
শরিফুজ্জামান পিন্টু

দেশের রাজনীতিতে সত্য এখন এক অদ্ভুত চরিত্র। কখনো তাকে দেখা যায় সংসদ ভবনের করিডোরে হাঁটতে, কখনো সংবাদ সম্মেলনের মাইক্রোফোনে ধরা দিতে, আবার কখনো সরকারি গেজেটের পাতায় হাজির হতে। কিন্তু তাকে যাচাই করতে গেলেই বিপত্তি, যেনো কুয়াশার আড়ালে মিলিয়ে যায়।
সাম্প্রতিক সময়ের তিনটি আলোচিত ঘটনা যেন একই নাটকের তিনটি দৃশ্য। চরিত্র আলাদা, সংলাপ আলাদা, কিন্তু প্রশ্ন একটাই— প্রকৃত সত্য কী? সবটাই যে সত্য, তা নয়। আবার সবটাই যে মিথ্যা, সেটিও বলা যায় না। আর এই ধূসর অঞ্চলেই সবচেয়ে বেশি ক্ষয় হয় জনবিশ্বাসের।
গত ৯ জুন জাতীয় সংসদে দাঁড়িয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বললেন, নাবিল গ্রুপকে এলসির বিপরীতে ৭০০ কোটি টাকা ঋণ দেওয়া হয়েছিল। মালামাল বিক্রি করে সেই টাকা ইসলামী ব্যাংককে ফেরত দেওয়া হয়নি। এরপর তিনি যোগ করলেন, ‘দুষ্টু লোকেরা বলে, সেই টাকা কোনো এক দলের নির্বাচনি তহবিলে গেছে।’
বাংলাদেশের রাজনৈতিক অভিধানে হয়তো নতুন এক চরিত্রের সংযোজন হলো— ‘দুষ্টু লোক’। অভিযোগ তার মুখে জন্ম নেয়, কিন্তু পরিচয় আর প্রমাণের কাছে পৌঁছাতে পারে না।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিজে সরাসরি অভিযোগ করলেন না। তিনি জানালেন, দুষ্টু লোকেরা বলছে। তবে সংসদে উচ্চারিত প্রতিটি শব্দের রাজনৈতিক ও সামাজিক ওজন থাকে। একজন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যখন কোটি টাকার আর্থিক অনিয়ম ও নির্বাচনি তহবিলে অর্থ যাওয়ার সম্ভাবনার ইঙ্গিত দেন, তখন সেটি আর চায়ের দোকানের গল্প বা নিছক রাজনৈতিক আলাপ থাকে না।
তিনি আরও বলেন, নাবিল গ্রুপের ব্যাংক দায় ১৬ হাজার কোটি টাকা। একই সঙ্গে প্রশ্ন তোলেন, তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত হচ্ছে না কেন?
এর জবাবে ১৩ জুন নাবিল গ্রুপ দেশের এক ডজনের বেশি সংবাদপত্রে প্রায় অর্ধপৃষ্ঠা জুড়ে প্রতিবাদ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। তাদের দাবি, অভিযোগগুলো অসত্য, ভিত্তিহীন ও অতিরঞ্জিত। নিরীক্ষিত আর্থিক বিবরণী, ব্যাংকিং নথি এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার রেকর্ডের সঙ্গে সংসদে দেওয়া বক্তব্যের কোনো মিল নেই।
এখন প্রশ্ন হলো, সত্যটা কোথায়?
নাবিল গ্রুপ কি সত্যিই ৭০০ কোটি টাকা অন্য খাতে সরিয়েছে? নির্বাচনি তহবিলে অর্থ দিয়েছে?
