উইন্ডিজকে গুঁড়িয়ে ওয়ানডেতে দেড় বছর পর মিলল সিরিজ জয়

প্রতিবেদক, রাজনীতি ডটকম
সাইফ হাসান আর সৌম্য সরকারের দুর্দান্ত উদ্বোধনী জুটিই সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচে বাংলাদেশের জয়ের ভিত গড়ে দেয়। ছবি: সংগৃহীত

মিরপুরের উইকেট বিবেচনায় দুই টাইগার ওপেনারের অপ্রত্যাশিত ও অতিমানবীয় ব্যাটিং পারফরম্যান্সের পর বোলারদের ভেলকিতে উড়ে গেল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। বাংলাদেশের ২৯৬ রানের বিশাল সংগ্রহের জবাবে ৩০.১ ওভারে সব উইকেট হারিয়ে ১১৭ রানে গুটিয়ে গেলেন ক্যারিবীয় ব্যাটাররা। ১-১ সমতায় থাকা সিরিজের শেষ ম্যাচে তাই বাংলাদেশর পক্ষে এলো ১৭৯ রানের বিশাল জয়। সঙ্গে এলো দেড় বছরেরও বেশি সময় পর ওয়ানডে সিরিজ জয়ের স্বাদও।

বৃহস্পতিবার (২৩ অক্টোবর) মিরপুরের শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সিরিজ নির্ধারণী তৃতীয় ম্যাচে উইন্ডিজের মুখোমুখি হয়েছিল বাংলাদেশ। সিরিজের প্রথম দুই ম্যাচে মিরপুরের ‘হোম অব ক্রিকেটে’র উইকেটের আচরণ ছিল চিরচেনা। তবে প্রথম ম্যাচে ফল স্বাগতিকদের পক্ষে এলেও দ্বিতীয় ম্যাচে ঘুরে দাঁড়িয়ে সিরিজে সমতা আনে ওয়েস্ট ইন্ডিজ।

শেষ ম্যাচেও উইকেট ছিল একই রকম। কিন্তু সৌম্য সরকার আর সাইফ হাসান ওপেনিংয়ে নামতেই যেন ভোজবাজির মতো বদলে গেল উইকেটের আচরণ। দুজনে যেন মিরপুর নয়, ব্যাট করছিলেন রান স্বর্গ ওভাল বা ওয়ান্ডারার্সে! পাওয়ারপ্লেতে বিনা উইকেটে ৭৪, উদ্বোধনী জুটিতে ২৫ ওভারে ১৭৬— বাংলাদেশের ব্যাটাররা ওয়ানডেতে শেষ কবে এত ভালো ব্যাট করেছে, তা যেন মনেই করতে পারছিলেন না দর্শকরা!

সাইফ-সৌম্যের বিদায়ের পরই অবশ্য বদলে যায় চিত্র। শেষ ২৫ ওভারে এলো মাত্র ১২০ রান। তারপরও ২৯৬ রানের বিশাল সংগ্রহ বাংলাদেশের। এ রান ডিফেন্ড করতে টাইগার বোলাররা বল হাতে নিতেই যেন মিরপুর ফিরল চেনা রূপে। স্পিনে খাবি খেলেন উইন্ডিজ ব্যাটাররা। শেষ পর্যন্ত ১৭৯ রানের বিশাল জয় নিয়ে ২-১ ব্যবধানে সিরিজও জিতে নিল বাংলাদেশ।

ওয়েস্ট ইন্ডিজের ব্যাটাররা ব্যাট করতে নামলে শুরু থেকেই চেপে ধরে বাংলাদেশ। দুপ্রান্ত থেকে স্পিন আক্রমণে একদিনে থমকে যায় রানের চাকা, অন্যদিকে টপাটপ পড়তে থাকে উইকেট, যার শুরুটা নাসুম আহমেদের হাত ধরে।

নিখুঁত লাইন-লেন্থে বল ফেলে নিজস্ব পঞ্চম আর দলীয় অষ্টম ওভারের মধ্যেই প্রতিপক্ষের তিন তিনটি উইকেট তুলে নেন নাসুম। ৬ ওভারে ১ মেডেন নিয়ে ১১ রানে তুলে নেন ওই ৩টি উইকেট। পরে অন্য বোলারদের দাপটে আর বল হাতে পাননি তিনি।

