
ডেস্ক, রাজনীতি ডটকম

অধিকৃত পশ্চিম তীরের উত্তরাঞ্চলের ছোট্ট ফিলিস্তিনি গ্রাম খিরবেত রাস আল-আহমারের সঙ্গে বাইরের যোগাযোগের শেষ পথটিও বন্ধ করে দিয়েছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী। এতে গ্রামটির ৪৭টি ফিলিস্তিনি পরিবার টানা পাঁচ দিন ধরে কার্যত অবরুদ্ধ অবস্থায় রয়েছে। পশুপালননির্ভর এসব পরিবার এখন খাবার, পানি ও গবাদিপশুর খাদ্যসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী গ্রামে নিয়ে যেতে পারছে না।
টুবাস শহরের দক্ষিণ-পূর্বে জর্ডান ভ্যালি এলাকায় অবস্থিত গ্রামটির বাসিন্দা থায়ের বাশারাত শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) তুরস্কের বার্তা সংস্থা আনাদোলু এজেন্সিকেকে বলেন, এর আগে দুই মাসেরও বেশি সময় ধরে গ্রামটির দিকে যাওয়ার সব মাটির রাস্তা বন্ধ করে রেখেছিল ইসরায়েলি বাহিনী। পাঁচ দিন আগে শেষ যে পথটি অবশিষ্ট ছিল, সেটির ওপরও খনন করে একটি পরিখা তৈরি করা হয়।
ওই পথটি এতটাই দুর্গম ছিল যে মূলত গবাদিপশু ও কৃষিকাজের ট্রাক্টরই সেখানে চলাচল করতে পারত। সেটিও বন্ধ হয়ে যাওয়ায় গ্রামটি এখন চারপাশে পরিখা, দেয়াল ও সামরিক নিয়ন্ত্রিত এলাকা দিয়ে ঘেরা একটি ‘খাঁচা’য় পরিণত হয়েছে।
বাশারাত বলেন, ৪৭টি পরিবারই মূলত পশুপালনের ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু রাস্তা বন্ধ থাকায় তারা পশুর খাবার কিংবা নিজেদের প্রয়োজনীয় সামগ্রীও সহজে আনতে পারছেন না।
কমছে চারণভূমি, বাড়ছে চাপ
বাশারাতের দাবি, একসময় গ্রামের পশুপালকেরা প্রায় তিন লাখ ৬০ হাজার দুনাম বা প্রায় ৩৬০ বর্গকিলোমিটার জমি চারণভূমি হিসেবে ব্যবহার করতেন। এর প্রায় ৯০ শতাংশ এখন হয় দখল করা হয়েছে, অথবা সেখানে প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
এই পরিসংখ্যানটি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। তবে জর্ডান ভ্যালির ফিলিস্তিনি পশুপালক সম্প্রদায়গুলোর চারণভূমি ও কৃষিজমিতে প্রবেশাধিকার কমে যাওয়ার বিষয়টি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ও মানবাধিকার সংগঠন দীর্ঘদিন ধরে নথিবদ্ধ করে আসছে।
রয়টার্স ২০২৫ সালে উত্তর জর্ডান ভ্যালির বারদালা এলাকায় একই ধরনের পরিস্থিতির কথা জানিয়েছিল। সেখানে ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর তৈরি রাস্তা ও পরিখা স্থানীয় কৃষকদের গুরুত্বপূর্ণ চারণভূমিতে প্রবেশ কঠিন করে তুলছে বলে স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছিলেন। একই এলাকায় নতুন ইসরায়েলি বসতি ও আউটপোস্ট গড়ে ওঠায় জমির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে উদ্বেগও বাড়ছিল।
২০২৫ সালের আরেক প্রতিবেদনে রয়টার্স জানায়, জর্ডান ভ্যালির মু'আররাজাত এলাকার ৩০টি বেদুইন পরিবার কয়েক বছরের বসতি স্থাপনকারীদের হামলা ও হয়রানির পর নিজেদের ঘরবাড়ি ছেড়ে যেতে বাধ্য হয়। মানবাধিকার সংগঠন বি'তসেলেমও ওই অঞ্চলে বসতি স্থাপনকারীদের হামলা ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর ওপর চাপের ঘটনা নথিবদ্ধ করেছিল।
