
ক্রীড়া ডেস্ক

বাংলাদেশের ৬৪ রানে গুটিয়ে যাওয়ার পর ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুতেই চাপে পড়েছিল অস্ট্রেলিয়া। শরীফুল ইসলামের দুর্দান্ত বোলিংয়ে ম্যাচে ফেরার সুযোগ তৈরি করেছে বাংলাদেশ। একের পর এক উইকেট তুলে নিয়ে একাই অস্ট্রেলিয়াকে চাপে ফেলে দিয়েছেন এই বাংলাদেশি পেসার।
একপর্যায়ে স্টিভেন স্মিথ ও ক্যামেরন গ্রিনের ৭৭ রানের জুটিতে কিছুটা ঘুরে দাঁড়িয়েছিল অস্ট্রেলিয়া। তবে শরীফুলের বলে ৪২ রানে স্মিথ বিদায় নিলে আবারও চাপে পড়ে অজিরা। শেষ পর্যন্ত ১০১ রানের লিড নিয়ে দিন শেষ করেছে অস্ট্রেলিয়া, হাতে রয়েছে মাত্র ২ উইকেট। বাংলাদেশের হয়ে একাই ছয় উইকেট নিয়েছেন শরীফুল ইসলাম। এর আগে মিচেল স্টার্কের বিধ্বংসী বোলিংয়ে মাত্র ৬৪ রানে গুটিয়ে যায় বাংলাদেশের ইনিংস।
শনিবার (২২ আগস্ট) বাংলাদেশ সময় ভোরে ম্যাকাইয়ে সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে মুখোমুখি হয়েছে বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়া। টস জিতে প্রথমে বোলিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক প্যাট কামিন্স। আগের টেস্টেও টস জিতে প্রথমে ব্যাটিং নিয়েছিলেন কামিন্স। সে ম্যাচে বাংলাদেশের বোলাররা নতুন বলের সুবিধা কাজে লাগিয়ে স্বাগতিকদের ১৯৮ রানে অলআউট করেছিল। এবার অস্ট্রেলিয়ার পেসারদের বিপক্ষে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হয়।
প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশ মাত্র ৬৪ রানে অলআউট হওয়ার পর ব্যাটিংয়ে নামে অস্ট্রেলিয়া। শুরুতেই তাদের আঘাত করেন তাসকিন আহমেদ। ইনিংসের প্রথম বলেই বাই চার হয়ে যায়। ঝাঁপিয়ে পড়েও বলটি ধরতে পারেননি উইকেটকিপার লিটন দাস। তবে এরপর দুর্দান্ত বোলিং করে তাসকিনই প্রথম উইকেট এনে দেন বাংলাদেশকে। তার বলে ফ্লিক করতে গিয়ে তৃতীয় স্লিপে ক্যাচ দেন ম্যাট রেনশ। সাড়ে তিন বছর পর টেস্টে ফেরা রেনশ ১০ বলে ৮ রান করে ফেরেন।
এরপর আক্রমণে এসে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন শরীফুল ইসলাম। নিজের প্রথম ওভারেই ফিরিয়ে দেন ট্রাভিস হেডকে। ডারউইনে তাকে দুবার এভাবে আউট করেছিলেন হাসান মাহমুদ। এবার শরীফুলের ভেতরে ঢোকা বল হেডের ব্যাট হয়ে স্টাম্পে গিয়ে লাগে। একই ওভারে মার্নাস লাবুশেনকেও ফিরিয়ে দেন তিনি। থাই প্যাডে লেগে বলটি লেগ স্টাম্প ভেঙে দেয়।
মাত্র ৮ ওভারে ৪১ রানে ৩ উইকেট হারায় অস্ট্রেলিয়া। এরপর স্টিভেন স্মিথ ও ক্যামেরন গ্রিন মিলে ইনিংস সামলানোর চেষ্টা করেন। চা বিরতির পরও বাংলাদেশ আর উইকেট পাচ্ছিল না। স্মিথ ও গ্রিনের ৮৩ বলের জুটিতে আসে ৬১ রান। অস্ট্রেলিয়ার রান দ্রুত বাড়তে থাকায় বাংলাদেশকে দ্রুত উইকেট নেওয়ার তাগিদ অনুভব করতে হচ্ছিল।
অবশেষে সেই জুটি ভাঙেন শরীফুল। তার বলে স্মিথের প্যাডে লাগলে আম্পায়ার এলবিডব্লিউ দেন। রিভিউ নেন স্মিথ। রিপ্লেতে ইমপ্যাক্ট ও হিটিং— দুটিই আম্পায়ার্স কল হওয়ায় সিদ্ধান্ত বহাল থাকে। ৭৪ বলে ৪২ রান করে ফেরেন স্মিথ। গ্রিনের সঙ্গে তার ১০৮ বলে ৭৭ রানের জুটিও ভেঙে যায়। তখন অস্ট্রেলিয়ার রান ৪ উইকেটে ১১৮।
