চীনের ‘আগ্রাসন’ মোকাবিলায় সামরিক সক্ষমতা বাড়াচ্ছে তাইওয়ান

ডেস্ক, রাজনীতি ডটকম
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সরবরাহ করা ‘হারপুন’ মিসাইল তাইওয়ানের জাহাজবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করবে। ছবি: রয়টার্স

চীনের সম্ভাব্য নৌ অবরোধ বা আগ্রাসনের ঝুঁকি মোকাবিলায় নিজেদের সামরিক সক্ষমতা নাটকীয়ভাবে বাড়িয়ে তুলছে তাইওয়ান। ২০২৯ সালের শুরুর দিক নাগাদ দেশটি তাদের শক্তিশালী জাহাজবিধ্বংসী (অ্যান্টি-শিপ) মিসাইলের মজুত বাড়িয়ে এক হাজার ৮০০’র বেশিতে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক বিশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আকাশপথ, যুদ্ধজাহাজ ও স্থলভিত্তিক মোবাইল লাঞ্চার থেকে উৎক্ষেপণযোগ্য এই বিশাল ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডার মূলত তাইওয়ানের তথাকথিত ‘অপ্রতিসম সমরকৌশলে’র (অ্যাসিম্যাট্রিক স্ট্র্যাটেজি) অংশ। এই কৌশলের মূল লক্ষ্য— সংখ্যার দিক থেকে চীনের বিশাল ও শক্তিশালী সামরিক বাহিনীর বিপরীতে তাইওয়ান বিপুল পরিমাণ সাশ্রয়ী কিন্তু অত্যন্ত মারাত্মক অস্ত্র মোতায়েন করবে, যা বেইজিংয়ের আধিপত্যকে রুখে দিতে পারে।

তাইওয়ানের বর্তমান ও সাবেক সামরিক কর্মকর্তাদের মতে, এই যুদ্ধকৌশলের মধ্যে স্বল্পপাল্লার মিসাইল এবং আকাশ ও সমুদ্রপৃষ্ঠে চলাচলকারী ঝাঁকে ঝাঁকে ড্রোনও (সারফেস অ্যান্ড এরিয়াল ড্রোন) অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

সামরিক কর্মকর্তাদের একাংশ বলছেন, তাইওয়ানের প্রধান লক্ষ্য এমন একটি স্থিতিস্থাপক ও প্রতিরোধী বাহিনী গড়ে তোলা, যা হামলার শুরুতেই চীনের তীব্র বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা সহ্য করে টিকে থাকতে পারবে এবং পরে পালটা আঘাত হেনে শত্রুসেনার মূল বহর কিংবা দ্বীপটি অবরুদ্ধ করে রাখা জাহাজগুলোকে গুঁড়িয়ে দিতে সক্ষম হবে। এ ক্ষেত্রে তারা শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে যুদ্ধক্ষেত্রে ভারসাম্য বজায় রাখতে ইউক্রেন এবং ইরানের মিসাইল ও ড্রোন ব্যবহারের সফলতার উদাহরণ টানছেন।

তাইওয়ানের এই ক্রমবর্ধমান ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডার নিয়ে রয়টার্সের তৈরি করা হিসাবটি মূলত অস্ত্র বাণিজ্য সংক্রান্ত তথ্য, মার্কিন রপ্তানি অনুমোদনের নথিপত্র, প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের প্রাক্কলন এবং তাইওয়ান সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাক্ষাৎকারের ওপর ভিত্তি করে প্রস্তুত করা হয়েছে।

পাশাপাশি তাইওয়ান প্রণালিতে থাকা চীনা যুদ্ধজাহাজ কিংবা চীনের নিজস্ব উপকূলে থাকা সেনা সমাবেশ ও বন্দরগুলোতে নিখুঁতভাবে আঘাত হানতে সক্ষম দূরপাল্লার আরও কিছু প্রিসিশন মিসাইল সংগ্রহের প্রক্রিয়াও চলমান রয়েছে। গত মাসেই তাইওয়ানের বিরোধী দল নিয়ন্ত্রিত পার্লামেন্ট মার্কিন গোলাবারুদ ও যুদ্ধাস্ত্র কেনার জন্য অতিরিক্ত ২৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের প্রতিরক্ষা বাজেট অনুমোদন করেছে।

