
ডেস্ক, রাজনীতি ডটকম

গ্রেটার ম্যানচেস্টারের মেয়র অ্যান্ডি বার্নহ্যাম এবার নেতৃত্বের চ্যালেঞ্জ জানিয়েছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টারমারকে। তবে বার্নহ্যাম সংসদ সদস্য না হওয়ায় তার পক্ষে প্রধানমন্ত্রী পদের জন্য লড়বার সুযোগ নেই। এ অবস্থায় লেবার পার্টির এক এমপি নিজের আসন থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন, যেন ওই আসনে উপনির্বাচনে জিতে বার্নহ্যাম ওয়েস্টমিনস্টারে ফিরে এসে দলীয় নেতৃত্বের লড়াইয়ে নামার সুযোগ পান।
গার্ডিয়ানের খবরে বলা হয়েছে, স্বাস্থ্যমন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিংয়ের পদত্যাগের পর বার্নহ্যামের চ্যালেঞ্জে চাপ আরও বেড়েছিল স্টারমারের ওপর। এমপির পদত্যাগের ঘোষণায় বার্নহ্যামের সংসদে ফেরার সুযোগ তৈরি হওয়ায় সে চাপ আরও বেড়েছে।
এদিকে সাবেক ব্রিটিশ উপপ্রধানমন্ত্রী অ্যাঞ্জেলা রেনারও ছিলেন স্টারমারের পরে নেতৃত্বের দৌড়ে। তবে করসংক্রান্ত অভিযোগে তদন্ত চলছিল তার বিরুদ্ধে। বৃহস্পতিবার তাকে তার করসংক্রান্ত তদন্তে দায়মুক্তি দিয়েছে এইচএমআরসি। ফলে সামনের সারির রাজনীতিতে ফেরার পথও তার জন্য উন্মুক্ত হয়েছে।
বার্নহ্যাম নিশ্চিত করেছেন, তিনি লেবারের জাতীয় নির্বাহী কমিটির কাছে গ্রেটার ম্যানচেস্টারের ওই আসনে প্রার্থী হওয়ার অনুমতি চাইবেন। স্টারমারের ঘনিষ্ঠরাও জানিয়েছেন, এবার তাকে আটকানোর চেষ্টা করা হবে না। কারণ দল জুড়ে এমপিরা এ নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন।
এক বিবৃতিতে বার্নহ্যাম বলেন, ‘জাতীয় পর্যায়ে আরও অনেক বড় পরিবর্তনের প্রয়োজন রয়েছে। এ কারণে আমি এখন পার্লামেন্টে ফেরার জন্য মানুষের সমর্থন চাইছি, যেন আমরা গ্রেটার ম্যানচেস্টারে যে পরিবর্তন এনেছি, তা পুরো যুক্তরাজ্যে নিয়ে যেতে পারি এবং মানুষের জন্য রাজনীতিকে সঠিকভাবে কাজ করাতে পারি।’
মাসের পর মাস ধরেই পার্লামেন্টে ফেরার চেষ্টা করছেন বার্নহ্যাম। তবে চলতি বছরের শুরুতে গর্টন অ্যান্ড ডেন্টন উপনির্বাচনে দাঁড়ানোর সুযোগ তাকে দেননি স্টারমার। এতে তার সমর্থকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ তৈরি হয়েছিল।
লেবারের পূর্ণাঙ্গ জাতীয় নির্বাহী কমিটির বৈঠক আগামী মঙ্গলবার হওয়ার কথা রয়েছে। তবে দুটি সূত্র জানিয়েছে, ১০ সদস্যের কর্মকর্তাদের কমিটি, যারা বার্নহ্যামের প্রার্থিতা চূড়ান্ত করবে, তারা শুক্রবারই বৈঠকে বসতে পারে।
স্থানীয় ও আঞ্চলিক নির্বাচনে ভরাডুবির পর থেকেই স্টারমারের কর্তৃত্ব মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। স্ট্রিটিংসহ একাধিক মন্ত্রী পদত্যাগ করেছেন এবং প্রায় ১০০ জন এমপি তার সরে দাঁড়ানোর দাবি তুলেছেন। মন্ত্রিসভার একাধিক সদস্য ব্যক্তিগতভাবে স্বীকার করেছেন, তারা মনে করেন স্টারমার পরবর্তী জাতীয় নির্বাচন পর্যন্ত দলকে নেতৃত্ব দিতে পারবেন না।