এরপর প্রথম ওভারেই অ্যালেক্স ক্যারিকে ফিরিয়ে দেন মেহেদী হাসান মিরাজ। তার বলে ক্যাচ তুলে দেন ক্যারি। মিড-অফে দাঁড়িয়ে সহজ ক্যাচ নেন হাসান মাহমুদ। তখন অস্ট্রেলিয়ার রান ৩১ ওভারে ১৪৫/৫। লিড দাঁড়ায় ৮১ রানে। দিনের তখনো আধঘণ্টার বেশি খেলা বাকি ছিল।
এরপর আবারও ত্রাস হয়ে ওঠেন শরীফুল। বো ওয়েবস্টারকে দুর্দান্ত ডেলিভারিতে এলবিডব্লিউ করেন তিনি। রিভিউ নিয়েও বাঁচতে পারেননি ওয়েবস্টার। সেটিই ছিল শরীফুলের চতুর্থ উইকেট। এরপর এক ওভারেই তিনি আরও দুই উইকেট নিয়ে অস্ট্রেলিয়াকে ৭ উইকেটে ১৪৭ রানে পরিণত করেন। ওয়েবস্টারের পর প্যাট কামিন্সও তার বাউন্সারে ক্যাচ তুলে দেন। মাত্র ছয় বলের মধ্যে তিন উইকেট হারায় অস্ট্রেলিয়া।
টেস্ট ক্রিকেটে প্রথমবার পাঁচ উইকেট পূর্ণ করেন শরীফুল ইসলাম। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বাংলাদেশের দ্বিতীয় পেসার হিসেবে ফাইফার পেলেন তিনি। এর আগে হাসান মাহমুদ অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে প্রথম পাঁচ উইকেট নেন। ডারউইন টেস্টের প্রথম ইনিংসে মোট ৬টি উইকেট পেয়েছেন তিনিও।
আজ দিনের শেষ দিকে শরীফুলের শিকার হন মিচেল স্টার্কও। বাংলাদেশের বিপক্ষে প্রথম ইনিংসে ৬ উইকেট নেওয়া স্টার্ককে ফিরিয়ে নিজের ষষ্ঠ উইকেট পূর্ণ করেন শরীফুল। তখন অস্ট্রেলিয়ার রান ৩৫ ওভারে ১৫১/৮। অস্ট্রেলিয়ার লিড ছিল ১০১ রান। দিনের তখনো প্রায় ২০ মিনিট খেলা বাকি ছিল এবং বাংলাদেশের সামনে অস্ট্রেলিয়ার বাকি দুই উইকেট তুলে নেওয়ার সুযোগ ছিল।
এর আগে বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস ছিল একেবারেই দুঃস্বপ্নের। টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে প্রথম বলেই সাদমান ইসলামকে হারায় বাংলাদেশ। মিচেল স্টার্কের ফুল লেন্থের স্টাম্প বরাবর বল মিডউইকেটে খেলতে গিয়ে গালিতে ক্যামেরন গ্রিনের হাতে ক্যাচ দেন সাদমান। টেস্টে এ নিয়ে চতুর্থবার প্রথম বলেই উইকেট পেলেন স্টার্ক।
এরপর তানজিদ হাসান ও নাজমুল হোসেনও স্টার্কের শিকার হন। তানজিদ তৃতীয় স্লিপে ক্যাচ দেন। নাজমুল এলবিডব্লিউয়ের সিদ্ধান্তে রিভিউ নিয়েও বাঁচতে পারেননি। বল ট্র্যাকিংয়ে ‘ক্লিপিং স্টাম্প’ আসায় সিদ্ধান্ত বহাল থাকে। আউট হওয়া তিন ব্যাটসম্যানের কেউই কোনো রান করতে পারেননি। বাংলাদেশ ৩ ওভারে ৯ রানে হারায় ৩ উইকেট।
এরপর মুমিনুল হকও স্টার্কের বলে ক্যামেরন গ্রিনের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন। লিটন দাসকে প্রথমে আম্পায়ার আউট দেননি। কামিন্স রিভিউ নিলে সিদ্ধান্ত বদলে যায়। লিটনও কোনো রান না করে ফেরেন। মাত্র ২২ বলের মধ্যে পাঁচ উইকেট নিয়ে ফাইফার পূর্ণ করেন স্টার্ক। তবে টেস্টে দ্রুততম ফাইফারের রেকর্ডটি তার নিজেরই— গত বছর ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে মাত্র ১৫ বলে পাঁচ উইকেট নিয়েছিলেন তিনি।
১২ রানে ৫ উইকেট হারানোর পর মুশফিকুর রহিম ও মেহেদী হাসান মিরাজ কিছুটা প্রতিরোধ গড়েন। প্রায় ৯ ওভার উইকেটে কাটালেও রান আসে মাত্র ৯। পরে ৪২ বলে ৫ রান করে মুশফিক কামিন্সের বলে বোল্ড হন। বাংলাদেশের টেইল শুরু হয় তখন।
