
ডেস্ক, রাজনীতি ডটকম

ইরানের বিরুদ্ধে চালানো সামরিক অভিযানের প্রায় প্রতিটি লড়াইয়েই হয়তো মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জিতে গেছেন। কিন্তু দেশটির ওপর হামলা শুরুর প্রায় তিন মাস পর এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্নটি সামনে এসেছে, ট্রাম্প কি শেষ পর্যন্ত এই যুদ্ধে হেরে যাচ্ছেন? বার্তা সংস্থা রয়টার্স এই পরিস্থিতির পুঙ্খানুপুঙ্খ বিশ্লেষণ করেছে।
শনিবার (২৩ মে) প্রকাশিত প্রতিবেদনে রয়টার্স জানায়, হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের শক্ত নিয়ন্ত্রণ, পরমাণু কর্মসূচিতে ছাড় দেওয়ার ক্ষেত্রে অনমনীয় মনোভাব এবং দেশটির ধর্মীয় শাসনব্যবস্থা মোটের ওপর অক্ষত থাকায় এখন মার্কিন প্রশাসনের ভেতরেই সন্দেহ দানা বাঁধছে। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর এই কৌশলগত সাফল্যগুলোকে ট্রাম্প আদৌ এমন কোনো ভূ-রাজনৈতিক বিজয়ে রূপান্তর করতে পারবেন কি না, যা তিনি বিশ্বমঞ্চে নিজের বড় জয় হিসেবে দাবি করতে পারেন— তা নিয়ে বড় প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
কয়েকজন বিশ্লেষক মনে করেন, ট্রাম্পের বারবার ‘পূর্ণাঙ্গ বিজয়ের’ দাবি ‘অর্থহীন’ প্রমাণিত হচ্ছে। কারণ উভয় পক্ষই এখন একদিকে অনিশ্চিত কূটনীতি, আর অন্যদিকে ট্রাম্পের ক্ষণে ক্ষণে দেওয়া হামলা শুরুর হুমকির দোলাচলে দুলছে। আর যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে হামলা চালালে পুরো মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে ইরান যে পালটা প্রতিশোধমূলক আঘাত হানবে, তা প্রায় নিশ্চিত।
পরিস্থিতি এখন এমন এক ঝুঁকিতে দাঁড়িয়েছে যেখানে সংঘাতের অবসানের পরে দেখা যেতে পারে যুক্তরাষ্ট্র এবং তার উপসাগরীয় আরব মিত্ররাই উলটো বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অন্যদিকে, সামরিক ও অর্থনৈতিকভাবে প্রচণ্ড বিপর্যস্ত হওয়ার পরও যুদ্ধ শেষে ইরান আরও সুবিধাজনক অবস্থানে চলে যেতে পারে; কারণ তেহরান ইতোমদ্ধে প্রমাণ করেছে, তারা বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাস সরবরাহের এক-পঞ্চমাংশ একাই আটকে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে।

অবশ্য যুদ্ধ অবসানে এখনো সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে শান্তি আলোচনা চলছে। কয়েকজন বিশেষজ্ঞের মতে, আলোচনা যদি ট্রাম্পের পক্ষে যায়, তবে তিনি হয়তো নিজের মান বাঁচানোর মতো একটি সম্মানজনক পথ খুঁজে পেতেও পারেন। তবে বিশ্লেষকদের অনেকেই যুদ্ধ-পরবর্তী ট্রাম্পের ভবিষ্যৎ নিয়ে বেশ ‘অন্ধকারাচ্ছন্ন পূর্বাভাস’ দিচ্ছেন।
রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট উভয় প্রশাসনের হয়ে মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক সাবেক কূটনীতিক হিসেবে দায়িত্ব পালন করা অ্যারন ডেভিড মিলার রয়টার্সকে বলেন, ‘যুদ্ধের তিন মাস পেরিয়ে গেছে। এখন মনে হচ্ছে, ট্রাম্প যে যুদ্ধটিকে একটি স্বল্পমেয়াদি সহজ জয় হিসেবে পরিকল্পনা করেছিলেন, তা শেষ পর্যন্ত একটি দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত ব্যর্থতায় পরিণত হতে যাচ্ছে।’
ট্রাম্পের জন্য বিষয়টি অত্যন্ত সংবেদনশীল। কারণ তিনি নিজেকে ‘পরাজিত’ দেখতে বা দেখাতে পছন্দ করেন না— যে শব্দটি তিনি প্রায়ই তার বিরোধীদের ঘায়েল করতে ব্যবহার করেন। ইরান সংকটে ট্রাম্প নিজেকে বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী সামরিক বাহিনীর কমান্ডার-ইন-চিফ হিসেবে আবির্ভূত করেছেন, যার প্রতিপক্ষ এমন একটি দ্বিতীয় সারির শক্তি যারা মনেপ্রাণে বিশ্বাস করে যে লড়াইয়ের নিয়ন্ত্রণ আসলে তাদের হাতেই।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এই জটিল পরিস্থিতি ট্রাম্পকে আরও জেদি করে তুলতে পারে। যেহেতু তিনি এখনও এই যুদ্ধের চূড়ান্ত কোনো শেষ (এন্ডগেম) নির্ধারণ করতে পারেননি, তাই তিনি এমন কোনো আপস করতে চাইবেন না যা দেখতে পিছু হটার মতো মনে হয়। কিংবা তিনি কোনোভাবেই ওবামা আমলের ২০১৫ সালের সেই পরমাণু চুক্তির পুনরাবৃত্তি চাইবেন না, যা তিনি তার প্রথম মেয়াদে বাতিল করেছিলেন।
