
ডেস্ক, রাজনীতি ডটকম

গত ছয় মাসে চীনের রাজধানী বেইজিং জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য দেশগুলোর জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে। সেখানে সর্বশেষ আগমন ঘটে এক অতি পরিচিত মুখের— রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। ২০১২ সালের পর থেকে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে ৪০ বারেরও বেশি সাক্ষাৎ করেছেন পুতিন। যুক্তরাজ্যভিত্তিক আন্তর্জাতিক সম্পর্কবিষয়ক গবেষণা প্রতিষ্ঠান চ্যাথাম হাউজের এক সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে এই দুই পরাশক্তির সম্পর্কের গভীরতা ও সীমাবদ্ধতার নানা দিক উঠে এসেছে। প্রতিবেদনটি লিখেছেন প্রতিষ্ঠানটির এশিয়া-প্যাসিফিক প্রোগ্রামের চীনবিষয়ক গবেষক ড. ইউ জি।
গবেষক ইউ জির মতে, গত সপ্তাহে অনুষ্ঠিত শি-ট্রাম্প শীর্ষ বৈঠকের মতো, আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো এবারও দুই নেতার ব্যক্তিগত রসায়ন এবং বৈঠককে ঘিরে চলা চমৎকার কূটনৈতিক আবহের খুঁটিনাটি বিশ্লেষণে ব্যস্ত ছিল। তবে বাস্তব সত্য হলো, ভূরাজনীতি কখনো কেবল ব্যক্তিগত উষ্ণতা বা রাজনৈতিক ভ্রাতৃত্বের ওপর ভর করে চলে না। এটি মূলত নির্ধারিত হয় কৌশলগত স্বার্থ, ক্ষমতার সমীকরণ এবং জাতীয় অগ্রাধিকারের ওপর ভিত্তি করে।
শি ও পুতিনের এই সাম্প্রতিক বৈঠকের মূল উদ্দেশ্য ছিল বিশ্বকে একটি স্পষ্ট বার্তা দেওয়া— আন্তর্জাতিক শৃঙ্খলা পুনর্গঠনের প্রচেষ্টায় বেইজিং এবং মস্কো এখনো কৌশলগতভাবে এক সারিতে রয়েছে। বিশ্বব্যাপী ক্রমবর্ধমান বিভাজনের এই সময়ে বেইজিং-মস্কো অংশীদারিত্বের স্থায়িত্বের প্রমাণ দিতেই দুই নেতা একটি যৌথ ঘোষণাপত্র প্রকাশ করেন, যেখানে একটি ‘বহুমুখী বিশ্ব’ (মাল্টিপোলার ওয়ার্ল্ড) এবং ‘নতুন ধরনের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক’ গড়ে তোলার ওপর জোর দেওয়া হয়।
তবে এই বাহ্যিক ঐক্যের আড়ালে রয়েছে এক জটিল বাস্তবতা। ভৌগোলিক অবস্থান, পশ্চিমা আধিপত্যের যৌথ বিরোধিতা এবং আংশিক মিলে যাওয়া কৌশলগত এজেন্ডার কারণে চীন ও রাশিয়া একে অপরের সঙ্গে আবদ্ধ ঠিকই, কিন্তু তাদের এই অংশীদারিত্ব সীমাহীন নয়। বিশেষ করে রাশিয়ার জ্বালানির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা নিয়ে বেইজিংয়ের মনে রয়েছে গভীর উদ্বেগ। এ ছাড়া চীনের নিজস্ব বৈশ্বিক উচ্চাকাঙ্ক্ষাই এই সম্পর্কের পরিধি নির্ধারণ করে দিচ্ছে।
তাই গবেষক ইউ জি মনে করেন, শি-পুতিন শীর্ষ বৈঠকটি একই সঙ্গে দুটি সত্যকে সামনে এনেছে— বিশ্বমঞ্চে চীন ও রাশিয়া একটি অবিচল কৌশলগত জুটি হিসেবে কাজ করে যাচ্ছে; তবে তাদের এই সম্পর্কটি কোনো আনুষ্ঠানিক সামরিক জোট নয়, বরং একটি বাস্তবসম্মত ও কৌশলগত বোঝাপড়া মাত্র।
যে বন্ধনে আবদ্ধ দুই দেশ
প্রতিবেদনে ড. ইউ জি দেখিয়েছেন, চীন ও রাশিয়ার ঐক্য ধরে রাখার সবচেয়ে বড় এবং স্থায়ী উপাদানটি হলো ভূগোল। দুই দেশের মধ্য রয়েছে ৪ হাজার ৩০০ কিলোমিটার দীর্ঘ এক স্থল সীমান্ত— যা প্রায় পুরো ইউরোপ মহাদেশের প্রস্থের সমান। তারা একই ইউরেশীয় কৌশলগত অঞ্চলে বসবাস করে, যার ফলে কোনো পক্ষই দীর্ঘমেয়াদি শত্রুতা বজায় রাখতে পারে না।