গার্ডিয়ানের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনগুলোতেও জর্ডান ভ্যালির পশুপালক সম্প্রদায়ের জমি ও চলাচলের ওপর ক্রমবর্ধমান বিধিনিষেধের চিত্র উঠে এসেছে। ডিসেম্বরের এক প্রতিবেদনে সংবাদমাধ্যমটি জানায়, রাস আইন আল-আওজা এলাকায় বসতি স্থাপনকারীদের পশুপালন ও নতুন আউটপোস্টের বিস্তারের ফলে ফিলিস্তিনি পশুপালকেরা নিজেদের ঐতিহ্যগত চারণভূমি ব্যবহার করতে পারছেন না।
গাজা যুদ্ধের পর আরও কঠোর পরিস্থিতি
খিরবেত রাস আল-আহমারের বাসিন্দাদের অভিযোগ, তাদের ওপর চাপ এক দিনের ঘটনা নয়, প্রায় তিন বছর ধরে পরিস্থিতি ধীরে ধীরে কঠোর হয়েছে। তবে ২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজা যুদ্ধ শুরুর পর পশ্চিম তীর জুড়ে সেনা অভিযান, চলাচলে বিধিনিষেধ, বসতি স্থাপনকারীদের হামলা এবং জমিতে প্রবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরও বেড়েছে।
গার্ডিয়ান গত সপ্তাহে ইসরায়েলি মানবাধিকার সংগঠন বি'তসেলেমের একটি বিস্তৃত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে জানায়, ২০২৩ সালের শেষ দিক থেকে পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনি জনগোষ্ঠীর ওপর সহিংসতা, চলাচল নিষেধাজ্ঞা, অর্থনৈতিক চাপ ও উচ্ছেদের ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বি'তসেলেমের প্রতিবেদনে এসব পদক্ষেপকে পরস্পর সম্পর্কিত একটি বৃহত্তর প্রক্রিয়া হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।
জর্ডান ভ্যালি এই চাপের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এলাকা। পশ্চিম তীরের বড় অংশই পাহাড়ি ও শুষ্ক হওয়ায় এখানে পশুপালন ও কৃষির জন্য জমি ও পানির প্রবেশাধিকার স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জীবিকার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। ফলে একটি রাস্তা বা চারণভূমি বন্ধ হয়ে যাওয়া শুধু যাতায়াতের সমস্যা তৈরি করে না, একই সঙ্গে পশুর খাদ্য, পানি, কৃষিকাজ ও পরিবারের আয়— সবকিছুকে প্রভাবিত করে।
গার্ডিয়ান গত ডিসেম্বরে উত্তর জর্ডান ভ্যালির আতুফ এলাকায় নতুন ইসরায়েলি বাধ নির্মাণের পরিকল্পনা নিয়ে প্রতিবেদন করেছিল। স্থানীয় ফিলিস্তিনি কৃষকদের অভিযোগ ছিল, ওই বাধ তাদের কৃষিজমি, কূপ ও চারণভূমিতে প্রবেশের পথ কেটে দিতে পারে।
বসতি সম্প্রসারণের বৃহত্তর প্রেক্ষাপট
খিরবেত রাস আল-আহমারের ঘটনাটি এমন সময়ে ঘটছে, যখন পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি সম্প্রসারণও দ্রুত এগোচ্ছে। রয়টার্স চলতি মাসে জানিয়েছে, ইসরায়েল পশ্চিম তীরের বিতর্কিত ই১ এলাকায় আরও দুই হাজার ১৬৭টি বসতি-ইউনিটের জন্য টেন্ডার যুক্ত করেছে। এতে ওই পরিকল্পনার আওতায় মোট ইউনিটের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে তিন হাজার ৪০১-এ। ফিলিস্তিনি ও বিভিন্ন অধিকার সংগঠন বলছে, এই প্রকল্প পশ্চিম তীরের ভৌগোলিক সংযোগ দুর্বল করতে পারে।