যদি অভিযোগ সত্য হয়, তাহলে তদন্ত করে প্রতিবেদন প্রকাশ করা ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া সরকারের দায়িত্ব। নিশ্চয়ই নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ এসে সেই কাজটি করে দেবে না।
অন্যদিকে বাংলাদেশে সম্ভবত সবচেয়ে দীর্ঘজীবী বাক্যগুলোর একটি হলো— ‘তদন্ত হবে’ বা ‘তদন্ত চলছে’। কিছু তদন্ত জন্ম নেয়, বড় হয়, বুড়ো হয়; কিন্তু শেষ হয় না।
ইসলামী ব্যাংকে ঋণ জালিয়াতির ঘটনায় এস আলমের পরই নাবিল গ্রুপের অবস্থান। ভুয়া ঠিকানা ব্যবহার, নামসর্বস্ব প্রতিষ্ঠানসহ নানা ছলচাতুরির মাধ্যমে ইসলামী ব্যাংক থেকে গ্রুপটি হাজার হাজার কোটি টাকা লুটে নিয়েছে। পত্র-পত্রিকায় এ নিয়ে অসংখ্য অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।
নাবিল গ্রুপের নানা ধরনের জালিয়াতির বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক, বাংলাদেশ আর্থিক গোয়েন্দা ইউনিট (বিএফআইইউ), দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ও সিআইডি তদন্ত করছে।
নাবিল গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আমিনুল ইসলাম যেভাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য উড়িয়ে দিয়ে জোরগলায় প্রতিবাদ জানিয়েছেন, তাতে কে সঠিক বা কার বক্তব্য সঠিক তা নিয়ে ধুম্রজাল তৈরি হতে পারে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বললেন, আদ্-দ্বীন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কোটি কোটি টাকা নিয়ে তাঁর পেছনে ঘুরেছেন।
১৩ জুন দেওয়া এই বক্তব্য ছিল বিস্ফোরক। জবাবে ১৫ জুন আদ্-দ্বীন ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক ডা. শেখ মহিউদ্দিন সরাসরি প্রশ্ন ছুড়ে দেন, ‘আমি তার (স্বাস্থ্যমন্ত্রী) পেছনে টাকা নিয়ে ঘুরিনি, আমি কেন তার পেছনে টাকা নিয়ে ঘুরব?’
এখানেও একই দৃশ্যপট। একদিকে একজন মন্ত্রীর গুরুতর অভিযোগ, অন্যদিকে অভিযুক্ত পক্ষের সরাসরি অস্বীকার।
ঘটনাটি ঘটছে এমন এক প্রেক্ষাপটে, যখন ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে। হাসপাতাল রক্ষায় ঘুষের প্রস্তাব দেওয়া হয়ে থাকলে সেটি অত্যন্ত গুরুতর অপরাধ।
প্রশ্ন হচ্ছে— মন্ত্রী কি সেই প্রস্তাবের পূর্ণাঙ্গ তথ্য প্রকাশ করবেন? কারা গিয়েছিল? কোথায় গিয়েছিল? কখন গিয়েছিল? কোনো অডিও-ভিডিও, সাক্ষী বা নথি কি আছে? নাকি এটিও আবেগতাড়িত রাজনৈতিক বক্তব্য?
যদি সত্যিই কোটি কোটি টাকার প্রস্তাব দেওয়া হয়ে থাকে, তবে সেটি তো ফৌজদারি অপরাধের পর্যায়ে পড়ে। তাহলে মামলা কোথায়? মন্ত্রী আইনের আশ্রয় নিলেন না কেন?
বগুড়ার নতুন চারটি ইউনিয়নের মধ্যে তিনটির নাম নিয়ে যখন বিতর্ক শুরু হলো, তখন কেউ ভাবেনি বাংলাদেশ প্রশাসনিক ইতিহাসে ‘মিরাকল থিওরি’ যোগ হতে যাচ্ছে।
অভিযোগ উঠল, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম তার দুই ছেলে ও পারিবারিক বাড়ির নামে ইউনিয়নের নামকরণ করেছেন।
সমস্যা হলো— প্রতিমন্ত্রীর পৈতৃক বাড়ির নাম মীরবাড়ী। তার দুই ছেলের নাম মীর সীমান্ত ও মীর দিগন্ত।
১৫ জুন জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলাম মাসুদ সংসদ অধিবেশনে অভিযোগটি উত্থাপন করেছিলেন। জবাবে প্রতিমন্ত্রী বললেন, অলৌকিকভাবে নামগুলো মিলে গেছে।
মিরাকল!
