
প্রতিবেদক, রাজনীতি ডটকম

এ বছরের স্বাধীনতা পুরস্কারের তালিকায় ‘ত্রুটি’ রয়েছে বলে জানিয়েছেন সাবেক সচিব এ কে এম আবদুল আউয়াল মজুমদার। বিশেষ করে খালেদা জিয়ার মতো একজন জাতীয় ব্যক্তিত্বের সঙ্গে স্বাধীনতা পদকপ্রাপ্তদের বিশাল বহর নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। প্রয়াত ডা. মোহাম্মদ জাফরুল্লাহ চৌধুরী এর আগেই স্বাধীনতা পুরস্কার পাওয়ায় তাকে ফের মনোনয়ন দেওয়া নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন।
শুক্রবার (৬ মার্চ) ভোরে নিজের ফেসবুক প্রোফাইলে দেওয়া এক পোস্টে ‘স্বাধীনতা পুরস্কার ২০২৬’ নিয়ে নিজের নানা পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেন সাবেক সচিব আউয়াল মজুমদার। এতে তিনি এ বছর পুরস্কারপ্রাপ্তদের মোট সংখ্যা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।
এর আগে বৃহস্পতিবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ বছরের জন্য স্বাধীনতা পুরস্কারপ্রাপ্তদের তালিকা চূড়ান্ত করা হয়। পরে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এ বছরের জন্য মনোনীতদের তালিকা প্রকাশ করে।
স্বাধীনতা, গণতন্ত্র, নারী শিক্ষা ও দেশ গঠনে সামগ্রিক অবদানের জন্য প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে এ বছরের স্বাধীনতা পুরস্কারের জন্য মনোনীত করা হয়েছে। বিভিন্ন ক্ষেত্রে জাতীয় জীবনে অবদান রাখায় তার সঙ্গে মনোনীত করা হয়েছে আরও ১৪ ব্যক্তি ও পাঁচ প্রতিষ্ঠানকে।
বৃহস্পতিবার যখন স্বাধীনতা পুরস্কারের তালিকা ঘোষণা করা হয়েছে তখন নতুন ক্ষমতায় আসা বিএনপি সরকারের বয়স মাত্র ১৭ দিন। সাবেক সচিব আউয়াল মজুমদার বলছেন, এ পুরস্কারের প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার কথা ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে। অন্তর্বর্তী সরকারের আমলেই এ তালিকা চূড়ান্ত করে নতুন সরকারের আমলে কেবল অনুমোদন করিয়ে ঘোষণা করা হয়েছে বলে অনুমান তার।
যুগ্ম সচিব হিসেবে ২০০৪ সাল থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত স্বাধীনতা পুরস্কারের তালিকা তৈরির প্রক্রিয়ায় যুক্ত ছিলেন আবদুল আউয়াল মজুমদার। সে অভিজ্ঞতা থেকেই এ বছরের তালিকা পর্যবেক্ষণ করে কয়েকটি ‘ত্রুটি’ তার চোখে পড়েছে। ফেসবুক পোস্টে সেসব ত্রুটির কথাই তুলে ধরেছেন তিনি।
১৯৭৭ সালে স্বাধীনতা পুরস্কারে ভূষিত করা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীকে এ বছর ফের একই পুরস্কারের জন্য মনোনীত করা হয়েছে। এ নিয়ে প্রশ্ন তুলে সাবেক সচিব আউয়াল মজুমদার লিখেছেন, পৃথিবীর কোথাও একই রাষ্ট্রীয় পুরস্কার একই ব্যক্তিকে একাধিকবার দেওয়ার নজির নেই।
আওয়ামী লীগের গত শাসনামলের কোনো এক বছরে প্রয়াত জেনারেল আতাউল গনি ওসমানীকে স্বাধীনতা পুরস্কারের জন্য মনোনীত করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছিল। পরে ১৯৮৫ সালে তার স্বাধীনতা পুরস্কারে ভূষিত হওয়ার তথ্য সামনে এলে প্রজ্ঞাপন থেকে তার নাম বাদ দিয়ে নতুন প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।
আবদুল আউয়াল লিখেছেন, ডা. মোহাম্মদ জাফরুল্লাহ চৌধুরী ১৯৭৭ সালে স্বাধীনতা পুরস্কার লাভ করেন। অথচ ২০২৬ সালের তালিকায় তার নাম রয়েছে। এ পুরস্কার তাকে দ্বিতীয়বার দেওয়ার সুযোগ নেই। অতএব তার নাম বাদ দিয়ে নতুন প্রজ্ঞাপন জারি করা ছাড়া কোনো বিকল্প নেই।
দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী প্রয়াত খালেদা জিয়ার সঙ্গে আরও ১৪ ব্যক্তি ও পাঁচ প্রতিষ্ঠানকে এ পুরস্কারের জন্য মনোনীত করা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন আবদুল আউয়াল। উদাহরণ হিসেবে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, মুক্তিযুদ্ধের সেনাপতি জেনারেল আতাউল গনি ওসমানী ও সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব মুজিবুল হকের কথা উল্লেখ করে সাবেক এই সচিব বলেছেন, এসব ব্যক্তিত্বকে স্বাধীনতা পুরস্কার দেওয়ার বছর অন্য কাউকে এ পুরস্কার দেওয়া হয়নি।
আবদুল আউয়াল মজুমদার লিখেছেন, জেনারেল মোহাম্মদ আতাউল গনি ওসমানী বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের প্রধান সেনাপতি ছিলেন। তাই তার প্রতি বিশেষ সম্মান দেখিয়ে ১৯৮৫ সালে শুধু তাকেই স্বাধীনতা পুরস্কার দেওয়া হয়। ওই বছর অন্য কাউকে (এ পুরস্কার) দেওয়া হয়নি।
২০০৩ সালের স্বাধীনতা পুরস্কারের কথা তুলে ধরে সাবেক এই সচিব লিখেছেন, ২০০৩ সালে প্রেসিডেন্ট শেখ মুজিবুর রহমান ও প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে স্বাধীনতা পুরস্কার দেওয়া হয়। তাদের প্রতি সম্মান দেখিয়ে ওই বছর আর কাউকে (এ পুরস্কার) দেওয়া হয়নি।
একই কথা প্রযোজ্য ছিল সাবেক সচিব মুজিবুল হকের জন্যও। সাবেক এই সচিব লিখেছেন, ১৯৫৪ ব্যাচের সিএসপি ও সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব মো. মুজিবুল হককে ২০০৫ সালে স্বাধীনতা পুরস্কার দেওয়া হয়। তাকে বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসের একজন উজ্জ্বল নক্ষত্র বিবেচনা করা হয়। তাই তার প্রতি সম্মান দেখিয়ে ওই বছর অন্য কোনো ব্যক্তিকে স্বাধীনতা পুরস্কার দেওয়া হয়নি। প্রতিষ্ঠান হিসেবে কেবল আইসিডিডিআরবিকে দেওয়া হয়।
একই প্রক্রিয়া খালেদা জিয়ার ক্ষেত্রেও অনুসরণ করা যেত উল্লেখ করে আবদুল আউয়াল মজুমদার লিখেছেন, ‘অথচ এবার ম্যাডাম খালেদা জিয়াকে বিশাল তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যা অতীতের ডেকোরামের সঙ্গে বেমানান!’
এ বছর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি শাখায় অবদানের জন্য ড. জহুরুল করিমকে স্বাধীনতা পুরস্কারের জন্য মনোনীত করা হয়েছে। তাকে এ পুরস্কারের জন্য মনোনয়ন দেওয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলে আবদুল আউয়াল মজুমদার লিখেছেন, ড. জহুরুল করিম আওয়ামী লীগের শাসনামলে ২০০১ সালের ১০ জানুয়ারি দুই বছরের চুক্তিতে ১০ শতাংশ কোটায় সচিব নিযুক্ত হন।
২০০১ সালের ১৫ জুলাই আওয়ামী লীগ সরকারের মেয়াদ শেষ হয়েছিল, বিএনপি সরকার গঠন করেছিল সে বছরের ১ অক্টোবর। সাবেক সচিব আবদুল আউয়া জানাচ্ছেন, সচিব পদে ড. জহুরুলের দুই বছর মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার আড়াই মাস আগে ২০০২ সালের ২৬ অক্টোবর তার চুক্তি বাতিল করে বিএনপি সরকার অথবা তিনি পদত্যাগ করেন। অর্থাৎ বিএনপি সরকারে থাকা অবস্থায় দুই বছরের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের মেয়াদ পূর্ণ করতে পারেননি তিনি।
আবদুল আউয়াল মজুমদার লিখেছেন, ‘একদিকে এখন সকলে বলছেন, আওয়ামী লীগ আমলে কর্মরতদেরকে চাকরিতে রাখা যাবে না, দায়িত্ব দেওয়া যাবে না, অন্যদিকে আওয়ামী লীগের আমলে চুক্তিতে নিয়োগ পাওয়া ও বিএনপির আমলে মেয়াদ শেষ করতে না পারা একজনকে স্বাধীনতা পুরস্কার দেওয়া হচ্ছে। এমনটি স্ববিরোধী হলো না!’
