যুদ্ধের দামামা, আফগান বাহিনীকে 'উপযুক্ত জবাব' দেওয়ার হুঁশিয়ারি পাকিস্তানের

ডেস্ক, রাজনীতি ডটকম
আপডেট : ১২ অক্টোবর ২০২৫, ১০: ০৫
ছবি: সংগৃহীত

পাকিস্তান-আফগানিস্তান সীমান্তে তীব্র সংঘর্ষ শুরু হয়েছে। শনিবার (১১ অক্টোবর) রাতে ভারী অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে উভয়পক্ষের মধ্যে গোলাগুলি চলে। পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মোহসিন নাকভি আফগান তালেবান বাহিনীর ‘উসকানিমূলক’ হামলার জবাবে কঠোর প্রতিক্রিয়া জানানোর কথা জানিয়ে বলেছেন, আফগানিস্তানকে ভারতের মতোই উপযুক্ত জবাব দেবে পাকিস্তান। এমন পরিস্থিতিতে উভয়পক্ষকে সংযম দেখানোর আহ্বান জানিয়েছে কাতার, ইরান ও সৌদি আরব।

পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম ডন জানিয়েছে, পাকিস্তান ও আফগান তালেবান বাহিনীর মধ্যে শনিবার (১১ অক্টোবর) রাতে সীমান্তজুড়ে ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মোহসিন নাকভি জানিয়েছেন, আফগান বাহিনীর ‘উসকানিমূলক’ হামলার জবাবে পাকিস্তান সেনাবাহিনী শক্ত প্রতিক্রিয়া দিয়েছে।

নাকভি বলেন, বেসামরিক জনগণের ওপর আফগান বাহিনীর গুলিবর্ষণ আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন। পাকিস্তানের সাহসী বাহিনী দ্রুত ও কার্যকর জবাব দিয়েছে। কোনো উসকানি সহ্য করা হবে না।

তিনি আরও বলেন, আমাদের সেনারা সতর্ক অবস্থানে আছে। আফগানিস্তানকে ইটের জবাবে পাথর দেওয়া হচ্ছে। পাকিস্তানের জনগণ সেনাবাহিনীর পাশে আছে ইস্পাতের দেয়ালের মতো। আফগানিস্তানকেও ভারতের মতোই উপযুক্ত জবাব দেওয়া হবে।

নিরাপত্তা সূত্রের বরাতে ডন জানিয়েছে, পাকিস্তানি বাহিনী আন্তর্জাতিক সীমান্তে আফগান বাহিনীর বেশ কয়েকটি পোস্টে পাল্টা হামলা চালিয়েছে। এতে আফগান পোস্ট ও সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর ওপর ‘গুরুতর ক্ষতি’ হয়েছে বলে দাবি তাদের।

বলা হয়, হামলায় আর্টিলারি, ট্যাংক, হালকা ও ভারী অস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে। আফগান বাহিনী খাইবার পাখতুনখোয়ার আঙ্গুরআড্ডা, বাজাউর, কুররাম, দির, চিত্রাল এবং বেলুচিস্তানের বারামচায় পাকিস্তানি পোস্টে গুলি চালায়।

কাবুল কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, পাকিস্তান গত সপ্তাহে আফগান রাজধানীতে বিমান হামলা চালায়। এর জবাবেই সীমান্তে লড়াই শুরু হয়েছে বলে দাবি তালেবান সীমান্তবাহিনীর।

তালেবান কর্মকর্তারা কুনার, নানগারহার, পাকতিকা, খোস্ত ও হেলমান্দ প্রদেশ থেকে সংঘর্ষের খবর নিশ্চিত করেছেন।

ইসলামাবাদ যদিও বিমান হামলার কথা অস্বীকার করেছে, তবে কাবুলকে সতর্ক করে বলেছে, ‘তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি)-কে নিজেদের মাটিতে আশ্রয় দেওয়া বন্ধ করতে হবে।’

পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনী জানিয়েছে, ‘একাধিক আফগান সেনা নিহত হয়েছে’ এবং ‘তালেবান যোদ্ধারা পিছু হটতে বাধ্য হয়েছে।’