তিনজন মন্ত্রী প্রভাবশালী ব্রিটিশ গণমাধ্যম গার্ডিয়ানকে জানিয়েছেন, তাদের বিশ্বাস— শেষ পর্যন্ত স্টারমারকে ক্ষমতা হস্তান্তরের একটি ‘মসৃণ রূপান্তর’ তদারকি করতে বাধ্য করা হবে এবং সেই ক্ষমতা যাবে বার্নহ্যামের হাতে।
মেকারফিল্ড আসনের এমপি জশ সিমন্সের পদত্যাগের সিদ্ধান্তেই উপনির্বাচনের পথ তৈরি হয়েছে। লেবার সেখানে মাত্র পাঁচ হাজারের কিছু বেশি ভোটে এগিয়ে ছিল। আর সর্বশেষ নির্বাচনে ওই আসনে দ্বিতীয় হয়েছিল রিফর্ম ইউকে। দলটির নেতা নাইজেল ফ্যারাজে বলেছেন, এই নির্বাচনে তার দল ‘সবকিছু উজাড় করে’ লড়বে।
রিফর্ম ইউকের বিশ্বাস, বার্নহ্যাম স্টারমারের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক শিবিরে তার গ্রহণযোগ্যতাও বেশি।
তবে এ লড়াই সহজ হবে না। ২০২৪ সালের মেয়র নির্বাচনে বার্নহ্যাম ওই এলাকায় ৬২ শতাংশ ভোট পেয়েছিলেন ঠিকই, কিন্তু গত সপ্তাহের স্থানীয় নির্বাচনে আটটি ওয়ার্ড মিলিয়ে রিফর্ম ইউকে পেয়েছে ৫০ দশমিক ৪ শতাংশ ভোট। সেখানে লেবার পেয়েছে মাত্র ২২ দশমিক ৭ শতাংশ।
নিজের পদত্যাগের ঘোষণা দিয়ে ভোটারদের উদ্দেশে লেখা চিঠিতে জশ সিমন্স বলেন,
‘আমি বিশ্বাস করি না যে এই সরকার আমাদের প্রয়োজনীয় জরুরি, মৌলিক ও সাহসী সংস্কার বাস্তবায়ন করছে। আমাদের নতুন দিকনির্দেশনা প্রয়োজন। আমি বিশ্বাস করি, অ্যান্ডি বার্নহ্যাম তা দিতে পারবেন।’
তিনি আরও লিখেছেন, ‘আমি একদিকে দাঁড়িয়ে বলতে পারি না যে আমাদের রাজনীতি ভেঙে পড়েছে এবং পরিবর্তন দরকার, আবার অন্যদিকে সেই পরিবর্তনের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারি না।’
একটি উপনির্বাচন সম্পন্ন হতে সাধারণত পাঁচ থেকে ছয় সপ্তাহ লাগে। অর্থাৎ জুলাইয়ের শুরুতেই পার্লামেন্টে ফিরতে পারেন বার্নহ্যাম। দল জুড়ে তার যে সমর্থন তৈরি হয়েছে, তাতে তিনি নেতৃত্ব নির্বাচনের দাবি তুলতে পারেন এবং অনেকের ধারণা, কোনো প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছাড়াই জিতেও যেতে পারেন।
জানা গেছে, অ্যাঞ্জেলা রেইনার ও জ্বালানিমন্ত্রী এড মিলব্যান্ড দুজনই বার্নহ্যামের নেতৃত্বে দাঁড়ানোর ধারণাকে সমর্থন করছেন। স্ট্রিটিংও ইঙ্গিতপূর্ণভাবে বার্নহ্যামের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘যেকোনো প্রতিযোগিতা হতে হবে বিস্তৃত, এবং সেখানে সম্ভাব্য সেরা প্রার্থীদের থাকতে হবে।’
বার্নহ্যামের এক জ্যেষ্ঠ সমর্থক গার্ডিয়ানকে বলেন, ‘যদি অ্যাঞ্জেলা থেকে ওয়েস— সবাই একই কথা বলে, তাহলে বুঝতে হবে পুরো দল এখন একই জায়গায় এসে দাঁড়িয়েছে। অ্যান্ডিকে সুযোগ দিতে হবে। জনগণের সঙ্গে সবচেয়ে ভালো সংযোগ তৈরি করতে পারেন তিনিই।’
