ঢাকায় চীনা রাষ্ট্রদূত

ফিলিস্তিনেরও রাষ্ট্র গঠনের অধিকার আছে

প্রতিবেদক, রাজনীতি ডটকম
আপডেট : ৩১ অক্টোবর ২০২৩, ০৩: ০৩
গাজা পরিস্থিতি নিয়ে ঢাকায় ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রদূত ইউসেফ এস ওয়াই রামাদানের সঙ্গে চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনের বৈঠক। ছবি: চীনা দূতাবাসের সৌজন্যে

চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বলেছেন, 'ইসরাইলের মতো ফিলিস্তিনেরও রাষ্ট্র গঠনের অধিকার আছে। ইসরায়েলিরা নিজেদের নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেছে, কিন্তু ফিলিস্তিনিদের বেঁচে থাকার চিন্তা কে করবে?'

রোববার গাজা পরিস্থিতি নিয়ে ঢাকায় ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রদূত ইউসেফ এস ওয়াই রামাদানের সঙ্গে বৈঠক শেষে এ কথা জানান চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন।

'ইহুদি জাতি পৃথিবীতে এখন আর গৃহহীন নয়, কিন্তু ফিলিস্তিনি জাতি কবে ফিরবে তাদের ঘরে? বিশ্বে অনেক অন্যায় আছে, কিন্তু ফিলিস্তিনের প্রতি যে অবিচার তা অর্ধশতাব্দীরও বেশি সময় ধরে চলছে। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে এ দুর্ভোগ, যা চলতে দেওয়া যায় না', বলেন চীনের রাষ্ট্রদূত।

সমাধান হিসেবে দুই রাষ্ট্র ও একটি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের কথা বলেন তিনি। তিনি আরও বলেন, 'এর মাধ্যমেই ফিলিস্তিন ও ইসরায়েল শান্তিতে সহাবস্থান করতে পারে এবং আরব ও ইহুদিরা সম্প্রীতিতে বসবাস করতে পারে।'

ফিলিস্তিন সমস্যার সমাধানে জাতিসংঘকে যথাযথ ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়ে

বিবৃতিতে তিনি বলেন, 'জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদকে এর জন্য গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করতে হবে, যত দ্রুত সম্ভব আন্তর্জাতিক ঐকমত্য গড়ে তুলতে হবে এবং সেই লক্ষ্যে বাস্তব পদক্ষেপ নিতে হবে।'

চলমান সংঘাতের বিষয়ে তিনি বলেন, যত দ্রুত সম্ভব যুদ্ধ বন্ধের জন্য সমস্ত প্রচেষ্টা করতে হবে। যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়া থামাতে হবে এবং পরিস্থিতির যাতে আরও অবনতি না হয় এ ব্যাপারে সর্বাত্মক চেষ্টা করা এখন শীর্ষ অগ্রাধিকার বলে চীন বিশ্বাস করে।

আন্তর্জাতিক আইন মেনে বেসামরিক নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালাতে হবে। যত দ্রুত সম্ভব উদ্ধার ও সহায়তার পথ খুলে দেওয়া এবং গুরুতর মানবিক বিপর্যয় রোধ করা অপরিহার্য।

সংঘাত প্রশ্নে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোকে শান্ত থাকার ও সংযম প্রদর্শন, ন্যায্য অবস্থান নিয়ে সংঘাত কমানোর জন্য ব্যবস্থা নেওয়া এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার স্বার্থে আরও বড় আঘাত এড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।

চীন বেসামরিক নাগরিকদের বিরুদ্ধে সমস্ত সহিংসতা ও হামলার নিন্দা জানায় এবং আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে এমন সব কাজের বিরোধিতা করে বলে জানান তিনি।

চীনা রাষ্ট্রদূত আরও বলেন, শক্তির নির্বিচার ব্যবহার অগ্রহণযোগ্য এবং ফিলিস্তিনি বা ইসরায়েলি বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্য করে হামলা গ্রহণযোগ্য নয়। জাতিসংঘের কর্মীসহ অন্যান্য মানবিক সংস্থার কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি আরও জানান, মধ্যপ্রাচ্য ইস্যুতে চীনা সরকারের বিশেষ দূত শিগগিরই ওই অঞ্চলে সফর করবেন। সহিংসতা বন্ধ ও পরিস্থিতি শান্ত করার জন্য সক্রিয় প্রচেষ্টা চালাবেন।