রয়টার্সের আরেক সাম্প্রতিক অনুসন্ধানে বলা হয়েছে, ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের একটি অংশ নতুন আউটপোস্ট তৈরির মাধ্যমে পশ্চিম তীরে জমি নিয়ন্ত্রণের পরিধি বাড়াচ্ছে। ২০২৩ সালের পর অন্তত ৯টি নতুন আউটপোস্ট তৈরিতে দুটি ইসরায়েলি ভাইয়ের নেতৃত্বাধীন একটি নির্মাণ প্রতিষ্ঠানের ভূমিকার কথা প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। এসব কর্মকাণ্ডের ফলে ফিলিস্তিনিদের বাস্তুচ্যুতি ও বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা বাড়ছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়।
ফিলিস্তিনিরা এসব পদক্ষেপকে ধীরে ধীরে তাদের জমি থেকে সরিয়ে দেওয়ার বৃহত্তর প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে দেখছে। অন্যদিকে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ সাধারণত সামরিক বিধিনিষেধ ও জমি ব্যবস্থাপনার পদক্ষেপকে নিরাপত্তা, সামরিক প্রয়োজন অথবা পশ্চিম তীরের এরিয়া সি-তে প্রযোজ্য বিধিবিধানের সঙ্গে যুক্ত করে থাকে।
১৯৯০-এর দশকের অসলো চুক্তির অধীনে পশ্চিম তীরকে এ, বি ও সি— এই তিন প্রশাসনিক অঞ্চলে ভাগ করা হয়। পশ্চিম তীরের প্রায় ৬০ শতাংশ জুড়ে এরিয়া সি ইসরায়েলের বেসামরিক ও নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। জর্ডান ভ্যালির বড় অংশও এই এলাকায়।
খিরবেত রাস আল-আহমারের ৪৭ পরিবারের ক্ষেত্রে এখন সবচেয়ে তাৎক্ষণিক সংকট হলো যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতা। শেষ রাস্তার ওপর পরিখা খননের ফলে ট্রাক বা কৃষিযন্ত্র তো দূরের কথা, পশুর খাবার ও নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীও গ্রামে নেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।
বাসিন্দা বাশারাতের অভিযোগ, এই চাপের উদ্দেশ্য পুরো জনগোষ্ঠীকে গ্রাম ছাড়তে বাধ্য করা। পশ্চিম তীরের জর্ডান ভ্যালিতে পশুপালক জনগোষ্ঠীর জমি, পানি ও চলাচলের ওপর ক্রমবর্ধমান বিধিনিষেধ নিয়ে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো ধারাবাহিকভাবে যেসব খবর প্রকাশ করে আসছে, তাতে রাস আল-আহমারের বর্তমান সংকট সেই বৃহত্তর বাস্তবতারই আরেকটি উদাহরণ হয়ে উঠেছে।

অধিকৃত পশ্চিম তীরের উত্তরাঞ্চলের ছোট্ট ফিলিস্তিনি গ্রাম খিরবেত রাস আল-আহমারের সঙ্গে বাইরের যোগাযোগের শেষ পথটিও বন্ধ করে দিয়েছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী। এতে গ্রামটির ৪৭টি ফিলিস্তিনি পরিবার টানা পাঁচ দিন ধরে কার্যত অবরুদ্ধ অবস্থায় রয়েছে। পশুপালননির্ভর এসব পরিবার এখন খাবার, পানি ও গবাদিপশুর খাদ্যসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী গ্রামে নিয়ে যেতে পারছে না।
টুবাস শহরের দক্ষিণ-পূর্বে জর্ডান ভ্যালি এলাকায় অবস্থিত গ্রামটির বাসিন্দা থায়ের বাশারাত শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) তুরস্কের বার্তা সংস্থা আনাদোলু এজেন্সিকেকে বলেন, এর আগে দুই মাসেরও বেশি সময় ধরে গ্রামটির দিকে যাওয়ার সব মাটির রাস্তা বন্ধ করে রেখেছিল ইসরায়েলি বাহিনী। পাঁচ দিন আগে শেষ যে পথটি অবশিষ্ট ছিল, সেটির ওপরও খনন করে একটি পরিখা তৈরি করা হয়।
