জোড়া ফুলকে হারিয়ে পদ্ম ফুটছে পশ্চিমবঙ্গে, মোদি বললেন ‘প্রণাম’

ডেস্ক, রাজনীতি ডটকম
আপডেট : ০৪ মে ২০২৬, ২০: ৩২
সোমবার সন্ধ্যায় পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফলে যখন জয় অনেকটা নিশ্চিত হয়ে আসছে, এমন সময়ে বিজেপি সদর দপ্তরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে দেখা গেছে ধুতি-পাঞ্জাবিতে। ছবি: সংগৃহীত

পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে তৃণমূল কংগ্রেসের দীর্ঘ ১৫ বছরের শাসনের অবসান ঘটতে যাচ্ছে। রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনের যে ফলাফল এখন পর্যন্ত মিলেছে, তাতে স্পষ্ট আভাস— জোড়া ফুলকে মাটিতে মিশিয়ে ফুটে উঠতে যাচ্ছে পদ্মফুল। অর্থাৎ তৃণমূলকে হঠিয়ে ক্ষমতায় আসতে যাচ্ছে কেন্দ্রে ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)।

আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে আরও অনেক বাকি থাকলেও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দলের জয়ের ঘোষণাই দিয়ে বসেছেন। একে অভিহিত করেছেন ‘অবিস্মরণীয় জয়’ হিসেবে। এ জয়ের জন্য পশ্চিমবঙ্গের প্রতিটি মানুষকে প্রণামও জানিয়েছেন তিনি।

গত ২৩ এপ্রিল ও ২৯ এপ্রিল দুই দফায় পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার ভোট হয়। মোট ২৯৪টি আসনের মধ্যে একটি আসনের ভোট স্থগিত হয়ে গেছে। বাকি ২৯৩টি আসনের ভোটের গণনা শুরু হয়েছে সোমবার (৪ মে) সকালে।

পশ্চিমবঙ্গের গণমাধ্যম আনন্দবাজার ও এই সময়ের খবর বলছে, বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা নাগাদ ১৮টি আসনে বিজেপির জয় নিশ্চিত হয়েছে। দলটি এগিয়ে রয়েছে আরও ১৮৫টি আসনে। সব মিলিয়ে দলটি ২০৩ আসনে এগিয়ে।

অন্যদিকে বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতাসীন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেস এখন পর্যন্ত মাত্র সাতটি আসনে জয় নিশ্চিত করেছে। দলটি এগিয়ে রয়েছে আরও ৭৭ আসনে।

নির্বাচন কমিশনের এ হিসাব বলছে, বিজেপির ২০৩ আসনে অগ্রগামির বিপরীতে তৃণমূলের অগ্রাগামিতা মাত্র ৮৪টি আসনে। তবে ভোটের পরিমাণে দুই দলের মধ্যে ব্যবধান খুব বেশি নয়। বিজেপি এখন পর্যন্ত ৪৫ দশমিক ৪৩ শতাংশ ভোট পেয়েছে, বিপরীতে তৃণমূলের বাক্সে রয়েছে ৪০ দশমিক ৮৫ শতাংশ ভোট।

এ ছাড়া হুমায়ুন কবীরের দল আমজনতা উন্নয়ন পার্টি ও কংগ্রেস দুটি আসনে এগিয়ে রয়েছে। সিপিএম ও আইএসএফ এগিয়ে রয়েছে একটি করে আসনে।

২৯৩টি আসনের মধ্যে এখন পর্যন্ত মাত্র ২৪টি আসনের চূড়ান্ত ফল ঘোষণা হওয়ায় সার্বিকভাবে ফল আসতে এখনো অনেকটা সময় লাগবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে ভোটের হারের যে প্রবণতা, তাতে পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির জয় নিশ্চিত বলেই ধরে নিয়েছেন সবাই।

এ কারণেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে লিখেছেন, ‘পশ্চিমবঙ্গে পদ্ম ফুটেছে!’ পশ্চিমবঙ্গে এ ভোট সামনে রেখে একের পর এক সভা করেছেন মোদি। ওই সব সভায় তৃণমূলের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ ও অনুপ্রবেশকারী সমস্যাকে গুরুত্ব দিয়ে তুলে ধরেন।

ভোটের ফলাফল স্পষ্ট হতে থাকলে মোদি লিখেছেন, ‘২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। জনগণের শক্তির জয় হয়েছে এবং বিজেপির সুশাসনের রাজনীতি জয়ী হয়েছে। আমি পশ্চিমবঙ্গের প্রত্যেক ব্যক্তিকে প্রণাম জানাই।’

পশ্চিমবঙ্গের মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণের আশ্বাস দিয়ে মোদি আরও লিখেছেন, ‘জনগণ বিজেপির পক্ষে অভূতপূর্ব রায় দিয়েছেন। আমি তাদের আশ্বাস দিচ্ছি, আমাদের দল পশ্চিমবঙ্গের মানুষের স্বপ্ন ও আকাঙ্ক্ষা পূরণের জন্য সম্ভাব্য সব কিছু করবে। আমরা এমন একটি সরকার দেবো যা, সমাজের সব স্তরের মানুষের সুযোগ এবং মর্যাদা নিশ্চিত করবে।’

আরেক প্রভাবশালী বিজেপি নেতা কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ভোটের এমন ফলাফলের জন্য দলের রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য ও বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। পশ্চিমবঙ্গবাসীকে ‘কোটি কোটি প্রণাম’ জানিয়ে লিখেছেন, ‘এই বিপুল জনাদেশ ভয়, তোষণ ও অনুপ্রবেশকারীদের রক্ষকদের বিরুদ্ধে বাংলার মানুষের জোরালো জবাব।’

