কিউবার ওপর ট্রাম্পের নজিরবিহীন চাপ, নেপথ্য সমীকরণ কী?

ডেস্ক, রাজনীতি ডটকম
দীর্ঘ কয়েক দশক ধরেই এক বৈরী সম্পর্কে জড়িয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও কিউবা। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র ও কিউবার মধ্যকার সম্পর্ক দীর্ঘ কয়েক দশক ধরেই বৈরী ও ভঙ্গুর। সম্প্রতি এই দুই প্রতিবেশীর সম্পর্ক দ্রুত আরও চরম অবনতির দিকে মোড় নিয়েছে। কিউবাকে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য এক ‘বড় হুমকি’ আখ্যা দিয়ে ওয়াশিংটন দেশটির ওপর একের পর এক কঠোর নিষেধাজ্ঞা ও তেল অবরোধ আরোপ করছে। সবশেষ যোগ হয়েছে দেশটির সাবেক প্রসিডেন্ট রাউল কাস্ত্রোর বিরুদ্ধে তিন মার্কিন নাগরিক হত্যা মামলা।

ওয়াশিংটন ইতোমধ্যে সতর্কবার্তা দিয়ে বলেছে, ক্যারিবীয় দ্বীপরাষ্ট্র কিউবার সঙ্গে কোনো শান্তিপূর্ণ চুক্তিতে পৌঁছানোর সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ। অন্যদিকে কিউবার দাবি, তাদের দেশে সামরিক আগ্রাসন চালানোর একটি অজুহাত তৈরি করতেই যুক্তরাষ্ট্র এই ‘কাল্পনিক’ আইনি মামলা সাজিয়েছে।

কিন্তু কিউবার ওপর ট্রাম্প প্রশাসনের এই আকস্মিক চাপ প্রয়োগের আসল কারণ কী? আর এর প্রতিক্রিয়ায় হাভানাই বা কী করছে? এক বিশ্লেষণধর্মী প্রতিবেদনে এসব প্রশ্নের উত্তর খোঁজার চেষ্টা করেছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম বিবিসি।

যুক্তরাষ্ট্র কি কিউবায় সামরিক অভিযান চালাবে?

দ্বিতীয় মেয়াদে হোয়াইট হাউজে ফেরার পর থেকেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কিউবার বর্তমান রাজনৈতিক নেতৃত্বকে উপড়ে ফেলার ইচ্ছা স্পষ্ট করেছেন। তিনি একাধিকবার জনসমক্ষে বলেছেন, কিউবা এখন ‘পতনের মুখে দাঁড়িয়ে’। গত মার্চ মাসেও ট্রাম্প মন্তব্য করেছেন, দেশটি ‘গভীর সংকটে’ রয়েছে এবং তিনি সেখানে একটি ‘মার্কিন অনুগত সরকার প্রতিষ্ঠার’র হুমকিও দেন।

বিবিসি বলছে, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এখনো পর্যন্ত কিউবায় সরাসরি কোনো সামরিক অভিযানের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়নি। তবে ক্যারিবীয় অঞ্চলে মার্কিন নজরদারি তৎপরতা নাটকীয়ভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় কিউবা এখন চরম সতর্ক ও আতঙ্কের মধ্যে রয়েছে।

গত এক সপ্তাহ ধরে মার্কিন সামরিক বাহিনী বিমান ট্র্যাকিং ওয়েবসাইটগুলোতে কিউবার কাছাকাছি এলাকায় তাদের যুদ্ধবিমানের অবস্থান প্রকাশ্যে প্রদর্শন করছে। বিমানের এই ‘ট্রান্সপন্ডার’ ইচ্ছাকৃতভাবেই চালু রাখা হয়েছে বলে মনে করেন যুক্তরাজ্যের ড্রোন বিশেষজ্ঞ ড. স্টিভ রাইট। তার মতে, ‘যুক্তরাষ্ট্র এর মাধ্যমে একটি স্পষ্ট বার্তা দিতে চায় যে আকাশে তাদের সার্বক্ষণিক নজরদারি রয়েছে এবং তারা কিউবাকে চারপাশ থেকে চেপে ধরেছে।’ তবে এই ট্র্যাকিং ডেটা পুরো চিত্র তুলে ধরে না, কারণ সামরিক বিমানগুলো প্রায়শই যাত্রার একটা নির্দিষ্ট অংশে তাদের অবস্থান গোপন রাখে।