এর আগে নিজের পদত্যাগপত্রে স্ট্রিটিং স্টারমারকে উদ্দেশ করে লেখেন, ‘যেখানে আমাদের প্রয়োজন দূরদৃষ্টি, সেখানে আছে শূন্যতা। যেখানে প্রয়োজন দিকনির্দেশনা, সেখানে আছে ভাসমানতা... নেতারা দায়িত্ব নেন, কিন্তু খুব বেশি ক্ষেত্রেই তার মানে হয়েছে অন্যদের বলির পাঁঠা হওয়া।’
তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো— স্ট্রিটিং নিজে নেতৃত্বের প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দেননি। বরং অনেকের মতে, তার বক্তব্যে বার্নহ্যামের প্রতি পরোক্ষ সমর্থনের ইঙ্গিত ছিল।
স্ট্রিটিং লিখেছেন, ‘লেবার এমপি ও শ্রমিক ইউনিয়নগুলো চায়, আগামী দিনের বিতর্ক হোক ধারণার লড়াই— ব্যক্তিত্ব বা ক্ষুদ্র গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের নয়। এটি হতে হবে বিস্তৃত, এবং সেখানে সম্ভাব্য সেরা প্রার্থীদের থাকতে হবে।’
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় জেমস মারেকে নতুন স্বাস্থ্যসচিব হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। তিনি আগে ট্রেজারির প্রধান সচিব ছিলেন। স্ট্রিটিংয়ের পদত্যাগের পরও স্টারমার এ পদে কোনো বামঘেঁষা নেতাকে আনেননি।
স্টারমারের ঘনিষ্ঠদের দাবি, নেতৃত্ব চ্যালেঞ্জ আনতে প্রয়োজনীয় ৮১ জন এমপির সমর্থন স্ট্রিটিংয়ের ছিল না। তাদের মতে, তার পক্ষে সর্বোচ্চ ৪৪ জন এমপি ছিলেন।
তবে স্ট্রিটিংয়ের ঘনিষ্ঠরা এ দাবি অস্বীকার করেছেন। তাদের বক্তব্য, প্রয়োজনীয় সমর্থন ছিল, কিন্তু স্ট্রিটিং চেয়েছিলেন— একটি বিশৃঙ্খল নেতৃত্ব নির্বাচনের বদলে স্টারমার নিজেই সরে দাঁড়ান।
এদিকে অ্যাঞ্জেলা রেইনার গার্ডিয়ানকে বলেন, স্টারমারকে এখন ‘ভাবতে হবে’ তিনি সরে দাঁড়াবেন কি না। তিনি বলেন, ‘কেউ যদি এসে সাহায্য করতে চায় এবং আমরা যে ভবিষ্যৎ গড়তে পারি তার অংশ হতে চায়, তাহলে অবশ্যই আমাদের তাকে আটকে রাখা উচিত নয়... আমরা এ বিষয়ে গোষ্ঠীদ্বন্দ্বে জড়াতে পারি না। আমরা অহংকারের রাজনীতি করতে পারি না।’
এইচএমআরসি তার করসংক্রান্ত বিষয়ে ইচ্ছাকৃত ভুল বা অবহেলার অভিযোগ থেকে রেইনারকে অব্যাহতি দিয়েছে। যদিও তিনি ৪০ হাজার পাউন্ড স্ট্যাম্প ডিউটি বকেয়া পরিশোধ করেছেন, তবে তদন্তের ফলে কোনো জরিমানা গুনতে হয়নি তাকে। ফলে এখন তার আবার মন্ত্রিসভায় ফেরার সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে।
লেবারের উপনেতা লুসি পাওয়েল শুক্রবার ফায়ার ব্রিগেডস ইউনিয়নের সম্মেলনে অংশ নেবেন। তার ঘনিষ্ঠরা বলছেন, সেখানে নির্বাচনের ফলকে ‘গভীরভাবে বেদনাদায়ক ও কঠিন’ হিসেবে স্বকার করে নিলেও পরবর্তী পরিস্থিতিকে ‘অরুচিকর’ বলে অভিহিত করতে পারেন তিনি।