শান্তির জন্য আন্তর্জাতিক ঐকমত্য গড়ে তোলা এবং ফিলিস্তিন প্রশ্নের একটি ব্যাপক, ন্যায্য ও দীর্ঘস্থায়ী সমাধানের জন্য জাতিসংঘের পৃষ্ঠপোষকতায় আরও বেশি কর্তৃত্বপূর্ণ, প্রভাবশালী ও বিস্তৃত ভিত্তিক আন্তর্জাতিক শান্তি সম্মেলন আয়োজনের আহ্বান জানিয়েছে চীন।

রাষ্ট্রুদূত জানান, ফিলিস্তিনের প্রশ্নটি মধ্যপ্রাচ্য সমস্যার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে এবং এই ক্ষত আজকের বিশ্বে ছড়িয়ে যাচ্ছে। এর মূল কারণ ফিলিস্তিনে স্বাধীন রাষ্ট্রের স্বপ্ন বাস্তবায়নে দীর্ঘ বিলম্ব ও ফিলিস্তিনিদের প্রতি ঐতিহাসিক অবিচারের প্রতিকারে ব্যর্থতা।

Ad
Ad
ad
ad
ad

মতামত থেকে আরও পড়ুন

সরকারের সামনে চ্যালেঞ্জ, উত্তরণে প্রয়োজন অর্থনীতি-রাজনীতির সমন্বিত কৌশল

একটি নবনির্বাচিত বা নতুন গঠিত সরকারের সামনে রাষ্ট্র পরিচালনার নানাবিধ সংকট ও চ্যালেঞ্জ এসে দাঁড়ায়। তবে বর্তমান প্রেক্ষাপটে নতুন সরকারের পথচলা নিছক রুটিন রাষ্ট্র পরিচালনার বিষয় নয়; বরং এটি একই সঙ্গে রাজনৈতিক সমীকরণ সামলানো, গণআকাঙ্ক্ষা রক্ষা ও অর্থনৈতিক কাঠামোর ধ্বংসস্তূপ থেকে পুনরুত্থানের এক কঠিন পর

১৮ দিন আগে

সাংঘর্ষিক রাজনীতি থেকে বেরিয়ে আসার লক্ষণ এখনো দৃশ্যমান নয়

এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ সূক্ষ্মতা স্পষ্ট করা দরকার— আমি রাজনৈতিক প্রতিবাদ বা আন্দোলনকে অন্যায় বলছি না। আমার মূল যুক্তিটি প্রাতিষ্ঠানিক সম্পর্ক নিয়ে— রাজপথকে যদি প্রধান রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে রাখা হয়, তাহলে সংসদীয় গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।

২১ দিন আগে

খাদ্য নিরাপত্তা— নতুন নেতৃত্বে নতুন প্রত্যাশা

মানুষের জীবনে কিছু প্রয়োজন আছে, যেগুলো নিয়ে কোনো আপস চলে না। খাদ্য তার প্রথম সারিতে। সকালে শ্রমজীবী মানুষের নাশতার রুটি, দুপুরে পরিবারের ভাতের হাঁড়ি, কৃষকের গোলায় ধান কিংবা দুর্যোগে অসহায় মানুষের হাতে পৌঁছে যাওয়া খাদ্যসহায়তা—সবকিছুর পেছনেই রয়েছে একটি বিশাল রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনা। সেই ব্যবস্থাপনার কেন

২৩ দিন আগে

পিংক বাস: একটি রঙ, একটি পরিবর্তন ও অনেক প্রশ্ন

বাংলাদেশের গণপরিবহনে নারীদের জন্য ‘পিংক বাস’ চালু হওয়া নিঃসন্দেহে একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা। ঢাকার রাস্তায় যখন নারী চালক, নারী সহকারী আর নারী যাত্রীদের নিয়ে বাস চলছে, তখন সেটা দেখতে ভালো লাগে। কিন্তু এই ভালো লাগার ভেতরেই কিছু অস্বস্তিকর প্রশ্ন লুকিয়ে আছে, যে প্রশ্নগুলো শুধু বাসের রং নিয়ে নয়, বরং আ

২৪ দিন আগে
Advertisement