অবশ্য হোয়াইট হাউজের মুখপাত্র অলিভিয়া ওয়েলস দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’তে তাদের সমস্ত সামরিক লক্ষ্য অর্জন করেছে বা তার চেয়েও বেশি সফল হয়েছে। তিনি যোগ করেন, ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের হাতেই সব কার্ড রয়েছে এবং তিনি বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে সব পথ খোলা রাখছেন।’
চাপ এবং হতাশা
ভুল বা অপ্রয়োজনীয় কোনো সামরিক হস্তক্ষেপে জড়াবেন না— এমন প্রতিশ্রুতি দিয়ে দ্বিতীয় মেয়াদের নির্বাচনি প্রচারণা চালিয়েছিলেন ট্রাম্প। কিন্তু এখন তিনি এমন এক জটিলতায় জড়িয়ে পড়েছেন যা বিদেশের মাটিতে তার পররাষ্ট্রনীতির রেকর্ড এবং মার্কিন নির্ভরযোগ্যতাকে দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।
আগামী নভেম্বরের মধ্যবর্তী (মিডটার্ম) নির্বাচনের আগে ট্রাম্প যখন এই অজনপ্রিয় যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েন, তখন থেকেই দেশে তীব্র জনঅসন্তুষ্টি তৈরি হয়। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে পেট্রোলের উচ্চ মূল্য এবং ট্রাম্পের কমতে থাকা জনপ্রিয়তার কারণে তিনি অভ্যন্তরীণভাবে প্রচণ্ড চাপে রয়েছেন। এর ওপর তার দল রিপাবলিকান পার্টি কংগ্রেসে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে রীতিমতো হিমশিম খাচ্ছে।
রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতির ছয় সপ্তাহ পেরিয়ে যাওয়ার পর বিশ্লেষকরা মনে করছেন ট্রাম্প এখন এক কঠিন সিদ্ধান্তের মুখোমুখি। হয় তাকে এই সংকট থেকে বের হওয়ার জন্য একটি ‘ত্রুটিপূর্ণ’ চুক্তি মেনে নিতে হবে, না হয় সামরিক উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে এক দীর্ঘমেয়াদি সংকটের ঝুঁকি নিতে হবে। যদি কূটনীতি ব্যর্থ হয়, তবে ট্রাম্পের সামনে একটি পথ খোলা থাকবে— তা হলো ইরানের ওপর কিছু তীব্র কিন্তু সীমিত আকারে বিমান হামলা চালানো এবং সেটাকেই ‘চূড়ান্ত বিজয়’ হিসেবে ঘোষণা করে এই অধ্যায়ের সমাপ্তি টানা।

বিশ্লেষকদের মতে, আরেকটি সম্ভাবনা হলো ট্রাম্প জনগণের মনোযোগ অন্যদিকে ঘুরিয়ে দিতে কিউবার দিকে নজর দিতে পারেন, যার ইঙ্গিত তিনি ইতোমধ্যে দিয়েছেন। এর মাধ্যমে তিনি আলোচনা ভিন্ন খাতে নিয়ে আরও একটি সহজ জয় পাওয়ার চেষ্টা করতে পারেন।
তবে তেমনটি হলে তিনি হয়তো হাভানার চ্যালেঞ্জগুলোকে ভুলভাবে মূল্যায়ন করে বসবেন। যেমনটা হোয়াইট হাউসের কিছু কর্মকর্তা ব্যক্তিগতভাবে স্বীকার করেছেন, ট্রাম্প শুরুতে ধরেই নিয়েছিলেন যে ইরানের বিরুদ্ধে অভিযানটি হয়তো গত ৩ জানুয়ারির ভেনেজুয়েলা অভিযানের মতোই সহজ হবে, যেখানে দেশটির প্রেসিডেন্টকে বন্দি করে সহজেই নতুন শাসক বসানো হয়েছিল।
অবশ্য ট্রাম্পের পক্ষেও সাফাই গাওয়ার লোক রয়েছে। ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদের সাবেক জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা এবং বর্তমানে ‘আমেরিকান গ্লোবাল স্ট্র্যাটেজিস’ কনসালটেন্সির প্রধান নির্বাহী আলেকজান্ডার গ্রে এই ধারণাকে প্রত্যাখ্যান করেছেন যে ট্রাম্পের ইরান নীতি ব্যর্থ হচ্ছে।