পাওয়ালের বক্তব্য অনুযায়ী, ‘লেবারে আমরা শত্রুভাবাপন্ন ক্ষমতা দখল করি না। এর পেছনে কারণ আছে। কিয়ের নেতা, আর আমি আগেই সতর্ক করেছিলাম যে রক্তাক্ত অভ্যন্তরীণ লড়াই আমাদের জন্য খারাপ বার্তা দেবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘যদি আমরা মনে করি আমাদের আর নিচে নামার জায়গা নেই, তাহলে সেটা ভুল। আমরা আরও নিচে নামতে পারি। আমাদের আবার এক দলে পরিণত হতে হবে, যেন ফ্যারাজের বিরুদ্ধে লড়াই করা যায় এবং দেখানো যায় যে মূলধারার প্রগতিশীল রাজনীতি মানুষের কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আনতে পারে।’

গ্রেটার ম্যানচেস্টারের মেয়র অ্যান্ডি বার্নহ্যাম এবার নেতৃত্বের চ্যালেঞ্জ জানিয়েছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টারমারকে। তবে বার্নহ্যাম সংসদ সদস্য না হওয়ায় তার পক্ষে প্রধানমন্ত্রী পদের জন্য লড়বার সুযোগ নেই। এ অবস্থায় লেবার পার্টির এক এমপি নিজের আসন থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন, যেন ওই আসনে উপনির্বাচনে জিতে বার্নহ্যাম ওয়েস্টমিনস্টারে ফিরে এসে দলীয় নেতৃত্বের লড়াইয়ে নামার সুযোগ পান।
গার্ডিয়ানের খবরে বলা হয়েছে, স্বাস্থ্যমন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিংয়ের পদত্যাগের পর বার্নহ্যামের চ্যালেঞ্জে চাপ আরও বেড়েছিল স্টারমারের ওপর। এমপির পদত্যাগের ঘোষণায় বার্নহ্যামের সংসদে ফেরার সুযোগ তৈরি হওয়ায় সে চাপ আরও বেড়েছে।
এদিকে সাবেক ব্রিটিশ উপপ্রধানমন্ত্রী অ্যাঞ্জেলা রেনারও ছিলেন স্টারমারের পরে নেতৃত্বের দৌড়ে। তবে করসংক্রান্ত অভিযোগে তদন্ত চলছিল তার বিরুদ্ধে। বৃহস্পতিবার তাকে তার করসংক্রান্ত তদন্তে দায়মুক্তি দিয়েছে এইচএমআরসি। ফলে সামনের সারির রাজনীতিতে ফেরার পথও তার জন্য উন্মুক্ত হয়েছে।
বার্নহ্যাম নিশ্চিত করেছেন, তিনি লেবারের জাতীয় নির্বাহী কমিটির কাছে গ্রেটার ম্যানচেস্টারের ওই আসনে প্রার্থী হওয়ার অনুমতি চাইবেন। স্টারমারের ঘনিষ্ঠরাও জানিয়েছেন, এবার তাকে আটকানোর চেষ্টা করা হবে না। কারণ দল জুড়ে এমপিরা এ নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন।
এক বিবৃতিতে বার্নহ্যাম বলেন, ‘জাতীয় পর্যায়ে আরও অনেক বড় পরিবর্তনের প্রয়োজন রয়েছে। এ কারণে আমি এখন পার্লামেন্টে ফেরার জন্য মানুষের সমর্থন চাইছি, যেন আমরা গ্রেটার ম্যানচেস্টারে যে পরিবর্তন এনেছি, তা পুরো যুক্তরাজ্যে নিয়ে যেতে পারি এবং মানুষের জন্য রাজনীতিকে সঠিকভাবে কাজ করাতে পারি।’
