তারেক রহমানের ফিরতে বাধা পুরনো শক্তির অমীমাংসিত হিসাব

ড. সাব্বির আহমেদ

তারেক রহমান দেশে ফিরতে না পারার মূল কারণটা আমি অতীতের দিকেই দেখি। ওয়ান-ইলেভেনের সময় যেসব শক্তি তাকে গ্রেপ্তার করেছিল এবং নির্যাতন করেছিল, তাদের সঙ্গে সেই পুরনো বিরোধ এখনো পুরোপুরি মিটেনি। সেই সময়ের নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর যারা এতে জড়িত ছিলেন, তাদের একটি অংশ আজও ‘সম্মতি’ দিচ্ছেন না— এমন ধারণা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। তাদের হয়তো নিজেদের কিছু স্বার্থ বা অবস্থান রয়েছে।

আইনি একটি কথাও শোনা যায়— তিনি ব্রিটেনে যাওয়ার সময় নাকি পাসপোর্ট জমা দিতে হয়েছিল। এটা ঠিক কি না, আমি জানি না। তবে আমার কাছে মনে হয়, আইনি জটিলতার চেয়ে রাজনৈতিক-প্রাতিষ্ঠানিক সমস্যাটাই বড়। পুরনো সময়ে যেটা ঘটেছিল, সেই অমীমাংসিত সম্পর্কই এখনো তার পথে প্রধান বাধা হয়ে আছে।

তারেক রহমান নির্বাচন আগে দেশে ফিরবেন কি না— এটি পুরোই পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করছে। নির্বাচনের পর আসার সম্ভাবনা তো আছে, কারণ তখন পরিবেশ একটু শান্ত হবে। তবে মায়ের শারিরীক অসুস্থতার কারণে তিনি হয়তো চাইবেন যেভাবেই হোক নির্বাচনের আগেই দেশে আসতে।

শনিবার (২৯ নভেম্বর) তারেক রহমান তার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন। মায়ের অসুস্থতার জন্য সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন। কারণ না বললেও স্পষ্ট করেই বলেছেন, এমন পরিস্থিতিতেও তিনি দেশে ফিরতে পারছেন না।

তারেক রহমান লিখেছেন, ‘এমন সংকটকালে মায়ের স্নেহ স্পর্শ পাওয়ার তীব্র আকাঙ্ক্ষা যেকোনো সন্তানের মতো আমারও রয়েছে। কিন্তু অন্য আর সবার মতো এটি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে আমার একক সিদ্ধান্ত গ্রহণের সুযোগ অবারিত ও একক নিয়ন্ত্রণাধীন নয়। স্পর্শকাতর এ বিষয়টি বিস্তারিত বর্ণনার অবকাশও সীমিত।’

একদিকে সরকার নির্বাচন আয়োজনের কথা বারবার বলছে, নির্বাচন কমিশন তফসিল ঘোষণার কথা জানাচ্ছে; অন্যদিকে মায়ের শারীরিক অবস্থা সংকটাপন্ন— এ অবস্থাতেও তারেক রহমান দেশে ফিরতে না পারায় সাধারণ মানুষের মনে কিছু প্রশ্ন তৈরি হওয়া স্বাভাবিক। কিন্তু এতে বিএনপির নির্বাচনে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আমার মনে হয় না।

আমার কাছে মনে হয়, দলের যদি কোনোরকম ক্ষতি হয়, সেটি হবে দলের ভেতরের শৃঙ্খলা ভেঙে যাওয়ার কারণে, তারেক রহমানের দেশে না ফেরার কারণে নয়। নেতাকর্মীরা যদি বিশৃঙ্খল আচরণ করে— সেটাই সবচেয়ে বড় বিপদ। তারেক রহমানের থাকা বা না থাকা ভোটের হিসাবও খুব একটা পালটে দেবে বলে আমি মনে করি না।

সার কথা— তারেক রহমানের দেশে ফেরা এখনো আটকে আছে পুরনো শক্তির অমীমাংসিত হিসাব, নিরাপত্তা-দ্বিধা আর রাষ্ট্রযন্ত্রের কিছু অংশের অনীহায়। এগুলো পরিষ্কার না হলে তার ফেরা কঠিনই থেকে যাবে।

লেখক: রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও অধ্যাপক, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

ad
ad

মতামত থেকে আরও পড়ুন

পরীক্ষার হল কি রাজনৈতিক মঞ্চ?

পরীক্ষার কক্ষে পরীক্ষা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ছাড়া অন্য কারও প্রবেশ সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ করতে হবে— মন্ত্রী, এমপি, বিরোধী নেতা কিংবা সাংবাদিক— কেউই এর ব্যতিক্রম নন। আইন সবার জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য। কোনো ধরনের প্রদর্শনমূলক কার্যক্রম বা রাজনৈতিক উপস্থিতি এই সংবেদনশীল পরিবেশে অনুমোদন করা উচিত নয়।

৫ দিন আগে

রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন সরকারের অগ্রাধিকারে থাকা আবশ্যক

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী এসব দেশের সঙ্গে আলোচনায় রোহিঙ্গা ইস্যুটি অগ্রাধিকারে রাখলে এবং পূর্বের ন্যায় দ্বিপাক্ষিক, ত্রিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত রাখলে এ সমস্যার সমাধান সম্ভব বলে আশা করা যায়।

৫ দিন আগে

একাডেমিক শিক্ষা ও কর্পোরেট বাস্তবতার সমন্বয় টেকসই উন্নয়নের ভিত্তি

ভবিষ্যতের বিশ্বে টিকে থাকতে হলে শুধুমাত্র ডিগ্রি নয়, বরং বাস্তব দক্ষতা, প্রযুক্তিগত জ্ঞান এবং উদ্ভাবনী চিন্তাভাবনা অপরিহার্য। মানবসম্পদ উন্নয়নে একাডেমিক শিক্ষা ও কর্পোরেট বাস্তবতার মধ্যে কার্যকর সমন্বয়ই হতে পারে বাংলাদেশের টেকসই উন্নয়নের মূল ভিত্তি।

৮ দিন আগে

সক্রিয় তদারকিতে হজ ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা দৃশ্যমান

এ বছর ধর্মমন্ত্রীকে সরাসরি মাঠে গিয়ে হজযাত্রীদের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করতে দেখা গেছে। এ ছাড়া তিনি হজযাত্রা ও এর ব্যবস্থাপনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে মতবিনিময় করছেন। এসবের মাধ্যমে যেসব বাস্তব সমস্যা খুঁজে পাচ্ছেন, দ্রুত সেগুলো সমাধানেরও উদ্যোগ নিচ্ছেন। এর মাধ্যমে প্রশাসনিক জবাবদিহিতা ও দায়বদ্ধতার একটি

১১ দিন আগে