ওই পথটি এতটাই দুর্গম ছিল যে মূলত গবাদিপশু ও কৃষিকাজের ট্রাক্টরই সেখানে চলাচল করতে পারত। সেটিও বন্ধ হয়ে যাওয়ায় গ্রামটি এখন চারপাশে পরিখা, দেয়াল ও সামরিক নিয়ন্ত্রিত এলাকা দিয়ে ঘেরা একটি ‘খাঁচা’য় পরিণত হয়েছে।
বাশারাত বলেন, ৪৭টি পরিবারই মূলত পশুপালনের ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু রাস্তা বন্ধ থাকায় তারা পশুর খাবার কিংবা নিজেদের প্রয়োজনীয় সামগ্রীও সহজে আনতে পারছেন না।
কমছে চারণভূমি, বাড়ছে চাপ
বাশারাতের দাবি, একসময় গ্রামের পশুপালকেরা প্রায় তিন লাখ ৬০ হাজার দুনাম বা প্রায় ৩৬০ বর্গকিলোমিটার জমি চারণভূমি হিসেবে ব্যবহার করতেন। এর প্রায় ৯০ শতাংশ এখন হয় দখল করা হয়েছে, অথবা সেখানে প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
এই পরিসংখ্যানটি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। তবে জর্ডান ভ্যালির ফিলিস্তিনি পশুপালক সম্প্রদায়গুলোর চারণভূমি ও কৃষিজমিতে প্রবেশাধিকার কমে যাওয়ার বিষয়টি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ও মানবাধিকার সংগঠন দীর্ঘদিন ধরে নথিবদ্ধ করে আসছে।
রয়টার্স ২০২৫ সালে উত্তর জর্ডান ভ্যালির বারদালা এলাকায় একই ধরনের পরিস্থিতির কথা জানিয়েছিল। সেখানে ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর তৈরি রাস্তা ও পরিখা স্থানীয় কৃষকদের গুরুত্বপূর্ণ চারণভূমিতে প্রবেশ কঠিন করে তুলছে বলে স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছিলেন। একই এলাকায় নতুন ইসরায়েলি বসতি ও আউটপোস্ট গড়ে ওঠায় জমির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে উদ্বেগও বাড়ছিল।
২০২৫ সালের আরেক প্রতিবেদনে রয়টার্স জানায়, জর্ডান ভ্যালির মু'আররাজাত এলাকার ৩০টি বেদুইন পরিবার কয়েক বছরের বসতি স্থাপনকারীদের হামলা ও হয়রানির পর নিজেদের ঘরবাড়ি ছেড়ে যেতে বাধ্য হয়। মানবাধিকার সংগঠন বি'তসেলেমও ওই অঞ্চলে বসতি স্থাপনকারীদের হামলা ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর ওপর চাপের ঘটনা নথিবদ্ধ করেছিল।
গার্ডিয়ানের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনগুলোতেও জর্ডান ভ্যালির পশুপালক সম্প্রদায়ের জমি ও চলাচলের ওপর ক্রমবর্ধমান বিধিনিষেধের চিত্র উঠে এসেছে। ডিসেম্বরের এক প্রতিবেদনে সংবাদমাধ্যমটি জানায়, রাস আইন আল-আওজা এলাকায় বসতি স্থাপনকারীদের পশুপালন ও নতুন আউটপোস্টের বিস্তারের ফলে ফিলিস্তিনি পশুপালকেরা নিজেদের ঐতিহ্যগত চারণভূমি ব্যবহার করতে পারছেন না।
গাজা যুদ্ধের পর আরও কঠোর পরিস্থিতি
খিরবেত রাস আল-আহমারের বাসিন্দাদের অভিযোগ, তাদের ওপর চাপ এক দিনের ঘটনা নয়, প্রায় তিন বছর ধরে পরিস্থিতি ধীরে ধীরে কঠোর হয়েছে। তবে ২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজা যুদ্ধ শুরুর পর পশ্চিম তীর জুড়ে সেনা অভিযান, চলাচলে বিধিনিষেধ, বসতি স্থাপনকারীদের হামলা এবং জমিতে প্রবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরও বেড়েছে।