মিরাজ ও হাসান মাহমুদ মিলে আরও কিছুটা লড়াই করেন। তাদের জুটি থেকে আসে ৫৫ বলে ১৫ রান। ২৫তম ওভারে কামিন্সের বলে ৫১ বলে ১১ রান করে মিরাজ আউট হন। পরের ওভারেই হ্যাজলউডের বলে নাথান লায়নের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন হাসান মাহমুদ। তার রান ৩৬ বলে ১০। তাসকিন আহমেদও বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। ৭ বলে ১ রান করে কামিন্সের বলে ম্যাট রেনশকে ক্যাচ দেন তিনি। ৩৯ রানে পড়ে বাংলাদেশের নবম উইকেট।
শেষ উইকেটে তাইজুল ইসলাম ও শরীফুল ইসলাম কিছুটা অবিশ্বাস্য প্রতিরোধ গড়েন। ৩৫ বলে ২৫ রান আসে তাদের জুটিতে, যা বাংলাদেশের ইনিংসে সর্বোচ্চ রানের জুটি। শেষ পর্যন্ত ৩৪তম ওভারে ফিরে এসে শরীফুলকে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিতে বাধ্য করেন স্টার্ক। এতে নিজের ষষ্ঠ উইকেট পূর্ণ করেন অস্ট্রেলিয়ার এই বাঁহাতি পেসার।
১৯ বলে ১৪ রান করে বাংলাদেশের ইনিংসে সর্বোচ্চ রান করেন ১১ নম্বরে নামা শরীফুল। তাইজুল ২৬ বলে ১১ রান করে অপরাজিত থাকেন। মিরাজও করেন ১১ রান। হাসান মাহমুদের ব্যাট থেকে আসে ১০ রান। মুমিনুল ৯, মুশফিক ৫ এবং তাসকিন ১ রান করেন। চার ব্যাটসম্যান কোনো রান না করেই আউট হন। শেষ পর্যন্ত ৩৪ ওভারে ৬৪ রানে অলআউট হয় বাংলাদেশ।
এটি ম্যাকাইয়ের গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ স্টেডিয়ামে কোনো টেস্ট ভেন্যুর অভিষেক ইনিংসে সবচেয়ে কম রানে অলআউট হওয়ার রেকর্ড। এর আগে ১৮৮৯ সালে পোর্ট এলিজাবেথে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে দক্ষিণ আফ্রিকা ৮৪ রানে অলআউট হয়েছিল।
বাংলাদেশের টপ অর্ডারের তিন ব্যাটসম্যানের শূন্য রানে আউট হওয়ার ঘটনাটিও টেস্টে প্রথমবার ঘটেছে। একপর্যায়ে বাংলাদেশের সামনে টেস্ট ইতিহাসের সর্বনিম্ন ২৬, অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সর্বনিম্ন ২৭, অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে সর্বনিম্ন ৩৬ এবং নিজেদের ইতিহাসে সর্বনিম্ন ৪৩ রানে অলআউট হওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছিল। শেষ উইকেটের জুটিই শেষ পর্যন্ত সেই লজ্জা থেকে বাঁচায় বাংলাদেশকে।
অস্ট্রেলিয়ার হয়ে স্টার্ক ১০ ওভার বল করে ৬টি মেডেনসহ মাত্র ১২ রান দিয়ে ৬ উইকেট নেন। প্যাট কামিন্স ১০ ওভারে ২৫ রান দিয়ে ৩ উইকেট এবং জশ হ্যাজলউড ১১ ওভারে ১৮ রান দিয়ে একটি উইকেট নেন। বিউ ওয়েবস্টার ৩ ওভার বল করলেও নাথান লায়নকে বোলিংয়ে আসতে হয়নি।
ইনিংস বিরতিতে ফক্স স্পোর্টসকে জশ হ্যাজলউড বলেন, উইকেটে বাউন্স কিছুটা অসমান ছিল। সিমে বল পড়ে এদিক-ওদিক যাচ্ছিল এবং বাতাসের কারণে কিছুটা সুইংও হচ্ছিল। তবে শেষদিকে উইকেট কিছুটা ফ্ল্যাট হয়ে আসে এবং বলের গতি ও সিম মুভমেন্ট স্বাভাবিক ও ধারাবাহিক হয়ে যায়। তার মতে, অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটসম্যানদের জন্য প্রথম ২০ ওভার নিরাপদে পার করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হবে।