তার মতে, ইরানের সামরিক সক্ষমতাকে বড় ধরনের ধাক্কা দেওয়াটাই নিজেই একটি ‘কৌশগত সাফল্য’। এ ছাড়া এই যুদ্ধ উপসাগরীয় দেশগুলোকে চীনের কাছ থেকে দূরে সরিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের আরও কাছাকাছি নিয়ে এসেছে এবং ইরানের পরমাণু কর্মসূচির ভবিষ্যৎ কী হবে তা এখনও চূড়ান্ত হয়নি।
তবে নিজের অনুকূলে ন্যারেটিভ তৈরি করতে না পারার কারণে ট্রাম্পের ভেতরে এক ধরনের হতাশার লক্ষণ স্পষ্ট। তিনি ইতোমধ্যে তার সমালোচকদের তীব্র আক্রমণ করেছেন এবং মূলধারার সংবাদমাধ্যমগুলোর বিরুদ্ধে ‘রাষ্ট্রদ্রোহিতার’ অভিযোগ এনেছেন।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েলের সাথে মিলে ট্রাম্প যখন এই যুদ্ধ শুরু করেছিলেন, তখন তিনি সর্বোচ্চ ছয় সপ্তাহের একটি সময়সীমা বেঁধে দিয়েছিলেন। কিন্তু যুদ্ধ এখন তার চেয়ে দ্বিগুণ সময় ধরে চলছে। এই যুদ্ধে ট্রাম্পের কট্টর ‘মাগা’ সমর্থক গোষ্ঠী তার পাশে থাকলেও, রিপাবলিকান আইনপ্রণেতাদের মধ্যে যে একসময় একক সমর্থন ছিল, তাতে এখন ফাটল দেখা দিয়েছে।
যুদ্ধের শুরুতে মার্কিন বিমান হামলায় ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়, তাদের নৌবাহিনীর সক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত এবং বেশ কয়েকজন শীর্ষ নেতাকে হত্যা করা হয়। কিন্তু তেহরান এর জবাবে হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয়, যা বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম আকাশচুম্বী করে তোলে। একই সঙ্গে তারা ইসরায়েল ও উপসাগরীয় প্রতিবেশী দেশগুলোতে পালটা আঘাত হানে। পরবর্তীতে ট্রাম্প ইরানের বন্দরগুলো অবরুদ্ধ করার নির্দেশ দিলেও তা তেহরানকে বশ করতে পারেনি।
ইরানের নেতারাও ট্রাম্পের বিজয়ের দাবির বিপরীতে নিজস্ব প্রোপাগান্ডা বা প্রচারণা যুদ্ধ শুরু করেছেন। তারা মার্কিন অভিযানকে ‘শোচনীয় পরাজয়’ হিসেবে চিত্রিত করছেন, যদিও এটা স্পষ্ট যে ইরানি কর্মকর্তারাও তাদের নিজেদের সামরিক সক্ষমতাকে বাড়িয়ে দেখাচ্ছেন।

লক্ষ্য এখনো অধরা
যুদ্ধ শুরু করার সময় ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছিলেন যে তার লক্ষ্য হলো ইরানের পরমাণু কার্যক্রমের অগ্রগতি বন্ধ, মার্কিন স্বার্থের বিরুদ্ধে তাদের হুমকি দেওয়ার ক্ষমতা খর্ব এবং ইরানি জনগণের জন্য তাদের সরকারকে উৎখাত করার পথ সহজ করা। কিন্তু প্রায়শই বদলে যাওয়া ট্রাম্পের এই লক্ষ্যগুলোর একটিও অর্জিত হওয়ার কোনো লক্ষণ নেই এবং অনেক বিশ্লেষক বলছেন, এগুলো অর্জিত হওয়ার সম্ভাবনাও খুব কম।
মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক সাবেক মার্কিন গোয়েন্দা কর্মকর্তা জোনাথন প্যানিকফ বলেন, ইরান বড় ধরনের ক্ষতির সম্মুখীন হলেও দেশটির শাসকরা মনে করছেন মার্কিন হামলা থেকে স্রেফ টিকে যাওয়া এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের নৌ যোগাযোগে নিজেদের কতটা নিয়ন্ত্রণ রয়েছে তা প্রমাণ করতে পারাটাই তাদের জন্য বড় সাফল্য।
বর্তমানে ‘আটলান্টিক কাউন্সিল’ থিঙ্ক ট্যাংকের সঙ্গে যুক্ত প্যানিকফ বলেন, ‘ইরান বুঝতে পেরেছে যে তারা কোনো বড় পরিণতি ভোগ না করেই তাদের এই নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা ধরে রাখতে পারে।’ তিনি আরও যোগ করেন, ইরান এখন আত্মবিশ্বাসী যে তারা ট্রাম্পের চেয়ে অর্থনৈতিক চাপ বেশি সহ্য করার ক্ষমতা রাখে এবং ট্রাম্পের মেয়াদ শেষ হওয়া পর্যন্ত তারা টিকে থাকতে পারবে।