গার্ডিয়ান গত সপ্তাহে ইসরায়েলি মানবাধিকার সংগঠন বি'তসেলেমের একটি বিস্তৃত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে জানায়, ২০২৩ সালের শেষ দিক থেকে পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনি জনগোষ্ঠীর ওপর সহিংসতা, চলাচল নিষেধাজ্ঞা, অর্থনৈতিক চাপ ও উচ্ছেদের ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বি'তসেলেমের প্রতিবেদনে এসব পদক্ষেপকে পরস্পর সম্পর্কিত একটি বৃহত্তর প্রক্রিয়া হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।
জর্ডান ভ্যালি এই চাপের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এলাকা। পশ্চিম তীরের বড় অংশই পাহাড়ি ও শুষ্ক হওয়ায় এখানে পশুপালন ও কৃষির জন্য জমি ও পানির প্রবেশাধিকার স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জীবিকার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। ফলে একটি রাস্তা বা চারণভূমি বন্ধ হয়ে যাওয়া শুধু যাতায়াতের সমস্যা তৈরি করে না, একই সঙ্গে পশুর খাদ্য, পানি, কৃষিকাজ ও পরিবারের আয়— সবকিছুকে প্রভাবিত করে।
গার্ডিয়ান গত ডিসেম্বরে উত্তর জর্ডান ভ্যালির আতুফ এলাকায় নতুন ইসরায়েলি বাধ নির্মাণের পরিকল্পনা নিয়ে প্রতিবেদন করেছিল। স্থানীয় ফিলিস্তিনি কৃষকদের অভিযোগ ছিল, ওই বাধ তাদের কৃষিজমি, কূপ ও চারণভূমিতে প্রবেশের পথ কেটে দিতে পারে।
বসতি সম্প্রসারণের বৃহত্তর প্রেক্ষাপট
খিরবেত রাস আল-আহমারের ঘটনাটি এমন সময়ে ঘটছে, যখন পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি সম্প্রসারণও দ্রুত এগোচ্ছে। রয়টার্স চলতি মাসে জানিয়েছে, ইসরায়েল পশ্চিম তীরের বিতর্কিত ই১ এলাকায় আরও দুই হাজার ১৬৭টি বসতি-ইউনিটের জন্য টেন্ডার যুক্ত করেছে। এতে ওই পরিকল্পনার আওতায় মোট ইউনিটের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে তিন হাজার ৪০১-এ। ফিলিস্তিনি ও বিভিন্ন অধিকার সংগঠন বলছে, এই প্রকল্প পশ্চিম তীরের ভৌগোলিক সংযোগ দুর্বল করতে পারে।
রয়টার্সের আরেক সাম্প্রতিক অনুসন্ধানে বলা হয়েছে, ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের একটি অংশ নতুন আউটপোস্ট তৈরির মাধ্যমে পশ্চিম তীরে জমি নিয়ন্ত্রণের পরিধি বাড়াচ্ছে। ২০২৩ সালের পর অন্তত ৯টি নতুন আউটপোস্ট তৈরিতে দুটি ইসরায়েলি ভাইয়ের নেতৃত্বাধীন একটি নির্মাণ প্রতিষ্ঠানের ভূমিকার কথা প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। এসব কর্মকাণ্ডের ফলে ফিলিস্তিনিদের বাস্তুচ্যুতি ও বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা বাড়ছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়।
ফিলিস্তিনিরা এসব পদক্ষেপকে ধীরে ধীরে তাদের জমি থেকে সরিয়ে দেওয়ার বৃহত্তর প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে দেখছে। অন্যদিকে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ সাধারণত সামরিক বিধিনিষেধ ও জমি ব্যবস্থাপনার পদক্ষেপকে নিরাপত্তা, সামরিক প্রয়োজন অথবা পশ্চিম তীরের এরিয়া সি-তে প্রযোজ্য বিধিবিধানের সঙ্গে যুক্ত করে থাকে।