তাইওয়ানের এই জাহাজবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার মূল চালিকাশক্তি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সরবরাহ করা ‘হারপুন’ মিসাইল এবং তাইওয়ানের নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি ‘হসিউং ফেং’ মিসাইল। তাইওয়ানের শীর্ষ সামরিক থিংক ট্যাংক ইনস্টিটিউট ফর ন্যাশনাল ডিফেন্স অ্যান্ড সিকিউরিটি রিসার্চের ডেপুটি চিফ এক্সিকিউটিভ অফিসার ওউ সি-ফু বলেন, এই বিপুল পরিমাণ অস্ত্রের মজুদের মাধ্যমে তাইওয়ান প্রণালিতে একটি ‘কিল জোন’ বা মৃত্যুফাঁদ তৈরি করা সম্ভব হবে, যেখানে তীব্র ও ঘনীভূত আক্রমণের মুখে পড়ে চীনা আগ্রাসী বাহিনীকে ক্ষয়ক্ষতির সম্মুখীন হতে হবে।

ওউ সি-ফু রয়টার্সকে বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মির (পিএলএ) প্রতিটি জাহাজ ধ্বংস করা নয়, বরং তাদের উপকূলে নামা এবং তাদের মূল অভিযান সফল করতে বাধা দেওয়া।’

জাপান ফোরাম ফর স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের গবেষক ও মার্কিন মেরিন কোরের অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল গ্র্যান্ট নিউশাম এ পদক্ষেপকে অত্যন্ত বাস্তবসম্মত ও বুদ্ধিদীপ্ত বলে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘আপনি যদি চীনের জায়গায় থাকতেন, তবে এমন দূরপাল্লার নিখুঁত অস্ত্রের মুখোমুখি কখনোই হতে চাইতেন না, যা তাইওয়ান প্রণালি পাড়ি দেওয়ার আগেই বা চীনের মূল ভূখণ্ড থেকে রওয়ানা দেওয়ার যেকোনো মুহূর্তে আপনার যুদ্ধজাহাজকে মাঝখান থেকে দুই টুকরো করে দিতে পারে। সঠিক উপায়ে ও পর্যাপ্ত সংখ্যায় ব্যবহার করা গেলে মিসাইলগুলো চীনা আক্রমণকারী বাহিনীর জন্য বিপর্যয় হয়ে দাঁড়াবে।’

তাইওয়ানের কাওশিউংয়ে নৌ মহড়ায় কুয়াং জুয়া সিক্স ক্লাস মিসাইলবাহী নৌ যানের বহর। ছবি: রয়টার্স
তাইওয়ানের কাওশিউংয়ে নৌ মহড়ায় কুয়াং জুয়া সিক্স ক্লাস মিসাইলবাহী নৌ যানের বহর। ছবি: রয়টার্স

সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, তাইওয়ান প্রণালি পার হয়ে কোনো আগ্রাসন চালাতে হলে চীনকে যুদ্ধজাহাজ ও বেসামরিক পরিবহন জাহাজের এক বিশাল বহর নামাতে হবে। চীনের কাছে অবশ্য বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে বড় নৌ বাহিনী এবং একটি বিশাল বাণিজ্যিক জাহাজের বহর রয়েছে।

এ বিষয়ে তাইওয়ানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, অ্যান্টি-শিপ মিসাইলগুলো একটি শক্তিশালী সামুদ্রিক প্রতিরোধব্যবস্থা গড়ে তুলতে পারে এবং শত্রুর যুদ্ধ সক্ষমতাকে মারাত্মকভাবে কমিয়ে দিতে পারে। তবে কৌশলগত কারণে এগুলোর মোতায়েনের সুনির্দিষ্ট বিবরণ বা সামরিক নিরাপত্তার তথ্য প্রকাশ করা যাবে না।

এ বিষয়ে চীনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ও তাইওয়ানবিষয়ক দপ্তর কোনো মন্তব্য করেনি। তবে পেন্টাগনের একজন কর্মকর্তা রয়টার্সের প্রশ্নের জবাবে জানান, তাইওয়ানের সুনির্দিষ্ট সামরিক সক্ষমতা, অস্ত্র সরবরাহের সময়সীমা বা ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা সহায়তা প্যাকেজ নিয়ে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর কোনো মন্তব্য করবে না। জানতে চাইলে হোয়াইট হাউজের পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে সাড়া পাওয়া যায়নি।

নিজেদের প্রতিরক্ষাব্যবস্থা আরও জোরদার করার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে তাইওয়ান বর্তমানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের কাছে প্রায় ১৪ বিলিয়ন ডলারের একটি অস্ত্র বিক্রির প্যাকেজের অনুমোদন চাইছে। গত মাসে বেইজিংয়ে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠকের পর ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, তিনি শিগগিরই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন। সেই বৈঠকে শি জিনপিং ট্রাম্পকে সতর্ক করে বলেছিলেন, তাইওয়ান ইস্যু নিয়ে ভুল পদক্ষেপ নিলে তা দুই পরাশক্তির মধ্যে সরাসরি সংঘাতের রূপ নিতে পারে।