বেইজিংয়ের জন্য মস্কোর সাথে স্থিতিশীল সম্পর্ক বজায় রাখার অর্থ হলো— নিজেদের উত্তর সীমান্ত সুরক্ষিত রাখা এবং দক্ষিণ দিক থেকে কোনো বৈরী শক্তি যাতে তাদের কোনঠাসা করতে না পারে, সেই ঝুঁকি কমিয়ে আনা। মূলত এই সফরের অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল পুতিন এবং শি জিনপিংয়ের পূর্বসূরি প্রেসিডেন্ট জিয়াং জেমিনের মধ্যে ২০০১ সালে স্বাক্ষরিত ‘সদভাব ও বন্ধুত্বপূর্ণ সহযোগিতা চুক্তি’র ২৫তম বার্ষিকী উদযাপন।
অন্যদিকে রাশিয়ার প্রেক্ষাপটটি ভিন্ন; ইউক্রেন যুদ্ধের জেরে পশ্চিমা বিশ্বের সঙ্গে সম্পর্ক কার্যত সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছে মস্কোর। এমন কঠিন সময়ে চীনের সঙ্গে এই কৌশলগত অংশীদারিত্বই এখন রুশ অর্থনীতিকে সচল রাখা এবং বিশ্ব রাজনীতিতে নিজেদের পরাশক্তি হিসেবে টিকিয়ে রাখার প্রধান হাতিয়ার।
আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা যত বেশি মেরুকরণের দিকে যাচ্ছে, এই ভৌগোলিক সমীকরণ তত বেশি জোরালো হচ্ছে। বেইজিং ও মস্কো উভয়ই পশ্চিমাদের ‘একপেশে আধিপত্যবাদে’র বিরুদ্ধে একযোগে কাজ করার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করে। বহুমুখী বিশ্ব নিয়ে তাদের নতুন ইশতেহার এই যৌথ দৃষ্টিভঙ্গিরই প্রতিফলন। একটি ‘আরও ন্যায়সংগত ও সমতাভিত্তিক’ আন্তর্জাতিক শৃঙ্খলার কথা তারা কেবল মুখে বলছে না; এটি আসলে মার্কিন নেতৃত্বাধীন প্রতিষ্ঠানগুলোর আধিপত্যকে দুর্বল করার এবং বিকল্প পরাশক্তি তৈরি করার একটি দীর্ঘমেয়াদি প্রচেষ্টা।
তবে এই বহুমুখী বিশ্ব ব্যবস্থা দুই দেশের কাছে ভিন্ন ভিন্ন উদ্দেশ্যে গুরুত্বপূর্ণ। রাশিয়ার কাছে এটি আন্তর্জাতিক বিচ্ছিন্নতা থেকে বেরিয়ে আসার এবং পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও নিজেদের পরাশক্তি হিসেবে টিকিয়ে রাখার একটি পথ। আর চীনের কাছে এটি এমন এক বিশ্বব্যবস্থার রূপান্তর, যেখানে মার্কিন কৌশলগত শ্রেষ্ঠত্ব হ্রাস পাবে এবং বেইজিংয়ের ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক প্রভাব খাটানোর সুযোগ তৈরি হবে।
এই অভিন্ন স্বার্থ থেকেই জন্ম নিয়েছে এক টেকসই কৌশলগত অংশীদারিত্ব। ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর থেকে চীন রাশিয়াকে গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক লাইফলাইন দিয়ে আসছে। তারা দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বাড়িয়েছে, রুশ তেল-গ্যাসের আমদানি বাড়িয়েছে এবং প্রযুক্তিগত ও শিল্প বিনিময় বজায় রেখেছে— যার কারণে ইউরোপের সঙ্গে বেইজিংয়ের সম্পর্ক বেশ ঝুঁকিতেও পড়েছে।
বিনিময়ে রাশিয়াও চীনকে দিচ্ছে সাশ্রয়ী মূল্যের জ্বালানি ও সামরিক সহযোগিতা। শুধু তাই নয়, তাইওয়ান সংকট থেকে শুরু করে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে ন্যাটোর প্রভাব বিস্তারের চেষ্টার বিরুদ্ধে বেইজিংয়ের পক্ষে বরাবরই পূর্ণ কূটনৈতিক সমর্থন দিয়ে আসছে মস্কো।
কৌশলগত মেলবন্ধন, তবে বিশ্বাসের অভাব
