
শরিফুজ্জামান পিন্টু

দুজনই ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নামকরা অধ্যাপক। একজনের সন্তান লেখক, আরেকজনের সন্তান ওই লেখকের বইয়ের প্রকাশক। দুজনের সন্তানকেই কুপিয়ে হত্যা করেছিল দুষ্কৃতকারীরা। সন্তানহারা এই দুই পিতার সাক্ষাৎকার নিয়েছিলাম দেড় দশক আগে।
ফয়সল আরেফির দীপনকে হত্যা করা হয় ২০১৫ সালের ৩১ অক্টোবর। পরদিন ১ নভেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদের সামনে নেওয়া হয় তার মরদেহ। মসজিদের সামনে এক থেকে দেড় ফুট উঁচু সীমানা প্রাচীরে বসে কথা হয় অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হকের সঙ্গে।
জানাজার দিনে সাক্ষাৎকার নেওয়ার পরিকল্পনা ছিল না। কিন্তু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় রিপোর্টার হিসেবে আমার চেহারা ছিল স্যারের কাছে পরিচিত। অনেকদিন পর কাছে পেয়ে উনি মন খুলে কথা বললেন। বেশ স্বাভাবিকভাবে কুশলাদি জিজ্ঞাসা করলেন। উনি যে সন্তানহারা বাবা, তা তখন মনে হয়নি। ওনার মনোবল দেখে বিস্মিত হয়েছিলাম।
এরপর স্যারের অনুমতি নিয়ে মোবাইল রেকর্ডার অন করি। কিছু পয়েন্ট নোট করলাম। কথা চলতে থাকে। অনেকে স্যারকে ডাকতে লাগলেন। সালাম দিলেন অনেকে, কেউ সমবেদনা জানালেন। কিন্তু স্যার অনেকটাই স্বাভাবিক। হাত উঁচু করছেন, মৃদু হাসছেন। পুত্রশোকের ওই সময়ে বাহ্যিকভাবে আমি ওনাকে কাতর হতে দেখিনি।
এর আগেই তিনি ছেলে হত্যার পর ঘোষণা দিয়েছিলেন, এই হত্যার বিচার তিনি চান না। তাই সন্তানহারা বাবার কাছে প্রথমেই জানতে চাই— স্যার, আপনি ছেলে হত্যার বিচার চান না কেন?
আবুল কাসেম ফজলুল হকের জবাব, বিচার চেয়ে আর কী হবে? এ দেশে রাজনৈতিক সমাধান যতক্ষণ পর্যন্ত না হচ্ছে, ততক্ষণ আইনি কোনো সমাধান সম্ভব না। আমরা শূন্যের মধ্যে ভালো কিছু খুঁজছি। এটা পাওয়া সম্ভব না। আমার কাছে মনে হয়, আগে এটা আদর্শগত ও রাজনৈতিকভাবে সমাধান করতে হবে।
জানতে চাই— আপনি কি আবেগ বা ক্ষোভ থেকে বিচার প্রত্যাখ্যান করেছেন, যেমনটি একের পর এক সাংবাদিক খুন হওয়ার পর একসময় খুলনার সাংবাদিকেরা বিচার প্রত্যাখ্যান করেছিলেন?
আমাকে তিনি উলটো বললেন, ‘শোনো, এটা মোটেও আবেগ বা ক্ষোভের বিষয় নয়। আমি এটা অনেক ভেবে ও নিজের যৌক্তিক বিবেচনাবোধ থেকে বলেছি। কেন বলছি— সেই জবাব এখন তোমাকে দেবো না। দীপনের জানাজা ও দাফন হয়ে যাক। এরপর কোনো একসময় বলব। এখন এটুকু বলতে পারি, বিচার দিয়ে বা আইন-আদালত দিয়ে আমরা একজনকে শাস্তি বা জেল-ফাঁসি দিতে পারি। কিন্তু যদি দেশের সার্বিক উন্নতি না হয়, সবার বিচার তো আর হবে না।’
ছেলে হত্যার ঘটনায় মামলা করবেন কি না?— এই প্রশ্নের জবাবে ফজলুল হক বললেন, নিয়ম অনুযায়ী মামলা করব। আমি আইন মেনে চলি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বলেছে, একটা দরখাস্ত লিখে দিতে। আমি আজ না পারলে আগামীকাল লিখে দেবো। তবে তার মানে এই নয় যে আমি এটার ওপর নির্ভর করি। আমি শুভ বুদ্ধির জাগরণ চাই। সেই জাগরণ হতে হবে সমাজে, রাজনীতিবিদ ও বুদ্ধিজীবীদের মধ্যে।
জানতে চাইলাম, একের পর এক ব্লগার খুন হওয়ার এখনকার এই অবস্থা থেকে পরিত্রাণের উপায় কী?