এরই মধ্যে মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস গোপন গোয়েন্দা তথ্যের বরাত দিয়ে একটি চাঞ্চল্যকর প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। সেখানে দাবি করা হয়েছে, কিউবার কাছে প্রায় ৩০০টি ড্রোন রয়েছে এবং দেশটি গুয়ানতানামো বে, ফ্লোরিডার কি ওয়েস্ট দ্বীপ এবং মার্কিন নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজসহ কাছাকাছি মার্কিন লক্ষ্যবস্তুগুলোতে আঘাত হানার পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করছে।

অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনে এক মার্কিন কর্মকর্তার বরাতে আরও দাবি করা হয় যে, ইরানি সামরিক উপদেষ্টারা বর্তমানে হাভানায় অবস্থান করছেন। তবে এই ধরনের গোয়েন্দা তথ্যকে মূলত মার্কিন সামরিক হস্তক্ষেপের একটি অজুহাত হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।

এই দাবির তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে কিউবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্রুনো রদ্রিগেজ বলেছেন, তার দেশ ‘কাউকে হুমকিও দেয় না, আর যুদ্ধও চায় না’। তিনি ওয়াশিংটনের বিরুদ্ধে সামরিক আগ্রাসনের জন্য ‘ভুয়া গল্প সাজানো’র অভিযোগ তোলেন।

এদিকে গত বৃহস্পতিবার মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানান, হোয়াইট হাউজ মূলত একটি ‘কূটনৈতিক সমাধান’ চায়। তবে তিনি এ-ও বলেন, যেকোনো হুমকির বিরুদ্ধে নিজের দেশকে রক্ষা করার অধিকার ও বাধ্যবাধকতা ট্রাম্পের রয়েছে। কিউবাকে ‘জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি’ হিসেবে বর্ণনা করে রুবিও বলেন, দেশটির সাথে কোনো শান্তিপূর্ণ সমঝোতায় পৌঁছানোর সম্ভাবনা একেবারেই কম। এর জবাবে রদ্রিগেজ অভিযোগ করেন, রুবিও মূলত একটি ‘সামরিক আগ্রাসন উসকে দেওয়া’র চেষ্টা করছেন এবং মার্কিন প্রশাসন ‘নিষ্ঠুর ও সুশৃঙ্খলভাবে’ কিউবার ওপর দোষ চাপাচ্ছে।

কিউবার ক্ষমতার অভ্যন্তরীণ সমীকরণ

বিশ্বের অধিকাংশ দেশের মতোই কিউবাতেও একজন প্রেসিডেন্ট ও একজন প্রধানমন্ত্রী রয়েছেন। তবে দেশটির শাসনব্যবস্থার ক্ষমতার স্তরটি বেশ ভিন্ন, যার কেন্দ্রে এখনো জড়িয়ে আছে ক্যারিবীয় অঞ্চলের সবচেয়ে প্রভাবশালী নাম— ফিদেল কাস্ত্রো।

কিউবার ক্ষমতাসীন কমিউনিস্ট পার্টির নেতারা নিজেদের ফিদেল কাস্ত্রোর ১৯৫৯ সালের ঐতিহাসিক কিউবান বিপ্লবের উত্তরাধিকারী মনে করেন, যে বিপ্লবের মাধ্যমে মার্কিনপন্থি স্বৈরশাসক ফুলহেনসিও বাতিস্তাকে ক্ষমতাচ্যুত করে দেশটিতে ‘সাম্রাজ্যবাদবিরোধী’ শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। এই কারণে ফিদেল কাস্ত্রোর ছোট ভাই সাবেক প্রেসিডেন্ট রাউল কাস্ত্রোর বিরুদ্ধে মার্কিন আইনি পদক্ষেপকে কিউবার একদলীয় কমিউনিস্ট ব্যবস্থার মূল স্তম্ভের ওপর এক ইচ্ছাকৃত আঘাত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

প্রায় ৯৫ বছর বয়সী রাউল কাস্ত্রো বর্তমানে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘কিউবান বিপ্লবের নেতা’ উপাধিতে ভূষিত। শারীরিক অসুস্থতার কারণে ফিদেল কাস্ত্রো ২০০৮ সালে রাউলের কাছে প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব হস্তান্তর করেন। পরবর্তী ১০ বছর, অর্থাৎ ২০১৮ সাল পর্যন্ত রাউল কাস্ত্রো এই পদে বহাল ছিলেন।