গবেষক ইউ জি সতর্ক করে বলেছেন, কৌশলগত এই মেলবন্ধন দুই দেশের মধ্যকার অসমতা বা পারস্পরিক অবিশ্বাসকে মুছে দিতে পারেনি। আর এই সম্পর্ক কোনো অবস্থাতেই বেইজিংয়ের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়ার মূল লক্ষ্যকে ছাপিয়ে যেতে পারবে না।
চীন এখনো রাশিয়ার জ্বালানির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল হতে দ্বিধাবোধ করে। জ্বালানি সহযোগিতা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের একটি বড় স্তম্ভ হওয়া সত্ত্বেও, চীন নিজেকে এমন অবস্থানে নিয়ে যেতে চায় না যেখানে রুশ সরবরাহ তাদের জন্য অপরিহার্য হয়ে ওঠে।
আর এ কারণেই ‘পাওয়ার অব সাইবেরিয়া ২’ গ্যাস পাইপলাইনের মতো আলোচিত প্রকল্পগুলো বারবার মৌখিক অনুমোদন পাওয়া সত্ত্বেও বাস্তবে খুব ধীরগতিতে এগোচ্ছে। তবে মস্কোর জন্য এই প্রকল্পটি অর্থনৈতিকভাবে অত্যন্ত জরুরি; কারণ ইউরোপ রুশ জ্বালানি আমদানি কমিয়ে দেওয়ায় চীনই এখন ক্রেমলিনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দীর্ঘমেয়াদি গ্রাহক।
কিন্তু বেইজিং এই দ্বিপাক্ষিক আলোচনায় অত্যন্ত চতুরতার সঙ্গে পা ফেলছে। রাশিয়ার দুর্বল দরকষাকষির সুযোগ নিয়ে তারা নিজেদের অনুকূলে মূল্য নির্ধারণ এবং সরবরাহের শর্ত আদায়ের চেষ্টা করছে। এই দ্বিধা কেবল বাণিজ্যিক হিসাব-নিকাশ নয়, বরং গভীর কৌশলগত বিবেচনার অংশ। বেইজিংয় খুব ভালো করেই জানে যে, যেকোনো একক সরবরাহকারীর ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা জাতীয় নিরাপত্তার জন্য দুর্বলতা ডেকে আনে।
চীনা নীতিনির্ধারকরা ভূরাজনৈতিক নির্ভরতা এড়াতে বছরের পর বছর ধরে মধ্যপ্রাচ্য, মধ্য এশিয়া, আফ্রিকা এবং বৈশ্বিক এলএনজি বাজার থেকে জ্বালানি সংগ্রহের উৎস বহুমুখী করেছেন। রাশিয়ার জ্বালানির সঙ্গে অতিরিক্ত জড়িয়ে পড়লে তা চীনের কৌশলগত সিদ্ধান্ত নেওয়ার স্বাধীনতা কমিয়ে দেবে।
তাছাড়া, রাশিয়া ও চীনের সব ভূরাজনৈতিক অগ্রাধিকার এক নয়। উভয় দেশ মার্কিন আধিপত্যের বিরোধিতা করলেও, মস্কোর তুলনায় বেইজিং বৈশ্বিক অর্থনীতির সঙ্গে অনেক বেশি জড়িত। ফলে দীর্ঘমেয়াদি বৈশ্বিক অস্থিরতায় চীনের লোকসানের পাল্লাই ভারী হবে। চীন তার বাণিজ্যিক অংশীদার ও প্রতিদ্বন্দ্বীদের সঙ্গে নিয়ন্ত্রিত পারস্পরিক নির্ভরতার মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করতে চায়; যেখানে রাশিয়া প্রায়শই বিশ্বের বিভিন্ন যুদ্ধক্ষেত্রে অস্থিরতা তৈরি করে ফায়দা লুটতে চায়।
এই পার্থক্যটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বেইজিং রাজনৈতিকভাবে মস্কোকে একটি নির্দিষ্ট সীমা পর্যন্ত সমর্থন করে, তবে পশ্চিমাদের সঙ্গে রাশিয়ার সরাসরি সংঘাতের পথে নিজে পা বাড়ায় না। চীনা নেতারা এখনো ইউরোপের সাথে অর্থনৈতিক সম্পর্ক টিকিয়ে রেখেছেন, বৈশ্বিক বাজারে নিজেদের প্রবেশাধিকার ধরে রেখেছেন এবং নিজেদের ঝিমিয়ে পড়া অভ্যন্তরীণ প্রবৃদ্ধিকে হুমকিতে ফেলে এমন কোনো পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার মুখোমুখি হওয়া এড়াতে সচেষ্ট আছেন।
