ট্রাম্প কি ইরানের সঙ্গে অন্য দেশগুলোর বাণিজ্য বন্ধ করতে পারবেন

ডেস্ক, রাজনীতি ডটকম
ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইরান যুদ্ধ। প্রতীকী ছবি

ইরানের বিরুদ্ধে ‘সবচেয়ে কঠোর অর্থনৈতিক অভিযান’ ঘোষণা করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, ইরান চুক্তির সুযোগ নিতে ব্যর্থ হয়েছে। এখন দেশটি ‘অভূতপূর্ব মাত্রার অর্থনৈতিক যুদ্ধ ও বিচ্ছিন্নতার’ মুখোমুখি হবে।

ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, কোনো দেশ ইরানকে আর্থিক, ব্যবসায়িক বা অন্য কোনো সহায়তা দিলে সেই দেশকেও ‘প্রচণ্ড অর্থনৈতিক ক্ষতির’ মুখে পড়তে হবে।

তবে ট্রাম্পের এই হুমকি উড়িয়ে দিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। তার দাবি, নিজেদের সংকট থেকে মানুষের দৃষ্টি সরাতেই যুক্তরাষ্ট্র এমন হুমকি দিচ্ছে। মার্কিন অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞাকে তিনি বিশ্ব অর্থনীতি ও দেশগুলোর সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি হিসেবে উল্লেখ করেছেন। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমও বলেছে, এ ধরনের নিষেধাজ্ঞা তেহরানের জন্য নতুন কিছু নয়। দেশটি দীর্ঘদিন ধরেই নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে চলার কৌশল রপ্ত করেছে।

আল জাজিরার বিশ্লেষণ বলছে, ইরানের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান ভিত্তি তেল রপ্তানি। যুদ্ধ শুরুর আগে দেশটি প্রতিদিন ১৩ থেকে ১৫ লাখ ব্যারেল তেল রপ্তানি করত। কিন্তু মার্কিন নৌ অবরোধ ও নিষেধাজ্ঞার কারণে এখন সেই পরিমাণ তিন লাখ ব্যারেলের নিচে নেমে এসেছে।

চীন, ইরাক, ভারত, তুরস্ক, জার্মানি ও রাশিয়া ইরানের প্রধান বাণিজ্যিক অংশীদার। এর মধ্যে সম্প্রতি সংযুক্ত আরব আমিরাত ইরানের ওপর অনির্দিষ্টকালের বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে।

তবে যুক্তরাষ্ট্র একতরফাভাবে নিষেধাজ্ঞা দিয়ে এসব দেশকে ইরানের সঙ্গে পুরোপুরি বাণিজ্য বন্ধে বাধ্য করতে পারবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

চীন ইতোমধ্যে নিজেদের প্রতিষ্ঠানগুলোকে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা না মানার নির্দেশ দিয়েছে। তুরস্কও যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞায় যোগ দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞ শান্তনু সিংয়ের মতে, জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের অনুমোদন ছাড়া কোনো দেশ অন্য একটি দেশের সঙ্গে সম্পূর্ণ বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে পারে না।

জর্জটাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক পল মাসগ্রেভও মনে করেন, ট্রাম্প যে ধরনের সমন্বিত নিষেধাজ্ঞা চান, তা কার্যকর করতে বহুপাক্ষিক সহযোগিতা প্রয়োজন। বিশেষ করে চীন ও রাশিয়াকে সঙ্গে না পেলে এই উদ্যোগ কার্যকর করা কঠিন হবে।

এদিকে মার্কিন চাপ মোকাবিলায় বিকল্প পথ খুঁজছে ইরান। দেশটি ব্রিকস নিউ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকে যোগ দেওয়ার পথে রয়েছে। পাশাপাশি তাজিকিস্তানের সঙ্গে তেল রপ্তানির চুক্তিও করেছে।

বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, অর্থনৈতিক চাপ আরও বাড়লে ইরান নৌ অবরোধ ভাঙতে সামরিক পদক্ষেপ নিতে পারে।

আল জাজিরার বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ট্রাম্পের এই ঘোষণা মূলত যুদ্ধের অচলাবস্থা এবং মার্কিন জনগণের অসন্তোষ সামাল দেওয়ার একটি প্রচেষ্টা। তবে অন্য দেশগুলোকে ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য বন্ধে বাধ্য করার ক্ষেত্রে এই উদ্যোগ কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে।

Ad
Ad
ad
ad
ad

বিশ্ব রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন

ইরান ও তার সহায়তাকারীদের ‘কঠোর পরিণতি’র হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের

পোস্টে ট্রাম্প লেখেন, “ইসলামি প্রজাতন্ত্রী ইরানকে আমি ছাড়া আর কেউ চুক্তির জন্য এত সুযোগ-সুবিধা বা ছাড় দেয়নি। তবে এটি দুঃখজনক যে তারা চুক্তি করতে ব্যর্থ হয়েছে। এ কারণেই আজ আমি ইরানের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বিধ্বংসী অর্থনৈতিক অভিযান ঘোষণা করছি। এই অভিযান এতটাই সর্বাত্মক হবে যে এর আগে কোনো রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে

১ দিন আগে

কলকাতায় অগ্নিদগ্ধ হয়ে নিহত আরও দুজনের পরিচয় প্রকাশ

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) দিবাগত রাত ৩টার দিকে কলকাতার নিউমার্কেটের কাছে অবস্থিত শিখা ইন নামের ওই হোটেলের তৃতীয় তলায় আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যেই হোটেলের বিভিন্ন কক্ষে ঘন কালো ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ে। এরপর আগুন পাশের আরও কয়েকটি হোটেলেও ছড়িয়ে যায়। অগ্নিকাণ্ডে ধোঁয়ায় দমবন্ধ হয়ে অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়েন।

১ দিন আগে

কলকাতায় হোটেলে আগুন: স্ত্রী-সন্তান-শ্বশুরসহ বাংলাদেশি সাংবাদিকের মৃত্যু

নিহত দেবাশীষ দত্ত আজকের পত্রিকা ও বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল নাইনের কুষ্টিয়া প্রতিনিধি ছিলেন। পাশাপাশি কুষ্টিয়া থেকে প্রকাশিত আজকের আলো পত্রিকার নির্বাহী সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন তিনি। অগ্নিকাণ্ডে তার স্ত্রী আফসানা শারমীন (২৭), ছেলে শর্ণশীষ দত্ত (৩) ও শ্বশুর আকরাম হোসেন (৬০) মারা গেছেন।

২ দিন আগে

কলকাতায় আগুনে নিহতদের মধ্যে ৫ বাংলাদেশির পরিচয় শনাক্ত

বুধবার (১৯ আগস্ট) বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, অগ্নিকাণ্ডে নিহতদের মধ্যে পাঁচজন বাংলাদেশি নাগরিক বলে স্থানীয় পুলিশ তাদের পরিচয় নিশ্চিত করেছে। কলকাতাস্থ বাংলাদেশ উপ-হাইকমিশন নিহতদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। তাদের চারজন একই পরিবারের সদস্য বলে জানা গেছে।

২ দিন আগে