
ডেস্ক, রাজনীতি ডটকম

লেবাননে যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর অন্তর্বর্তীকালীন ইরান যুদ্ধ চুক্তিকে একটি স্থায়ী আঞ্চলিক চুক্তিতে রূপ দেওয়ার প্রচেষ্টা আবারও জোরদার হয়েছে। এই আলোচনার অংশ হিসেবে মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি উভয়েই সুইজারল্যান্ডের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন বলে এক্সিওসের বরাতে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
শনিবার (২০ জুন) রয়টার্সের খবরে বলা হয়, হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করা এবং তেল সরবরাহ স্থিতিশীল করার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই মার্কিন-ইরান আলোচনা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল। তবে গতকাল শুক্রবার ইসরায়েল এবং হিজবুল্লাহ লেবাননে যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হওয়ার পর সেই অচলাবস্থা কেটে যায়।
চলতি সপ্তাহে দুই পক্ষ লড়াই বন্ধ করতে এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির পাশাপাশি আরও কিছু জটিল বিষয়ের সমাধান করে একটি স্থায়ী চুক্তি গঠনের উদ্দেশ্যে ৬০ দিনের একটি সময়সীমা নির্ধারণ করে ১৪ দফার একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করে। এই যুদ্ধবিরতি তারই ধারাবাহিকতায় এসেছে।
তবে, ইরান সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ এবং ইসরায়েলের মধ্যে লেবাননে উত্তেজনা বাড়তে থাকায় যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স গত বৃহস্পতিবার সুইজারল্যান্ড সফর বাতিল করেছিলেন।
এখন যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ায় এক্সিওস জানিয়েছে, উইটকফ সুইজারল্যান্ডের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন। সেখানে তিনি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনারের সঙ্গে যোগ দেবেন, যিনি ইতোমধ্যেই সেখানে অবস্থান করছেন। অন্যদিকে, আরাগচি শনিবার সেখানে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এই পদক্ষেপটি ইঙ্গিত করছে যে, উভয় পক্ষই এখন একটি স্থায়ী যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে প্রযুক্তিগত আলোচনা শুরু করতে যাচ্ছে। তবে উইটকফের এই সফরের বিষয়ে হোয়াইট হাউজ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করা হয়নি।
যুক্তরাষ্ট্রের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, লেবাননে দুপক্ষের মধ্যে গোলাগুলির পর স্থানীয় সময় বিকেল ৪টার দিকে এই যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। তিনি আরও জানান, যুক্তরাষ্ট্র এবং কাতারের মধ্যস্থতাকারীরা ইরানের সহায়তায় এই চুক্তির রূপরেখা তৈরি করেছেন।
হিজবুল্লাহর দুটি সূত্র এবং ইসরায়েলের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাও রয়টার্সের কাছে যুদ্ধবিরতির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
ইসরায়েলি ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘হিজবুল্লাহ যদি আমাদের ওপর হামলা না করে, তবে আমাদের জন্য এটি যুদ্ধের সময় নয়।’ তবে তিনি যোগ করেন, ইসরায়েল দক্ষিণ লেবাননে তাদের বাহিনী মোতায়েন রাখবে, যেখানে তারা তাদের উত্তর সীমান্ত বরাবর একটি এলাকা দখল করে রেখেছে।
লেবাননের দুটি নিরাপত্তা সূত্র জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতির প্রথম ঘণ্টায় ইসরায়েল ডজনখানেক হামলা চালিয়েছিল, তবে বিকেল ৫টার পর আর কোনো হামলার খবর পাওয়া যায়নি।
লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার মধ্যরাত থেকে শুক্রবার পর্যন্ত ইসরায়েলি হামলায় ৪৭ জন নিহত এবং ৯৭ জন আহত হয়েছেন। অন্যদিকে, ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, লেবাননে একটি ঘটনায় তাদের চারজন সৈন্য নিহত হয়েছে, তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত আর কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি।
লেবাননের এই সংঘাত আলোচনার ওপর বড় প্রভাব ফেলতে পারত, কারণ সেখানকার লড়াই বন্ধ হওয়া ছিল মার্কিন-ইরান চুক্তির অন্যতম প্রধান শর্ত।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তি বদলে দিচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যের চালচিত্র— লাভবান ইরান, শঙ্কিত প্রতিদ্বন্দ্বীরাজটিল বিষয়গুলো এখনও অমীমাংসিত
গত বুধবার সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের পর সুইজারল্যান্ডের পাহাড়ি রিসোর্ট বুর্গেনস্টকে প্রযুক্তিগত আলোচনার প্রস্তুতি বেশ ভালোভাবেই এগিয়েছিল। কিন্তু বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউজ যখন জানায় যে ভ্যান্স এতে অংশ নিচ্ছেন না, তখন পরিস্থিতি বদলে যায়।