স্টার্কও বলেন, ডারউইন টেস্টের পর তাদের আলোচনা ছিল কিছুটা ফুলার লেন্থে বল করা, বাউন্সার বেশি ব্যবহার করা এবং ক্যাচগুলো ঠিকঠাক ধরা নিয়ে। তার বিশ্বাস, উইকেট ধীরে ধীরে ব্যাটসম্যানদের জন্য ভালো হচ্ছে এবং অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটসম্যানরা এখানে রান করতে পারবেন।
এই টেস্টে দুই দলই একাদশে একটি করে পরিবর্তন এনেছে। চোটের কারণে প্রথম টেস্টে না থাকা শরীফুল ইসলাম ফিরেছেন বাংলাদেশ একাদশে। তাকে জায়গা দিতে বাদ পড়েছেন ইবাদত হোসেন। বাংলাদেশের কম্বিনেশনে রয়েছে সাত ব্যাটসম্যান, মিরাজ ও তাইজুলের সঙ্গে তিন পেসার। অস্ট্রেলিয়া জেক ওয়েদারাল্ডের জায়গায় দলে নিয়েছে ম্যাট রেনশকে। ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারির পর অস্ট্রেলিয়ার হয়ে টেস্টে ফিরেছেন রেনশ।
বাংলাদেশ একাদশ: সাদমান ইসলাম, তানজিদ হাসান, মুমিনুল হক, নাজমুল হোসেন (অধিনায়ক), মুশফিকুর রহিম, লিটন দাস (উইকেটকিপার), মেহেদী হাসান মিরাজ, হাসান মাহমুদ, তাইজুল ইসলাম, তাসকিন আহমেদ ও শরীফুল ইসলাম।
অস্ট্রেলিয়া একাদশ: ম্যাট রেনশ, ট্রাভিস হেড, মার্নাস লাবুশেন, স্টিভ স্মিথ, ক্যামেরন গ্রিন, অ্যালেক্স ক্যারি, বো ওয়েবস্টার, মিচেল স্টার্ক, প্যাট কামিন্স (অধিনায়ক), নাথান লায়ন ও জশ হ্যাজলউড।
ডারউইনে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ঐতিহাসিক জয়ের পর বাংলাদেশ এই টেস্টে আরও বড় স্বপ্ন দেখছিল। দুই টেস্টের সিরিজে অস্ট্রেলিয়াকে ধবলধোলাই করতে হলে এই ম্যাচও জিততে হবে। গত ১৩৯ বছরে নিজেদের মাটিতে অস্ট্রেলিয়াকে কোনো দুই বা ততোধিক ম্যাচের টেস্ট সিরিজে ধবলধোলাই করা যায়নি। সর্বশেষ ১৮৮৭ সালে ঘরের মাঠে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে দুই ম্যাচের অ্যাশেজ সিরিজ ২-০ ব্যবধানে হেরেছিল অস্ট্রেলিয়া। এরপর ঘরের মাঠে ১১০টি একাধিক ম্যাচের টেস্ট সিরিজ খেললেও কখনো সব ম্যাচ হারেনি তারা।
দিনের শুরুতে অবশ্য বাংলাদেশ সেই বড় স্বপ্ন নিয়েই মাঠে নেমেছিল। কিন্তু স্টার্কের তোপে মাত্র ১২ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে ম্যাচের শুরুতেই বড় বিপদে পড়ে দল। প্রথম ঘণ্টায় দুই দল মিলিয়ে হারিয়েছে ১৮ উইকেট, যার ১২টিই নিয়েছেন দুই দলের দুই বাঁহাতি পেসার— অস্ট্রেলিয়ার স্টার্ক ও বাংলাদেশের শরীফুল। শেষ পর্যন্ত স্টার্কের ছয় উইকেটের পর শরীফুলও ছয় উইকেট নিয়ে বাংলাদেশকে ম্যাচে ফেরার আশা দেখিয়েছেন।
এখন অস্ট্রেলিয়ার হাতে মাত্র দুই উইকেট। তাদের লিড ১০১ রান। প্রথম ইনিংসে ৬৪ রানে অলআউট হওয়ার পরও বাংলাদেশের বোলাররা যেভাবে অস্ট্রেলিয়ার আট উইকেট তুলে নিয়েছেন, তাতে ম্যাচে ফেরার সুযোগ এখনো পুরোপুরি শেষ হয়ে যায়নি।

বাংলাদেশের ৬৪ রানে গুটিয়ে যাওয়ার পর ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুতেই চাপে পড়েছিল অস্ট্রেলিয়া। শরীফুল ইসলামের দুর্দান্ত বোলিংয়ে ম্যাচে ফেরার সুযোগ তৈরি করেছে বাংলাদেশ। একের পর এক উইকেট তুলে নিয়ে একাই অস্ট্রেলিয়াকে চাপে ফেলে দিয়েছেন এই বাংলাদেশি পেসার।