১৯৯০-এর দশকের অসলো চুক্তির অধীনে পশ্চিম তীরকে এ, বি ও সি— এই তিন প্রশাসনিক অঞ্চলে ভাগ করা হয়। পশ্চিম তীরের প্রায় ৬০ শতাংশ জুড়ে এরিয়া সি ইসরায়েলের বেসামরিক ও নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। জর্ডান ভ্যালির বড় অংশও এই এলাকায়।
খিরবেত রাস আল-আহমারের ৪৭ পরিবারের ক্ষেত্রে এখন সবচেয়ে তাৎক্ষণিক সংকট হলো যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতা। শেষ রাস্তার ওপর পরিখা খননের ফলে ট্রাক বা কৃষিযন্ত্র তো দূরের কথা, পশুর খাবার ও নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীও গ্রামে নেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।
বাসিন্দা বাশারাতের অভিযোগ, এই চাপের উদ্দেশ্য পুরো জনগোষ্ঠীকে গ্রাম ছাড়তে বাধ্য করা। পশ্চিম তীরের জর্ডান ভ্যালিতে পশুপালক জনগোষ্ঠীর জমি, পানি ও চলাচলের ওপর ক্রমবর্ধমান বিধিনিষেধ নিয়ে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো ধারাবাহিকভাবে যেসব খবর প্রকাশ করে আসছে, তাতে রাস আল-আহমারের বর্তমান সংকট সেই বৃহত্তর বাস্তবতারই আরেকটি উদাহরণ হয়ে উঠেছে।

সিবিএস নিউজ জানিয়েছে, শনিবার সকাল ৮টার দিকে এমএস নাউয়ের হোয়াইট হাউজ সংবাদদাতা আকাইলা গার্ডনার ও এক ক্যামেরাম্যানকে ঢুকতে দেওয়া হয়নি হোয়াইট হাউজে। গার্ডনার বলেন, প্রবেশপথে পাস স্ক্যান করার পর তাকে জানানো হয় সেটি নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। কেন নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে জানতে চাইলে নিরাপত্তাকর্মী বলেন, বিষয়টি তার
১৩ ঘণ্টা আগে
লেবাননের কর্তৃপক্ষের হিসাবে, মার্চের শুরু থেকে ইসরায়েলি হামলায় প্রায় চার হাজার ৪০০ মানুষ নিহত এবং ১২ হাজারের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। বাস্তুচ্যুত হয়েছেন ১০ লাখের বেশি মানুষ। দক্ষিণ লেবাননের বিস্তীর্ণ এলাকা থেকে মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং ইসরায়েলি বাহিনী এখনও দেশটির ভূখণ্ডের কিছু অংশ নিয়ন্ত্রণ করছে।
১৪ ঘণ্টা আগে
সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছে আগুন ও কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখা গেছে। শনিবার স্থানীয় সময় সকালে বিমানবন্দরের দিক থেকে বিকট শব্দ শোনার পর আকাশে ধোঁয়া ও আগুন দেখা যায় বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তবে ঘটনার সঠিক কারণ তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
১৯ ঘণ্টা আগে
ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের বিদ্যমান নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ আরও পাঁচ বছর বাড়িয়ে ২০৩১ সাল পর্যন্ত বহাল রাখার আইনে সই করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই আইনে রাশিয়ার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা ও শুল্ক আরোপের সুযোগও বাড়ানো হয়েছে।
১ দিন আগে