রয়টার্স বলছে, ট্রাম্পের প্রধান যুদ্ধংদেহী লক্ষ্য ইরানকে ‘সম্পূর্ণভাবে পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ’—তাও অপূর্ণ রয়ে গেছে এবং তেহরান তাদের কর্মসূচি গুটিয়ে নেওয়ার কোনো আগ্রহ দেখাচ্ছে না। গত জুনে মার্কিন ও ইসরায়েলি বিমান হামলার পরও তাদের উচ্চ মাত্রার সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম মাটির নিচে নিরাপদেই সংরক্ষিত রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে, যা যেকোনো সময় তুলে এনে বোমার উপযোগী করা সম্ভব। ইরান স্পষ্ট জানিয়েছে, বেসামরিক উদ্দেশ্যে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের অধিকার যুক্তরাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দিতে হবে।
পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলেছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা। দুই জ্যেষ্ঠ ইরানি কর্মকর্তা রয়টার্সকে নিশ্চিত করেছেন যে, মোজতবা খামেনি একটি নির্দেশনা জারি করেছেন যে দেশের অস্ত্রের কাছাকাছি মানের ইউরেনিয়াম কোনোভাবেই দেশের বাইরে পাঠানো হবে না।

কয়েকজন বিশ্লেষক মনে করছেন, এই যুদ্ধের কারণে ইরান পরমাণু অস্ত্র তৈরির প্রচেষ্টা আরও বাড়িয়ে দিতে পারে, যার লক্ষ্য হতে পারে পরমাণু শক্তিধর উত্তর কোরিয়ার মতো নিজেদের সুরক্ষিত করা। এ ছাড়া ইরানের প্রক্সি বা আঞ্চলিক সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে সমর্থন দেওয়া বন্ধ করার যে লক্ষ্য ট্রাম্প নির্ধারণ করেছিলেন, তাও পূরণ হয়নি।
ট্রাম্পের জন্য আরেকটি বড় চ্যালেঞ্জ হলো, যুদ্ধে ইরানের আগের নেতারা নিহত হওয়ার পর এখন যারা ক্ষমতায় এসেছেন, তারা আগের চেয়েও অনেক বেশি কট্টরপন্থি। যুদ্ধ-পরবর্তী সময়েও প্রতিবেশীদের জন্য হুমকি সৃষ্টি করার মতো যথেষ্ট পরিমাণ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন তাদের হাতে অক্ষত রয়েছে বলেই ধারণা করা হচ্ছে।
একই সঙ্গে ট্রাম্পকে তার ইউরোপীয় মিত্রদের সাথে সম্পর্ক অবনতির ধাক্কাও সামলাতে হচ্ছে। কারণ যে যুদ্ধ শুরুর আগে ইউরোপের সঙ্গে কোনো পরামর্শই করা হয়নি, সেই যুদ্ধে ট্রাম্পের সহায়তার আহ্বানকে তারা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, চীন ও রাশিয়াও এই সংঘাত থেকে বড় শিক্ষা নিয়েছে। তারা দেখছে কীভাবে ইরানের অপ্রতিসম কৌশলের বিরুদ্ধে মার্কিন সামরিক বাহিনীকে বেগ পেতে হচ্ছে এবং কীভাবে এই যুদ্ধের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব অস্ত্রভাণ্ডার ও গোলাবারুদের মজুত ফুরিয়ে আসছে।
মার্কিন থিংক ট্যাঙ্ক ব্রুকিংস ইনস্টিটিউশনের সিনিয়র ফেলো রবার্ট কেগান যুক্তি দেন, এই যুদ্ধের ফলাফল ভিয়েতনাম বা আফগানিস্তানের চেয়েও মার্কিন মর্যাদাকে বেশি ধূলিসাৎ করবে। কারণ ওই দেশগুলো বৈশ্বিক ভূ-রাজনীতি ও প্রতিযোগিতার মূল কেন্দ্রবিন্দু থেকে বেশ দূরে ছিল, যা ইরানের ক্ষেত্রে একদমই নয়।
দ্য আটলান্টিক ম্যাগাজিনের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত ‘চেকমেট ইন ইরান’ শিরোনামের এক নিবন্ধে কেগান লিখেছেন, ‘এখানে আগের অবস্থায় ফিরে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। যুক্তরাষ্ট্রের এমন কোনো চূড়ান্ত বিজয় আসবে না যা ইতোমধ্যে ঘটে যাওয়া ক্ষতিকে পুরোপুরি মুছে দেবে বা কাটিয়ে উঠতে সাহায্য করবে।’
রাজনীতি/আইআর

ইরানের বিরুদ্ধে চালানো সামরিক অভিযানের প্রায় প্রতিটি লড়াইয়েই হয়তো মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জিতে গেছেন। কিন্তু দেশটির ওপর হামলা শুরুর প্রায় তিন মাস পর এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্নটি সামনে এসেছে, ট্রাম্প কি শেষ পর্যন্ত এই যুদ্ধে হেরে যাচ্ছেন? বার্তা সংস্থা রয়টার্স এই পরিস্থিতির পুঙ্খানুপুঙ্খ বিশ্লেষণ করেছে।