অমিত শাহ লিখেছেন, ‘আমার মতো প্রতিটি বিজেপি কর্মীর জন্য এটি গর্বের মুহূর্ত। যে গঙ্গোত্রীতে মা গঙ্গার উৎস, সেখান থেকে শুরু করে গঙ্গাসাগর পর্যন্ত আজ সর্বত্র বিজেপির গেরুয়া পতাকা গর্বের সঙ্গে উড়ছে।’

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও লিখেছেন, ‘বাংলায় বিজেপির এই ঐতিহাসিক জয় আমাদের অসংখ্য কর্মীর ত্যাগ, সংগ্রাম ও আত্মবলিদানের ফল। সেই সব পরিবারের ধৈর্যের জয়, যারা হিংসা সহ্য করেও গেরুয়া পতাকা ছাড়েনি। শূন্য থেকে আজ বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতায় পৌঁছোনোর এই কঠিন যাত্রায় যে কর্মীরা নিজেদের প্রাণ উৎসর্গ করেছেন, হিংসার শিকার হয়েছেন, নির্যাতন সহ্য করেছেন, তবুও আদর্শের পথ থেকে একচুলও সরেননি। সেসব কর্মী ও তাদের পরিবারকে প্রণাম জানাই। বাংলার মানুষ এই বিপুল জনসমর্থনের মাধ্যমে বিজেপির সেসব শহিদ কর্মীর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন।’

পশ্চিমবঙ্গের ‘হারানো গৌরব পুনরুদ্ধারে’র প্রত্যয় জানিয়ে অমিত শাহ লিখেছেন, “চৈতন্য মহাপ্রভু, স্বামী বিবেকানন্দ, কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু ও ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জির মতো মহাপুরুষের পবিত্রভূমি বাংলার হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনা এবং ‘সোনার বাংলা’র স্বপ্নকে বাস্তবায়িত করতে বিজেপি দিন-রাত এক করে দেবে।”

পশ্চিমবঙ্গ বিজেপির জয়ের আভাস অবশ্য বুথফেরত জরিপ থেকেই মিলছিল। পাঁচটি জরিপ সংস্থা বিজেপিকে আসন দিয়েছিল ১৪৬ থেকে ১৯২টি। অন্যদিকে দুটি সংস্থা মমতার ফেরার পূর্বাভাস দিয়ে তৃণমূলকে ১৭৭ থেকে ২০৫টি আসন দিয়েছিল।

মমতা অবশ্য এক্সিট পোলগুলোকে উড়িয়ে দিয়েছিলেন। তিনি দাবি করেছিলেন, তৃণমূল ২২০টিরও বেশি আসন জিতবে। এমনকি সোমবার দুপুরেও যখন বিজেপির অগ্রগামিতা ক্রমেই নিশ্চিত হচ্ছে তখনো মমতা বলেছিলেন, সূর্যাস্তের পর শেষ পর্যন্ত তার দলই জিতবে। ‘দিদি’র সে আশা স্পষ্টতই ফিকে হয়ে আসছে।

ad
ad

বিশ্ব রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন

৫১ অভিবাসন প্রত্যাশী নিয়ে লিবিয়া উপকূলে নৌকাডুবি, ১১ লাশ উদ্ধার

ইউরোপে উদ্দেশে রওনা হওয়া অভিবাসন প্রত্যাশীদের একটি নৌকা গত সপ্তাহে লিবিয়া উপকূলে ডুবে গিয়ে অন্তত ৫১ জন নিখোঁজ হয়েছেন বলে জানিয়েছে পর্যবেক্ষণ সংস্থা ‘আবরিন’। এ দুর্ঘটনায় গতকাল শুক্রবার পর্যন্ত ১০ জনকে জীবিত উদ্ধার করা এবং নিখোঁজদের মধ্যে ১১ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে, বাকিদের হদিস মেলেনি।

৮ ঘণ্টা আগে

মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারে বড় সুবিধা পাবে আইআরজিসির ব্যবসায়িক সাম্রাজ্য

যুক্তরাষ্ট্র ও তার পশ্চিমা মিত্রদের দৃষ্টিতে যাকে একটি সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে বিবেচনা করা হয়, সেই ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) এই সম্ভাব্য সমঝোতার মাধ্যমে সবচেয়ে বড় সুবিধাভোগীদের একটিতে পরিণত হতে পারে।

১০ ঘণ্টা আগে

‘বিশ্বাসঘাতক’ ট্রাম্পের ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতায় ক্ষোভ, এককভাবে লড়াইয়ের পক্ষে ইসরায়েলিরা

৭৬ বছর বয়সী নেতানিয়াহুর জন্য পরিস্থিতি রাজনৈতিকভাবেও কঠিন হয়ে উঠেছে। দুর্নীতির মামলায় বিচারাধীন এই নেতা এখন ভোটারদের বোঝানোর চেষ্টা করছেন, দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য এখনও তিনিই সবচেয়ে উপযুক্ত ব্যক্তি।

১০ ঘণ্টা আগে

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি আলোচনা: সুইজারল্যান্ড যাচ্ছেন উইটকফ ও আরাগচি

লেবাননে যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর অন্তর্বর্তীকালীন ইরান যুদ্ধ চুক্তিকে একটি স্থায়ী আঞ্চলিক চুক্তিতে রূপ দেওয়ার প্রচেষ্টা আবারও জোরদার হয়েছে। এই আলোচনার অংশ হিসেবে মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি উভয়েই সুইজারল্যান্ডের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন বলে এক্সিওসের বরাতে জানিয়ে

১২ ঘণ্টা আগে