সুইজারল্যান্ডের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আলোচনাটি স্থগিত করা হলেও সুইজারল্যান্ড তা সহজতর করতে প্রস্তুত রয়েছে এবং এ সংক্রান্ত প্রস্তুতিমূলক কাজ এখনও চলছে।
এই ব্যাপকভিত্তিক অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তির শর্ত অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্র, ইরান এবং তাদের মিত্রদের লেবাননসহ সব ফ্রন্টে অবিলম্বে এবং স্থায়ীভাবে সামরিক অভিযান বন্ধের ঘোষণা দিতে হবে। তবে এই আলোচনা থেকে বাদ পড়া ইসরায়েল জানিয়েছে, তারা এই চুক্তির কোনো পক্ষ নয়।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, শুক্রবার পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে এক ফোনালাপে আরাগচি বলেছেন, লেবাননে লড়াই বন্ধ করাসহ এই চুক্তির অধীনে নিজেদের প্রতিশ্রুতি লঙ্ঘনের জন্য যুক্তরাষ্ট্রই দায়ী থাকবে।
ইসরায়েল-লেবানন আলোচনার প্রস্তুতি
গত ২ মার্চ হিজবুল্লাহ ইসরায়েলের ওপর হামলা চালালে লেবানন এই আঞ্চলিক যুদ্ধের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে। এর জবাবে ইসরায়েল হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করে এবং দেশের দক্ষিণাঞ্চলে আগ্রাসন চালায়।
লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন সাম্প্রতিক ইসরায়েলি হামলার নিন্দা জানালেও বলেছেন যে, এই উত্তেজনা একটি ব্যাপক যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টাকে বাধাগ্রস্ত করতে পারবে না।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও প্রেসিডেন্ট আউনের সঙ্গে কথা বলেছেন এবং হিজবুল্লাহর নিরস্ত্রীকরণের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেওয়ার পাশাপাশি একটি ‘সম্পূর্ণ সার্বভৌম’ লেবানিজ রাষ্ট্রের প্রতি মার্কিন সমর্থনের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, তারা আগামী ২৩ জুন থেকে ২৫ জুন পর্যন্ত ওয়াশিংটনে ইসরায়েল-লেবানন পরবর্তী দফার আলোচনা আয়োজনের বিষয়েও কথা বলেছেন। লেবাননের প্রেসিডেন্সি জানিয়েছে, একটি ব্যাপক যুদ্ধবিরতিই হবে এই আলোচনার মূল ভিত্তি।
অন্তর্বর্তী চুক্তির পক্ষে ট্রাম্পের সাফাই
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিমান হামলার মাধ্যমে শুরু হওয়া এই ইরান যুদ্ধে এ পর্যন্ত অন্তত ৭ হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন, যাদের বেশিরভাগই ইরান ও লেবাননের নাগরিক। এই যুদ্ধ জ্বালানির দাম বাড়িয়ে দিয়েছে, যা বিশ্বব্যাপী মূল্যস্ফীতিকে উসকে দিয়েছে।
শুক্রবার ব্রেন্ট ক্রুডের দাম সামান্য বাড়লেও, লেবাননে যুদ্ধবিরতির পর সাপ্তাহিক হিসেবে তেলের দাম প্রায় ৮ শতাংশ কমতির দিকে ছিল। এ ছাড়া চলতি সপ্তাহের চুক্তি স্বাক্ষরের পর হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহন আবারও গতি পেয়েছে।
যুদ্ধের সময় ইরান কর্তৃক অবরুদ্ধ হওয়ার আগে বিশ্বের মোট অপরিশোধিত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই প্রণালি দিয়েই পরিবাহিত হতো।
হরমুজ প্রণালি ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকা ইরানের একটি সংস্থা শুক্রবার জানিয়েছে, অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তির আলোচনা চলাকালীন তারা নির্ধারিত ফি মওকুফ করবে।
এই সমঝোতা স্মারকে ইরানের ওপর থেকে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, কয়েক বিলিয়ন ডলারের সম্পদ অবমুক্ত করা এবং ইরানের তেল রপ্তানির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের তাৎক্ষণিক নিষেধাজ্ঞা মওকুফের বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এ ছাড়া ইরানের জন্য ৩০০ বিলিয়ন ডলারের একটি পুনর্গঠন তহবিল এবং অন্যান্য আর্থিক প্রণোদনার কথা বলা হয়েছে।
ওয়াশিংটনে এই চুক্তি নিয়ে তীব্র সমালোচনা এবং আগামী নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে বেশিরভাগ আমেরিকানদের কাছে অপ্রিয় একটি যুদ্ধ শেষ করতে ট্রাম্প ইরানকে অনেক বেশি ছাড় দিয়েছেন কি না— এমন প্রশ্ন তুলেছেন কংগ্রেসের খোদ রিপাবলিকান মিত্ররা। তবে ট্রাম্প পুনরায় এই চুক্তির পক্ষে সাফাই গেয়েছেন।
শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ট্রাম্প লিখেছেন, ‘এই যুদ্ধ ইরানকে দুর্বল করে দিয়েছে!’ তিনি আরও যোগ করেন, ‘আমরা মরিয়া হয়ে তাদের সঙ্গে বসিনি, ইরানই বসেছে। ওরা শেষ! আমরা এই ৬০ দিন দেখে নেব। ওরা কোনো টাকা পাচ্ছে না, এক কানাকড়িও না!’