অধ্যাপক ফজলুল হক বললেন, ‘এর জবাব দেওয়ার আগে তুমি আমাকে বলো, কেউ কি এই অবস্থা থেকে পরিত্রাণ চায়? কেবল আইনের বিচারে একের পর এক হামলা বা হত্যার সমাধান হবে না, এ সংকট থেকে বাঁচতে আদর্শগত রাজনৈতিক সমাধান প্রয়োজন। আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টি বা বামপন্থি— কেউই কি এখনকার পরিস্থিতি থেকে বের হতে চায়?’
অধ্যাপক ফজলুল হকের মতে, আমরা ব্রিটিশ শাসন থেকে মুক্তি চেয়েছিলাম, তা পেয়েছি। আমরা মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীন দেশ চেয়েছিলাম, সেটিও পেয়েছি। কিন্তু এরশাদবিরোধী আন্দোলন করে যে গণতন্ত্র আমরা চেয়েছি, সেটি পাইনি। খুব অল্প কথায় এর কারণও ব্যাখ্যা করেন তিনি, ‘কারণ ওই চাওয়ার মধ্যে ভুল ও বিভ্রান্তি ছিল। সেই ভুলের খেসারত আজও আমরা দিচ্ছি। আমরা তখন গণতন্ত্রের কথা বলেছি, সংসদীয় গণতন্ত্রে ফিরেছি, তত্ত্বাবধায়ক সরকার চালু করেছি আবার মুছে ফেলেছি। কিন্তু কোনো চাওয়াই পূর্ণতা পায়নি।’
ওনার কাছে প্রশ্ন রাখি— তাহলে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন কি ঠিক ছিল না?
ফজলুল হকের জবাব, ‘স্বৈরাচারের পতন দরকার ছিল। কিন্তু সেই আন্দোলন হয়েছিল নানা শক্তির মাধ্যমে প্রভাবিত হয়ে, সামনে ছিল সুশীল সমাজের কিছু লোকজন। ফলে ত্রুটিপূর্ণ ওই আন্দোলনের চরিত্র অনুযায়ী এখন দেশ চলছে। ওই আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় আজকের নতুন রাজনৈতিক ধারা তৈরি হয়েছে। সামনের দিনগুলোতে এর চেয়েও খারাপ অবস্থা তৈরি হতে পারে।’
এখান থেকে ফেরার উপায় কী— ফজলুল হক বললেন, ‘আমাদের মুক্তি ও উন্নতির জন্য ২৮ দফা কর্মসূচি নিয়ে স্বদেশ চিন্তা সংঘ অনেক দিন ধরে কাজ করছে। আমরা বলছি, নির্বাচন সর্বস্ব গণতন্ত্র থেকে বের হতে হবে। তা না হলে সব মানুষের সম্মানজনক অবস্থান নিশ্চিত হবে না। এমন রাজনৈতিক শক্তি গড়ে তুলতে হবে, যারা শুধু ঐক্যের কথা বলবে না, কাজেও এর প্রমাণ দেবে।’
আবুল কাসেম বলতে থাকেন, ‘অনেকেই কথায় কথায় আজকাল বলেন, ঐক্য দরকার। কিন্তু আমার প্রশ্ন— তারা কি আসলেই এটা চান? চাইলে এত দিনেও তা হয় না কেন? আমাদের এখন একটি সংকল্প ও কর্মসূচির ভিত্তিতে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। খেয়াল রাখতে হবে, ওই ঐক্য যেন লুটপাট ও ভাগাভাগির জন্য না হয়।’
জানতে চাই, রাজনীতির কথা বললেন, কিন্তু এখনকার পরিস্থিতিতে মানুষের করণীয় কী?