বেইজিং তাইওয়ানকে নিজেদের ভূখণ্ড বলে দাবি করে এবং দ্বীপটিকে নিয়ন্ত্রণে নিতে প্রয়োজনে শক্তি প্রয়োগের বিষয়টি কখনোই অস্বীকার করেনি। অন্যদিকে তাইওয়ান বেইজিংয়ের এই সার্বভৌমত্বের দাবি প্রত্যাখ্যান করে আসছে এবং তাদের বক্তব্য— শুধুমাত্র তাইওয়ানের জনগণই তাদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করতে পারে।

ইউক্রেন ও ইরান থেকে শিক্ষা

ওউ সি-ফু এবং অন্যান্য সামরিক বিশেষজ্ঞরা কৃষ্ণসাগরে ইউক্রেনের সফলতার দিকে ইঙ্গিত করেছেন, যেখানে তারা মিসাইল ও সারফেস ড্রোন ব্যবহার করে রাশিয়ার শক্তিশালী যুদ্ধজাহাজ ও পরিবহন বহরকে সফলভাবে আক্রমণ করেছে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, চীনের আক্রমণ বা অবরোধের বিরুদ্ধে তাইওয়ানের প্রতিরক্ষায় এই কৌশল দারুণ কার্যকর হতে পারে। একইভাবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের এক মাসেরও বেশি সময় ধরে চালানো তীব্র বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পরও হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত করার এবং আঞ্চলিক লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার যে ক্ষমতা ইরান বজায় রেখেছে, তা প্রমাণ করে কীভাবে তুলনামূলক দুর্বল শক্তিও পালটা লড়াইয়ের সামর্থ্য ধরে রাখতে পারে।

এই যুদ্ধকৌশলের সমর্থকদের যুক্তি, জাহাজবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্রগুলো, বিশেষ করে যেগুলো স্থলভিত্তিক ও সহজে স্থানান্তরযোগ্য (মোবাইল লাঞ্চার), সেগুলো তাইওয়ানের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে ও লুকিয়ে রাখা সম্ভব। এর ফলে আক্রমণের প্রথম ধাক্কাতেই পিএলএর পক্ষে এগুলো শনাক্ত বা ধ্বংস করা অত্যন্ত কঠিন হবে।

তাইওয়ানের নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি হসিউং ফেং থ্রি মোবাইল মিসাইল লঞ্চারের সামনে নৌ বাহিনীর সদস্যরা। যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে কেনা হারপুন মিসাইলের পাশাপাশি নিজস্ব প্রযুক্তির এই মিসাইল দিয়েই জাহাজবিধ্বংসী প্রতিরক্ষাব্যবস্থা সাজানোর পরিকল্পনা করছে দ্বীপরাষ্ট্রটি। ছবি: রয়টার্স
তাইওয়ানের নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি হসিউং ফেং থ্রি মোবাইল মিসাইল লঞ্চারের সামনে নৌ বাহিনীর সদস্যরা। যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে কেনা হারপুন মিসাইলের পাশাপাশি নিজস্ব প্রযুক্তির এই মিসাইল দিয়েই জাহাজবিধ্বংসী প্রতিরক্ষাব্যবস্থা সাজানোর পরিকল্পনা করছে দ্বীপরাষ্ট্রটি। ছবি: রয়টার্স

তবে এখানে একটি বড় চ্যালেঞ্জও রয়েছে। তাইওয়ানের ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলে দায়িত্ব পালন করা অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ইউস্টার ইউ বলেন, তাইওয়ানের অনেক অ্যান্টি-শিপ মিসাইল এখনো যুদ্ধজাহাজ ও নির্দিষ্ট কিছু স্থায়ী স্থল ঘাঁটিতে মোতায়েন রয়েছে, যা শত্রুদেশের আগাম হামলার (প্রি-অ্যাম্পটিভ স্ট্রাইক) মুখে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। আর চীন খুব ভালো করেই জানে যে এই ঘাঁটিগুলো কোথায় অবস্থিত।