শনিবার (২৩ মে) প্রকাশিত প্রতিবেদনে রয়টার্স জানায়, হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের শক্ত নিয়ন্ত্রণ, পরমাণু কর্মসূচিতে ছাড় দেওয়ার ক্ষেত্রে অনমনীয় মনোভাব এবং দেশটির ধর্মীয় শাসনব্যবস্থা মোটের ওপর অক্ষত থাকায় এখন মার্কিন প্রশাসনের ভেতরেই সন্দেহ দানা বাঁধছে। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর এই কৌশলগত সাফল্যগুলোকে ট্রাম্প আদৌ এমন কোনো ভূ-রাজনৈতিক বিজয়ে রূপান্তর করতে পারবেন কি না, যা তিনি বিশ্বমঞ্চে নিজের বড় জয় হিসেবে দাবি করতে পারেন— তা নিয়ে বড় প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
কয়েকজন বিশ্লেষক মনে করেন, ট্রাম্পের বারবার ‘পূর্ণাঙ্গ বিজয়ের’ দাবি ‘অর্থহীন’ প্রমাণিত হচ্ছে। কারণ উভয় পক্ষই এখন একদিকে অনিশ্চিত কূটনীতি, আর অন্যদিকে ট্রাম্পের ক্ষণে ক্ষণে দেওয়া হামলা শুরুর হুমকির দোলাচলে দুলছে। আর যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে হামলা চালালে পুরো মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে ইরান যে পালটা প্রতিশোধমূলক আঘাত হানবে, তা প্রায় নিশ্চিত।
পরিস্থিতি এখন এমন এক ঝুঁকিতে দাঁড়িয়েছে যেখানে সংঘাতের অবসানের পরে দেখা যেতে পারে যুক্তরাষ্ট্র এবং তার উপসাগরীয় আরব মিত্ররাই উলটো বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অন্যদিকে, সামরিক ও অর্থনৈতিকভাবে প্রচণ্ড বিপর্যস্ত হওয়ার পরও যুদ্ধ শেষে ইরান আরও সুবিধাজনক অবস্থানে চলে যেতে পারে; কারণ তেহরান ইতোমদ্ধে প্রমাণ করেছে, তারা বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাস সরবরাহের এক-পঞ্চমাংশ একাই আটকে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে।

অবশ্য যুদ্ধ অবসানে এখনো সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে শান্তি আলোচনা চলছে। কয়েকজন বিশেষজ্ঞের মতে, আলোচনা যদি ট্রাম্পের পক্ষে যায়, তবে তিনি হয়তো নিজের মান বাঁচানোর মতো একটি সম্মানজনক পথ খুঁজে পেতেও পারেন। তবে বিশ্লেষকদের অনেকেই যুদ্ধ-পরবর্তী ট্রাম্পের ভবিষ্যৎ নিয়ে বেশ ‘অন্ধকারাচ্ছন্ন পূর্বাভাস’ দিচ্ছেন।
রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট উভয় প্রশাসনের হয়ে মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক সাবেক কূটনীতিক হিসেবে দায়িত্ব পালন করা অ্যারন ডেভিড মিলার রয়টার্সকে বলেন, ‘যুদ্ধের তিন মাস পেরিয়ে গেছে। এখন মনে হচ্ছে, ট্রাম্প যে যুদ্ধটিকে একটি স্বল্পমেয়াদি সহজ জয় হিসেবে পরিকল্পনা করেছিলেন, তা শেষ পর্যন্ত একটি দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত ব্যর্থতায় পরিণত হতে যাচ্ছে।’
ট্রাম্পের জন্য বিষয়টি অত্যন্ত সংবেদনশীল। কারণ তিনি নিজেকে ‘পরাজিত’ দেখতে বা দেখাতে পছন্দ করেন না— যে শব্দটি তিনি প্রায়ই তার বিরোধীদের ঘায়েল করতে ব্যবহার করেন। ইরান সংকটে ট্রাম্প নিজেকে বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী সামরিক বাহিনীর কমান্ডার-ইন-চিফ হিসেবে আবির্ভূত করেছেন, যার প্রতিপক্ষ এমন একটি দ্বিতীয় সারির শক্তি যারা মনেপ্রাণে বিশ্বাস করে যে লড়াইয়ের নিয়ন্ত্রণ আসলে তাদের হাতেই।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এই জটিল পরিস্থিতি ট্রাম্পকে আরও জেদি করে তুলতে পারে। যেহেতু তিনি এখনও এই যুদ্ধের চূড়ান্ত কোনো শেষ (এন্ডগেম) নির্ধারণ করতে পারেননি, তাই তিনি এমন কোনো আপস করতে চাইবেন না যা দেখতে পিছু হটার মতো মনে হয়। কিংবা তিনি কোনোভাবেই ওবামা আমলের ২০১৫ সালের সেই পরমাণু চুক্তির পুনরাবৃত্তি চাইবেন না, যা তিনি তার প্রথম মেয়াদে বাতিল করেছিলেন।
অবশ্য হোয়াইট হাউজের মুখপাত্র অলিভিয়া ওয়েলস দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’তে তাদের সমস্ত সামরিক লক্ষ্য অর্জন করেছে বা তার চেয়েও বেশি সফল হয়েছে। তিনি যোগ করেন, ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের হাতেই সব কার্ড রয়েছে এবং তিনি বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে সব পথ খোলা রাখছেন।’