ড. জহুরুলের সঙ্গে অন্তর্বর্তী সরকারের একজন উপদেষ্টার সম্পর্ক তুলে ধরে সাবেক এই সচিব লিখেছেন, ‘তিনি (অধ্যাপক জহুরুল) একজন উপদেষ্টার আপন ভগ্নিপতি। লোকজন বলাবলি করছে, তার নামটি বহাল রাখার জন্য চালাকি করে ম্যাডাম খালেদা জিয়ার নামটি এক নম্বরে রাখা হয়েছে!’
‘ম্যাডাম খালেদা জিয়ার সরকারের আমলে যিনি মেয়াদ শেষ করতে পারলেন না, ম্যাডামের পুত্র ক্ষমতায় বসেই তাকে স্বাধীনতা পুরস্কার দিলেন, বিষয়টা কেমন হলো?,’— প্রশ্ন রাখেন আবদুল আউয়াল মজুমদার।
যার নাম থাকুক আর না থাকুক, এ বছরের স্বাধীনতা পুরস্কারপ্রাপ্তদের নামের তালিকাসহ প্রজ্ঞাপনটি বাতিল করে সংশোধিত প্রজ্ঞাপন জারি করা ছাড়া কোনো বিকল্প নেই বলেই মনে করছেন সাবেক সচিব আবদুল আউয়াল। মনোনয়নে আরও কিছু অসঙ্গতি রয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
সাবেক এই সচিব শেষ প্রশ্নটি রেখেছেন এক বছরে স্বাধীনতা পুরস্কারপ্রাপ্তদের মোট সংখ্যা নিয়ে। লিখেছেন, ‘একসঙ্গে এতজনকে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পুরস্কার দেওয়ার নজির পৃথিবীতে নেই। আমাদের দেশেও আর কোনো আমলে এত বিশাল সংখ্যা ছিল না। বিএনপি সরকারের আমলে এ সংখ্যা আগে কখনো ১০-এর বেশি ওঠেনি। ১০ জনকেও দেওয়া হয়েছে দুয়েকবার। অধিকাংশ বছরই দুই-তিনজনে সীমিত ছিল।’
এবারের বিশাল তালিকা নিয়ে দুই ধরনের অনুমান রয়েছে আবদুল আউয়াল মজুমদারের— হয় নিজেদের স্বার্থের জন্য অন্যরা বিএনপি সরকারের ঘাড়ে বিশাল সংখ্যা তুলে দিয়েছে, অথবা এ সরকার ভুল করেছে।
এর আগে বৃহস্পতিবার স্বাধীনতা পুরস্কারপ্রাপ্তদের তালিকা প্রকাশের পরপরই অবশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কেউ কেউ তালিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর একাধিকবার এ পুরস্কার পাওয়ার প্রসঙ্গটি উল্লেখ করেছেন তাদের কেউ কেউ। কেউ কেউ অবশ্য এ তালিকায় বিভিন্ন ক্ষেত্রের স্বনামধন্য ব্যক্তিদের জায়গা পাওয়া নিয়ে উচ্ছ্বাসও প্রকাশ করেছেন।

এ বছরের স্বাধীনতা পুরস্কারের তালিকায় ‘ত্রুটি’ রয়েছে বলে জানিয়েছেন সাবেক সচিব এ কে এম আবদুল আউয়াল মজুমদার। বিশেষ করে খালেদা জিয়ার মতো একজন জাতীয় ব্যক্তিত্বের সঙ্গে স্বাধীনতা পদকপ্রাপ্তদের বিশাল বহর নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। প্রয়াত ডা. মোহাম্মদ জাফরুল্লাহ চৌধুরী এর আগেই স্বাধীনতা পুরস্কার পাওয়ায় তাকে ফের মনোনয়ন দেওয়া নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন।
শুক্রবার (৬ মার্চ) ভোরে নিজের ফেসবুক প্রোফাইলে দেওয়া এক পোস্টে ‘স্বাধীনতা পুরস্কার ২০২৬’ নিয়ে নিজের নানা পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেন সাবেক সচিব আউয়াল মজুমদার। এতে তিনি এ বছর পুরস্কারপ্রাপ্তদের মোট সংখ্যা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।