লেবাননে যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর অন্তর্বর্তীকালীন ইরান যুদ্ধ চুক্তিকে একটি স্থায়ী আঞ্চলিক চুক্তিতে রূপ দেওয়ার প্রচেষ্টা আবারও জোরদার হয়েছে। এই আলোচনার অংশ হিসেবে মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি উভয়েই সুইজারল্যান্ডের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন বলে এক্সিওসের বরাতে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
শনিবার (২০ জুন) রয়টার্সের খবরে বলা হয়, হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করা এবং তেল সরবরাহ স্থিতিশীল করার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই মার্কিন-ইরান আলোচনা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল। তবে গতকাল শুক্রবার ইসরায়েল এবং হিজবুল্লাহ লেবাননে যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হওয়ার পর সেই অচলাবস্থা কেটে যায়।
চলতি সপ্তাহে দুই পক্ষ লড়াই বন্ধ করতে এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির পাশাপাশি আরও কিছু জটিল বিষয়ের সমাধান করে একটি স্থায়ী চুক্তি গঠনের উদ্দেশ্যে ৬০ দিনের একটি সময়সীমা নির্ধারণ করে ১৪ দফার একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করে। এই যুদ্ধবিরতি তারই ধারাবাহিকতায় এসেছে।
তবে, ইরান সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ এবং ইসরায়েলের মধ্যে লেবাননে উত্তেজনা বাড়তে থাকায় যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স গত বৃহস্পতিবার সুইজারল্যান্ড সফর বাতিল করেছিলেন।
এখন যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ায় এক্সিওস জানিয়েছে, উইটকফ সুইজারল্যান্ডের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন। সেখানে তিনি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনারের সঙ্গে যোগ দেবেন, যিনি ইতোমধ্যেই সেখানে অবস্থান করছেন। অন্যদিকে, আরাগচি শনিবার সেখানে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এই পদক্ষেপটি ইঙ্গিত করছে যে, উভয় পক্ষই এখন একটি স্থায়ী যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে প্রযুক্তিগত আলোচনা শুরু করতে যাচ্ছে। তবে উইটকফের এই সফরের বিষয়ে হোয়াইট হাউজ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করা হয়নি।
যুক্তরাষ্ট্রের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, লেবাননে দুপক্ষের মধ্যে গোলাগুলির পর স্থানীয় সময় বিকেল ৪টার দিকে এই যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। তিনি আরও জানান, যুক্তরাষ্ট্র এবং কাতারের মধ্যস্থতাকারীরা ইরানের সহায়তায় এই চুক্তির রূপরেখা তৈরি করেছেন।
হিজবুল্লাহর দুটি সূত্র এবং ইসরায়েলের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাও রয়টার্সের কাছে যুদ্ধবিরতির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
ইসরায়েলি ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘হিজবুল্লাহ যদি আমাদের ওপর হামলা না করে, তবে আমাদের জন্য এটি যুদ্ধের সময় নয়।’ তবে তিনি যোগ করেন, ইসরায়েল দক্ষিণ লেবাননে তাদের বাহিনী মোতায়েন রাখবে, যেখানে তারা তাদের উত্তর সীমান্ত বরাবর একটি এলাকা দখল করে রেখেছে।
লেবাননের দুটি নিরাপত্তা সূত্র জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতির প্রথম ঘণ্টায় ইসরায়েল ডজনখানেক হামলা চালিয়েছিল, তবে বিকেল ৫টার পর আর কোনো হামলার খবর পাওয়া যায়নি।
লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার মধ্যরাত থেকে শুক্রবার পর্যন্ত ইসরায়েলি হামলায় ৪৭ জন নিহত এবং ৯৭ জন আহত হয়েছেন। অন্যদিকে, ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, লেবাননে একটি ঘটনায় তাদের চারজন সৈন্য নিহত হয়েছে, তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত আর কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি।
লেবাননের এই সংঘাত আলোচনার ওপর বড় প্রভাব ফেলতে পারত, কারণ সেখানকার লড়াই বন্ধ হওয়া ছিল মার্কিন-ইরান চুক্তির অন্যতম প্রধান শর্ত।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তি বদলে দিচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যের চালচিত্র— লাভবান ইরান, শঙ্কিত প্রতিদ্বন্দ্বীরাজটিল বিষয়গুলো এখনও অমীমাংসিত
গত বুধবার সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের পর সুইজারল্যান্ডের পাহাড়ি রিসোর্ট বুর্গেনস্টকে প্রযুক্তিগত আলোচনার প্রস্তুতি বেশ ভালোভাবেই এগিয়েছিল। কিন্তু বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউজ যখন জানায় যে ভ্যান্স এতে অংশ নিচ্ছেন না, তখন পরিস্থিতি বদলে যায়।
সুইজারল্যান্ডের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আলোচনাটি স্থগিত করা হলেও সুইজারল্যান্ড তা সহজতর করতে প্রস্তুত রয়েছে এবং এ সংক্রান্ত প্রস্তুতিমূলক কাজ এখনও চলছে।
এই ব্যাপকভিত্তিক অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তির শর্ত অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্র, ইরান এবং তাদের মিত্রদের লেবাননসহ সব ফ্রন্টে অবিলম্বে এবং স্থায়ীভাবে সামরিক অভিযান বন্ধের ঘোষণা দিতে হবে। তবে এই আলোচনা থেকে বাদ পড়া ইসরায়েল জানিয়েছে, তারা এই চুক্তির কোনো পক্ষ নয়।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, শুক্রবার পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে এক ফোনালাপে আরাগচি বলেছেন, লেবাননে লড়াই বন্ধ করাসহ এই চুক্তির অধীনে নিজেদের প্রতিশ্রুতি লঙ্ঘনের জন্য যুক্তরাষ্ট্রই দায়ী থাকবে।
ইসরায়েল-লেবানন আলোচনার প্রস্তুতি
গত ২ মার্চ হিজবুল্লাহ ইসরায়েলের ওপর হামলা চালালে লেবানন এই আঞ্চলিক যুদ্ধের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে। এর জবাবে ইসরায়েল হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করে এবং দেশের দক্ষিণাঞ্চলে আগ্রাসন চালায়।
লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন সাম্প্রতিক ইসরায়েলি হামলার নিন্দা জানালেও বলেছেন যে, এই উত্তেজনা একটি ব্যাপক যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টাকে বাধাগ্রস্ত করতে পারবে না।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও প্রেসিডেন্ট আউনের সঙ্গে কথা বলেছেন এবং হিজবুল্লাহর নিরস্ত্রীকরণের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেওয়ার পাশাপাশি একটি ‘সম্পূর্ণ সার্বভৌম’ লেবানিজ রাষ্ট্রের প্রতি মার্কিন সমর্থনের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, তারা আগামী ২৩ জুন থেকে ২৫ জুন পর্যন্ত ওয়াশিংটনে ইসরায়েল-লেবানন পরবর্তী দফার আলোচনা আয়োজনের বিষয়েও কথা বলেছেন। লেবাননের প্রেসিডেন্সি জানিয়েছে, একটি ব্যাপক যুদ্ধবিরতিই হবে এই আলোচনার মূল ভিত্তি।
অন্তর্বর্তী চুক্তির পক্ষে ট্রাম্পের সাফাই
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিমান হামলার মাধ্যমে শুরু হওয়া এই ইরান যুদ্ধে এ পর্যন্ত অন্তত ৭ হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন, যাদের বেশিরভাগই ইরান ও লেবাননের নাগরিক। এই যুদ্ধ জ্বালানির দাম বাড়িয়ে দিয়েছে, যা বিশ্বব্যাপী মূল্যস্ফীতিকে উসকে দিয়েছে।