তাই গবেষক ইউ জির মতে, শি-পুতিনের সর্বশেষ বৈঠকটি আদর্শিক ঐক্যের চেয়ে অত্যন্ত হিসাব-নিকাশ করা কৌশলগত উপযোগিতার এক বড় উদাহরণ। দৃশ্যত ঐক্যবদ্ধ থাকার এই নাটকে উভয় পক্ষই লাভবান হচ্ছে। পশ্চিমা বিশ্ব বিচ্ছিন্ন করার চেষ্টা করলেও রাশিয়া দেখাতে পারছে তাদের সঙ্গে একটি শক্তিশালী অংশীদার রয়েছে। আর চীন যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে একটি নির্ভরযোগ্য ভূরাজনৈতিক ভারসাম্য এবং বৈশ্বিক শাসনব্যবস্থার বিকল্প পথ তৈরিতে এক গুরুত্বপূর্ণ সঙ্গী পাচ্ছে।
তবুও, কোনো পক্ষই অন্য পক্ষের জন্য নিজের জাতীয় স্বার্থকে বিসর্জন দিতে প্রস্তুত নয়। আর এই বাস্তবতার কারণেই চীন-রাশিয়ার একটি আনুষ্ঠানিক সামরিক জোটে রূপ নেওয়ার ভবিষ্যৎ বাণীগুলো বারবার ভুল প্রমাণিত হচ্ছে। গবেষক ইউ জি স্পষ্ট করেছেন, তাদের এই সম্পর্কটি টিকে থাকার কারণ এটি অত্যন্ত বাস্তবসম্মত, লেনদেনভিত্তিক এবং পারস্পরিক স্বার্থের ওপর প্রতিষ্ঠিত— কোনো চুক্তি বা গভীর পারস্পরিক বিশ্বাসের ওপর নয়। এটি বাইরের চাপ সহ্য করার মতো যথেষ্ট শক্তিশালী, আবার একটি সত্যিকারের সামরিক ব্লকে পরিণত না হওয়ার মতো যথেষ্ট নিয়ন্ত্রিত।
বহুমুখী বিশ্ব নিয়ে তাদের সাম্প্রতিক যৌথ ঘোষণাই এই ভারসাম্যের কথা মনে করিয়ে দেয়। মার্কিন নেতৃত্বাধীন আধিপত্যকে দুর্বল করতে এবং বৈশ্বিক শাসনব্যবস্থাকে নতুন রূপ দিতে চীন ও রাশিয়া ঐক্যবদ্ধ। ভূগোল, যৌথ ক্ষোভ এবং মিলে যাওয়া স্বার্থের কারণে তারা কূটনৈতিক ও কৌশলগতভাবে এই লক্ষ্য তাড়া করে যাবে।
তবে সর্বশেষ বৈঠক তাদের অংশীদারিত্বের অন্তর্নিহিত সীমাবদ্ধতাকেও নতুন করে সামনে এনেছে। রাশিয়ার ওপর জ্বালানিগত নির্ভরতা নিয়ে বেইজিংয়ের দ্বিধা, নিজস্ব কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন অক্ষুণ্ন রাখার প্রয়াস এবং তাদের সুদূরপ্রসারী বৈশ্বিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা এটাই প্রমাণ করে যে— মস্কোর সঙ্গে ঠিক কতখানি এবং কোন প্রক্রিয়ায় অংশীদারিত্ব বজায় রাখা হবে, তা বেইজিং সবসময় নিজের ভূরাজনৈতিক নিক্তিতে মেপেই চূড়ান্ত করবে।
গবেষক ইউ জি তার পর্যালোচনার শেষ অংশে বলেন, চীনের সঙ্গে রাশিয়ার সম্পর্ক যে বর্তমান বিশ্বের অন্যতম প্রভাবশালী কৌশলগত অংশীদারিত্বের, তাতে সন্দেহ নেই। তবে এর স্থায়িত্ব কোনো ‘লাগামছাড়া বন্ধুত্বে’র মধ্যে নয়, বরং অত্যন্ত হিসাব-নিকাশ করে বজায় রাখা ‘স্পষ্ট সীমাবদ্ধতা’র ওপরই টিকে আছে।
রাজনীতি/আইআর

গত ছয় মাসে চীনের রাজধানী বেইজিং জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য দেশগুলোর জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে। সেখানে সর্বশেষ আগমন ঘটে এক অতি পরিচিত মুখের— রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। ২০১২ সালের পর থেকে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে ৪০ বারেরও বেশি সাক্ষাৎ করেছেন পুতিন। যুক্তরাজ্যভিত্তিক আন্তর্জাতিক সম্পর্কবিষয়ক গবেষণা প্রতিষ্ঠান চ্যাথাম হাউজের এক সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে এই দুই পরাশক্তির সম্পর্কের গভীরতা ও সীমাবদ্ধতার নানা দিক উঠে এসেছে। প্রতিবেদনটি লিখেছেন প্রতিষ্ঠানটির এশিয়া-প্যাসিফিক প্রোগ্রামের চীনবিষয়ক গবেষক ড. ইউ জি।