জবাবে তাইওয়ানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, যুদ্ধকালীন কার্যকারিতা বজায় রাখার জন্য বর্তমান জাহাজবিধ্বংসী মিসাইলগুলো অত্যন্ত গতিশীল ও ছড়িয়ে-ছিটিয়ে মোতায়েন করা হয়েছে। স্থায়ী অবস্থানে থাকা মিসাইলগুলোতেও পর্যাপ্ত সুরক্ষামূলক ও ব্যাকআপ ব্যবস্থা রয়েছে এবং যুদ্ধক্ষেত্রের পরিস্থিতি অনুযায়ী প্রয়োজনে সেগুলোকে দ্রুত মোবাইল কনফিগারেশনে রূপান্তর করা সম্ভব।

তাইওয়ানের সামরিক বাহিনী আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের অস্ত্রের সঠিক পরিসংখ্যান প্রকাশ না করলেও সরকারের দুজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, ১৮ শতাধিক মিসাইলের এই হিসাবের মধ্যে বোয়িং কোম্পানির তৈরি ৪৫০টি ‘হারপুন’ মিসাইল অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, যা এরই মধ্যে তাইওয়ানে পৌঁছেছে।

২০২০ সালের শেষের দিকে প্রথম ট্রাম্প প্রশাসনের শেষ দিনগুলোতে অনুমোদিত ২৪০ কোটি মার্কিন ডলারের একটি অস্ত্র চুক্তির আওতায় এ বছর থেকে আরও ৪০০টি সমুদ্রপৃষ্ঠ ঘেঁষে চলা (সি-স্কিমিং) ক্রুজ মিসাইল সরবরাহ শুরু হবে। মার্কিন সরকারের অস্ত্র বিক্রি অনুমোদন সংক্রান্ত নথি অনুযায়ী, ২০২৯ সালের মার্চের শেষের মধ্যে এই ৪০০টি মিসাইলের সব কটিই তাইওয়ানের হাতে চলে যাওয়ার কথা রয়েছে।

তাইওয়ানের নৌ বাহিনী রয়টার্সকে দেওয়া এক বিবৃতিতে নিশ্চিত করেছে, ২০২১ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সই হওয়া চুক্তি অনুযায়ী সময়সূচি মেনেই মিসাইলগুলো সরবরাহ করা হচ্ছে। এ সরবরাহ পরিকল্পনা অনুযায়ী চললে ২০২৯ সালের শুরুর দিকে তাইওয়ানের কাছে মোট ৮৫০টি হারপুন মিসাইল থাকবে।

পাশাপাশি ওউ সি-ফু এবং সরকারের দুই শীর্ষ কর্মকর্তার দেওয়া তথ্য, ২০২৯ সালের মধ্যে তাইওয়ানের নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি ‘হসিউং ফেং-২’ ও ‘হসিউং ফেং-৩’ জাহাজবিধ্বংসী ক্রুজ মিসাইলের সংখ্যা দাঁড়াবে প্রায় এক হাজার বা তার বেশি। ফলে তাইওয়ানের মোট অ্যান্টি-শিপ মিসাইলের সংখ্যা দাঁড়াবে প্রায় এক হাজার ৮৫০টি।

অবশ্য ২০২৯ সালের এই প্রাক্কলনটি পুরোপুরি নির্ভর করছে মার্কিন সরবরাহব্যবস্থা ঠিকঠাক ও সময়মতো সম্পন্ন হওয়ার ওপর। এখানে যুদ্ধকালীন বাড়তি চাহিদা বা উৎপাদনের আকস্মিক ধীরগতির মতো বিষয়গুলোকে বিবেচনা করা হয়নি, যা সরবরাহ প্রক্রিয়াকে কিছুটা বিলম্বিত করতে পারে। তাইওয়ানের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, এই সরবরাহ প্রক্রিয়া ২০৩০ সাল পর্যন্তও গড়িয়ে যেতে পারে।

অন্য এক পৃথক অস্ত্র চুক্তির আওতায় ওয়াশিংটন আরও ১৯৫টি আকাশ থেকে উৎক্ষেপণযোগ্য হারপুন মিসাইল বা এর সমগোত্রীয় উন্নত সংস্করণ বিক্রির অনুমোদন দিয়েছে, যার সম্মিলিত মূল্য ১৩৬ কোটি ডলার। তবে তাইওয়ানের এক শীর্ষ কর্মকর্তার মতে, দুই দেশের মধ্যে এই চুক্তির শর্তাবলি নিয়ে এখনো আলোচনা চলছে এবং সরবরাহের চূড়ান্ত কোনো তারিখ নির্ধারিত হয়নি।