দুর্দান্ত বোলিংয়ে শুরু থেকেই ওয়েস্ট ইন্ডিজকে চেপে ধরেন নাসুম আহমেদ। ছবি: সংগৃহীত
দুর্দান্ত বোলিংয়ে শুরু থেকেই ওয়েস্ট ইন্ডিজকে চেপে ধরেন নাসুম আহমেদ। ছবি: সংগৃহীত

নাসুমের পর একে একে উইকেট শিকারীর তালিকায় যোগ দেন তানভীর ইসলাম ও রিশাদ হোসেন। প্রথমজন তুলে নেন ২ উইকেট, দ্বিতীয়জন ৩ উইকেট। শেষের দিকে ক্যাপ্টেন মেহেদি হাসান মিরাজও বসে থাকেননি। শেষ দুটি উইকেট তুলে নিয়ে উইন্ডিজ ইনিংসে শেষ পেরেকটি তিনিই ঠুকেছেন। ৩০ ওভার ১ বলে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ইনিংস গুটিয়ে যাওয়ায় পেসার মোস্তাফিজকে বল হাতেই নিতে হয়নি।

ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে ১৫ বলে ২৭ করে সর্বোচ্চ স্কোরার ১০ নম্বরে ব্যাটিংয়ে নামা আকিল হোসেন। ১৭ বলে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১৮ রান করেছেন ওপেনার ব্র্যান্ডন কিং। আরেক ওপেনার অ্যালিক অ্যাথেনজে, মিডল অর্ডারের কেসি কার্টি আর পেস বোলিং অলরাউন্ডার জাস্টিন গ্রিভস করেছেন সমান ১৫ করে রান। ১২ রান করেছেন শেরফান রাদারফোর্ড। বাকি পাঁচ ব্যাটারের কেউ দুই অঙ্ক স্পর্শ করতে পারেননি।

এর আগে টসে জিতে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ২৯৬ রানের বড় পুঁজি পায় স্বাগতিকরা। আগের দুই ওয়ানডেতে মিরপুরের কালো পিচে যেখানে প্রথম ইনিংসের রান ছিল যথাক্রমে ২০৭ ও ২০১৩, সেখানে আজ ঝড় তুলেছেন সাইফ ও সৌম্য। দুজনেই রান করেছেন ১০০ প্লাস স্ট্রাইক রেটে।

সাইফ-সৌম্যের উদ্বোধনী জুটিতে আসে ১৭৬ রান। এ নিয়ে ওয়ানডেতে ১৪ ম্যাচ পর উদ্বোধনী জুটি পার করল অর্ধশত রান। অন্যদিকে মিরপুরে এটিই বাংলাদেশের পক্ষে সর্বোচ্চ রানের উদ্বোধনী জুটি, সব মিলিয়ে বাংলাদেশের পক্ষে যা দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। এর আগে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে তামিম ইকবাল ও লিটন দাসের ২৯২ রানের উদ্বোধনী জুটির পরেই এখন অবস্থান আজকের ম্যাচের উদ্বোধনী জুটির।

দলকে দুর্দান্ত সূচনা এনে দিলেও কাছাকাছি গিয়ে শতরানের মাইলফলক স্পর্শ করতে ব্যর্থ হন সাইফ-সৌম্য দুজনেই। ৭২ বলে ৬ ছক্কা ও ৬ চারে ৮০ রান করে আউট হন সাইফ। ৮৬ বলে ৭ চার ও ৪ ছক্কায় ৯১ রান করে আউট হন সৌম্য।

এরপর বাংলাদেশি ব্যাটাররা আর খুব বেশি থিতু হতে পারেননি। তৃতীয় সর্বোচ্চ ৫৫ বলে ৪৪ রান করেন চারে নামা নাজমুল হোসেন শান্ত। ওয়ান ডাউনে নামা তাওহীদ হৃদয় করেন ৪৪ বলে ২৮ রান।

তিন ম্যাচেই দুর্দান্ত বোলিংয়ের পাশাপাশি প্রথম দুই ম্যাচে ব্যাট হাতেও সাফল্যের স্বীকৃতি হিসেবে সিরিজসেরা হয়েছেন রিশাদ হোসেন। ছবি: সংগৃহীত
তিন ম্যাচেই দুর্দান্ত বোলিংয়ের পাশাপাশি প্রথম দুই ম্যাচে ব্যাট হাতেও সাফল্যের স্বীকৃতি হিসেবে সিরিজসেরা হয়েছেন রিশাদ হোসেন। ছবি: সংগৃহীত