আকস্মিক দুর্ঘটনা থেকে অলৌকিকভাবে বেঁচে ফেরা, মৃত্যুপথযাত্রী রোগীর অপ্রত্যাশিত সুস্থ হয়ে ওঠা কিংবা অবিশ্বাস্য কোনো ঘটনার ব্যাখ্যায় মিরাকলের উদাহরণ দেওয়া হয়। এখন দেখা যাচ্ছে, অলৌকিকভাবে ইউনিয়নের নামও মন্ত্রীদের সন্তানের নামের সঙ্গে মিলে যেতে পারে!
রাজনীতিতে কাকতালীয় ঘটনা ঘটতেই পারে। কিন্তু তিনটি কাকতালীয় ঘটনা একসঙ্গে ঘটলে সেটি আর কাকতালীয় থাকে না, সেটি মানুষের বিবেচনাবোধের পরীক্ষায় পরিণত হয়।
সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয় হলো— প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিভিন্ন সময়ে নিজের বা পরিবারের সদস্যদের নামে প্রতিষ্ঠানের নামকরণে সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। এমনকি একাধিক প্রস্তাবও ফেরত দিয়েছেন। সেখানে একজন প্রতিমন্ত্রী যদি নিজের পরিবারের নাম প্রশাসনিক ইউনিটে বসিয়ে দেন, তাহলে সেটি শুধু নীতিগত প্রশ্ন নয়, এটি রাজনৈতিক বার্তারও প্রশ্ন।
এ তিনটি ঘটনাকে আলাদা করে দেখলে হয়তো বিচ্ছিন্ন বিতর্ক মনে হতে পারে। কিন্তু একসঙ্গে রাখলে একটি অস্বস্তিকর প্রবণতা চোখে পড়ে।
আমরা এমন এক সময়ে বাস করছি, যখন অভিযোগ আসে মন্ত্রীদের মুখ থেকে, কিন্তু প্রমাণ আসে না। অভিযুক্তরা অস্বীকার করে, কিন্তু সত্য উদ্ঘাটনের প্রক্রিয়া দৃশ্যমান হয় না। তদন্তের ঘোষণা থাকে, কিন্তু ফলাফল অনিশ্চিত থেকে যায়।
ফলে জনগণ মাঝখানে দাঁড়িয়ে যায়। কার কথা বিশ্বাস করবে মানুষ?
মন্ত্রীদের?
অভিযুক্তদের?
নাকি ‘দুষ্টু লোকদের’?
মানুষ এখন আর শুধু বক্তব্য শুনতে চায় না; তারা জানতে চায়— প্রমাণ কোথায়, তদন্ত কোথায়, জবাবদিহি কোথায়।
কারণ রাষ্ট্র অলৌকিকতায় চলে না।
রাষ্ট্র চলে তথ্যে।
আইনে।
প্রমাণে।
আর জবাবদিহিতে।
অন্যথায় ইতিহাস হয়তো লিখবে— এ ছিল এমন একসময়, যখন সত্য আদালতে সাক্ষ দেওয়ার আগেই হারিয়ে যেত। আর তার অনুপস্থিতিতে সংসদ, সংবাদ সম্মেলন আর গেজেটে জন্ম নিত নতুন নতুন চরিত্র।
কখনো তারা হতো ‘দুষ্টু লোক’।
কখনো ‘কোটি টাকার বাহক’।
আর কখনো ‘মিরাকলের সন্তান’।

দেশের রাজনীতিতে সত্য এখন এক অদ্ভুত চরিত্র। কখনো তাকে দেখা যায় সংসদ ভবনের করিডোরে হাঁটতে, কখনো সংবাদ সম্মেলনের মাইক্রোফোনে ধরা দিতে, আবার কখনো সরকারি গেজেটের পাতায় হাজির হতে। কিন্তু তাকে যাচাই করতে গেলেই বিপত্তি, যেনো কুয়াশার আড়ালে মিলিয়ে যায়।
সাম্প্রতিক সময়ের তিনটি আলোচিত ঘটনা যেন একই নাটকের তিনটি দৃশ্য। চরিত্র আলাদা, সংলাপ আলাদা, কিন্তু প্রশ্ন একটাই— প্রকৃত সত্য কী? সবটাই যে সত্য, তা নয়। আবার সবটাই যে মিথ্যা, সেটিও বলা যায় না। আর এই ধূসর অঞ্চলেই সবচেয়ে বেশি ক্ষয় হয় জনবিশ্বাসের।
গত ৯ জুন জাতীয় সংসদে দাঁড়িয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বললেন, নাবিল গ্রুপকে এলসির বিপরীতে ৭০০ কোটি টাকা ঋণ দেওয়া হয়েছিল। মালামাল বিক্রি করে সেই টাকা ইসলামী ব্যাংককে ফেরত দেওয়া হয়নি। এরপর তিনি যোগ করলেন, ‘দুষ্টু লোকেরা বলে, সেই টাকা কোনো এক দলের নির্বাচনি তহবিলে গেছে।’
