বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডে (বিসিবি) অস্থিরতা যেন থামছেই না। আমিনুল ইসলাম বুলবুলের নেতৃত্বাধীন বর্তমান পর্ষদ দায়িত্ব নেওয়ার ছয় মাস পূর্ণ হওয়ার আগেই পদত্যাগের মিছিলে যোগ দিলেন আরও চার প্রভাবশালী পরিচালক।
শনিবার মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে দীর্ঘ ৯ ঘণ্টার ম্যারাথন বোর্ড সভা শেষে একে একে পদত্যাগপত্র জমা দেন তারা। নির্বাচন নিয়ে অনিয়মের তদন্ত এবং ক্লাবগুলোর বয়কটের মুখে এই গণ-পদত্যাগ দেশের ক্রিকেট অঙ্গনে নতুন করে নাটকীয় পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে।
বিসিবি সূত্রে জানা গেছে, বোর্ড সভা শেষেই পদত্যাগ করেছেন ফাইয়াজুর রহমান। পরে রাত ১০টার দিকে পদত্যাগপত্র দেন শানিয়ান তানিম ও মেহরাব আলম চৌধুরি। এরপর গভীর রাতে পদত্যাগ করেন মঞ্জুর আলমও।
গত বছরের অক্টোবরে অনুষ্ঠিত হয়েছিল বিসিবির নির্বাচন। আমিনুল ইসলাম বুলবুলের নেতৃত্বাধীন বর্তমান পরিচালনা পর্ষদের বয়স ছয় মাস হওয়ার আগেই পদত্যাগ করলেন এই নিয়ে সাতজন পরিচালক।
ফাইয়াজুর ছিলেন বোর্ডের ডিসিপ্লিনারি কমিটির চেয়ারম্যান ও ক্রিকেট কমিটি অব ঢাকা মেট্রোপলিসের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান ছিলেন এই পরিচালক। ফ্যাসিলিটিজ ম্যানেজমেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান ছিলেন শানিয়ান। সিকিউরিটি কমিটির প্রধান ছিলেন মেহরাব। মেডিকেল বিভাগের ভার ছিল মঞ্জুরের।
এই চারজনই শনিবার বিসিবির ম্যারাথন সভায় ছিলেন। সেখানে অনেক সিদ্ধান্তও হয়। কিন্তু এরপরই বোর্ড থেকে সরে গেলেন তারা। পদত্যাগ করা আগের ৩ পরিচালক হলেন- ইশতিয়াক সাদেক, ইয়াসিন ফয়সাল ও আমজাদ হোসেন। ইয়াসির ফয়সাল সর্বশেষ বিসিবি নির্বাচনে এনএসসি থেকে মনোনীত হয়ে লজিস্টিকস অ্যান্ড প্রটোকল কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। এছাড়া ইশতিয়াক গেম ডেভলপমেন্ট আর আমজাদ মিডিয়া কমিটির চেয়ারম্যান ছিলেন।
এদিকে বোর্ডে এত এত পদত্যাগের পরেও বিসিবির সভায় সেটি নিয়ে আলোচনা হয়নি বলে আজকের সভা শেষে জানিয়েছেন বিসিবির মিডিয়া কমিটির চেয়ারম্যান মোখসেদুল কামাল বাবু বলেন, ‘এটা নিয়ে নতুন করে আলোচনা হয়নি। যারা পদত্যাগ করেছে ব্যক্তিগত কারণে পদত্যাগ করেছে। আজ যিনি করেছেন তিনি বোর্ড মিটিংয়েও ছিলেন আমাদের সাথে। আমরা আসলে নিউজের মাধ্যমেই জেনেছি পদত্যাগের কথা। যে ৪ জন রিজাইন করেছেন তারা যথেষ্ট ভূমিকা পালন করেছেন এই বোর্ডের জন্য ও ক্রিকেটের জন্য।’
গ্রাউন্ডস কমিটির চেয়ারম্যান ও প্রভাবশালী বোর্ড কর্তা ইফতেখার রহমান মিঠু অবশ্য মানছেন, বিষয়টি স্বাভাবিক নয়, ‘স্বাভাবিক কেন বলব। তবে এটা ব্যক্তিগত কারণ। যদি হতো বোর্ডের কোনো ঘটনার প্রেক্ষিতে রিজাইন করেছে। আলোচনা করে রিজাইন করেছে এমনও না। ব্যক্তিগতভাবে যখন জিজ্ঞেস করেছি বলেছে ব্যক্তিগত কারণ।’
এদিকে, দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই চরম বিরোধিতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে বিসিবির বর্তমান কমিটি। অনিয়মের অভিযোগ এনে নির্বাচনের পরপরই বিসিবিকে বয়কট করেছিলেন অনেক ক্লাব কাউন্সিলররা। প্রথম বিভাগ লিগেও অংশ নেয়নি ৮টি দল। একই কারণে এবার ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ নিয়েও দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা। তার ওপর আবার বিদ্রোহী কাউন্সিলরদের দেয়া চিঠির ভিত্তিতে বিসিবির সর্বশেষ নির্বাচনে অনিয়ম নিয়ে তদন্ত করছে এনএসসি। সবমিলিয়ে কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে বিসিবি৷ এবার একের পর এক পরিচালকের পদত্যাগ সেই পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলেছে।











-837ed9-256x144.webp)
-3a49ad-256x144.webp)