এ দিন রানের গতি বাড়াতে ৪ উইকেট পতনের পরই নামিয়ে দেওয়া হয় রিশাদকে, ৫ উইকেট যাওয়ার পর নাসুমকে। তবে দুজনের কেউই ব্যাট হাঁকাতে পারেননি, আউট হয়েছেন যথাক্রমে ৩ ও ১ রান করে। পরে মিরাজের ১৭ বলে ১৭ আর নুরুল হাসান সোহানের ৮ বলে অপরাজিত ১৬ রানের ওপর ভর করে ৩০০ রানের কাছাকাছি পৌঁছায় বাংলাদেশ।

৪৬তম ওভারে তিন উইকেটসহ ৪ উইকেট নিয়ে ক্যারিবীয় বোলারদের মধ্যে সফলতম আকিল হোসেন। দুটি উইকেট নিয়েছেন অ্যালিক অ্যাথানজে। একটি করে উইকেট নিয়েছেন রোস্টন চেজ ও গুদাকেশ মোতি।

এ জয়ের ফলে অবশেষে প্রিয় ফরম্যাটে সিরিজ জিতল বাংলাদেশ। মাঝে অপেক্ষা করতে হয়েছে ১ বছর ৭ মাস ৫ দিন। এর মধ্যে চার সিরিজ খেলে দুটিতে হোয়াইটওয়াশও হয়েছে।

৯১ রানের অনবদ্য ইনিংসের জন্য ম্যাচসেরা হয়েছেন সৌম্য সরকার। তিন ম্যাচের লড়াইয়ে ব্যাট হাতে ৬৮ রানের পাশাপাশি বল হাতে ১২ উইকেট নিয়ে সিরিজসেরা হয়েছেন রিশাদ।

ad
ad

খেলা থেকে আরও পড়ুন

হকি স্টিক ছেড়ে ক্রিকেট ব্যাটে নাম লেখানো জয়িতার জয়গাথার গল্প

শৈশব থেকেই জয়িতার স্বভাব ছিল একটু আলাদা। চ্যালেঞ্জ নিতে ভালোবাসতেন, নতুন কিছু করতে আগ্রহী ছিলেন। তার নামের সঙ্গে যেন তার ব্যক্তিত্বের অদ্ভুত মিল- জয়িতা, অর্থাৎ যিনি জয় করতে জানেন। জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে জয়ী হওয়ার এক অদম্য প্রত্যয় তাকে এগিয়ে নিয়ে গেছে আজকের অবস্থানে।

৪ দিন আগে

নিউজিল্যান্ডকে ৬ উইকেটে হারিয়ে সিরিজে সমতা ফেরাল বাংলাদেশ

সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচে জয়ের কোনো বিকল্প ছিল না। এমন ‘ডু অর ডাই’ লড়াইয়ে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে নিউজিল্যান্ডকে ৬ উইকেটে হারিয়ে সিরিজে ১-১ সমতা ফেরাল স্বাগতিকরা। ৮৭ বল হাতে রেখে পাওয়া এই জয়ে আগামী বৃহস্পতিবার চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডে ম্যাচটি কার্যত অলিখিত ফাইনালে পরিণত হয়েছে।

৫ দিন আগে

সিরিজে টিকে থাকার লড়াইয়ে ফিল্ডিংয়ে বাংলাদেশ, একাদশে আফিফের বদলে সৌম্য

এ ম্যাচে দলে এসেছে একটি পরিবর্তন। আগের ম্যাচে মিডল অর্ডারে নেমে ম্যাচের গতির সঙ্গে বেমানান ব্যাটিং করা আফিফ হোসেনকে বাদ দেওয়া হয়েছে একাদশ থেকে। তার জায়গায় ফিরছেন সৌম্য সরকার।

৫ দিন আগে

ঢাকায় শেষ হলো ‘আন্তর্জাতিক ফাইট নাইটের আসর’

দেশ-বিদেশের ফাইটিং স্টারদের ফাইট দেখতে দর্শকদের গুঞ্জরণে মুখরিত হয়ে ছিল জুলকান ইনডোর অ্যারেনা। এই প্রতিযোগিতার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন তানভীর বসুন্ধরা গ্রুপের (টিবিজি) ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আহমেদ ইব্রাহিম সোবহান।

৬ দিন আগে