বর্তমানে ৬৬ বছর বয়সী মিগুয়েল দিয়াজ ক্যানেল কিউবার প্রেসিডেন্টের পদের পাশাপাশি কমিউনিস্ট পার্টিরও নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তবে দেশের সামরিক ও গোয়েন্দা বিভাগে আসল ক্ষমতার প্রতীক এবং শ্রদ্ধার জায়গাটি এখনো কাস্ত্রো পরিবারের নামেই সমর্পিত। আর এই সামরিক ও নিরাপত্তা বাহিনীই মূলত কিউবার অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা রক্ষা এবং ভিন্নমত দমনসহ অর্থনীতির বড় অংশ নিয়ন্ত্রণ করে।

কূটনৈতিক মহল বলছে, ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে কিউবার পর্দার আড়ালের যোগাযোগগুলোতেও রাউল কাস্ত্রোর ৪১ বছর বয়সী নাতি ও তার নিরাপত্তাব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত রাউল গিলারমো রদ্রিগেজ কাস্ত্রোর উপস্থিতি দেখা গেছে। তিনি কিউবায় ‘রাউলিতো’ (ছোট রাউল) নামে পরিচিত। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এই কর্মকর্তা সরকারের কোনো আনুষ্ঠানিক পদে না থাকলেও তাকে তার নানার ‘কান’ বলে গণ্য করা হয়।

অবশ্য প্রেসিডেন্ট দিয়াজ ক্যানেল ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, দেশটির উচ্চপদস্ত রাজনৈতিক ও সামরিক কর্মকর্তাদের মধ্যে যৌথ সিদ্ধান্ত নেওয়ার একটি প্রক্রিয়া রয়েছে। এই কর্মকর্তাদের মধ্যে ৬২ বছর বয়সী প্রধানমন্ত্রী ম্যানুয়েল মারেরো ক্রুজ একজন কাস্ত্রো অনুগত সামরিক টেকনোক্র্যাট এবং ৬৮ বছর বয়সী পররাষ্ট্রমন্ত্রী রদ্রিগেজ বিশ্বমঞ্চে সরকারের প্রধান কণ্ঠস্বর। প্রধানমন্ত্রী মারেরো মূলত কিউবার সামরিক বাহিনীর দ্বারা পরিচালিত সামরিক-বাণিজ্যিক জোট ‘গায়েসা’র সাথে যুক্ত, যা কিউবার সামরিক ও রাজনৈতিক প্রভাবশালীদের অর্থনৈতিক শক্তির মূল উৎস হিসেবে কাজ করে।

গত ২০ মে কিউবার জনগণের উদ্দেশ্যে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এই ক্ষমতা কাঠামোর ওপর তীব্র আক্রমণ করে বলেন, “কিউবা কোনো বিপ্লব দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে না। কিউবা নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে ‘গায়েসা’ নামক একটি রাষ্ট্রের ভেতরের রাষ্ট্র দ্বারা।” তিনি আরও অভিযোগ করেন, এই ‘দুর্নীতিবাজ ও অযোগ্য’ শাসকগোষ্ঠী দেশের সংস্কারের পথ বন্ধ করে দিচ্ছে এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

কেন রাউল কাস্ত্রোর বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ?

রাউল কাস্ত্রোর বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের আনা এই সাম্প্রতিক অভিযোগটি মূলত ৩০ বছর আগের এক ঐতিহাসিক ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কিত। ১৯৯৬ সালে কিউবান প্রবাসীদের মায়ামিভিত্তিক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘ব্রাদার্স টু দ্য রেসকিউ’র দুটি বেসামরিক উড়োজাহাজ কিউবার যুদ্ধবিমান দিয়ে গুলি করে ভূপাতিত করা হয়েছিল।

ওই ঘটনায় বিমানের ভেতরে থাকা চারজন নিহত হন, যাদের মধ্যে তিনজনই ছিলেন মার্কিন নাগরিক। রাউল কাস্ত্রো তখন কিউবার সশস্ত্র বাহিনী মন্ত্রী এবং তার বড় ভাই ফিদেল কাস্ত্রো সরকারের অন্যতম প্রভাবশালী ব্যক্তি ছিলেন। ওয়াশিংটন তখন অভিযোগ করেছিল, কিউবা আন্তর্জাতিক জলসীমায় বেআইনিভাবে বেসামরিক বিমানকে লক্ষ্যবস্তু করেছে।

বিশ্বের অন্যান্য দেশও এই ঘটনার নিন্দা জানিয়েছিল। তবে হাভানা দাবি করে আসছিল যে, ঘটনাটি তাদের নিজস্ব আকাশসীমায় ঘটেছিল এবং ‘নির্বাসিত’দের সংগঠন ‘ব্রাদার্স টু দ্য রেসকিউ’ বারবার কিউবার আকাশসীমা লঙ্ঘন করায় তা জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছিল।