একপর্যায়ে স্টিভেন স্মিথ ও ক্যামেরন গ্রিনের ৭৭ রানের জুটিতে কিছুটা ঘুরে দাঁড়িয়েছিল অস্ট্রেলিয়া। তবে শরীফুলের বলে ৪২ রানে স্মিথ বিদায় নিলে আবারও চাপে পড়ে অজিরা। শেষ পর্যন্ত ১০১ রানের লিড নিয়ে দিন শেষ করেছে অস্ট্রেলিয়া, হাতে রয়েছে মাত্র ২ উইকেট। বাংলাদেশের হয়ে একাই ছয় উইকেট নিয়েছেন শরীফুল ইসলাম। এর আগে মিচেল স্টার্কের বিধ্বংসী বোলিংয়ে মাত্র ৬৪ রানে গুটিয়ে যায় বাংলাদেশের ইনিংস।
শনিবার (২২ আগস্ট) বাংলাদেশ সময় ভোরে ম্যাকাইয়ে সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে মুখোমুখি হয়েছে বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়া। টস জিতে প্রথমে বোলিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক প্যাট কামিন্স। আগের টেস্টেও টস জিতে প্রথমে ব্যাটিং নিয়েছিলেন কামিন্স। সে ম্যাচে বাংলাদেশের বোলাররা নতুন বলের সুবিধা কাজে লাগিয়ে স্বাগতিকদের ১৯৮ রানে অলআউট করেছিল। এবার অস্ট্রেলিয়ার পেসারদের বিপক্ষে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হয়।
প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশ মাত্র ৬৪ রানে অলআউট হওয়ার পর ব্যাটিংয়ে নামে অস্ট্রেলিয়া। শুরুতেই তাদের আঘাত করেন তাসকিন আহমেদ। ইনিংসের প্রথম বলেই বাই চার হয়ে যায়। ঝাঁপিয়ে পড়েও বলটি ধরতে পারেননি উইকেটকিপার লিটন দাস। তবে এরপর দুর্দান্ত বোলিং করে তাসকিনই প্রথম উইকেট এনে দেন বাংলাদেশকে। তার বলে ফ্লিক করতে গিয়ে তৃতীয় স্লিপে ক্যাচ দেন ম্যাট রেনশ। সাড়ে তিন বছর পর টেস্টে ফেরা রেনশ ১০ বলে ৮ রান করে ফেরেন।
এরপর আক্রমণে এসে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন শরীফুল ইসলাম। নিজের প্রথম ওভারেই ফিরিয়ে দেন ট্রাভিস হেডকে। ডারউইনে তাকে দুবার এভাবে আউট করেছিলেন হাসান মাহমুদ। এবার শরীফুলের ভেতরে ঢোকা বল হেডের ব্যাট হয়ে স্টাম্পে গিয়ে লাগে। একই ওভারে মার্নাস লাবুশেনকেও ফিরিয়ে দেন তিনি। থাই প্যাডে লেগে বলটি লেগ স্টাম্প ভেঙে দেয়।
মাত্র ৮ ওভারে ৪১ রানে ৩ উইকেট হারায় অস্ট্রেলিয়া। এরপর স্টিভেন স্মিথ ও ক্যামেরন গ্রিন মিলে ইনিংস সামলানোর চেষ্টা করেন। চা বিরতির পরও বাংলাদেশ আর উইকেট পাচ্ছিল না। স্মিথ ও গ্রিনের ৮৩ বলের জুটিতে আসে ৬১ রান। অস্ট্রেলিয়ার রান দ্রুত বাড়তে থাকায় বাংলাদেশকে দ্রুত উইকেট নেওয়ার তাগিদ অনুভব করতে হচ্ছিল।
অবশেষে সেই জুটি ভাঙেন শরীফুল। তার বলে স্মিথের প্যাডে লাগলে আম্পায়ার এলবিডব্লিউ দেন। রিভিউ নেন স্মিথ। রিপ্লেতে ইমপ্যাক্ট ও হিটিং— দুটিই আম্পায়ার্স কল হওয়ায় সিদ্ধান্ত বহাল থাকে। ৭৪ বলে ৪২ রান করে ফেরেন স্মিথ। গ্রিনের সঙ্গে তার ১০৮ বলে ৭৭ রানের জুটিও ভেঙে যায়। তখন অস্ট্রেলিয়ার রান ৪ উইকেটে ১১৮।
এরপর প্রথম ওভারেই অ্যালেক্স ক্যারিকে ফিরিয়ে দেন মেহেদী হাসান মিরাজ। তার বলে ক্যাচ তুলে দেন ক্যারি। মিড-অফে দাঁড়িয়ে সহজ ক্যাচ নেন হাসান মাহমুদ। তখন অস্ট্রেলিয়ার রান ৩১ ওভারে ১৪৫/৫। লিড দাঁড়ায় ৮১ রানে। দিনের তখনো আধঘণ্টার বেশি খেলা বাকি ছিল।
এরপর আবারও ত্রাস হয়ে ওঠেন শরীফুল। বো ওয়েবস্টারকে দুর্দান্ত ডেলিভারিতে এলবিডব্লিউ করেন তিনি। রিভিউ নিয়েও বাঁচতে পারেননি ওয়েবস্টার। সেটিই ছিল শরীফুলের চতুর্থ উইকেট। এরপর এক ওভারেই তিনি আরও দুই উইকেট নিয়ে অস্ট্রেলিয়াকে ৭ উইকেটে ১৪৭ রানে পরিণত করেন। ওয়েবস্টারের পর প্যাট কামিন্সও তার বাউন্সারে ক্যাচ তুলে দেন। মাত্র ছয় বলের মধ্যে তিন উইকেট হারায় অস্ট্রেলিয়া।
