরিকত্ব থাকা পাইলট ও কেবিন ক্রুদের ইসরায়েলগামী উড়োজাহাজে কাজ করার ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। কোনো কর্মীর দ্বৈত নাগরিকত্ব থাকলেও এ নিয়ম প্রযোজ্য হতে পারে। পাকিস্তান, ওমান, ইরান, সৌদি আরব, আলজেরিয়া, তিউনিসিয়া ও নাইজারসহ মোট ৩১টি দেশ এ তালিকায় রয়েছে।
গত ৩০ সেপ্টেম্বর ফ্লাইদুবাইয়ের একটি উড়োজাহাজের ককপিটে দুই পাইলটের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটে। পরে উড়োজাহাজটি সৌদি আরবের তাবুক বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করে। এ ঘটনার পর পাইলটদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে ১ অক্টোবর ইসরায়েলের পরিবহন ও সড়ক নিরাপত্তা মন্ত্রণালয় নতুন নির্দেশনা জারি করে।
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলোর খবরে বলা হয়, ফ্লাইদুবাইয়ের ওমানি সহ-পাইলট হাম্মাম আল-হাম্মামি ভারতীয় পাইলট ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছারকে ককপিটের ভেতরে ‘ক্র্যাশ অ্যাক্স’ বা বিশেষ কুঠার দিয়ে আঘাত করেন এবং উড়োজাহাজটি বিধ্বস্ত করার চেষ্টা করেন। উড়োজাহাজে থাকা যাত্রী ও কর্মীরা অভিযুক্ত সহ-পাইলটকে নিয়ন্ত্রণে আনতে সহায়তা করেন। পরে উড়োজাহাজটি তাবুক বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করে।
প্রসঙ্গত, ‘ক্র্যাশ অ্যাক্স’ সাধারণত উড়োজাহাজের ককপিটে জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য রাখা হয়। দুর্ঘটনা বা জরুরি অবস্থায় উড়োজাহাজের ভেতরে কেউ আটকে পড়লে তাকে উদ্ধারে ককপিট বা কেবিনের কোনো অংশ ভাঙতেও এটি ব্যবহার করা যায়।
এদিকে ইসরায়েলের নিরাপত্তা নির্দেশনার প্রেক্ষিতে এয়ার ফ্রান্স জানিয়েছে, যেসব দেশে তারা ফ্লাইট পরিচালনা করে, সেসব দেশের প্রবেশ ও নিরাপত্তাসংক্রান্ত নিয়ম মেনে চলতে তারা বাধ্য। এ জন্য কর্মীদের দ্বৈত নাগরিকত্ব থাকলে তা দ্রুত জানাতে বলা হয়েছে। নিষেধাজ্ঞা অমান্য করলে শাস্তিমূলক ব্যবস্থারও সতর্কতা দেওয়া হয়েছে।
চেক প্রজাতন্ত্রের বিমান সংস্থা স্মার্টউইংসও জানিয়েছে, তারা ইসরায়েলের নির্দেশনা পেয়েছে, তা পর্যালোচনা করেছে এবং মেনে চলছে। তবে এ নিয়মের কারণে তাদের কার্যক্রমে এখনো কোনো প্রভাব পড়েনি।
মার্কিন বিমান সংস্থা ইউনাইটেড এয়ারলাইনসও ইসরায়েলগামী এবং ইসরায়েল থেকে আসা ফ্লাইটের পাইলট ও কেবিন ক্রুদের জন্য জাতীয়তাভিত্তিক বিধিনিষেধের বিষয়ে কর্মীদের জানিয়েছে। দায়িত্ব বণ্টনের প্রক্রিয়াতেও এ নিয়ম যুক্ত করছে সংস্থাটি।
নিরাপত্তার স্বার্থে কোনো দেশের আকাশসীমায় প্রবেশের ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ আরোপের অধিকার সংশ্লিষ্ট দেশের রয়েছে। তবে কেবল জাতীয়তার ভিত্তিতে পাইলট ও কেবিন ক্রুদের দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়ার সিদ্ধান্ত বৈষম্যমূলক কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ইসরায়েলের নির্দেশনা কূটনৈতিক সম্পর্কের ভিত্তিতে করা হলেও এর আওতায় পড়ছেন মূলত মুসলিমপ্রধান দেশগুলোর নাগরিকরা।




















-027dc7-256x144.webp)