গত সপ্তাহে রাউল কাস্ত্রোসহ আরও পাঁচজনের বিরুদ্ধে মার্কিন আদালতে মার্কিন নাগরিকদের হত্যা ও বিমান ধ্বংসের ষড়যন্ত্রসহ একাধিক ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। দোষী সাব্যস্ত হলে তার যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বা মৃত্যুদণ্ড হতে পারে।

এই অভিযোগের ঘোষণা দিয়ে মার্কিন ভারপ্রাপ্ত অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্ল্যাঞ্চ বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র তার নাগরিকদের ভুলে যায় না এবং কখনো ভুলবে না।’ তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এর মাধ্যমে মূলত কিউবার সবচেয়ে স্পর্শকাতর জায়গায় আঘাত করেছে মার্কিন প্রশাসন।

প্রেসিডেন্ট দিয়াজ ক্যানেল এই মামলার কঠোর নিন্দা জানিয়ে একে ‘রাজনৈতিক চালবাজি ও আইনি ভিত্তিহীন’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। তিনি বলেন, কিউবা তার জলসীমায় ‘বৈধ আত্মরক্ষার স্বার্থে’ সেই উড়োজাহাজ দুটি ভূপাতিত করেছিল এবং সাম্প্রতিক এই মামলা মূলত কিউবার ওপর ‘সামরিক আগ্রাসনের পাগলামি’কে বৈধতা দেওয়ার জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে।

তেল অবরোধ ও নিষেধাজ্ঞায় বিপর্যস্ত কিউবা

ওয়াশিংটনের সবচেয়ে বড় চাপটি আসছে মূলত তাদের জ্বালানি তেল অবরোধ ও অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে। দীর্ঘ কয়েক মাস ধরে কিউবা মারাত্মক বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের মুখোমুখি হচ্ছে, যার মূল কারণ তীব্র জ্বালানি সংকট।

অতীতে ভেনেজুয়েলা এবং মেক্সিকো কিউবার তেলের প্রধান সরবরাহকারী ছিল। কিন্তু গত জানুয়ারি মাসে মার্কিন সামরিক বাহিনী ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্টকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর এবং ট্রাম্প কিউবায় তেল পাঠানো দেশগুলোর ওপর চড়া শুল্ক আরোপের হুমকি দেওয়ায় সেই সরবরাহ প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। ওয়াশিংটন কিউবামুখী বেশ কয়েকটি তেলের জাহাজ ইতোমধ্যে জব্দ করেছে। অবরোধ আরোপের পর থেকে এ পর্যন্ত কেবল রাশিয়ার একটি তেলের ট্যাঙ্কার কিউবায় পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছে।

জ্বালানি, খাদ্য এবং ওষুধের তীব্র সংকটে কিউবার জনগণের মধ্যে ক্ষোভের পারদ ক্রমেই বাড়ছে। দেশটি হাসপাতালগুলো সচল রাখতে হিমশিম খাচ্ছে, বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে স্কুল ও সরকারি দপ্তর। এর ফলে রাজধানী হাভানার রাস্তায় নেমে এসেছে হাজারো বিক্ষোভকারী। গত বুধবার এক বিক্ষোভে তারা আবর্জনা জ্বালিয়ে রাস্তা অবরোধ করে এবং সরকারবিরোধী নানা স্লোগান দেয়।

চলতি মাসে মার্কিন প্রশাসন কিউবার জ্বালানি, প্রতিরক্ষা, অর্থ ও নিরাপত্তা খাতের একাধিক শীর্ষ কর্মকর্তার ওপর মানবাধিকার লঙ্ঘন ও দুর্নীতির অভিযোগে নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। একই সময়ে ওয়াশিংটন কিউবার জন্য ১০০ মিলিয়ন ডলারের মানবিক সহায়তার প্রস্তাব দিলেও শর্ত দিয়েছে যে, এই অর্থ কিউবা সরকারের হাত এড়িয়ে সরাসরি ক্যাথলিক চার্চ এবং স্বাধীন দাতব্য সংস্থার মাধ্যমে জনগণের কাছে পৌঁছাতে হবে।

ওয়াশিংটনের দাবি, কিউবা এই সাহায্য প্রত্যাখ্যান করেছে। তবে কিউবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, ‘সদিচ্ছায় দেওয়া’ কোনো সাহায্য তারা ফেরান না; কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের যদি সত্যি সাহায্য করার ইচ্ছা থাকে, তবে তাদের উচিত প্রথমে এই ‘অমানবিক’ তেল অবরোধ তুলে নেওয়া।