বাংলাদেশের রাজনৈতিক অভিধানে হয়তো নতুন এক চরিত্রের সংযোজন হলো— ‘দুষ্টু লোক’। অভিযোগ তার মুখে জন্ম নেয়, কিন্তু পরিচয় আর প্রমাণের কাছে পৌঁছাতে পারে না।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিজে সরাসরি অভিযোগ করলেন না। তিনি জানালেন, দুষ্টু লোকেরা বলছে। তবে সংসদে উচ্চারিত প্রতিটি শব্দের রাজনৈতিক ও সামাজিক ওজন থাকে। একজন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যখন কোটি টাকার আর্থিক অনিয়ম ও নির্বাচনি তহবিলে অর্থ যাওয়ার সম্ভাবনার ইঙ্গিত দেন, তখন সেটি আর চায়ের দোকানের গল্প বা নিছক রাজনৈতিক আলাপ থাকে না।
তিনি আরও বলেন, নাবিল গ্রুপের ব্যাংক দায় ১৬ হাজার কোটি টাকা। একই সঙ্গে প্রশ্ন তোলেন, তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত হচ্ছে না কেন?
এর জবাবে ১৩ জুন নাবিল গ্রুপ দেশের এক ডজনের বেশি সংবাদপত্রে প্রায় অর্ধপৃষ্ঠা জুড়ে প্রতিবাদ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। তাদের দাবি, অভিযোগগুলো অসত্য, ভিত্তিহীন ও অতিরঞ্জিত। নিরীক্ষিত আর্থিক বিবরণী, ব্যাংকিং নথি এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার রেকর্ডের সঙ্গে সংসদে দেওয়া বক্তব্যের কোনো মিল নেই।
এখন প্রশ্ন হলো, সত্যটা কোথায়?
নাবিল গ্রুপ কি সত্যিই ৭০০ কোটি টাকা অন্য খাতে সরিয়েছে? নির্বাচনি তহবিলে অর্থ দিয়েছে?
যদি অভিযোগ সত্য হয়, তাহলে তদন্ত করে প্রতিবেদন প্রকাশ করা ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া সরকারের দায়িত্ব। নিশ্চয়ই নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ এসে সেই কাজটি করে দেবে না।
অন্যদিকে বাংলাদেশে সম্ভবত সবচেয়ে দীর্ঘজীবী বাক্যগুলোর একটি হলো— ‘তদন্ত হবে’ বা ‘তদন্ত চলছে’। কিছু তদন্ত জন্ম নেয়, বড় হয়, বুড়ো হয়; কিন্তু শেষ হয় না।
ইসলামী ব্যাংকে ঋণ জালিয়াতির ঘটনায় এস আলমের পরই নাবিল গ্রুপের অবস্থান। ভুয়া ঠিকানা ব্যবহার, নামসর্বস্ব প্রতিষ্ঠানসহ নানা ছলচাতুরির মাধ্যমে ইসলামী ব্যাংক থেকে গ্রুপটি হাজার হাজার কোটি টাকা লুটে নিয়েছে। পত্র-পত্রিকায় এ নিয়ে অসংখ্য অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।
নাবিল গ্রুপের নানা ধরনের জালিয়াতির বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক, বাংলাদেশ আর্থিক গোয়েন্দা ইউনিট (বিএফআইইউ), দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ও সিআইডি তদন্ত করছে।
নাবিল গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আমিনুল ইসলাম যেভাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য উড়িয়ে দিয়ে জোরগলায় প্রতিবাদ জানিয়েছেন, তাতে কে সঠিক বা কার বক্তব্য সঠিক তা নিয়ে ধুম্রজাল তৈরি হতে পারে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বললেন, আদ্-দ্বীন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কোটি কোটি টাকা নিয়ে তাঁর পেছনে ঘুরেছেন।
১৩ জুন দেওয়া এই বক্তব্য ছিল বিস্ফোরক। জবাবে ১৫ জুন আদ্-দ্বীন ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক ডা. শেখ মহিউদ্দিন সরাসরি প্রশ্ন ছুড়ে দেন, ‘আমি তার (স্বাস্থ্যমন্ত্রী) পেছনে টাকা নিয়ে ঘুরিনি, আমি কেন তার পেছনে টাকা নিয়ে ঘুরব?’