গবেষক ইউ জির মতে, গত সপ্তাহে অনুষ্ঠিত শি-ট্রাম্প শীর্ষ বৈঠকের মতো, আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো এবারও দুই নেতার ব্যক্তিগত রসায়ন এবং বৈঠককে ঘিরে চলা চমৎকার কূটনৈতিক আবহের খুঁটিনাটি বিশ্লেষণে ব্যস্ত ছিল। তবে বাস্তব সত্য হলো, ভূরাজনীতি কখনো কেবল ব্যক্তিগত উষ্ণতা বা রাজনৈতিক ভ্রাতৃত্বের ওপর ভর করে চলে না। এটি মূলত নির্ধারিত হয় কৌশলগত স্বার্থ, ক্ষমতার সমীকরণ এবং জাতীয় অগ্রাধিকারের ওপর ভিত্তি করে।
শি ও পুতিনের এই সাম্প্রতিক বৈঠকের মূল উদ্দেশ্য ছিল বিশ্বকে একটি স্পষ্ট বার্তা দেওয়া— আন্তর্জাতিক শৃঙ্খলা পুনর্গঠনের প্রচেষ্টায় বেইজিং এবং মস্কো এখনো কৌশলগতভাবে এক সারিতে রয়েছে। বিশ্বব্যাপী ক্রমবর্ধমান বিভাজনের এই সময়ে বেইজিং-মস্কো অংশীদারিত্বের স্থায়িত্বের প্রমাণ দিতেই দুই নেতা একটি যৌথ ঘোষণাপত্র প্রকাশ করেন, যেখানে একটি ‘বহুমুখী বিশ্ব’ (মাল্টিপোলার ওয়ার্ল্ড) এবং ‘নতুন ধরনের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক’ গড়ে তোলার ওপর জোর দেওয়া হয়।
তবে এই বাহ্যিক ঐক্যের আড়ালে রয়েছে এক জটিল বাস্তবতা। ভৌগোলিক অবস্থান, পশ্চিমা আধিপত্যের যৌথ বিরোধিতা এবং আংশিক মিলে যাওয়া কৌশলগত এজেন্ডার কারণে চীন ও রাশিয়া একে অপরের সঙ্গে আবদ্ধ ঠিকই, কিন্তু তাদের এই অংশীদারিত্ব সীমাহীন নয়। বিশেষ করে রাশিয়ার জ্বালানির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা নিয়ে বেইজিংয়ের মনে রয়েছে গভীর উদ্বেগ। এ ছাড়া চীনের নিজস্ব বৈশ্বিক উচ্চাকাঙ্ক্ষাই এই সম্পর্কের পরিধি নির্ধারণ করে দিচ্ছে।
তাই গবেষক ইউ জি মনে করেন, শি-পুতিন শীর্ষ বৈঠকটি একই সঙ্গে দুটি সত্যকে সামনে এনেছে— বিশ্বমঞ্চে চীন ও রাশিয়া একটি অবিচল কৌশলগত জুটি হিসেবে কাজ করে যাচ্ছে; তবে তাদের এই সম্পর্কটি কোনো আনুষ্ঠানিক সামরিক জোট নয়, বরং একটি বাস্তবসম্মত ও কৌশলগত বোঝাপড়া মাত্র।
যে বন্ধনে আবদ্ধ দুই দেশ
প্রতিবেদনে ড. ইউ জি দেখিয়েছেন, চীন ও রাশিয়ার ঐক্য ধরে রাখার সবচেয়ে বড় এবং স্থায়ী উপাদানটি হলো ভূগোল। দুই দেশের মধ্য রয়েছে ৪ হাজার ৩০০ কিলোমিটার দীর্ঘ এক স্থল সীমান্ত— যা প্রায় পুরো ইউরোপ মহাদেশের প্রস্থের সমান। তারা একই ইউরেশীয় কৌশলগত অঞ্চলে বসবাস করে, যার ফলে কোনো পক্ষই দীর্ঘমেয়াদি শত্রুতা বজায় রাখতে পারে না।
বেইজিংয়ের জন্য মস্কোর সাথে স্থিতিশীল সম্পর্ক বজায় রাখার অর্থ হলো— নিজেদের উত্তর সীমান্ত সুরক্ষিত রাখা এবং দক্ষিণ দিক থেকে কোনো বৈরী শক্তি যাতে তাদের কোনঠাসা করতে না পারে, সেই ঝুঁকি কমিয়ে আনা। মূলত এই সফরের অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল পুতিন এবং শি জিনপিংয়ের পূর্বসূরি প্রেসিডেন্ট জিয়াং জেমিনের মধ্যে ২০০১ সালে স্বাক্ষরিত ‘সদভাব ও বন্ধুত্বপূর্ণ সহযোগিতা চুক্তি’র ২৫তম বার্ষিকী উদযাপন।
অন্যদিকে রাশিয়ার প্রেক্ষাপটটি ভিন্ন; ইউক্রেন যুদ্ধের জেরে পশ্চিমা বিশ্বের সঙ্গে সম্পর্ক কার্যত সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছে মস্কোর। এমন কঠিন সময়ে চীনের সঙ্গে এই কৌশলগত অংশীদারিত্বই এখন রুশ অর্থনীতিকে সচল রাখা এবং বিশ্ব রাজনীতিতে নিজেদের পরাশক্তি হিসেবে টিকিয়ে রাখার প্রধান হাতিয়ার।
আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা যত বেশি মেরুকরণের দিকে যাচ্ছে, এই ভৌগোলিক সমীকরণ তত বেশি জোরালো হচ্ছে। বেইজিং ও মস্কো উভয়ই পশ্চিমাদের ‘একপেশে আধিপত্যবাদে’র বিরুদ্ধে একযোগে কাজ করার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করে। বহুমুখী বিশ্ব নিয়ে তাদের নতুন ইশতেহার এই যৌথ দৃষ্টিভঙ্গিরই প্রতিফলন। একটি ‘আরও ন্যায়সংগত ও সমতাভিত্তিক’ আন্তর্জাতিক শৃঙ্খলার কথা তারা কেবল মুখে বলছে না; এটি আসলে মার্কিন নেতৃত্বাধীন প্রতিষ্ঠানগুলোর আধিপত্যকে দুর্বল করার এবং বিকল্প পরাশক্তি তৈরি করার একটি দীর্ঘমেয়াদি প্রচেষ্টা।
তবে এই বহুমুখী বিশ্ব ব্যবস্থা দুই দেশের কাছে ভিন্ন ভিন্ন উদ্দেশ্যে গুরুত্বপূর্ণ। রাশিয়ার কাছে এটি আন্তর্জাতিক বিচ্ছিন্নতা থেকে বেরিয়ে আসার এবং পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও নিজেদের পরাশক্তি হিসেবে টিকিয়ে রাখার একটি পথ। আর চীনের কাছে এটি এমন এক বিশ্বব্যবস্থার রূপান্তর, যেখানে মার্কিন কৌশলগত শ্রেষ্ঠত্ব হ্রাস পাবে এবং বেইজিংয়ের ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক প্রভাব খাটানোর সুযোগ তৈরি হবে।
এই অভিন্ন স্বার্থ থেকেই জন্ম নিয়েছে এক টেকসই কৌশলগত অংশীদারিত্ব। ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর থেকে চীন রাশিয়াকে গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক লাইফলাইন দিয়ে আসছে। তারা দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বাড়িয়েছে, রুশ তেল-গ্যাসের আমদানি বাড়িয়েছে এবং প্রযুক্তিগত ও শিল্প বিনিময় বজায় রেখেছে— যার কারণে ইউরোপের সঙ্গে বেইজিংয়ের সম্পর্ক বেশ ঝুঁকিতেও পড়েছে।
বিনিময়ে রাশিয়াও চীনকে দিচ্ছে সাশ্রয়ী মূল্যের জ্বালানি ও সামরিক সহযোগিতা। শুধু তাই নয়, তাইওয়ান সংকট থেকে শুরু করে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে ন্যাটোর প্রভাব বিস্তারের চেষ্টার বিরুদ্ধে বেইজিংয়ের পক্ষে বরাবরই পূর্ণ কূটনৈতিক সমর্থন দিয়ে আসছে মস্কো।
কৌশলগত মেলবন্ধন, তবে বিশ্বাসের অভাব
গবেষক ইউ জি সতর্ক করে বলেছেন, কৌশলগত এই মেলবন্ধন দুই দেশের মধ্যকার অসমতা বা পারস্পরিক অবিশ্বাসকে মুছে দিতে পারেনি। আর এই সম্পর্ক কোনো অবস্থাতেই বেইজিংয়ের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়ার মূল লক্ষ্যকে ছাপিয়ে যেতে পারবে না।
চীন এখনো রাশিয়ার জ্বালানির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল হতে দ্বিধাবোধ করে। জ্বালানি সহযোগিতা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের একটি বড় স্তম্ভ হওয়া সত্ত্বেও, চীন নিজেকে এমন অবস্থানে নিয়ে যেতে চায় না যেখানে রুশ সরবরাহ তাদের জন্য অপরিহার্য হয়ে ওঠে।
আর এ কারণেই ‘পাওয়ার অব সাইবেরিয়া ২’ গ্যাস পাইপলাইনের মতো আলোচিত প্রকল্পগুলো বারবার মৌখিক অনুমোদন পাওয়া সত্ত্বেও বাস্তবে খুব ধীরগতিতে এগোচ্ছে। তবে মস্কোর জন্য এই প্রকল্পটি অর্থনৈতিকভাবে অত্যন্ত জরুরি; কারণ ইউরোপ রুশ জ্বালানি আমদানি কমিয়ে দেওয়ায় চীনই এখন ক্রেমলিনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দীর্ঘমেয়াদি গ্রাহক।
