৬ শতাধিক ড্রোন, ৭৩ ক্ষেপণাস্ত্র—রুশ হামলায় ইউক্রেনে নিহত অন্তত ১৮

ডেস্ক, রাজনীতি ডটকম
রাশিয়ার ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইউক্রেনের দিনিপ্রোতে ক্ষতিগ্রস্ত একটি স্থানের দৃশ্য। ছবি: ইউক্রেনীয় পুলিশের প্রেস সার্ভিস/রয়টার্স

ইউক্রেন জুড়ে আবারও ভয়াবহ ও নৃশংস হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। গতকাল রাতভর চালানো এই হামলায় রাশিয়া ৬০০টিরও বেশি ড্রোন ও ৭৩টি ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে বলে জানিয়েছেন ইউক্রেনের বিমান বাহিনী। ইউক্রেনীয় কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, রাশিয়ার এই হামলায় অন্তত ১৮ জন নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন শতাধিক মানুষ।

মঙ্গলবার (২ জুন) বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে বলা হয়, এবারের হামলায় রাজধানী কিয়েভ এবং দিনিপ্রোসহ দেশটির বেশ কয়েকটি বড় শহরকে নিশানা করা হয়েছে। গত মাসে ইউক্রেনের রুশনিয়ন্ত্রিত লুহানস্ক অঞ্চলের একটি ছাত্রাবাসে প্রাণঘাতী ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছিল। এরপরই ক্রেমলিনের পক্ষ থেকে কিয়েভে ‘পদ্ধতিগত’ হামলার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছিল। তবে ওই ছাত্রাবাসে হামলার বিষয়টি কিয়েভ বরাবরই অস্বীকার করে আসছে।

এক মাসেরও কম সময়ের মধ্যে রাজধানী কিয়েভে এটি রাশিয়ার তৃতীয় বৃহত্তম হামলা। তবে ২০২২ সালে ক্ষুদ্র প্রতিবেশী দেশ ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রার সামরিক আগ্রাসন শুরু করার পর থেকে কিয়েভসহ দেশটির বিভিন্ন শহরে নিয়মিত বিরতিতে এই ধরনের ধ্বংসাত্মক হামলা চালিয়ে আসছে মস্কো।

বর্তমানে ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে মার্কিন মধ্যস্থতায় চলমান আলোচনা স্থবির হয়ে পড়েছে, কারণ ওয়াশিংটনের পুরো মনোযোগ এখন ইরানের দিকে। অন্যদিকে, চলতি বছরে যুদ্ধক্ষেত্রে রুশ বাহিনীর অগ্রগতির গতি কিছুটা মন্থর হয়েছে। আর এই সুযোগে রাশিয়ার অভ্যন্তরে থাকা বিভিন্ন তেল শোধনাগারে হামলার তীব্রতা বাড়িয়েছে কিয়েভ।

যুক্তরাষ্ট্রেকে ক্ষেপণাস্ত্র ইন্টারসেপ্টর পাঠানোর আহ্বান

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন, রাতভর চালানো এই হামলায় রাশিয়া ৭৩টি ক্ষেপণাস্ত্র এবং ৬০০টিরও বেশি ড্রোন ব্যবহার করেছে। কিয়েভের ফুরিয়ে আসা প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম পুনর্গঠনের জন্য তিনি আবারও ওয়াশিংটনের কাছে জরুরি ভিত্তিতে অতিরিক্ত ‘প্যাট্রিয়ট’ ক্ষেপণাস্ত্র ইন্টারসেপ্টর পাঠানোর আহ্বান জানিয়েছেন।

রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার সময় ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভের আকাশে বিস্ফোরণের আলো ছড়িয়ে পড়ে। ছবি: রয়টার্স
রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার সময় ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভের আকাশে বিস্ফোরণের আলো ছড়িয়ে পড়ে। ছবি: রয়টার্স

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টেলিগ্রামে দেওয়া এক বিবৃতিতে জেলেনস্কি বলেন, ‘এটি ছিল একটি বড় মাপের হামলা এবং রাশিয়ার পক্ষ থেকে এটি একটি স্পষ্ট বার্তা। ইউক্রেনকে যদি ব্যালিস্টিক এবং অন্যান্য ক্ষেপণাস্ত্র হামলা থেকে রক্ষা করা না হয়, তবে এই ধরনের হামলা চলতেই থাকবে।’

অন্যদিকে ক্রেমলিন মঙ্গলবার দাবি করেছে, যুদ্ধ এখন একটি ‘নতুন রূপ’ (নিউ প্যারাডাইম) নিয়েছে। ইউক্রেনীয় বাহিনী বেসামরিক নাগরিকদের ওপর ‘অমানবিক সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড’ চালানোর কারণেই এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে দাবি মস্কোর। উল্লেখ্য, গত সপ্তাহেই রাশিয়া কিয়েভে পদ্ধতিগত হামলার হুঁশিয়ারি দিয়ে সেখানে অবস্থানরত বিদেশি নাগরিকদের শহর ছাড়ার পরামর্শ দিয়েছিল।