টেস্ট ক্রিকেটে প্রথমবার পাঁচ উইকেট পূর্ণ করেন শরীফুল ইসলাম। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বাংলাদেশের দ্বিতীয় পেসার হিসেবে ফাইফার পেলেন তিনি। এর আগে হাসান মাহমুদ অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে প্রথম পাঁচ উইকেট নেন। ডারউইন টেস্টের প্রথম ইনিংসে মোট ৬টি উইকেট পেয়েছেন তিনিও।
আজ দিনের শেষ দিকে শরীফুলের শিকার হন মিচেল স্টার্কও। বাংলাদেশের বিপক্ষে প্রথম ইনিংসে ৬ উইকেট নেওয়া স্টার্ককে ফিরিয়ে নিজের ষষ্ঠ উইকেট পূর্ণ করেন শরীফুল। তখন অস্ট্রেলিয়ার রান ৩৫ ওভারে ১৫১/৮। অস্ট্রেলিয়ার লিড ছিল ১০১ রান। দিনের তখনো প্রায় ২০ মিনিট খেলা বাকি ছিল এবং বাংলাদেশের সামনে অস্ট্রেলিয়ার বাকি দুই উইকেট তুলে নেওয়ার সুযোগ ছিল।
এর আগে বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস ছিল একেবারেই দুঃস্বপ্নের। টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে প্রথম বলেই সাদমান ইসলামকে হারায় বাংলাদেশ। মিচেল স্টার্কের ফুল লেন্থের স্টাম্প বরাবর বল মিডউইকেটে খেলতে গিয়ে গালিতে ক্যামেরন গ্রিনের হাতে ক্যাচ দেন সাদমান। টেস্টে এ নিয়ে চতুর্থবার প্রথম বলেই উইকেট পেলেন স্টার্ক।
এরপর তানজিদ হাসান ও নাজমুল হোসেনও স্টার্কের শিকার হন। তানজিদ তৃতীয় স্লিপে ক্যাচ দেন। নাজমুল এলবিডব্লিউয়ের সিদ্ধান্তে রিভিউ নিয়েও বাঁচতে পারেননি। বল ট্র্যাকিংয়ে ‘ক্লিপিং স্টাম্প’ আসায় সিদ্ধান্ত বহাল থাকে। আউট হওয়া তিন ব্যাটসম্যানের কেউই কোনো রান করতে পারেননি। বাংলাদেশ ৩ ওভারে ৯ রানে হারায় ৩ উইকেট।
এরপর মুমিনুল হকও স্টার্কের বলে ক্যামেরন গ্রিনের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন। লিটন দাসকে প্রথমে আম্পায়ার আউট দেননি। কামিন্স রিভিউ নিলে সিদ্ধান্ত বদলে যায়। লিটনও কোনো রান না করে ফেরেন। মাত্র ২২ বলের মধ্যে পাঁচ উইকেট নিয়ে ফাইফার পূর্ণ করেন স্টার্ক। তবে টেস্টে দ্রুততম ফাইফারের রেকর্ডটি তার নিজেরই— গত বছর ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে মাত্র ১৫ বলে পাঁচ উইকেট নিয়েছিলেন তিনি।
১২ রানে ৫ উইকেট হারানোর পর মুশফিকুর রহিম ও মেহেদী হাসান মিরাজ কিছুটা প্রতিরোধ গড়েন। প্রায় ৯ ওভার উইকেটে কাটালেও রান আসে মাত্র ৯। পরে ৪২ বলে ৫ রান করে মুশফিক কামিন্সের বলে বোল্ড হন। বাংলাদেশের টেইল শুরু হয় তখন।
মিরাজ ও হাসান মাহমুদ মিলে আরও কিছুটা লড়াই করেন। তাদের জুটি থেকে আসে ৫৫ বলে ১৫ রান। ২৫তম ওভারে কামিন্সের বলে ৫১ বলে ১১ রান করে মিরাজ আউট হন। পরের ওভারেই হ্যাজলউডের বলে নাথান লায়নের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন হাসান মাহমুদ। তার রান ৩৬ বলে ১০। তাসকিন আহমেদও বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। ৭ বলে ১ রান করে কামিন্সের বলে ম্যাট রেনশকে ক্যাচ দেন তিনি। ৩৯ রানে পড়ে বাংলাদেশের নবম উইকেট।