শুক্রবার ব্রেন্ট ক্রুডের দাম সামান্য বাড়লেও, লেবাননে যুদ্ধবিরতির পর সাপ্তাহিক হিসেবে তেলের দাম প্রায় ৮ শতাংশ কমতির দিকে ছিল। এ ছাড়া চলতি সপ্তাহের চুক্তি স্বাক্ষরের পর হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহন আবারও গতি পেয়েছে।
যুদ্ধের সময় ইরান কর্তৃক অবরুদ্ধ হওয়ার আগে বিশ্বের মোট অপরিশোধিত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই প্রণালি দিয়েই পরিবাহিত হতো।
হরমুজ প্রণালি ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকা ইরানের একটি সংস্থা শুক্রবার জানিয়েছে, অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তির আলোচনা চলাকালীন তারা নির্ধারিত ফি মওকুফ করবে।
এই সমঝোতা স্মারকে ইরানের ওপর থেকে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, কয়েক বিলিয়ন ডলারের সম্পদ অবমুক্ত করা এবং ইরানের তেল রপ্তানির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের তাৎক্ষণিক নিষেধাজ্ঞা মওকুফের বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এ ছাড়া ইরানের জন্য ৩০০ বিলিয়ন ডলারের একটি পুনর্গঠন তহবিল এবং অন্যান্য আর্থিক প্রণোদনার কথা বলা হয়েছে।
ওয়াশিংটনে এই চুক্তি নিয়ে তীব্র সমালোচনা এবং আগামী নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে বেশিরভাগ আমেরিকানদের কাছে অপ্রিয় একটি যুদ্ধ শেষ করতে ট্রাম্প ইরানকে অনেক বেশি ছাড় দিয়েছেন কি না— এমন প্রশ্ন তুলেছেন কংগ্রেসের খোদ রিপাবলিকান মিত্ররা। তবে ট্রাম্প পুনরায় এই চুক্তির পক্ষে সাফাই গেয়েছেন।
শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ট্রাম্প লিখেছেন, ‘এই যুদ্ধ ইরানকে দুর্বল করে দিয়েছে!’ তিনি আরও যোগ করেন, ‘আমরা মরিয়া হয়ে তাদের সঙ্গে বসিনি, ইরানই বসেছে। ওরা শেষ! আমরা এই ৬০ দিন দেখে নেব। ওরা কোনো টাকা পাচ্ছে না, এক কানাকড়িও না!’

নতুন নিয়ম অনুযায়ী, জাহাজ পরিচালনাকারীদের হরমুজ প্রণালিতে প্রবেশ করার অন্তত ৪৮ ঘণ্টা আগে কর্তৃপক্ষের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট বা সরকারি ই-মেইলের মাধ্যমে আবেদন জমা দিতে হবে। আবেদনে জাহাজের সঠিক যোগাযোগ তথ্য, রুট ও সময়সূচি উল্লেখ করা বাধ্যতামূলক। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে আবেদন না করলে প্রণালিতে প্রবেশ কিংবা বের
২০ ঘণ্টা আগে
সুইজারল্যান্ডে ইরানি ও মার্কিন আলোচনাকারীদের মধ্যে শুক্রবার পূর্বনির্ধারিত বৈঠকটি বাতিল হয়ে গেছে। এর ফলে প্রায় চার মাস ধরে চলা যুদ্ধ বন্ধের লক্ষ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারককে (এমওইউ) একটি স্থায়ী শান্তি চুক্তিতে রূপান্তরের যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল, সেই আলোচনার সময়সূচি নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছ
২১ ঘণ্টা আগে
আইসিপির তথ্যমতে, মধ্যপ্রাচ্যের আঞ্চলিক পরিস্থিতির কারণে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে বেশ কিছু ফ্লাইট স্থগিত হওয়ায় অনেক বিদেশি নাগরিক নির্ধারিত সময়ে নিজ দেশে ফিরতে পারেননি। মানবিক বিবেচনায় তাদের ওপর আরোপিত ওভারস্টে জরিমানা সাময়িকভাবে মওকুফ করা হয়েছিল।
২১ ঘণ্টা আগে
রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা কোরিয়ান সেন্ট্রাল নিউজ এজেন্সিতে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে কিম ইয়ো জং বলেন, পারমাণবিক অস্ত্রধারী রাষ্ট্র হিসেবে উত্তর কোরিয়ার অবস্থান চূড়ান্ত এবং অপরিবর্তনীয়। কোনো পরিস্থিতিতেই সেই অবস্থানের পরিবর্তন ঘটবে না।
২১ ঘণ্টা আগে