গত সপ্তাহে বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার অনুরোধ জানিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং কংগ্রেসের কাছে চিঠি পাঠিয়েছিলেন জেলেনস্কি। তবে সোমবার পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, সেই চিঠির কোনো জবাব মেলেনি।

ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি সিবিলহা অংশীদার দেশগুলোকে ইউক্রেনের পাশে দাঁড়াতে এবং রাশিয়ার ওপর চাপ বাড়াতে ‘বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ’ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি রাশিয়ার ওপর আরও কঠোর নিষেধাজ্ঞা এবং অতিরিক্ত সামরিক সহায়তার দাবি তোলেন।

নিজের এক্স হ্যান্ডেলে সিবিলহা লিখেছেন, ‘মস্কো যুদ্ধক্ষেত্রে হেরে যাচ্ছে। কোনো ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে এই বাস্তবতা পরিবর্তন করা যাবে না। তবে আমরা যা পরিবর্তন করতে পারি, তা হলো রাশিয়ার এই সন্ত্রাসমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাওয়ার সক্ষমতা।’

‘এ যেন এক চরম ধ্বংসলীলা’

ইউক্রেনে রাশিয়ার চলমান আগ্রাসনে এ পর্যন্ত হাজার হাজার মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে, কোটি মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছেন এবং একের পর এক শহর, নগর ও গ্রাম ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। বর্তমানে ইউক্রেনের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এলাকা রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

পালটা আঘাত হিসেবে ইউক্রেনও রাশিয়ার ভেতরে কিংবা রুশ অধিকৃত অঞ্চলের বেসামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে, তবে তা রাশিয়ার তুলনায় অত্যন্ত সামান্য। অবশ্য দুই পক্ষের কেউই বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্য করে হামলা চালানোর কথা স্বীকার করে না।

রাতভর রুশ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার পর ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন কিয়েভের একটি সড়কের ছবি তুলছেন এক ব্যক্তি। ছবি: রয়টার্স
রাতভর রুশ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার পর ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন কিয়েভের একটি সড়কের ছবি তুলছেন এক ব্যক্তি। ছবি: রয়টার্স

মঙ্গলবার বিভিন্ন ছবিতে দেখা গেছে, কিয়েভের বহুতল ভবনগুলোর ওপর দিয়ে তীব্র বিস্ফোরণের আলো ও ধোঁয়ার কুণ্ডলী আকাশে উড়ছে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, রাতভর চলা এই হামলায় শুধু কিয়েভেই তিন শিশুসহ অন্তত ছয়জন নিহত এবং প্রায় ৮০ জন আহত হয়েছেন।

হামলার শিকার একটি স্থানে নিজের ৬ বছর বয়সী মেয়ে নাতালিয়াকে নিয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন ওলহা মুদ্রা। ধুলোবালিতে ধূসর হয়ে যাওয়া ওলহা নিজের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন, ‘আমরা বুঝতেই পারছিলাম না আসলে কী ঘটছে— এ যেন এক চরম ধ্বংসলীলা (অ্যাপোক্যালিপ্স)!’

এদিকে দেশের দক্ষিণপূর্বাঞ্চলীয় শহর দিনিপ্রোতে একটি চার তলা আবাসিক ভবন আংশিক ধসে পড়েছে। সেখানে দুই শিশুসহ অন্তত ১২ জন নিহত হয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছেন স্থানীয় কর্মকর্তারা। তাদের মতে, এবারের হামলার মূল লক্ষ্য ছিল রাজধানী কিয়েভ। সেখানে অন্তত ৯টি বহুতল ভবন, একটি কিন্ডারগার্টেন স্কুল, একটি ক্লিনিক, বেশ কিছু অফিস এবং প্রশাসনিক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

ইউক্রেনের বিদ্যুৎ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ডিটিইকে জানিয়েছে, এই হামলার ফলে সাময়িকভাবে ১ লাখ ৪০ হাজার বাসিন্দা বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েন। হামলার হাত থেকে বাঁচতে হাজার হাজার মানুষ কিয়েভের পাতাল রেল স্টেশনে আশ্রয় নেন। অনেকের হাতেই ছিল নিজেদের পোষা প্রাণী, জরুরি জিনিসপত্র এবং তোশক-ম্যাট্রেস।

শত শত ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের তাণ্ডব

ইউক্রেনের বিমান বাহিনী জানিয়েছে, রাশিয়া রাতভর ৬৫৬টি ড্রোন এবং ৭৩টি ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে। এর মধ্যে ৩৩টি ছিল অত্যন্ত দুর্ভেদ্য ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ৮টি ‘জিলকন’ হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র। চলতি যুদ্ধে এক সঙ্গে এত বিপুল সংখ্যক হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের ঘটনা এটাই প্রথম বলে ধারণা করা হচ্ছে।