কিন্তু বেইজিং এই দ্বিপাক্ষিক আলোচনায় অত্যন্ত চতুরতার সঙ্গে পা ফেলছে। রাশিয়ার দুর্বল দরকষাকষির সুযোগ নিয়ে তারা নিজেদের অনুকূলে মূল্য নির্ধারণ এবং সরবরাহের শর্ত আদায়ের চেষ্টা করছে। এই দ্বিধা কেবল বাণিজ্যিক হিসাব-নিকাশ নয়, বরং গভীর কৌশলগত বিবেচনার অংশ। বেইজিংয় খুব ভালো করেই জানে যে, যেকোনো একক সরবরাহকারীর ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা জাতীয় নিরাপত্তার জন্য দুর্বলতা ডেকে আনে।
চীনা নীতিনির্ধারকরা ভূরাজনৈতিক নির্ভরতা এড়াতে বছরের পর বছর ধরে মধ্যপ্রাচ্য, মধ্য এশিয়া, আফ্রিকা এবং বৈশ্বিক এলএনজি বাজার থেকে জ্বালানি সংগ্রহের উৎস বহুমুখী করেছেন। রাশিয়ার জ্বালানির সঙ্গে অতিরিক্ত জড়িয়ে পড়লে তা চীনের কৌশলগত সিদ্ধান্ত নেওয়ার স্বাধীনতা কমিয়ে দেবে।
তাছাড়া, রাশিয়া ও চীনের সব ভূরাজনৈতিক অগ্রাধিকার এক নয়। উভয় দেশ মার্কিন আধিপত্যের বিরোধিতা করলেও, মস্কোর তুলনায় বেইজিং বৈশ্বিক অর্থনীতির সঙ্গে অনেক বেশি জড়িত। ফলে দীর্ঘমেয়াদি বৈশ্বিক অস্থিরতায় চীনের লোকসানের পাল্লাই ভারী হবে। চীন তার বাণিজ্যিক অংশীদার ও প্রতিদ্বন্দ্বীদের সঙ্গে নিয়ন্ত্রিত পারস্পরিক নির্ভরতার মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করতে চায়; যেখানে রাশিয়া প্রায়শই বিশ্বের বিভিন্ন যুদ্ধক্ষেত্রে অস্থিরতা তৈরি করে ফায়দা লুটতে চায়।
এই পার্থক্যটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বেইজিং রাজনৈতিকভাবে মস্কোকে একটি নির্দিষ্ট সীমা পর্যন্ত সমর্থন করে, তবে পশ্চিমাদের সঙ্গে রাশিয়ার সরাসরি সংঘাতের পথে নিজে পা বাড়ায় না। চীনা নেতারা এখনো ইউরোপের সাথে অর্থনৈতিক সম্পর্ক টিকিয়ে রেখেছেন, বৈশ্বিক বাজারে নিজেদের প্রবেশাধিকার ধরে রেখেছেন এবং নিজেদের ঝিমিয়ে পড়া অভ্যন্তরীণ প্রবৃদ্ধিকে হুমকিতে ফেলে এমন কোনো পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার মুখোমুখি হওয়া এড়াতে সচেষ্ট আছেন।
তাই গবেষক ইউ জির মতে, শি-পুতিনের সর্বশেষ বৈঠকটি আদর্শিক ঐক্যের চেয়ে অত্যন্ত হিসাব-নিকাশ করা কৌশলগত উপযোগিতার এক বড় উদাহরণ। দৃশ্যত ঐক্যবদ্ধ থাকার এই নাটকে উভয় পক্ষই লাভবান হচ্ছে। পশ্চিমা বিশ্ব বিচ্ছিন্ন করার চেষ্টা করলেও রাশিয়া দেখাতে পারছে তাদের সঙ্গে একটি শক্তিশালী অংশীদার রয়েছে। আর চীন যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে একটি নির্ভরযোগ্য ভূরাজনৈতিক ভারসাম্য এবং বৈশ্বিক শাসনব্যবস্থার বিকল্প পথ তৈরিতে এক গুরুত্বপূর্ণ সঙ্গী পাচ্ছে।
তবুও, কোনো পক্ষই অন্য পক্ষের জন্য নিজের জাতীয় স্বার্থকে বিসর্জন দিতে প্রস্তুত নয়। আর এই বাস্তবতার কারণেই চীন-রাশিয়ার একটি আনুষ্ঠানিক সামরিক জোটে রূপ নেওয়ার ভবিষ্যৎ বাণীগুলো বারবার ভুল প্রমাণিত হচ্ছে। গবেষক ইউ জি স্পষ্ট করেছেন, তাদের এই সম্পর্কটি টিকে থাকার কারণ এটি অত্যন্ত বাস্তবসম্মত, লেনদেনভিত্তিক এবং পারস্পরিক স্বার্থের ওপর প্রতিষ্ঠিত— কোনো চুক্তি বা গভীর পারস্পরিক বিশ্বাসের ওপর নয়। এটি বাইরের চাপ সহ্য করার মতো যথেষ্ট শক্তিশালী, আবার একটি সত্যিকারের সামরিক ব্লকে পরিণত না হওয়ার মতো যথেষ্ট নিয়ন্ত্রিত।