তারা আরও বলেছে, ‘দায়েশ ও খারেজি গোষ্ঠীর ঘাঁটিগুলো, যেগুলো আফগান অন্তর্বর্তী সরকারের ছত্রচ্ছায়ায় চলছে, সেখানে আর্টিলারি, ট্যাংক, ড্রোন ও বিমান দিয়ে হামলা চালানো হচ্ছে।’

পাকিস্তান-আফগানিস্তান সীমান্তে ক্রমবর্ধমান সংঘর্ষের প্রেক্ষাপটে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেন, দুই দেশকে সংযম দেখাতে হবে। আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের স্থিতিশীলতা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য অপরিহার্য।

সৌদি আরব, যাদের সঙ্গে সম্প্রতি পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা সহযোগিতা চুক্তি হয়েছে, গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। রিয়াদ এক বিবৃতিতে জানায়, সৌদি সরকার সংযম, উত্তেজনা পরিহার ও সংলাপের আহ্বান জানাচ্ছে, যাতে অঞ্চলটির নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বজায় থাকে।

কাতারও একই আহ্বান জানিয়ে বলেছে, উভয় পক্ষ যেন সংলাপ, কূটনীতি ও সংযমের মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং উত্তেজনা কমায়।

কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আরও জানায়, তারা আঞ্চলিক শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষায় সব আন্তর্জাতিক উদ্যোগকে সমর্থন করে এবং পাকিস্তান ও আফগান জনগণের শান্তি ও সমৃদ্ধির পক্ষে রয়েছে।

Ad
Ad
ad
ad
ad

বিশ্ব রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন

ইরানের ৩ তেলের ট্যাংকারে মার্কিন হামলা

হামলার পরপরই পাল্টা জবাব হিসেবে মার্কিন বাহিনী ইরানের খার্গ দ্বীপের কাছে 'এম/টি ডাউনি' এবং জাস্ক উপকূলের কাছে 'এম/টি স্টার্ক ১' নামের দুটি তেলবাহী জাহাজকে লক্ষ্যবস্তু বানায় এবং সেগুলোকে ‘স্থায়ীভাবে অচল’ করে দেয়। এছাড়া ওমান উপসাগরের কাছে থাকা 'এম/টি কায়লো' (যা 'নোক্সেন' নামেও পরিচিত) নামের আরেকটি খা

৮ ঘণ্টা আগে

অভিবাসনবিরোধী বিক্ষোভে ডোভার বন্দর অবরুদ্ধ, রাস্তায় নামল মুখোশধারীরা

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ও ছবিতে দেখা যায়, কালো পোশাক ও মুখোশ পরা বিপুলসংখ্যক মানুষ দলবদ্ধভাবে ডোভার বন্দরের দিকে হাঁটছেন। পরে তারা এ২০ সড়কে হাত ধরে মানবপ্রাচীর তৈরি করে যান চলাচল বন্ধ করে দেন।

২১ ঘণ্টা আগে

ভুল নয়, ‘হাফলা’ নীতির কারণেই ইসরায়েলি হামলায় প্রাণ হারান ৭ ত্রাণকর্মী

ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর প্রাথমিক তদন্তে বলা হয়েছিল, সেনারা গাড়ির ভেতরে হামাসের সদস্য থাকার ভুল ধারণা থেকে হামলা চালিয়েছিল। আইডিএফ পরে স্বীকার করে যে ঘটনাটিতে গুরুতর ভুল হয়েছিল এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছিল।

২১ ঘণ্টা আগে

খারগ দ্বীপের কাছে ইরানি তেলবাহী ট্যাংকারে মার্কিন হামলা

বিশ্বের তেল উৎপাদনকারী দেশগুলোর জোট ওপেকের তৃতীয় বৃহত্তম তেল উৎপাদক ইরান। যুদ্ধ শুরুর আগে দেশটির অপরিশোধিত তেলের ৯০ শতাংশই খারগ দ্বীপের মাধ্যমে রপ্তানি করা হতো। তবে এপ্রিলের মাঝামাঝি যুক্তরাষ্ট্র ইরানের তেল রপ্তানির ওপর অবরোধ আরোপের পর থেকে এই তেল সরবরাহে বিঘ্ন ঘটছে।

১ দিন আগে
Advertisement