জবাবে এই অধ্যাপক বললেন, ‘রাজনীতি, অর্থনীতি, শিক্ষা ও সংস্কৃতি— যে যেখানে আছি, সবক্ষেত্রেই আত্মনির্ভরতা ও আত্মশক্তির চর্চা করা দরকার। আমরা এখনো পরিচালিত হচ্ছি বাইরের শক্তি দিয়ে। এর অবসান ঘটাতে হবে। দেশের শিক্ষাব্যবস্থা, প্রশাসন ও বিচারব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন দরকার। আমার মনে হয়, যারা ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ নিয়ে রাজনীতি করছেন, যারা রাষ্ট্রধর্ম নিয়ে রাজনীতি করছেন— উভয় পক্ষই দেশের জন্য ভালো করছেন না। উভয় পক্ষের শুভবুদ্ধির উদয় হওয়া দরকার।’
ছেলের সম্পর্কে কিছু জানতে চাইলাম বাবার কাছে। ফজলুল হক বললেন, ‘ও কারও সঙ্গে কোনোদিন খারাপ ব্যবহার করেছে, এটা শুনিনি। জ্ঞানত কারও ক্ষতি করেনি। ওর টাকাপয়সার প্রতি মোহ ছিল না। যতটুকু দরকার ততটুকু পেলেই সন্তুষ্ট থাকত। ধর্ম নিয়ে কখনোই বাড়াবাড়ি করেনি। শুধু অভিজিতের বই প্রকাশ করায় তাকে হত্যা করা হয়েছে।’
খ্যাতিমান এই অধ্যাপকের সন্তান ফয়সল আরেফিন দীপন জঙ্গিদের হাতে হত্যাকাণ্ডের শিকার হন ২০১৫ সালের ৩১ অক্টোবর। ফয়সলের প্রকাশনা সংস্থা জাগৃতি থেকে বিজ্ঞান লেখক অভিজিৎ রায়ের বিশ্বাসের ভাইরাস ও অবিশ্বাসের দর্শন নামে দুটি বই প্রকাশ করা হয়।
২০১৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে একুশের বইমেলা থেকে বের হওয়ার পথে ২৬ ফেব্রুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় সেই অভিজিৎ রায়কেও কুপিয়ে হত্যা করা হয়, যার বাবা প্রথ্যাত অধ্যাপক ও শিক্ষাবিদ অজয় রায়ও প্রয়াত হয়েছেন।

দুজনই ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নামকরা অধ্যাপক। একজনের সন্তান লেখক, আরেকজনের সন্তান ওই লেখকের বইয়ের প্রকাশক। দুজনের সন্তানকেই কুপিয়ে হত্যা করেছিল দুষ্কৃতকারীরা। সন্তানহারা এই দুই পিতার সাক্ষাৎকার নিয়েছিলাম দেড় দশক আগে।
ফয়সল আরেফির দীপনকে হত্যা করা হয় ২০১৫ সালের ৩১ অক্টোবর। পরদিন ১ নভেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদের সামনে নেওয়া হয় তার মরদেহ। মসজিদের সামনে এক থেকে দেড় ফুট উঁচু সীমানা প্রাচীরে বসে কথা হয় অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হকের সঙ্গে।
জানাজার দিনে সাক্ষাৎকার নেওয়ার পরিকল্পনা ছিল না। কিন্তু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় রিপোর্টার হিসেবে আমার চেহারা ছিল স্যারের কাছে পরিচিত। অনেকদিন পর কাছে পেয়ে উনি মন খুলে কথা বললেন। বেশ স্বাভাবিকভাবে কুশলাদি জিজ্ঞাসা করলেন। উনি যে সন্তানহারা বাবা, তা তখন মনে হয়নি। ওনার মনোবল দেখে বিস্মিত হয়েছিলাম।
এরপর স্যারের অনুমতি নিয়ে মোবাইল রেকর্ডার অন করি। কিছু পয়েন্ট নোট করলাম। কথা চলতে থাকে। অনেকে স্যারকে ডাকতে লাগলেন। সালাম দিলেন অনেকে, কেউ সমবেদনা জানালেন। কিন্তু স্যার অনেকটাই স্বাভাবিক। হাত উঁচু করছেন, মৃদু হাসছেন। পুত্রশোকের ওই সময়ে বাহ্যিকভাবে আমি ওনাকে কাতর হতে দেখিনি।
এর আগেই তিনি ছেলে হত্যার পর ঘোষণা দিয়েছিলেন, এই হত্যার বিচার তিনি চান না। তাই সন্তানহারা বাবার কাছে প্রথমেই জানতে চাই— স্যার, আপনি ছেলে হত্যার বিচার চান না কেন?