মাসের পর মাস ধরেই পার্লামেন্টে ফেরার চেষ্টা করছেন বার্নহ্যাম। তবে চলতি বছরের শুরুতে গর্টন অ্যান্ড ডেন্টন উপনির্বাচনে দাঁড়ানোর সুযোগ তাকে দেননি স্টারমার। এতে তার সমর্থকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ তৈরি হয়েছিল।
লেবারের পূর্ণাঙ্গ জাতীয় নির্বাহী কমিটির বৈঠক আগামী মঙ্গলবার হওয়ার কথা রয়েছে। তবে দুটি সূত্র জানিয়েছে, ১০ সদস্যের কর্মকর্তাদের কমিটি, যারা বার্নহ্যামের প্রার্থিতা চূড়ান্ত করবে, তারা শুক্রবারই বৈঠকে বসতে পারে।
স্থানীয় ও আঞ্চলিক নির্বাচনে ভরাডুবির পর থেকেই স্টারমারের কর্তৃত্ব মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। স্ট্রিটিংসহ একাধিক মন্ত্রী পদত্যাগ করেছেন এবং প্রায় ১০০ জন এমপি তার সরে দাঁড়ানোর দাবি তুলেছেন। মন্ত্রিসভার একাধিক সদস্য ব্যক্তিগতভাবে স্বীকার করেছেন, তারা মনে করেন স্টারমার পরবর্তী জাতীয় নির্বাচন পর্যন্ত দলকে নেতৃত্ব দিতে পারবেন না।
তিনজন মন্ত্রী প্রভাবশালী ব্রিটিশ গণমাধ্যম গার্ডিয়ানকে জানিয়েছেন, তাদের বিশ্বাস— শেষ পর্যন্ত স্টারমারকে ক্ষমতা হস্তান্তরের একটি ‘মসৃণ রূপান্তর’ তদারকি করতে বাধ্য করা হবে এবং সেই ক্ষমতা যাবে বার্নহ্যামের হাতে।
মেকারফিল্ড আসনের এমপি জশ সিমন্সের পদত্যাগের সিদ্ধান্তেই উপনির্বাচনের পথ তৈরি হয়েছে। লেবার সেখানে মাত্র পাঁচ হাজারের কিছু বেশি ভোটে এগিয়ে ছিল। আর সর্বশেষ নির্বাচনে ওই আসনে দ্বিতীয় হয়েছিল রিফর্ম ইউকে। দলটির নেতা নাইজেল ফ্যারাজে বলেছেন, এই নির্বাচনে তার দল ‘সবকিছু উজাড় করে’ লড়বে।
রিফর্ম ইউকের বিশ্বাস, বার্নহ্যাম স্টারমারের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক শিবিরে তার গ্রহণযোগ্যতাও বেশি।
তবে এ লড়াই সহজ হবে না। ২০২৪ সালের মেয়র নির্বাচনে বার্নহ্যাম ওই এলাকায় ৬২ শতাংশ ভোট পেয়েছিলেন ঠিকই, কিন্তু গত সপ্তাহের স্থানীয় নির্বাচনে আটটি ওয়ার্ড মিলিয়ে রিফর্ম ইউকে পেয়েছে ৫০ দশমিক ৪ শতাংশ ভোট। সেখানে লেবার পেয়েছে মাত্র ২২ দশমিক ৭ শতাংশ।
নিজের পদত্যাগের ঘোষণা দিয়ে ভোটারদের উদ্দেশে লেখা চিঠিতে জশ সিমন্স বলেন,
‘আমি বিশ্বাস করি না যে এই সরকার আমাদের প্রয়োজনীয় জরুরি, মৌলিক ও সাহসী সংস্কার বাস্তবায়ন করছে। আমাদের নতুন দিকনির্দেশনা প্রয়োজন। আমি বিশ্বাস করি, অ্যান্ডি বার্নহ্যাম তা দিতে পারবেন।’
তিনি আরও লিখেছেন, ‘আমি একদিকে দাঁড়িয়ে বলতে পারি না যে আমাদের রাজনীতি ভেঙে পড়েছে এবং পরিবর্তন দরকার, আবার অন্যদিকে সেই পরিবর্তনের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারি না।’
একটি উপনির্বাচন সম্পন্ন হতে সাধারণত পাঁচ থেকে ছয় সপ্তাহ লাগে। অর্থাৎ জুলাইয়ের শুরুতেই পার্লামেন্টে ফিরতে পারেন বার্নহ্যাম। দল জুড়ে তার যে সমর্থন তৈরি হয়েছে, তাতে তিনি নেতৃত্ব নির্বাচনের দাবি তুলতে পারেন এবং অনেকের ধারণা, কোনো প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছাড়াই জিতেও যেতে পারেন।