এখানেও একই দৃশ্যপট। একদিকে একজন মন্ত্রীর গুরুতর অভিযোগ, অন্যদিকে অভিযুক্ত পক্ষের সরাসরি অস্বীকার।
ঘটনাটি ঘটছে এমন এক প্রেক্ষাপটে, যখন ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে। হাসপাতাল রক্ষায় ঘুষের প্রস্তাব দেওয়া হয়ে থাকলে সেটি অত্যন্ত গুরুতর অপরাধ।
প্রশ্ন হচ্ছে— মন্ত্রী কি সেই প্রস্তাবের পূর্ণাঙ্গ তথ্য প্রকাশ করবেন? কারা গিয়েছিল? কোথায় গিয়েছিল? কখন গিয়েছিল? কোনো অডিও-ভিডিও, সাক্ষী বা নথি কি আছে? নাকি এটিও আবেগতাড়িত রাজনৈতিক বক্তব্য?
যদি সত্যিই কোটি কোটি টাকার প্রস্তাব দেওয়া হয়ে থাকে, তবে সেটি তো ফৌজদারি অপরাধের পর্যায়ে পড়ে। তাহলে মামলা কোথায়? মন্ত্রী আইনের আশ্রয় নিলেন না কেন?
বগুড়ার নতুন চারটি ইউনিয়নের মধ্যে তিনটির নাম নিয়ে যখন বিতর্ক শুরু হলো, তখন কেউ ভাবেনি বাংলাদেশ প্রশাসনিক ইতিহাসে ‘মিরাকল থিওরি’ যোগ হতে যাচ্ছে।
অভিযোগ উঠল, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম তার দুই ছেলে ও পারিবারিক বাড়ির নামে ইউনিয়নের নামকরণ করেছেন।
সমস্যা হলো— প্রতিমন্ত্রীর পৈতৃক বাড়ির নাম মীরবাড়ী। তার দুই ছেলের নাম মীর সীমান্ত ও মীর দিগন্ত।
১৫ জুন জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলাম মাসুদ সংসদ অধিবেশনে অভিযোগটি উত্থাপন করেছিলেন। জবাবে প্রতিমন্ত্রী বললেন, অলৌকিকভাবে নামগুলো মিলে গেছে।
মিরাকল!
আকস্মিক দুর্ঘটনা থেকে অলৌকিকভাবে বেঁচে ফেরা, মৃত্যুপথযাত্রী রোগীর অপ্রত্যাশিত সুস্থ হয়ে ওঠা কিংবা অবিশ্বাস্য কোনো ঘটনার ব্যাখ্যায় মিরাকলের উদাহরণ দেওয়া হয়। এখন দেখা যাচ্ছে, অলৌকিকভাবে ইউনিয়নের নামও মন্ত্রীদের সন্তানের নামের সঙ্গে মিলে যেতে পারে!