আবুল কাসেম ফজলুল হকের জবাব, বিচার চেয়ে আর কী হবে? এ দেশে রাজনৈতিক সমাধান যতক্ষণ পর্যন্ত না হচ্ছে, ততক্ষণ আইনি কোনো সমাধান সম্ভব না। আমরা শূন্যের মধ্যে ভালো কিছু খুঁজছি। এটা পাওয়া সম্ভব না। আমার কাছে মনে হয়, আগে এটা আদর্শগত ও রাজনৈতিকভাবে সমাধান করতে হবে।
জানতে চাই— আপনি কি আবেগ বা ক্ষোভ থেকে বিচার প্রত্যাখ্যান করেছেন, যেমনটি একের পর এক সাংবাদিক খুন হওয়ার পর একসময় খুলনার সাংবাদিকেরা বিচার প্রত্যাখ্যান করেছিলেন?
আমাকে তিনি উলটো বললেন, ‘শোনো, এটা মোটেও আবেগ বা ক্ষোভের বিষয় নয়। আমি এটা অনেক ভেবে ও নিজের যৌক্তিক বিবেচনাবোধ থেকে বলেছি। কেন বলছি— সেই জবাব এখন তোমাকে দেবো না। দীপনের জানাজা ও দাফন হয়ে যাক। এরপর কোনো একসময় বলব। এখন এটুকু বলতে পারি, বিচার দিয়ে বা আইন-আদালত দিয়ে আমরা একজনকে শাস্তি বা জেল-ফাঁসি দিতে পারি। কিন্তু যদি দেশের সার্বিক উন্নতি না হয়, সবার বিচার তো আর হবে না।’
ছেলে হত্যার ঘটনায় মামলা করবেন কি না?— এই প্রশ্নের জবাবে ফজলুল হক বললেন, নিয়ম অনুযায়ী মামলা করব। আমি আইন মেনে চলি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বলেছে, একটা দরখাস্ত লিখে দিতে। আমি আজ না পারলে আগামীকাল লিখে দেবো। তবে তার মানে এই নয় যে আমি এটার ওপর নির্ভর করি। আমি শুভ বুদ্ধির জাগরণ চাই। সেই জাগরণ হতে হবে সমাজে, রাজনীতিবিদ ও বুদ্ধিজীবীদের মধ্যে।
জানতে চাইলাম, একের পর এক ব্লগার খুন হওয়ার এখনকার এই অবস্থা থেকে পরিত্রাণের উপায় কী?
অধ্যাপক ফজলুল হক বললেন, ‘এর জবাব দেওয়ার আগে তুমি আমাকে বলো, কেউ কি এই অবস্থা থেকে পরিত্রাণ চায়? কেবল আইনের বিচারে একের পর এক হামলা বা হত্যার সমাধান হবে না, এ সংকট থেকে বাঁচতে আদর্শগত রাজনৈতিক সমাধান প্রয়োজন। আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টি বা বামপন্থি— কেউই কি এখনকার পরিস্থিতি থেকে বের হতে চায়?’