চাপ এবং হতাশা
ভুল বা অপ্রয়োজনীয় কোনো সামরিক হস্তক্ষেপে জড়াবেন না— এমন প্রতিশ্রুতি দিয়ে দ্বিতীয় মেয়াদের নির্বাচনি প্রচারণা চালিয়েছিলেন ট্রাম্প। কিন্তু এখন তিনি এমন এক জটিলতায় জড়িয়ে পড়েছেন যা বিদেশের মাটিতে তার পররাষ্ট্রনীতির রেকর্ড এবং মার্কিন নির্ভরযোগ্যতাকে দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।
আগামী নভেম্বরের মধ্যবর্তী (মিডটার্ম) নির্বাচনের আগে ট্রাম্প যখন এই অজনপ্রিয় যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েন, তখন থেকেই দেশে তীব্র জনঅসন্তুষ্টি তৈরি হয়। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে পেট্রোলের উচ্চ মূল্য এবং ট্রাম্পের কমতে থাকা জনপ্রিয়তার কারণে তিনি অভ্যন্তরীণভাবে প্রচণ্ড চাপে রয়েছেন। এর ওপর তার দল রিপাবলিকান পার্টি কংগ্রেসে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে রীতিমতো হিমশিম খাচ্ছে।
রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতির ছয় সপ্তাহ পেরিয়ে যাওয়ার পর বিশ্লেষকরা মনে করছেন ট্রাম্প এখন এক কঠিন সিদ্ধান্তের মুখোমুখি। হয় তাকে এই সংকট থেকে বের হওয়ার জন্য একটি ‘ত্রুটিপূর্ণ’ চুক্তি মেনে নিতে হবে, না হয় সামরিক উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে এক দীর্ঘমেয়াদি সংকটের ঝুঁকি নিতে হবে। যদি কূটনীতি ব্যর্থ হয়, তবে ট্রাম্পের সামনে একটি পথ খোলা থাকবে— তা হলো ইরানের ওপর কিছু তীব্র কিন্তু সীমিত আকারে বিমান হামলা চালানো এবং সেটাকেই ‘চূড়ান্ত বিজয়’ হিসেবে ঘোষণা করে এই অধ্যায়ের সমাপ্তি টানা।

বিশ্লেষকদের মতে, আরেকটি সম্ভাবনা হলো ট্রাম্প জনগণের মনোযোগ অন্যদিকে ঘুরিয়ে দিতে কিউবার দিকে নজর দিতে পারেন, যার ইঙ্গিত তিনি ইতোমধ্যে দিয়েছেন। এর মাধ্যমে তিনি আলোচনা ভিন্ন খাতে নিয়ে আরও একটি সহজ জয় পাওয়ার চেষ্টা করতে পারেন।
তবে তেমনটি হলে তিনি হয়তো হাভানার চ্যালেঞ্জগুলোকে ভুলভাবে মূল্যায়ন করে বসবেন। যেমনটা হোয়াইট হাউসের কিছু কর্মকর্তা ব্যক্তিগতভাবে স্বীকার করেছেন, ট্রাম্প শুরুতে ধরেই নিয়েছিলেন যে ইরানের বিরুদ্ধে অভিযানটি হয়তো গত ৩ জানুয়ারির ভেনেজুয়েলা অভিযানের মতোই সহজ হবে, যেখানে দেশটির প্রেসিডেন্টকে বন্দি করে সহজেই নতুন শাসক বসানো হয়েছিল।
অবশ্য ট্রাম্পের পক্ষেও সাফাই গাওয়ার লোক রয়েছে। ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদের সাবেক জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা এবং বর্তমানে ‘আমেরিকান গ্লোবাল স্ট্র্যাটেজিস’ কনসালটেন্সির প্রধান নির্বাহী আলেকজান্ডার গ্রে এই ধারণাকে প্রত্যাখ্যান করেছেন যে ট্রাম্পের ইরান নীতি ব্যর্থ হচ্ছে।
তার মতে, ইরানের সামরিক সক্ষমতাকে বড় ধরনের ধাক্কা দেওয়াটাই নিজেই একটি ‘কৌশগত সাফল্য’। এ ছাড়া এই যুদ্ধ উপসাগরীয় দেশগুলোকে চীনের কাছ থেকে দূরে সরিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের আরও কাছাকাছি নিয়ে এসেছে এবং ইরানের পরমাণু কর্মসূচির ভবিষ্যৎ কী হবে তা এখনও চূড়ান্ত হয়নি।
তবে নিজের অনুকূলে ন্যারেটিভ তৈরি করতে না পারার কারণে ট্রাম্পের ভেতরে এক ধরনের হতাশার লক্ষণ স্পষ্ট। তিনি ইতোমধ্যে তার সমালোচকদের তীব্র আক্রমণ করেছেন এবং মূলধারার সংবাদমাধ্যমগুলোর বিরুদ্ধে ‘রাষ্ট্রদ্রোহিতার’ অভিযোগ এনেছেন।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েলের সাথে মিলে ট্রাম্প যখন এই যুদ্ধ শুরু করেছিলেন, তখন তিনি সর্বোচ্চ ছয় সপ্তাহের একটি সময়সীমা বেঁধে দিয়েছিলেন। কিন্তু যুদ্ধ এখন তার চেয়ে দ্বিগুণ সময় ধরে চলছে। এই যুদ্ধে ট্রাম্পের কট্টর ‘মাগা’ সমর্থক গোষ্ঠী তার পাশে থাকলেও, রিপাবলিকান আইনপ্রণেতাদের মধ্যে যে একসময় একক সমর্থন ছিল, তাতে এখন ফাটল দেখা দিয়েছে।