মস্কোর দাবি অনুযায়ী, জিলকন ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা প্রায় এক হাজার কিলোমিটার (৬২৫ মাইল) এবং এটি শব্দের চেয়ে নয় গুণ দ্রুত গতিতে ছুটতে পারে। ইউক্রেনীয় বিমান বাহিনী ৪০টি ক্ষেপণাস্ত্র এবং ৬০২টি ড্রোন ভূপাতিত বা নিষ্ক্রিয় করার দাবি করলেও, এই তালিকায় ক্ষেপণাস্ত্র জিলকনের কথা উল্লেখ করা হয়নি।

রাতভর রুশ হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত একটি গাড়ি বিক্রয়কেন্দ্রে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছেন জরুরি সেবাকর্মীরা। ছবি: রয়টার্স
রাতভর রুশ হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত একটি গাড়ি বিক্রয়কেন্দ্রে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছেন জরুরি সেবাকর্মীরা। ছবি: রয়টার্স

রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা দূরপাল্লার অত্যাধুনিক প্রযুক্তির নিখুঁত অস্ত্র ব্যবহার করে ইউক্রেনের সামরিক শিল্প কারখানায় ‘ব্যাপক হামলা’ চালিয়েছে। পরবর্তীতে তারা দাবি করে, কিয়েভের ১০টি সামরিক উৎপাদন কেন্দ্রে সফলভাবে আঘাত হেনেছে তাদের ক্ষেপণাস্ত্র।

ইউক্রেনের উত্তরপূর্বাঞ্চলীয় খারকিভ অঞ্চলেও এই হামলায় এক শিশুসহ অন্তত ১৪ জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। ইউক্রেনে রাশিয়ার এই ভয়াবহ হামলার পর ন্যাটোর সদস্য দেশ পোল্যান্ড তাদের আকাশসীমার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যুদ্ধবিমান মোতায়েন করেছে।

এদিকে রাশিয়ার অভ্যন্তরীণ অঞ্চলেও পালটা ড্রোন হামলার খবর পাওয়া গেছে। দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় ক্রাসনোদার অঞ্চলের ইলস্কি তেল শোধনাগারে ড্রোন হামলার পর আগুন ধরে যায় বলে স্থানীয় প্রশাসন টেলিগ্রামে জানিয়েছে। ইউক্রেনীয় সামরিক বাহিনী পরে এই হামলার সত্যতা নিশ্চিত করেছে।

ইউক্রেন সীমান্তবর্তী বেলগোরোদ অঞ্চলে একটি ড্রোন আবাসিক ভবনে আঘাত হানলে ১১ বছর বয়সী এক রুশ শিশু আহত হয়। রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে দেশটির সংবাদ সংস্থাগুলো জানিয়েছে, রাশিয়া রাতভর মোট ১৪৮টি ইউক্রেনীয় ড্রোন ভূপাতিত করেছে। এছাড়া রুশ অধিকৃত ক্রিমিয়ার সেভাস্তোপল শহরের আকাশেও ড্রোন হামলা প্রতিহত করা হয়েছে বলে দাবি করেছে সেখানকার কর্তৃপক্ষ।

রাজনীতি/আইআর

ad
ad

বিশ্ব রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন

ইউক্রেন জুড়ে রাশিয়ার ব্যাপক হামলা: নিহত ৯, আহত অর্ধশতাধিক

কিয়েভের মেয়র ক্লিচকো জানান, ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে একটি ৯ তলা আবাসিক ভবনসহ বেশ কয়েকটি স্থাপনায় আগুন ধরে যায়। তিনি বলেন, ‘ওবলন জেলায় ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ পড়ে বেশ কয়েকটি গাড়ি পুড়ছে। এ ছাড়া একটি কিন্ডারগার্টেনের কাছাকাছি এলাকাসহ দুটি খোলা জায়গায় আগুনের ঘটনা ঘটেছে।’

১১ ঘণ্টা আগে

৪ দশক পর জাতিসংঘের সভাপতি পদে লড়ছে বাংলাদেশ, ভোট আজ

বাংলাদেশ প্রায় ৪০ বছর পর আবার জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সভাপতি পদে নির্বাচন করতে যাচ্ছে। ১৯৮৬ সালে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৪১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন বাংলাদেশের তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী।

১১ ঘণ্টা আগে

আগামী সপ্তাহের মধ্যেই ইরানের সঙ্গে চুক্তি হতে পারে: ট্রাম্প

হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে চুক্তির খসড়া সংশোধনের কাজ চলার মধ্যে ট্রাম্প মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা হ্রাসের কৃতিত্ব নিজের কাঁধে নিলেও, ইরান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে—জনগণের অধিকার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তারা কোনো চুক্তিতে সই করবে না।

১২ ঘণ্টা আগে

ইতালির দক্ষিণাঞ্চলে ৬.২ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প

সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠের প্রায় ২৪৭ কিলোমিটার (১৫৩ মাইল) গভীরে। এটি কালাব্রিয়া অঞ্চলের কোসেনজা শহর থেকে প্রায় ৩৮ কিলোমিটার (২৩ মাইল) দূরে আঘাত হানে। ভূমিকম্পের পর তাৎক্ষণিকভাবে কোনও হতাহত বা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।

১২ ঘণ্টা আগে