এসি মামুনের অপসারণ ও সংঘবদ্ধ অপপ্রচার বন্ধ চেয়ে সংবাদ সম্মেলন

প্রতিবেদক, রাজনীতি ডটকম
বৃহস্পতিবার দুপুরে কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে সংবাদ সম্মেলন করে ধর্ষণ ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ। ছবি: রাজনীতি ডটকম

ধর্ষণবিরোধী গণপদযাত্রার কর্মসূচিতে পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের হাতাহাতি ও সংঘর্ষের ঘটনা নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছে ‘ধর্ষণ ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ’। ওই ঘটনায় পুলিশই প্রথম হামলা চালিয়েছে দাবি করে বক্তারা সাদা পোশাকে থাকা এসি মামুনের অপসারণ দাবি করেন। ওই ঘটনা ঘিরে চলমান সংঘবদ্ধ ও উসকানিমূলক অপপপ্রচার বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ারও দাবি জানিয়েছেন তারা।

বৃহস্পতিবার (১৩ মার্চ) দুপুর ১২টার দিকে কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সুমাইয়া সাইনা ও সীমা আক্তারসহ আরও কয়েকজন সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, ১১ মার্চ ধর্ষণ ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ প্ল্যাটফর্মের উদ্যোগে ৯ দফা দাবিতে পদযাত্রা ও প্রধান উপদেষ্টা বরাবর স্মারকলিপি প্রদানের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে পুলিশ প্রথমে হামলা করেছে। তারপর ডিএমপির রমনা বিভাগের সিভিল ড্রেসে থাকা এসি আবদুল্লাহ আল মামুন ন্যাক্কারজনকভাবে পেছন থেকে অতর্কিত হামলা চালান। এ হামলায় পুলিশ অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ করেছে, নারীদের হেনস্তা করেছে, সাংবাদিকরা আহত হয়েছেন; যা আওয়ামী আমলের পুলিশি রাষ্ট্রেরই চিহ্ন বহন করে।

হামলায় সুমাইয়া আক্তার, মেঘমল্লার বসু, আহমেদ আরাফ, তাসমিয়া নেবুলা, সাজেদুল ইসলাম, অং অংসহ অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন উল্লেখ করে সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ধর্ষণ ও নারী নিপীড়নবিরোধী একটি মিছিলকে আটকানোর জন্যে ডিএমপি প্রথমে কোনো নারী পুলিশ রাখেনি, পুরুষ পুলিশরা নারী শিক্ষার্থীদের ওপর খুবই নৃশংস কায়দায় হামলা করেছেন। আন্দোলনকারীরা আত্মরক্ষায় পুলিশকে মোকাবিলা করেছে এবং কয়েকজন পুলিশ সদস্যও এতে আহত হয়েছেন বলে আমরা জানতে পেরেছি, যা অপ্রত্যাশিত।

লিখিত বক্তব্যে আরও বলা হয়, এসি মামুনের ন্যাক্কারজনক হামলায় আবারও পুলিশের গণবিরোধী চরিত্রের উন্মোচন ঘটাল। ধর্ষক-নিপীড়ক-খুনিদের ঠেকাতে ব্যর্থ পুলিশ বাহিনী গণমানুষের ক্ষোভের বিচ্ছুরণ ঠেকাতে নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলনে বলপ্রয়োগ করছে। এ হামলার দায় পুলিশ প্রশাসনসহ স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টাকে নিতে হবে। এই হামলা চলমান আন্দোলনের স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টাকে অপসারণের দাবির যথার্থতা প্রমাণ করে।

সেদিনের ঘটনা নিয়ে অনলাইনে অপপ্রচার চলছে উল্লেখ করে সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, এই ন্যায্য আন্দোলনকে বিতর্কিত করতে একদল মানুষ সঙ্ঘবদ্ধভাবে উস্কানিমূলক অপপ্রচারে লিপ্ত হয়েছেন। বিভিন্ন ছবি ও খণ্ডিত ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করে এই হামলাকে বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা করছেন। এই মিথ্যা, খণ্ডিত, অপপ্রচারে অনেকেই বিভ্রান্তও হয়েছেন। বিভ্রান্ত না হয়ে সবাইকেই ধর্ষণ ও সব ধরনের রাষ্ট্রীয় নিপীড়নের বিরুদ্ধে শক্তিশালী অবস্থান গ্রহণ করার আহ্বান আমরা জানাই।

ধর্ষণ ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ দ্ব্যার্থহীন ভাষায় বলতে চায়, আমরা ২০২০ সালে সুবর্ণচরে ধানের শীষে ভোট দেওয়ায় চার সন্তানের মাকে আওয়ামী লীগ কর্মীদের গণধর্ষণের কথা ভুলে যাইনি, আমরা ভুলে যাইনি সিলেটের এমসি কলেজে ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীদের স্বামীকে বেঁধে রেখে স্ত্রীকে ধর্ষণের কথা, তনু ও মুনিয়া হত্যার বিচার না পাওয়ার কথাও আমরা ভুলে যাইনি, ভুলে যাইনি ছাত্রলীগ-যুবলীগ-আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসী-ধর্ষক-নিপীড়কদের হাতে আক্রান্ত হওয়া বাংলার হাজারও মজলুমের আর্তচিৎকার— বলেন বক্তারা। বর্তমানে চলমান হামলা-মামলার ঘটনাগুলো আওয়ামী লীগের দীর্ঘদিনের খুন-ধর্ষন-নিপীড়ন ও বিচারহীনতার সংস্কৃতিরই ধারাবাহিকতা বলেও উল্লেখ করেন তারা।

