পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞায় বৈশ্বিক খাদ্যনিরাপত্তা হুমকিতে: পেজেশকিয়ান

ডেস্ক, রাজনীতি ডটকম
ভারতে চলমান ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। ছবি: দ্য হিন্দু

পশ্চিমা দেশগুলোর একতরফা নিষেধাজ্ঞা শুধু সংশ্লিষ্ট দেশের অর্থনীতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে না, বৈশ্বিক খাদ্যনিরাপত্তা ও মানুষের কল্যাণকেও সরাসরি হুমকির মুখে ফেলছে বলে মন্তব্য করেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। একই সঙ্গে বিদ্যমান পশ্চিমনির্ভর আর্থিক ও বাণিজ্যিক ব্যবস্থার বিকল্প গড়ে তুলতে ব্রিকসের সদস্য দেশগুলোকে জাতীয় মুদ্রায় বাণিজ্য বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

দ্য হিন্দুর খবরে বলা হয়েছে, রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) ভারতের নয়াদিল্লিতে দুই দিনের ব্রিকস সম্মেলনের সমাপনী অধিবেশনে দেওয়া বক্তব্যে এ কথা বলেন।

পেজেশকিয়ান বলেন, সীমিত কিছু আর্থিক ও বাণিজ্যিক ব্যবস্থার ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা উদীয়মান অর্থনীতিগুলোকে রাজনৈতিক অভিঘাতের কাছে ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে। ব্রিকসকে তাই এখন শুধু উদীয়মান অর্থনীতিগুলোর সহযোগিতার প্ল্যাটফর্ম হিসেবে থাকলে চলবে না, বরং আরও ভারসাম্যপূর্ণ, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও ন্যায়সঙ্গত বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থা তৈরিতে বড় ভূমিকা নিতে হবে।

ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নতুন অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা ও দুই দেশের চলমান সামরিক সংঘাতের কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই পেজেশকিয়ান এ মন্তব্য করলেন। তার বক্তব্যে নিষেধাজ্ঞাকে শুধু ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ হিসেবে নয়, বিশ্বব্যাপী খাদ্য সরবরাহ ও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ওপর প্রভাব ফেলা একটি বৈশ্বিক সংকট হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।

পেজেশকিয়ান বলেন, ব্রিকসের মধ্যে জাতীয় মুদ্রায় বাণিজ্য বাড়ানোর পাশাপাশি সদস্য দেশগুলোর অর্থনৈতিক স্থিতিস্থাপকতা বাড়াতে নিউ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংককে আরও শক্তিশালী করা প্রয়োজন। তার ভাষায়, কোনো একটি ক্ষমতাকেন্দ্রের অন্য দেশের ভাগ্য নির্ধারণের অধিকার থাকা উচিত নয়।

ইরানের প্রেসিডেন্ট একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে তার দেশের ওপর ‘সামরিক আগ্রাসনে’র অভিযোগ তোলেন। তিনি বলেন, ইরানের অর্থনৈতিক, জ্বালানি ও উন্নয়ন অবকাঠামোয় হামলার প্রভাব জাতীয় সীমারেখা ছাড়িয়ে আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক সংকট তৈরি করতে পারে।

গাজা ও লেবাননের পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেন পেজেশকিয়ান। তিনি বলেন, ওই অঞ্চলের মানুষ এখনো ‘অপরাধ ও গণহত্যা’র পরিণতি ভোগ করছে। জাতীয় সার্বভৌমত্ব, ভৌগোলিক অখণ্ডতা ও শক্তি প্রয়োগ নিষিদ্ধ করার নীতি রক্ষায় ব্রিকসকে আরও কার্যকর ভূমিকা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

পেজেশকিয়ান আরও বলেন, ইরানের ভৌগোলিক অবস্থান, জ্বালানি সম্পদ ও ট্রানজিট সক্ষমতা ব্রিকসের সদস্য দেশগুলোর মধ্যে বাণিজ্য ও জ্বালানি করিডর গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও নতুন প্রযুক্তিকেও আধিপত্যের হাতিয়ার নয়, বরং দেশগুলোর সক্ষমতা বাড়ানোর মাধ্যম হিসেবে ব্যবহারের আহ্বান জানান তিনি।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে সম্মেলন আয়োজনের জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে পেজেশকিয়ান বলেন, ব্রিকস এখন আরও ভারসাম্যপূর্ণ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বিশ্বব্যবস্থার দাবির প্রতিফলন।

Ad
Ad
ad
ad
ad

বিশ্ব রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন

সৌদির সামরিক ঘাঁটিতে হুথিদের ড্রোন-ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

সংগঠনটির সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে জানান, সৌদি আরবের শারুরাহ সামরিক ঘাঁটিটি ছিল তাদের মূল লক্ষ্য। সেখানে থাকা প্রধান অস্ত্রের গুদাম এবং ‘কমান্ড ও কন্ট্রোল সেন্টার’ লক্ষ্য করে এই হামলা পরিচালিত হয়।

১৯ ঘণ্টা আগে

ইরান যুদ্ধের পরিণতি কি আফগানিস্তান-ইরাকের মতো হবে?

ইরানের ক্ষেত্রে ঝুঁকিটা আরও বড়। কারণ এটি ইরাক বা আফগানিস্তানের মতো দুর্বল রাষ্ট্র নয়। প্রায় ৯ কোটি মানুষের দেশটির রয়েছে শক্তিশালী সামরিক ও নিরাপত্তা কাঠামো, বিশাল ভূখণ্ড, উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা, দীর্ঘদিনের আঞ্চলিক নেটওয়ার্ক এবং নিজস্ব জাতীয়তাবাদী রাজনৈতিক পরিচয়। ফলে তেহরানে সরকার পতন ঘটানো গেলেও

১৯ ঘণ্টা আগে

ব্রিকসে ইরান-আমিরাত বরফ গলার আভাস

ভারতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের সাবেক রাষ্ট্রদূত সুনজয় সুধীর রয়টার্সকে বলেন, যুদ্ধ শেষ করার চাবিকাঠি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হাতে। তার মতে, ভারত কঠিন আলোচনাগুলো চালু রাখার সুযোগ তৈরি করেছে, যাতে সংশ্লিষ্ট দেশগুলো একই টেবিলে বসতে পারে, কূটনৈতিকভাবে আলোচনা করতে পারে এবং যেসব বিষয়ে তাদের স্বার্থের মিল রয়েছ

১ দিন আগে

জাকির নায়েককে ভারতে প্রত্যার্পণ নিয়ে আলোচনা হয়েছে: আনোয়ার ইব্রাহিম

ভারতীয় কর্তৃপক্ষ তার বিরুদ্ধে এবং তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ইসলামিক রিসার্চ ফাউন্ডেশন, পিস টিভিসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম নিয়ে তদন্ত শুরুর পর ২০১৬ সালে তিনি মালয়েশিয়ায় চলে যান। পরে দেশটিতে তাকে স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতি দেওয়া হয়।

১ দিন আগে
Advertisement