অধ্যাপক ফজলুল হকের মতে, আমরা ব্রিটিশ শাসন থেকে মুক্তি চেয়েছিলাম, তা পেয়েছি। আমরা মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীন দেশ চেয়েছিলাম, সেটিও পেয়েছি। কিন্তু এরশাদবিরোধী আন্দোলন করে যে গণতন্ত্র আমরা চেয়েছি, সেটি পাইনি। খুব অল্প কথায় এর কারণও ব্যাখ্যা করেন তিনি, ‘কারণ ওই চাওয়ার মধ্যে ভুল ও বিভ্রান্তি ছিল। সেই ভুলের খেসারত আজও আমরা দিচ্ছি। আমরা তখন গণতন্ত্রের কথা বলেছি, সংসদীয় গণতন্ত্রে ফিরেছি, তত্ত্বাবধায়ক সরকার চালু করেছি আবার মুছে ফেলেছি। কিন্তু কোনো চাওয়াই পূর্ণতা পায়নি।’
ওনার কাছে প্রশ্ন রাখি— তাহলে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন কি ঠিক ছিল না?
ফজলুল হকের জবাব, ‘স্বৈরাচারের পতন দরকার ছিল। কিন্তু সেই আন্দোলন হয়েছিল নানা শক্তির মাধ্যমে প্রভাবিত হয়ে, সামনে ছিল সুশীল সমাজের কিছু লোকজন। ফলে ত্রুটিপূর্ণ ওই আন্দোলনের চরিত্র অনুযায়ী এখন দেশ চলছে। ওই আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় আজকের নতুন রাজনৈতিক ধারা তৈরি হয়েছে। সামনের দিনগুলোতে এর চেয়েও খারাপ অবস্থা তৈরি হতে পারে।’
এখান থেকে ফেরার উপায় কী— ফজলুল হক বললেন, ‘আমাদের মুক্তি ও উন্নতির জন্য ২৮ দফা কর্মসূচি নিয়ে স্বদেশ চিন্তা সংঘ অনেক দিন ধরে কাজ করছে। আমরা বলছি, নির্বাচন সর্বস্ব গণতন্ত্র থেকে বের হতে হবে। তা না হলে সব মানুষের সম্মানজনক অবস্থান নিশ্চিত হবে না। এমন রাজনৈতিক শক্তি গড়ে তুলতে হবে, যারা শুধু ঐক্যের কথা বলবে না, কাজেও এর প্রমাণ দেবে।’
আবুল কাসেম বলতে থাকেন, ‘অনেকেই কথায় কথায় আজকাল বলেন, ঐক্য দরকার। কিন্তু আমার প্রশ্ন— তারা কি আসলেই এটা চান? চাইলে এত দিনেও তা হয় না কেন? আমাদের এখন একটি সংকল্প ও কর্মসূচির ভিত্তিতে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। খেয়াল রাখতে হবে, ওই ঐক্য যেন লুটপাট ও ভাগাভাগির জন্য না হয়।’
জানতে চাই, রাজনীতির কথা বললেন, কিন্তু এখনকার পরিস্থিতিতে মানুষের করণীয় কী?