যুদ্ধের শুরুতে মার্কিন বিমান হামলায় ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়, তাদের নৌবাহিনীর সক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত এবং বেশ কয়েকজন শীর্ষ নেতাকে হত্যা করা হয়। কিন্তু তেহরান এর জবাবে হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয়, যা বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম আকাশচুম্বী করে তোলে। একই সঙ্গে তারা ইসরায়েল ও উপসাগরীয় প্রতিবেশী দেশগুলোতে পালটা আঘাত হানে। পরবর্তীতে ট্রাম্প ইরানের বন্দরগুলো অবরুদ্ধ করার নির্দেশ দিলেও তা তেহরানকে বশ করতে পারেনি।
ইরানের নেতারাও ট্রাম্পের বিজয়ের দাবির বিপরীতে নিজস্ব প্রোপাগান্ডা বা প্রচারণা যুদ্ধ শুরু করেছেন। তারা মার্কিন অভিযানকে ‘শোচনীয় পরাজয়’ হিসেবে চিত্রিত করছেন, যদিও এটা স্পষ্ট যে ইরানি কর্মকর্তারাও তাদের নিজেদের সামরিক সক্ষমতাকে বাড়িয়ে দেখাচ্ছেন।

লক্ষ্য এখনো অধরা
যুদ্ধ শুরু করার সময় ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছিলেন যে তার লক্ষ্য হলো ইরানের পরমাণু কার্যক্রমের অগ্রগতি বন্ধ, মার্কিন স্বার্থের বিরুদ্ধে তাদের হুমকি দেওয়ার ক্ষমতা খর্ব এবং ইরানি জনগণের জন্য তাদের সরকারকে উৎখাত করার পথ সহজ করা। কিন্তু প্রায়শই বদলে যাওয়া ট্রাম্পের এই লক্ষ্যগুলোর একটিও অর্জিত হওয়ার কোনো লক্ষণ নেই এবং অনেক বিশ্লেষক বলছেন, এগুলো অর্জিত হওয়ার সম্ভাবনাও খুব কম।
মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক সাবেক মার্কিন গোয়েন্দা কর্মকর্তা জোনাথন প্যানিকফ বলেন, ইরান বড় ধরনের ক্ষতির সম্মুখীন হলেও দেশটির শাসকরা মনে করছেন মার্কিন হামলা থেকে স্রেফ টিকে যাওয়া এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের নৌ যোগাযোগে নিজেদের কতটা নিয়ন্ত্রণ রয়েছে তা প্রমাণ করতে পারাটাই তাদের জন্য বড় সাফল্য।
বর্তমানে ‘আটলান্টিক কাউন্সিল’ থিঙ্ক ট্যাংকের সঙ্গে যুক্ত প্যানিকফ বলেন, ‘ইরান বুঝতে পেরেছে যে তারা কোনো বড় পরিণতি ভোগ না করেই তাদের এই নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা ধরে রাখতে পারে।’ তিনি আরও যোগ করেন, ইরান এখন আত্মবিশ্বাসী যে তারা ট্রাম্পের চেয়ে অর্থনৈতিক চাপ বেশি সহ্য করার ক্ষমতা রাখে এবং ট্রাম্পের মেয়াদ শেষ হওয়া পর্যন্ত তারা টিকে থাকতে পারবে।
রয়টার্স বলছে, ট্রাম্পের প্রধান যুদ্ধংদেহী লক্ষ্য ইরানকে ‘সম্পূর্ণভাবে পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ’—তাও অপূর্ণ রয়ে গেছে এবং তেহরান তাদের কর্মসূচি গুটিয়ে নেওয়ার কোনো আগ্রহ দেখাচ্ছে না। গত জুনে মার্কিন ও ইসরায়েলি বিমান হামলার পরও তাদের উচ্চ মাত্রার সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম মাটির নিচে নিরাপদেই সংরক্ষিত রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে, যা যেকোনো সময় তুলে এনে বোমার উপযোগী করা সম্ভব। ইরান স্পষ্ট জানিয়েছে, বেসামরিক উদ্দেশ্যে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের অধিকার যুক্তরাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দিতে হবে।
পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলেছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা। দুই জ্যেষ্ঠ ইরানি কর্মকর্তা রয়টার্সকে নিশ্চিত করেছেন যে, মোজতবা খামেনি একটি নির্দেশনা জারি করেছেন যে দেশের অস্ত্রের কাছাকাছি মানের ইউরেনিয়াম কোনোভাবেই দেশের বাইরে পাঠানো হবে না।