এর আগে বৃহস্পতিবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ বছরের জন্য স্বাধীনতা পুরস্কারপ্রাপ্তদের তালিকা চূড়ান্ত করা হয়। পরে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এ বছরের জন্য মনোনীতদের তালিকা প্রকাশ করে।
স্বাধীনতা, গণতন্ত্র, নারী শিক্ষা ও দেশ গঠনে সামগ্রিক অবদানের জন্য প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে এ বছরের স্বাধীনতা পুরস্কারের জন্য মনোনীত করা হয়েছে। বিভিন্ন ক্ষেত্রে জাতীয় জীবনে অবদান রাখায় তার সঙ্গে মনোনীত করা হয়েছে আরও ১৪ ব্যক্তি ও পাঁচ প্রতিষ্ঠানকে।
বৃহস্পতিবার যখন স্বাধীনতা পুরস্কারের তালিকা ঘোষণা করা হয়েছে তখন নতুন ক্ষমতায় আসা বিএনপি সরকারের বয়স মাত্র ১৭ দিন। সাবেক সচিব আউয়াল মজুমদার বলছেন, এ পুরস্কারের প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার কথা ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে। অন্তর্বর্তী সরকারের আমলেই এ তালিকা চূড়ান্ত করে নতুন সরকারের আমলে কেবল অনুমোদন করিয়ে ঘোষণা করা হয়েছে বলে অনুমান তার।
যুগ্ম সচিব হিসেবে ২০০৪ সাল থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত স্বাধীনতা পুরস্কারের তালিকা তৈরির প্রক্রিয়ায় যুক্ত ছিলেন আবদুল আউয়াল মজুমদার। সে অভিজ্ঞতা থেকেই এ বছরের তালিকা পর্যবেক্ষণ করে কয়েকটি ‘ত্রুটি’ তার চোখে পড়েছে। ফেসবুক পোস্টে সেসব ত্রুটির কথাই তুলে ধরেছেন তিনি।
১৯৭৭ সালে স্বাধীনতা পুরস্কারে ভূষিত করা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীকে এ বছর ফের একই পুরস্কারের জন্য মনোনীত করা হয়েছে। এ নিয়ে প্রশ্ন তুলে সাবেক সচিব আউয়াল মজুমদার লিখেছেন, পৃথিবীর কোথাও একই রাষ্ট্রীয় পুরস্কার একই ব্যক্তিকে একাধিকবার দেওয়ার নজির নেই।
আওয়ামী লীগের গত শাসনামলের কোনো এক বছরে প্রয়াত জেনারেল আতাউল গনি ওসমানীকে স্বাধীনতা পুরস্কারের জন্য মনোনীত করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছিল। পরে ১৯৮৫ সালে তার স্বাধীনতা পুরস্কারে ভূষিত হওয়ার তথ্য সামনে এলে প্রজ্ঞাপন থেকে তার নাম বাদ দিয়ে নতুন প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।
আবদুল আউয়াল লিখেছেন, ডা. মোহাম্মদ জাফরুল্লাহ চৌধুরী ১৯৭৭ সালে স্বাধীনতা পুরস্কার লাভ করেন। অথচ ২০২৬ সালের তালিকায় তার নাম রয়েছে। এ পুরস্কার তাকে দ্বিতীয়বার দেওয়ার সুযোগ নেই। অতএব তার নাম বাদ দিয়ে নতুন প্রজ্ঞাপন জারি করা ছাড়া কোনো বিকল্প নেই।
দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী প্রয়াত খালেদা জিয়ার সঙ্গে আরও ১৪ ব্যক্তি ও পাঁচ প্রতিষ্ঠানকে এ পুরস্কারের জন্য মনোনীত করা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন আবদুল আউয়াল। উদাহরণ হিসেবে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, মুক্তিযুদ্ধের সেনাপতি জেনারেল আতাউল গনি ওসমানী ও সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব মুজিবুল হকের কথা উল্লেখ করে সাবেক এই সচিব বলেছেন, এসব ব্যক্তিত্বকে স্বাধীনতা পুরস্কার দেওয়ার বছর অন্য কাউকে এ পুরস্কার দেওয়া হয়নি।