গত মার্চ মাসে মার্কিন কংগ্রেসের এক শুনানিতে অংশ নিয়ে ডিফেন্স সিকিউরিটি কো-অপারেশন এজেন্সির পরিচালক ও পেন্টাগন কর্মকর্তা মাইকেল এফ মিলার নিশ্চিত করেছেন, হারপুন মিসাইল সরবরাহের ক্ষেত্রে তাইওয়ানকে আমেরিকার পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।

এই বাড়তি সামরিক শক্তিকে সুসংগঠিত করতে এবং যেকোনো হামলা রুখতে তাইওয়ান সামরিক বাহিনী আগামী ১ জুলাই একটি নতুন ‘লিটোরাল কমব্যাট কমান্ড’ গঠন করতে যাচ্ছে। এই নতুন কমান্ডের অধীনে উপকূলীয় রাডার ব্যবস্থা, অ্যান্টি-শিপ মিসাইল ও ড্রোন বাহিনীকে একক নেতৃত্বের আওতায় আনা হবে।

তাইওয়ানের প্রতিরক্ষা পরিকল্পনাকারীদের মূল উদ্দেশ্য— কোনো আগ্রাসন ঘটলে এই জাহাজবিধ্বংসী মিসাইলগুলোর সাহায্যে চীনা বাহিনীকে এতটাই দীর্ঘ সময় ঠেকিয়ে রাখা, যেন মিত্রশক্তি বা আন্তর্জাতিক সহযোগীরা এই দ্বীপরাষ্ট্রের সহায়তায় এগিয়ে আসার পর্যাপ্ত সময় পায়।

থিংক ট্যাংকের কর্মকর্তা ওউ সি-ফু বিষিয়টি স্পষ্ট করে বলেন, ‘আমাদের সবসময়ই একটি দীর্ঘমেয়াদি ও ক্ষয়িষ্ণু যুদ্ধের (ওয়ার অব অ্যাট্রিশন) জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।’

রাজনীতি/আইআর/টিআর

ad
ad

বিশ্ব রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন

ট্রাম্পের ক্ষমতা সীমিত করতে মার্কিন কংগ্রেসে ভোট, যুদ্ধ থামানোর প্রস্তাব পাস

প্রস্তাবটিতে কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া চলমান ইরান যুদ্ধ বন্ধের আহ্বান জানানো হয়। যদিও এই প্রস্তাব আইনে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা কম। কারণ এটি কার্যকর হতে হলে সিনেটেও পাস হয়ে আসতে হবে। ট্রাম্পের সম্ভাব্য ভেটো অতিক্রম করতে উভয় কক্ষেই দুই-তৃতীয়াংশ সমর্থন প্রয়োজন হবে।

১৪ ঘণ্টা আগে

শর্তসাপেক্ষ যুদ্ধবিরতিতে একমত ইসরায়েল-লেবানন

তবে চলমান সংঘাতের মধ্যেই এই আলোচনাকে টেকসই শান্তির দিকে একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। যৌথ বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, একটি পূর্ণাঙ্গ ও স্থায়ী চুক্তিতে পৌঁছানোর লক্ষ্যে আগামী ২২ জুনের পর দুই পক্ষ আবারও পরবর্তী দফার আনুষ্ঠানিক আলোচনায় বসবে।

১৪ ঘণ্টা আগে

তৃণমূলের সব কমিটি বিলুপ্ত, বিধানসভায় বিরোধী দলীয় নেতা ঋতব্রত

এদিকে দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে বিধানসভা নির্বাচনে নির্বাচিত বিধায়কদের ভোটে বিরোধী দলীয় নেতা নির্বাচিত হয়েছেন দুদিন আগেই দল থেকে বহিষ্কৃত ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। দলের পক্ষ থেকে বিধানসভার স্পিকারকে চিঠি দিয়ে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে বিরোধী দলীয় নেতা করতে বলেছিল তৃণমূল।

১ দিন আগে

কুয়েতে ইরানের হামলায় আহতদের মধ্যে ৪ জন বাংলাদেশি

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, পশ্চিম এশিয়ায় চলমান আঞ্চলিক সংকটের প্রেক্ষাপটে সম্প্রতি কুয়েতের আকাশসীমা একাধিকবার ড্রোন ও মিসাইল দ্বারা আক্রান্ত হয়েছে। এ দিন কুয়েতের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ড্রোন হামলায় চারজন বাংলাদেশি নাগরিক আহত হয়েছেন। একই হামলায় বিভিন্ন দেশের আরও কিছু নাগরিক আহত হয়েছেন। নিহত হয়েছেন একজন,

১ দিন আগে