শেষ উইকেটে তাইজুল ইসলাম ও শরীফুল ইসলাম কিছুটা অবিশ্বাস্য প্রতিরোধ গড়েন। ৩৫ বলে ২৫ রান আসে তাদের জুটিতে, যা বাংলাদেশের ইনিংসে সর্বোচ্চ রানের জুটি। শেষ পর্যন্ত ৩৪তম ওভারে ফিরে এসে শরীফুলকে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিতে বাধ্য করেন স্টার্ক। এতে নিজের ষষ্ঠ উইকেট পূর্ণ করেন অস্ট্রেলিয়ার এই বাঁহাতি পেসার।
১৯ বলে ১৪ রান করে বাংলাদেশের ইনিংসে সর্বোচ্চ রান করেন ১১ নম্বরে নামা শরীফুল। তাইজুল ২৬ বলে ১১ রান করে অপরাজিত থাকেন। মিরাজও করেন ১১ রান। হাসান মাহমুদের ব্যাট থেকে আসে ১০ রান। মুমিনুল ৯, মুশফিক ৫ এবং তাসকিন ১ রান করেন। চার ব্যাটসম্যান কোনো রান না করেই আউট হন। শেষ পর্যন্ত ৩৪ ওভারে ৬৪ রানে অলআউট হয় বাংলাদেশ।
এটি ম্যাকাইয়ের গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ স্টেডিয়ামে কোনো টেস্ট ভেন্যুর অভিষেক ইনিংসে সবচেয়ে কম রানে অলআউট হওয়ার রেকর্ড। এর আগে ১৮৮৯ সালে পোর্ট এলিজাবেথে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে দক্ষিণ আফ্রিকা ৮৪ রানে অলআউট হয়েছিল।
বাংলাদেশের টপ অর্ডারের তিন ব্যাটসম্যানের শূন্য রানে আউট হওয়ার ঘটনাটিও টেস্টে প্রথমবার ঘটেছে। একপর্যায়ে বাংলাদেশের সামনে টেস্ট ইতিহাসের সর্বনিম্ন ২৬, অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সর্বনিম্ন ২৭, অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে সর্বনিম্ন ৩৬ এবং নিজেদের ইতিহাসে সর্বনিম্ন ৪৩ রানে অলআউট হওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছিল। শেষ উইকেটের জুটিই শেষ পর্যন্ত সেই লজ্জা থেকে বাঁচায় বাংলাদেশকে।
অস্ট্রেলিয়ার হয়ে স্টার্ক ১০ ওভার বল করে ৬টি মেডেনসহ মাত্র ১২ রান দিয়ে ৬ উইকেট নেন। প্যাট কামিন্স ১০ ওভারে ২৫ রান দিয়ে ৩ উইকেট এবং জশ হ্যাজলউড ১১ ওভারে ১৮ রান দিয়ে একটি উইকেট নেন। বিউ ওয়েবস্টার ৩ ওভার বল করলেও নাথান লায়নকে বোলিংয়ে আসতে হয়নি।
ইনিংস বিরতিতে ফক্স স্পোর্টসকে জশ হ্যাজলউড বলেন, উইকেটে বাউন্স কিছুটা অসমান ছিল। সিমে বল পড়ে এদিক-ওদিক যাচ্ছিল এবং বাতাসের কারণে কিছুটা সুইংও হচ্ছিল। তবে শেষদিকে উইকেট কিছুটা ফ্ল্যাট হয়ে আসে এবং বলের গতি ও সিম মুভমেন্ট স্বাভাবিক ও ধারাবাহিক হয়ে যায়। তার মতে, অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটসম্যানদের জন্য প্রথম ২০ ওভার নিরাপদে পার করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হবে।
স্টার্কও বলেন, ডারউইন টেস্টের পর তাদের আলোচনা ছিল কিছুটা ফুলার লেন্থে বল করা, বাউন্সার বেশি ব্যবহার করা এবং ক্যাচগুলো ঠিকঠাক ধরা নিয়ে। তার বিশ্বাস, উইকেট ধীরে ধীরে ব্যাটসম্যানদের জন্য ভালো হচ্ছে এবং অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটসম্যানরা এখানে রান করতে পারবেন।
এই টেস্টে দুই দলই একাদশে একটি করে পরিবর্তন এনেছে। চোটের কারণে প্রথম টেস্টে না থাকা শরীফুল ইসলাম ফিরেছেন বাংলাদেশ একাদশে। তাকে জায়গা দিতে বাদ পড়েছেন ইবাদত হোসেন। বাংলাদেশের কম্বিনেশনে রয়েছে সাত ব্যাটসম্যান, মিরাজ ও তাইজুলের সঙ্গে তিন পেসার। অস্ট্রেলিয়া জেক ওয়েদারাল্ডের জায়গায় দলে নিয়েছে ম্যাট রেনশকে। ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারির পর অস্ট্রেলিয়ার হয়ে টেস্টে ফিরেছেন রেনশ।