জবাবে এই অধ্যাপক বললেন, ‘রাজনীতি, অর্থনীতি, শিক্ষা ও সংস্কৃতি— যে যেখানে আছি, সবক্ষেত্রেই আত্মনির্ভরতা ও আত্মশক্তির চর্চা করা দরকার। আমরা এখনো পরিচালিত হচ্ছি বাইরের শক্তি দিয়ে। এর অবসান ঘটাতে হবে। দেশের শিক্ষাব্যবস্থা, প্রশাসন ও বিচারব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন দরকার। আমার মনে হয়, যারা ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ নিয়ে রাজনীতি করছেন, যারা রাষ্ট্রধর্ম নিয়ে রাজনীতি করছেন— উভয় পক্ষই দেশের জন্য ভালো করছেন না। উভয় পক্ষের শুভবুদ্ধির উদয় হওয়া দরকার।’
ছেলের সম্পর্কে কিছু জানতে চাইলাম বাবার কাছে। ফজলুল হক বললেন, ‘ও কারও সঙ্গে কোনোদিন খারাপ ব্যবহার করেছে, এটা শুনিনি। জ্ঞানত কারও ক্ষতি করেনি। ওর টাকাপয়সার প্রতি মোহ ছিল না। যতটুকু দরকার ততটুকু পেলেই সন্তুষ্ট থাকত। ধর্ম নিয়ে কখনোই বাড়াবাড়ি করেনি। শুধু অভিজিতের বই প্রকাশ করায় তাকে হত্যা করা হয়েছে।’
খ্যাতিমান এই অধ্যাপকের সন্তান ফয়সল আরেফিন দীপন জঙ্গিদের হাতে হত্যাকাণ্ডের শিকার হন ২০১৫ সালের ৩১ অক্টোবর। ফয়সলের প্রকাশনা সংস্থা জাগৃতি থেকে বিজ্ঞান লেখক অভিজিৎ রায়ের বিশ্বাসের ভাইরাস ও অবিশ্বাসের দর্শন নামে দুটি বই প্রকাশ করা হয়।
২০১৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে একুশের বইমেলা থেকে বের হওয়ার পথে ২৬ ফেব্রুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় সেই অভিজিৎ রায়কেও কুপিয়ে হত্যা করা হয়, যার বাবা প্রথ্যাত অধ্যাপক ও শিক্ষাবিদ অজয় রায়ও প্রয়াত হয়েছেন।

জুলাইয়ে দাঁড়িয়ে এই লেখার মাধ্যমে তাদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাই এবং রাষ্ট্র, সমাজ ও ইতিহাসের কাছে দাবি রাখি— এই দেশ, এই ইতিহাস যেন তাদের নামেও উচ্চারিত হয়। দীর্ঘ জুলাইয়ে ঝরে যাওয়া অসংখ্য নারীর প্রাণ, যাদের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে স্বৈরাচারী শাসনের অবসান হলেও নারীদের লড়াই এখনো চলমান।
৪ দিন আগে
বাংলাদেশের গ্রাম থেকে শহর— সবখানেই অসংখ্য মেধাবী শিশুর জন্ম হচ্ছে। তারা প্রশ্ন করতে জানে, নতুন কিছু ভাবতে জানে, স্বপ্ন দেখতে জানে। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, এই বিপুল সম্ভাবনার একটি বড় অংশ সঠিক পরিচর্যা, দিকনির্দেশনা ও সহায়ক পরিবেশের অভাবে ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে।
৬ দিন আগে
প্রথম দৃষ্টিতে এমপি নুরুন্নিসার বক্তব্যকে সমঅধিকারের পক্ষে একটি যুক্তি বলে মনে হতে পারে। কিন্তু রাষ্ট্রবিজ্ঞান, অর্থনীতি ও জননীতির আলোচনায় সমতা (Equality) ও ন্যায়সঙ্গত সমতা (Equity) এক বিষয় নয়। অনেক সময় সমাজে বিদ্যমান বৈষম্য দূর করতে রাষ্ট্রকে একটি নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠীর জন্য অতিরিক্ত সহায়তা দিতে হয়। এ
৯ দিন আগে
স্বয়ং রাসুল (সা.) এ মাসকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে বর্ণনা করেছেন এবং তিনি বিশ্ববাসীর প্রতি তার দায়িত্ব, অর্থাৎ মানুষকে শান্তির ধর্ম ইসলামের পথে আহ্বান করার কাজ শুরু করেছিলেন মহররম মাসে। তবে এ কথা সত্য— ১০ মহররম কারবালা প্রান্তরে দলবলসহ হজরত ইমাম হুসাইনের (রা.) শহিদ হওয়ার ঘটনা এ দিনের গুরুত্ব ও তাৎপর
১০ দিন আগে