কয়েকজন বিশ্লেষক মনে করছেন, এই যুদ্ধের কারণে ইরান পরমাণু অস্ত্র তৈরির প্রচেষ্টা আরও বাড়িয়ে দিতে পারে, যার লক্ষ্য হতে পারে পরমাণু শক্তিধর উত্তর কোরিয়ার মতো নিজেদের সুরক্ষিত করা। এ ছাড়া ইরানের প্রক্সি বা আঞ্চলিক সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে সমর্থন দেওয়া বন্ধ করার যে লক্ষ্য ট্রাম্প নির্ধারণ করেছিলেন, তাও পূরণ হয়নি।
ট্রাম্পের জন্য আরেকটি বড় চ্যালেঞ্জ হলো, যুদ্ধে ইরানের আগের নেতারা নিহত হওয়ার পর এখন যারা ক্ষমতায় এসেছেন, তারা আগের চেয়েও অনেক বেশি কট্টরপন্থি। যুদ্ধ-পরবর্তী সময়েও প্রতিবেশীদের জন্য হুমকি সৃষ্টি করার মতো যথেষ্ট পরিমাণ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন তাদের হাতে অক্ষত রয়েছে বলেই ধারণা করা হচ্ছে।
একই সঙ্গে ট্রাম্পকে তার ইউরোপীয় মিত্রদের সাথে সম্পর্ক অবনতির ধাক্কাও সামলাতে হচ্ছে। কারণ যে যুদ্ধ শুরুর আগে ইউরোপের সঙ্গে কোনো পরামর্শই করা হয়নি, সেই যুদ্ধে ট্রাম্পের সহায়তার আহ্বানকে তারা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, চীন ও রাশিয়াও এই সংঘাত থেকে বড় শিক্ষা নিয়েছে। তারা দেখছে কীভাবে ইরানের অপ্রতিসম কৌশলের বিরুদ্ধে মার্কিন সামরিক বাহিনীকে বেগ পেতে হচ্ছে এবং কীভাবে এই যুদ্ধের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব অস্ত্রভাণ্ডার ও গোলাবারুদের মজুত ফুরিয়ে আসছে।
মার্কিন থিংক ট্যাঙ্ক ব্রুকিংস ইনস্টিটিউশনের সিনিয়র ফেলো রবার্ট কেগান যুক্তি দেন, এই যুদ্ধের ফলাফল ভিয়েতনাম বা আফগানিস্তানের চেয়েও মার্কিন মর্যাদাকে বেশি ধূলিসাৎ করবে। কারণ ওই দেশগুলো বৈশ্বিক ভূ-রাজনীতি ও প্রতিযোগিতার মূল কেন্দ্রবিন্দু থেকে বেশ দূরে ছিল, যা ইরানের ক্ষেত্রে একদমই নয়।
দ্য আটলান্টিক ম্যাগাজিনের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত ‘চেকমেট ইন ইরান’ শিরোনামের এক নিবন্ধে কেগান লিখেছেন, ‘এখানে আগের অবস্থায় ফিরে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। যুক্তরাষ্ট্রের এমন কোনো চূড়ান্ত বিজয় আসবে না যা ইতোমধ্যে ঘটে যাওয়া ক্ষতিকে পুরোপুরি মুছে দেবে বা কাটিয়ে উঠতে সাহায্য করবে।’
রাজনীতি/আইআর

আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়ার পরও দীর্ঘদিন খুচরা পর্যায়ে মূল্যবৃদ্ধি না করলেও, শেষ পর্যন্ত ভর্তুকির চাপ সামলাতে না পেরে টানা তিন দফায় লিটারপ্রতি প্রায় ৫ রুপি পর্যন্ত বাড়াতে বাধ্য হলো ভারত সরকার।
৭ ঘণ্টা আগে
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের প্রক্রিয়াতে এক বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে ট্রাম্প প্রশাসন। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, যারা গ্রিন কার্ডের জন্য আবেদন করছেন, তাদের আবেদনের পুরো প্রক্রিয়াকালীন যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে থাকতে হবে।
৭ ঘণ্টা আগে
শানসি প্রদেশকে চীনের কয়লা খনির প্রধান কেন্দ্র হিসেবে ধরা হয়। যদিও সাম্প্রতিক দশকগুলোতে খনির নিরাপত্তা কিছুটা উন্নত হয়েছে, তবুও নিরাপত্তা বিধি যথাযথভাবে মানা না হওয়ায় দেশটিতে এখনও প্রায়ই খনি দুর্ঘটনা ঘটে।
৮ ঘণ্টা আগে
হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র আনা কেলি সিবিএস নিউজকে বলেন, "ট্রাম্প তার সীমারেখা খুব স্পষ্টভাবে নির্ধারণ করেছেন: ইরান কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে পারবে না এবং তারা সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামও রাখতে পারবে না।"
৮ ঘণ্টা আগে