বাংলাদেশ একাদশ: সাদমান ইসলাম, তানজিদ হাসান, মুমিনুল হক, নাজমুল হোসেন (অধিনায়ক), মুশফিকুর রহিম, লিটন দাস (উইকেটকিপার), মেহেদী হাসান মিরাজ, হাসান মাহমুদ, তাইজুল ইসলাম, তাসকিন আহমেদ ও শরীফুল ইসলাম।
অস্ট্রেলিয়া একাদশ: ম্যাট রেনশ, ট্রাভিস হেড, মার্নাস লাবুশেন, স্টিভ স্মিথ, ক্যামেরন গ্রিন, অ্যালেক্স ক্যারি, বো ওয়েবস্টার, মিচেল স্টার্ক, প্যাট কামিন্স (অধিনায়ক), নাথান লায়ন ও জশ হ্যাজলউড।
ডারউইনে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ঐতিহাসিক জয়ের পর বাংলাদেশ এই টেস্টে আরও বড় স্বপ্ন দেখছিল। দুই টেস্টের সিরিজে অস্ট্রেলিয়াকে ধবলধোলাই করতে হলে এই ম্যাচও জিততে হবে। গত ১৩৯ বছরে নিজেদের মাটিতে অস্ট্রেলিয়াকে কোনো দুই বা ততোধিক ম্যাচের টেস্ট সিরিজে ধবলধোলাই করা যায়নি। সর্বশেষ ১৮৮৭ সালে ঘরের মাঠে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে দুই ম্যাচের অ্যাশেজ সিরিজ ২-০ ব্যবধানে হেরেছিল অস্ট্রেলিয়া। এরপর ঘরের মাঠে ১১০টি একাধিক ম্যাচের টেস্ট সিরিজ খেললেও কখনো সব ম্যাচ হারেনি তারা।
দিনের শুরুতে অবশ্য বাংলাদেশ সেই বড় স্বপ্ন নিয়েই মাঠে নেমেছিল। কিন্তু স্টার্কের তোপে মাত্র ১২ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে ম্যাচের শুরুতেই বড় বিপদে পড়ে দল। প্রথম ঘণ্টায় দুই দল মিলিয়ে হারিয়েছে ১৮ উইকেট, যার ১২টিই নিয়েছেন দুই দলের দুই বাঁহাতি পেসার— অস্ট্রেলিয়ার স্টার্ক ও বাংলাদেশের শরীফুল। শেষ পর্যন্ত স্টার্কের ছয় উইকেটের পর শরীফুলও ছয় উইকেট নিয়ে বাংলাদেশকে ম্যাচে ফেরার আশা দেখিয়েছেন।
এখন অস্ট্রেলিয়ার হাতে মাত্র দুই উইকেট। তাদের লিড ১০১ রান। প্রথম ইনিংসে ৬৪ রানে অলআউট হওয়ার পরও বাংলাদেশের বোলাররা যেভাবে অস্ট্রেলিয়ার আট উইকেট তুলে নিয়েছেন, তাতে ম্যাচে ফেরার সুযোগ এখনো পুরোপুরি শেষ হয়ে যায়নি।

বিবিসি জানাচ্ছে, ফিফার টুর্নামেন্টগুলোতে বেসরকারি বিনিয়োগ আনার প্রস্তাব নিয়ে সম্প্রতি তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েন ইনফান্তিনো।
৪ দিন আগে
ভোগ ম্যাগাজিনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে রোনালদো জানিয়েছেন, মাঠ ছাড়ার পরের জীবন নিয়েও তার পরিকল্পনা রয়েছে।
৫ দিন আগে
ডারউইনে টেস্টের প্রথম দিন থেকেই দাপট দেখানো বাংলাদেশ চতুর্থ দিনের শুরু থেকেই ছিল জয়ের অপেক্ষায়। দ্বিতীয় সেশনের মাঝামাঝি আসে সেই কাঙ্ক্ষিত মুহূর্ত। বিশ্বের এক নম্বর টেস্ট দল অস্ট্রেলিয়াকে ৯ উইকেটে হারিয়ে ঐতিহাসিক জয় তুলে নেয় বাংলাদেশ। পুরো ম্যাচে প্রতিটি দিন ও প্রতিটি সেশনে দাপট দেখানো দলের পারফরম্যা
৬ দিন আগে
জাতীয় পর্যায়ে নারী বিভাগে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে একাধিক পদক ও রেকর্ড গড়া বাংলাদেশি দুই অ্যাথলেট জান্নাত বেগম ও কবিতা রায়কে নারী বিভাগে প্রতিযোগিতা থেকে স্থায়ীভাবে নিষিদ্ধ করেছে বাংলাদেশ অ্যাথলেটিকস ফেডারেশন। একই সঙ্গে জাতীয় প্রতিযোগিতায় তাদের অর্জিত পদক ও রেকর্ড বাতিল করা হয়েছে।
৬ দিন আগে