রাজনীতিতে কাকতালীয় ঘটনা ঘটতেই পারে। কিন্তু তিনটি কাকতালীয় ঘটনা একসঙ্গে ঘটলে সেটি আর কাকতালীয় থাকে না, সেটি মানুষের বিবেচনাবোধের পরীক্ষায় পরিণত হয়।
সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয় হলো— প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিভিন্ন সময়ে নিজের বা পরিবারের সদস্যদের নামে প্রতিষ্ঠানের নামকরণে সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। এমনকি একাধিক প্রস্তাবও ফেরত দিয়েছেন। সেখানে একজন প্রতিমন্ত্রী যদি নিজের পরিবারের নাম প্রশাসনিক ইউনিটে বসিয়ে দেন, তাহলে সেটি শুধু নীতিগত প্রশ্ন নয়, এটি রাজনৈতিক বার্তারও প্রশ্ন।
এ তিনটি ঘটনাকে আলাদা করে দেখলে হয়তো বিচ্ছিন্ন বিতর্ক মনে হতে পারে। কিন্তু একসঙ্গে রাখলে একটি অস্বস্তিকর প্রবণতা চোখে পড়ে।
আমরা এমন এক সময়ে বাস করছি, যখন অভিযোগ আসে মন্ত্রীদের মুখ থেকে, কিন্তু প্রমাণ আসে না। অভিযুক্তরা অস্বীকার করে, কিন্তু সত্য উদ্ঘাটনের প্রক্রিয়া দৃশ্যমান হয় না। তদন্তের ঘোষণা থাকে, কিন্তু ফলাফল অনিশ্চিত থেকে যায়।
ফলে জনগণ মাঝখানে দাঁড়িয়ে যায়। কার কথা বিশ্বাস করবে মানুষ?
মন্ত্রীদের?
অভিযুক্তদের?
নাকি ‘দুষ্টু লোকদের’?
মানুষ এখন আর শুধু বক্তব্য শুনতে চায় না; তারা জানতে চায়— প্রমাণ কোথায়, তদন্ত কোথায়, জবাবদিহি কোথায়।
কারণ রাষ্ট্র অলৌকিকতায় চলে না।
রাষ্ট্র চলে তথ্যে।
আইনে।
প্রমাণে।
আর জবাবদিহিতে।
অন্যথায় ইতিহাস হয়তো লিখবে— এ ছিল এমন একসময়, যখন সত্য আদালতে সাক্ষ দেওয়ার আগেই হারিয়ে যেত। আর তার অনুপস্থিতিতে সংসদ, সংবাদ সম্মেলন আর গেজেটে জন্ম নিত নতুন নতুন চরিত্র।
কখনো তারা হতো ‘দুষ্টু লোক’।
কখনো ‘কোটি টাকার বাহক’।
আর কখনো ‘মিরাকলের সন্তান’।

গত ২৫ বছরের সর্বোচ্চ মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত অবিবেচনাপ্রসূত ও অনৈতিক। এমনিতেই দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির চাপে জনগণের ত্রাহি অবস্থা। তার ওপর বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর এ সিদ্ধান্ত জনগণের কাঁধে বোঝার ওপর শাকের আঁটি বলেই মনে করছে সাধারণ মানুষ।
৮ দিন আগে
যুদ্ধের শুরুতে ধারণা করা হয়েছিল, আমেরিকা ও ইসরায়েলের সম্মিলিত সামরিক শক্তির সামনে ইরান দীর্ঘদিন টিকতে পারবে না। বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী সামরিক জোটের বিরুদ্ধে ইরানের প্রতিরোধ কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই ভেঙে পড়বে— এমন ভবিষ্যদ্বাণীও কম ছিল না। কিন্তু ১০০ দিন পর যুদ্ধক্ষেত্রের বাস্তবতা সেই প্রত্যাশার সঙ্গে প
৯ দিন আগে
আজ বাংলাদেশ শুধু কোরবানির পশু উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ নয়, বরং উদ্বৃত্ত উৎপাদনের সক্ষমতাও অর্জন করেছে। এটি নিছক কৃষি বা প্রাণিসম্পদ খাতের সাফল্য নয়; এটি গ্রামীণ উন্নয়ন, যুব উদ্যোক্তা সৃষ্টি, নারীর অংশগ্রহণ এবং জাতীয় অর্থনীতির এক অনন্য অর্জনের গল্প।
১০ দিন আগে
রামিসার বাসায় প্রধানমন্ত্রীর এ তাৎক্ষণিক গমন সেই ধারণা ভেঙে দিয়েছে। নিজের ব্যস্ত সূচি ও মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে গভীর রাতে পল্লবীর একটি সাধারণ বাসভবনে তার ছুটে যাওয়া প্রমাণ করে, প্রতিটি নাগরিকের জীবন ও নিরাপত্তা রাষ্ট্রের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। রামিসার পরিবার ও প্রতিবেশীদের কাছে এটি এক বড় সান্ত্বনা যে তারা
১৫ দিন আগে