জানা গেছে, অ্যাঞ্জেলা রেইনার ও জ্বালানিমন্ত্রী এড মিলব্যান্ড দুজনই বার্নহ্যামের নেতৃত্বে দাঁড়ানোর ধারণাকে সমর্থন করছেন। স্ট্রিটিংও ইঙ্গিতপূর্ণভাবে বার্নহ্যামের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘যেকোনো প্রতিযোগিতা হতে হবে বিস্তৃত, এবং সেখানে সম্ভাব্য সেরা প্রার্থীদের থাকতে হবে।’
বার্নহ্যামের এক জ্যেষ্ঠ সমর্থক গার্ডিয়ানকে বলেন, ‘যদি অ্যাঞ্জেলা থেকে ওয়েস— সবাই একই কথা বলে, তাহলে বুঝতে হবে পুরো দল এখন একই জায়গায় এসে দাঁড়িয়েছে। অ্যান্ডিকে সুযোগ দিতে হবে। জনগণের সঙ্গে সবচেয়ে ভালো সংযোগ তৈরি করতে পারেন তিনিই।’
এর আগে নিজের পদত্যাগপত্রে স্ট্রিটিং স্টারমারকে উদ্দেশ করে লেখেন, ‘যেখানে আমাদের প্রয়োজন দূরদৃষ্টি, সেখানে আছে শূন্যতা। যেখানে প্রয়োজন দিকনির্দেশনা, সেখানে আছে ভাসমানতা... নেতারা দায়িত্ব নেন, কিন্তু খুব বেশি ক্ষেত্রেই তার মানে হয়েছে অন্যদের বলির পাঁঠা হওয়া।’
তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো— স্ট্রিটিং নিজে নেতৃত্বের প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দেননি। বরং অনেকের মতে, তার বক্তব্যে বার্নহ্যামের প্রতি পরোক্ষ সমর্থনের ইঙ্গিত ছিল।
স্ট্রিটিং লিখেছেন, ‘লেবার এমপি ও শ্রমিক ইউনিয়নগুলো চায়, আগামী দিনের বিতর্ক হোক ধারণার লড়াই— ব্যক্তিত্ব বা ক্ষুদ্র গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের নয়। এটি হতে হবে বিস্তৃত, এবং সেখানে সম্ভাব্য সেরা প্রার্থীদের থাকতে হবে।’
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় জেমস মারেকে নতুন স্বাস্থ্যসচিব হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। তিনি আগে ট্রেজারির প্রধান সচিব ছিলেন। স্ট্রিটিংয়ের পদত্যাগের পরও স্টারমার এ পদে কোনো বামঘেঁষা নেতাকে আনেননি।
স্টারমারের ঘনিষ্ঠদের দাবি, নেতৃত্ব চ্যালেঞ্জ আনতে প্রয়োজনীয় ৮১ জন এমপির সমর্থন স্ট্রিটিংয়ের ছিল না। তাদের মতে, তার পক্ষে সর্বোচ্চ ৪৪ জন এমপি ছিলেন।
তবে স্ট্রিটিংয়ের ঘনিষ্ঠরা এ দাবি অস্বীকার করেছেন। তাদের বক্তব্য, প্রয়োজনীয় সমর্থন ছিল, কিন্তু স্ট্রিটিং চেয়েছিলেন— একটি বিশৃঙ্খল নেতৃত্ব নির্বাচনের বদলে স্টারমার নিজেই সরে দাঁড়ান।
এদিকে অ্যাঞ্জেলা রেইনার গার্ডিয়ানকে বলেন, স্টারমারকে এখন ‘ভাবতে হবে’ তিনি সরে দাঁড়াবেন কি না। তিনি বলেন, ‘কেউ যদি এসে সাহায্য করতে চায় এবং আমরা যে ভবিষ্যৎ গড়তে পারি তার অংশ হতে চায়, তাহলে অবশ্যই আমাদের তাকে আটকে রাখা উচিত নয়... আমরা এ বিষয়ে গোষ্ঠীদ্বন্দ্বে জড়াতে পারি না। আমরা অহংকারের রাজনীতি করতে পারি না।’