হুংকার ও মিত্রদের সমর্থন

গত মার্চ মাসে দুই দেশের মধ্যে পর্দার আড়ালে কিছু অনানুষ্ঠানিক আলোচনার কথা নিশ্চিত করা হলেও, মার্কিন চাপের মুখে কিউবার প্রতিক্রিয়া মূলত কড়া বিবৃতিতেই সীমাবদ্ধ রয়েছে।

প্রেসিডেন্ট দিয়াজ ক্যানেল যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপকে কিউবান জনগণের ওপর এক ধরনের ‘সম্মিলিত শাস্তি’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি এই অবরোধের অবসান দাবি করে বলেন, এটি মূলত ‘বিশ্বের সবচেয়ে বড় সামরিক শক্তির এক দাম্ভিক ও হুমকিমূলক আচরণ’।

এ ছাড়া সীমান্তের কাছে ‘কথিত’ ড্রোন সমাবেশের মার্কিন দাবিকে প্রত্যাখ্যান করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী রদ্রিগেজ বলেন, এটি কিউবার বিরুদ্ধে একটি ‘নিষ্ঠুর অর্থনৈতিক যুদ্ধ’ এবং ‘সামরিক আগ্রাসনে’র পটভূমি তৈরির মার্কিন অপচেষ্টা মাত্র। তবে তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, কিউবা যুদ্ধ না চাইলেও যেকোনো বহিরাগত আগ্রাসন মোকাবিলায় নিজেদের প্রস্তুত রাখছে।

এদিকে, কিউবার দীর্ঘদিনের দুই শক্তিশালী মিত্র চীন ও রাশিয়া এই সংকটে হাভানার পাশে দাঁড়িয়েছে এবং মার্কিন চাপের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে তাদের মিত্রের বিরুদ্ধে ‘জোরজুলুম ও হুমকি’ বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছে। অন্যদিকে ক্রেমলিনের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, কিউবার ওপর ওয়াশিংটন যে ধরনের চাপ সৃষ্টি করছে, তা ‘সহিংসতার শামিল’।

রাজনীতি/আইআর

ad
ad

বিশ্ব রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন

অর্ধেক ভোটিং মেশিন নিষিদ্ধ করতে চেয়েছিল ট্রাম্প প্রশাসন

ট্রাম্পের নির্দেশে দেশ জুড়ে নির্বাচন জালিয়াতির ভুয়া দাবি প্রমাণে নিয়োজিত থাকা হোয়াইট হাউজের বিশেষ উপদেষ্টা ও আইনজীবী কার্ট ওলসেন মূলত ‘ডমিনিয়ন ভোটিং সিস্টেমস’ নামের প্রতিষ্ঠানের তৈরি ভোটিং মেশিনগুলোকে লক্ষ্য করে এই পরিকল্পনা সাজিয়েছিলেন।

১৩ ঘণ্টা আগে

ভারতে তৃতীয় দফায় বাড়ল জ্বালানি তেলের দাম

আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়ার পরও দীর্ঘদিন খুচরা পর্যায়ে মূল্যবৃদ্ধি না করলেও, শেষ পর্যন্ত ভর্তুকির চাপ সামলাতে না পেরে টানা তিন দফায় লিটারপ্রতি প্রায় ৫ রুপি পর্যন্ত বাড়াতে বাধ্য হলো ভারত সরকার।

১৪ ঘণ্টা আগে

গ্রিন কার্ডের আবেদনে নতুন নিয়ম, বিপাকে লাখো মার্কিন অভিবাসী

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের প্রক্রিয়াতে এক বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে ট্রাম্প প্রশাসন। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, যারা গ্রিন কার্ডের জন্য আবেদন করছেন, তাদের আবেদনের পুরো প্রক্রিয়াকালীন যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে থাকতে হবে।

১৪ ঘণ্টা আগে

চীনের কয়লাখনিতে গ্যাস বিস্ফোরণ, ৮ জনের মৃত্যু

শানসি প্রদেশকে চীনের কয়লা খনির প্রধান কেন্দ্র হিসেবে ধরা হয়। যদিও সাম্প্রতিক দশকগুলোতে খনির নিরাপত্তা কিছুটা উন্নত হয়েছে, তবুও নিরাপত্তা বিধি যথাযথভাবে মানা না হওয়ায় দেশটিতে এখনও প্রায়ই খনি দুর্ঘটনা ঘটে।

১৪ ঘণ্টা আগে