বহুমুখী বিশ্ব নিয়ে তাদের সাম্প্রতিক যৌথ ঘোষণাই এই ভারসাম্যের কথা মনে করিয়ে দেয়। মার্কিন নেতৃত্বাধীন আধিপত্যকে দুর্বল করতে এবং বৈশ্বিক শাসনব্যবস্থাকে নতুন রূপ দিতে চীন ও রাশিয়া ঐক্যবদ্ধ। ভূগোল, যৌথ ক্ষোভ এবং মিলে যাওয়া স্বার্থের কারণে তারা কূটনৈতিক ও কৌশলগতভাবে এই লক্ষ্য তাড়া করে যাবে।
তবে সর্বশেষ বৈঠক তাদের অংশীদারিত্বের অন্তর্নিহিত সীমাবদ্ধতাকেও নতুন করে সামনে এনেছে। রাশিয়ার ওপর জ্বালানিগত নির্ভরতা নিয়ে বেইজিংয়ের দ্বিধা, নিজস্ব কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন অক্ষুণ্ন রাখার প্রয়াস এবং তাদের সুদূরপ্রসারী বৈশ্বিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা এটাই প্রমাণ করে যে— মস্কোর সঙ্গে ঠিক কতখানি এবং কোন প্রক্রিয়ায় অংশীদারিত্ব বজায় রাখা হবে, তা বেইজিং সবসময় নিজের ভূরাজনৈতিক নিক্তিতে মেপেই চূড়ান্ত করবে।
গবেষক ইউ জি তার পর্যালোচনার শেষ অংশে বলেন, চীনের সঙ্গে রাশিয়ার সম্পর্ক যে বর্তমান বিশ্বের অন্যতম প্রভাবশালী কৌশলগত অংশীদারিত্বের, তাতে সন্দেহ নেই। তবে এর স্থায়িত্ব কোনো ‘লাগামছাড়া বন্ধুত্বে’র মধ্যে নয়, বরং অত্যন্ত হিসাব-নিকাশ করে বজায় রাখা ‘স্পষ্ট সীমাবদ্ধতা’র ওপরই টিকে আছে।
রাজনীতি/আইআর

কিউবাকে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একটি ‘জাতীয় নিরাপত্তা ঝুঁকি’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। দেশটির সঙ্গে শান্তিপূর্ণ চুক্তির সম্ভাবনা ‘খুব বেশি নেই’ বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি। কিউবার সাবেক প্রেসিডেন্ট রাউল কাস্ত্রোর বিরুদ্ধে হত্যা মামলার অভিযোগ গঠনের একদিন পরই তিনি এই মন্তব
১২ ঘণ্টা আগে
ভারতের মধ্যপ্রদেশ রাজ্যের ধার শহরের বাসিন্দা ৭৮ বছর বয়সী মোহাম্মদ রফিকের কাছে ‘কামাল মওলা মসজিদ’ ছিল তার দ্বিতীয় বাড়ির মতো। গত ৫০ বছর ধরে তিনি এই মসজিদে মুয়াজ্জিন হিসেবে আজান দিয়ে আসছিলেন। তার আগে, ১৯৪৭ সালে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসন থেকে ভারতের স্বাধীনতার পূর্ববর্তী সময় থেকে এখানে নামাজ পড়াতেন তার দাদ
১২ ঘণ্টা আগে
ভারতের পাঞ্জাবে একটি সন্দেহভাজন গুপ্তচর চক্রের নেটওয়ার্কের সন্ধান পেয়েছে দেশটির পুলিশ। ভারতীয় সেনাবাহিনী ও আধাসামরিক বাহিনীর চলাচলের সংবেদনশীল তথ্য পাকিস্তানের হ্যান্ডলারদের (যোগাযোগকারী) কাছে পাচারের অভিযোগে বলজিৎ সিং ওরফে বিট্টু নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
১৩ ঘণ্টা আগে
পোল্যান্ডে সেনা না পাঠানোর সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসে দেশটিতে আরও ৫ হাজার অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন করতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেই এই নতুন সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন। এর মাত্র এক সপ্তাহ আগেই পেন্টাগন পোল্যান্ডে ৪ হাজার সেনা মোতায়েনের একটি পূর্বপরিকল্পনা বাতিল করেছিল। ব্রি
১৪ ঘণ্টা আগে