সেদিনের সংঘর্ষের ঘটনায় পুলিশ রমনা মডেল থানায় আন্দোলনকারী ও আহত একজন সাংবাদিকসহ ১২ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও ৭০/৮০ জনের নামে মামলা করেছে। এ মামলাকে মিথ্যা মামলা হিসেবে অভিহিত করেছে ধর্ষণ ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, অবাক হতে হয় যখন দেখি সেই কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিল না এমন কয়েকজনের নামেও মামলা দেওয়া হয়েছে। পুলিশ ক্ষমতার অপব্যহার করে গণহারে এই মামলা করেছে। মামলা দিয়ে আন্দোলন দমন করার এমন ঘৃণিত উপায় আমরা বিগত আওয়ামী ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকারের আমলে দেখেছি। জুলাই অভ্যুত্থানের সময়েও আমরা দেখেছি কীভাবে আন্দোলনকারী ছাত্র-জনতার নামে সরকার এমন মিথ্যা মামলা দায়ের করে গণগ্রেপ্তার চালিয়েছিল।

তারা বলেন, ৫ আগস্ট হাসিনা সরকারের ভারতে পালিয়ে যাওয়ার পরের যে নতুন বাংলাদেশ জনগণ প্রত্যাশা করেছিল, সেখানে ধর্ষণবিরোধী গণতান্ত্রিক ও ন্যায্য আন্দোলনে নৃশংস পুলিশি হামলা, মিথ্যা মামলা দায়েরের মতো অগণতান্ত্রিক আচরণ বাংলাদেশের লড়াকু ছাত্রদের মনে প্রচণ্ড ক্ষোতের জন্ম দিয়েছে। অভ্যুত্থানের পর এমন পুলিশি রাষ্ট্র কোনো গণতান্ত্রিক মানুষই প্রত্যাশা করে না।

ধর্ষণ ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ বলছে, আওয়ামী ফ্যাসিবাদী শাসনামল থেকে টেনে আনা পুলিশের ধর্ষক-নিপীড়ক-অপরাধের পাহারাদারি ও মজলুমের ওপর অত্যাচারী চরিত্রের অবসান ছাড়া মুক্তিযুদ্ধ ও চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের গণমুক্তির আকাঙ্খার বাস্তবায়ন সম্ভব নয়।

এ কারণে আন্দোলনের সংগঠকদের বিরুদ্ধে ‘মিথ্যা ও অন্যায্য’ মামলা প্রত্যাহার; শান্তিপূর্ণ ও ন্যায্য আন্দোলনে অতিরিক্ত বল প্রয়োগ করা পুলিশ কর্মকর্তা এসি মামুনের অপসারণ; তদন্তসাপেক্ষে হামলায় জড়িত অন্যান্য পুলিশ সদস্যদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনা; ব্যর্থ স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার পদত্যাগ; ধর্ষক-নিপীড়কদের বিচারসহ ৯ দফা মেনে নেওয়া; এবং সংঘবদ্ধ ও উসকানিমূলক অপপ্রচার বন্ধে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানানো হয় সংবাদ সম্মেলন থেকে।

ad
ad

খবরাখবর থেকে আরও পড়ুন

সিকিমে দফায় দফায় ভূমিকম্প, কাঁপল বাংলাদেশও

বাংলাদেশের সময় অনুযায়ী বৃহস্পতিবার রাত ১টা ৩৯ মিনিটে প্রথম বড় কম্পনটি অনুভূত হয়; যার মাত্রা ছিল রিখটার স্কেলে ৪ দশমিক ৬। এরপর রাত ২টা ৫০ মিনিটে ৪ দশমিক ৪ মাত্রা এবং ভোর ৩টা ৩১ মিনিটে ৪ দশমিক ০ মাত্রার আরও দুটি মাঝারি কম্পন অনুভূত হয়। ভোর ৬টা পর্যন্ত অন্তত আরও ৫-৬টি ছোট আকারের আফটারশক রেকর্ড করা হয়েছ

৩ ঘণ্টা আগে

ওসমান হাদি হত্যার তদন্তে জাতিসংঘকে প্রস্তাব দেবে সরকার: প্রেস সচিব

প্রেস সচিব বলেন, মামলাটির তদন্তের জন্য যত দ্রুতসম্ভব জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের দপ্তরকে (ওএইচসিএইচআর) তদন্ত পরিচালনার প্রস্তাব দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

১২ ঘণ্টা আগে

১৬ মাস পর মানবাধিকার কমিশন পুনর্গঠন, চেয়ারম্যান সাবেক বিচারপতি মইনুল

কমিশনের চেয়ারম্যান মইনুল ইসলাম অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত গুম কমিশনেরও চেয়ারম্যান ছিলেন। একই কমিশনের আরও দুজন সদস্যকে মানবাধিকার কমিশনের কমিশনার করা হয়েছে। তারা হলেন— মো. নূর খান ও নাবিলা ইদ্রিস।

১২ ঘণ্টা আগে

হাদি হত্যার বিচারের দাবিতে যমুনার সামনে ইনকিলাব মঞ্চের অবস্থান

অবস্থান সম্পর্কে ফাতিমা তাসনিম জুমা বলেন, জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে হাদি হত্যা তদন্তের দাবিতে যমুনার সামনে অবস্থান নিয়েছে ইনকিলাব মঞ্চ ও শহীদের স্ত্রী। সরকার, প্রশাসন ও রাজনৈতিক দল সবাইকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করছে ইনকিলাব মঞ্চ। কিন্তু, ইনকিলাবকে সহযোগিতার বেলায় সবাই হাত গুটিয়েছে বারবার।

১৪ ঘণ্টা আগে