এইচএমআরসি তার করসংক্রান্ত বিষয়ে ইচ্ছাকৃত ভুল বা অবহেলার অভিযোগ থেকে রেইনারকে অব্যাহতি দিয়েছে। যদিও তিনি ৪০ হাজার পাউন্ড স্ট্যাম্প ডিউটি বকেয়া পরিশোধ করেছেন, তবে তদন্তের ফলে কোনো জরিমানা গুনতে হয়নি তাকে। ফলে এখন তার আবার মন্ত্রিসভায় ফেরার সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে।
লেবারের উপনেতা লুসি পাওয়েল শুক্রবার ফায়ার ব্রিগেডস ইউনিয়নের সম্মেলনে অংশ নেবেন। তার ঘনিষ্ঠরা বলছেন, সেখানে নির্বাচনের ফলকে ‘গভীরভাবে বেদনাদায়ক ও কঠিন’ হিসেবে স্বকার করে নিলেও পরবর্তী পরিস্থিতিকে ‘অরুচিকর’ বলে অভিহিত করতে পারেন তিনি।
পাওয়ালের বক্তব্য অনুযায়ী, ‘লেবারে আমরা শত্রুভাবাপন্ন ক্ষমতা দখল করি না। এর পেছনে কারণ আছে। কিয়ের নেতা, আর আমি আগেই সতর্ক করেছিলাম যে রক্তাক্ত অভ্যন্তরীণ লড়াই আমাদের জন্য খারাপ বার্তা দেবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘যদি আমরা মনে করি আমাদের আর নিচে নামার জায়গা নেই, তাহলে সেটা ভুল। আমরা আরও নিচে নামতে পারি। আমাদের আবার এক দলে পরিণত হতে হবে, যেন ফ্যারাজের বিরুদ্ধে লড়াই করা যায় এবং দেখানো যায় যে মূলধারার প্রগতিশীল রাজনীতি মানুষের কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আনতে পারে।’

দীর্ঘ জল্পনা-কল্পনা শেষে ব্রিটেনের মন্ত্রিসভা থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিং। ‘দূরদৃষ্টি’ না থাকা প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টারমারের ওপর ‘আস্থা হারিয়ে’ এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন তিনি। সে কারণেই সরকারে থেকে যাওয়া ‘অসৎ ও নীতিবিরোধী’ মনে হয়েছে বলে উল্লেখ করেন স্ট্রিটিং।
১৬ ঘণ্টা আগে
পরিবেশবাদীরা এই অগ্রগতিকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে, বর্তমান ধারা অব্যাহত থাকলে আগামী কয়েক বছরের মধ্যেই আটলান্টিক বনাঞ্চলে ‘শূন্য বন উজাড়’ অর্জন সম্ভব হতে পারে। তবে একই সঙ্গে তারা এমন আশঙ্কাও করছেন, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ও আইনি পরিবর্তন এই অগ্রগতিকে উলটে দিতে পারে।
১৮ ঘণ্টা আগে
জিনপিং আরও বলেন, সহযোগিতামূলক সম্পর্কের মাধ্যমে চীন ও যুক্তরাষ্ট্র দুই দেশই উপকৃত হয়ে থাকে। আর সংঘাতের মাধ্যমে কেবল ক্ষতিই হয়। তাই আমাদের দুই দেশের প্রতিদ্বন্দ্বী না হয়ে অংশীদার হওয়া উচিত।
১৮ ঘণ্টা আগে
নিজের টেলিগ্রাম অ্যাকাউন্টে আরাগচি বলেন, আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহারের প্রবণতা ঠেকাতে ব্রিকস দেশগুলোর আরও সক্রিয় ভূমিকা নেওয়া প্রয়োজন।
১৮ ঘণ্টা আগে