আবদুল আউয়াল মজুমদার লিখেছেন, জেনারেল মোহাম্মদ আতাউল গনি ওসমানী বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের প্রধান সেনাপতি ছিলেন। তাই তার প্রতি বিশেষ সম্মান দেখিয়ে ১৯৮৫ সালে শুধু তাকেই স্বাধীনতা পুরস্কার দেওয়া হয়। ওই বছর অন্য কাউকে (এ পুরস্কার) দেওয়া হয়নি।
২০০৩ সালের স্বাধীনতা পুরস্কারের কথা তুলে ধরে সাবেক এই সচিব লিখেছেন, ২০০৩ সালে প্রেসিডেন্ট শেখ মুজিবুর রহমান ও প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে স্বাধীনতা পুরস্কার দেওয়া হয়। তাদের প্রতি সম্মান দেখিয়ে ওই বছর আর কাউকে (এ পুরস্কার) দেওয়া হয়নি।
একই কথা প্রযোজ্য ছিল সাবেক সচিব মুজিবুল হকের জন্যও। সাবেক এই সচিব লিখেছেন, ১৯৫৪ ব্যাচের সিএসপি ও সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব মো. মুজিবুল হককে ২০০৫ সালে স্বাধীনতা পুরস্কার দেওয়া হয়। তাকে বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসের একজন উজ্জ্বল নক্ষত্র বিবেচনা করা হয়। তাই তার প্রতি সম্মান দেখিয়ে ওই বছর অন্য কোনো ব্যক্তিকে স্বাধীনতা পুরস্কার দেওয়া হয়নি। প্রতিষ্ঠান হিসেবে কেবল আইসিডিডিআরবিকে দেওয়া হয়।
একই প্রক্রিয়া খালেদা জিয়ার ক্ষেত্রেও অনুসরণ করা যেত উল্লেখ করে আবদুল আউয়াল মজুমদার লিখেছেন, ‘অথচ এবার ম্যাডাম খালেদা জিয়াকে বিশাল তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যা অতীতের ডেকোরামের সঙ্গে বেমানান!’
এ বছর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি শাখায় অবদানের জন্য ড. জহুরুল করিমকে স্বাধীনতা পুরস্কারের জন্য মনোনীত করা হয়েছে। তাকে এ পুরস্কারের জন্য মনোনয়ন দেওয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলে আবদুল আউয়াল মজুমদার লিখেছেন, ড. জহুরুল করিম আওয়ামী লীগের শাসনামলে ২০০১ সালের ১০ জানুয়ারি দুই বছরের চুক্তিতে ১০ শতাংশ কোটায় সচিব নিযুক্ত হন।
২০০১ সালের ১৫ জুলাই আওয়ামী লীগ সরকারের মেয়াদ শেষ হয়েছিল, বিএনপি সরকার গঠন করেছিল সে বছরের ১ অক্টোবর। সাবেক সচিব আবদুল আউয়া জানাচ্ছেন, সচিব পদে ড. জহুরুলের দুই বছর মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার আড়াই মাস আগে ২০০২ সালের ২৬ অক্টোবর তার চুক্তি বাতিল করে বিএনপি সরকার অথবা তিনি পদত্যাগ করেন। অর্থাৎ বিএনপি সরকারে থাকা অবস্থায় দুই বছরের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের মেয়াদ পূর্ণ করতে পারেননি তিনি।
আবদুল আউয়াল মজুমদার লিখেছেন, ‘একদিকে এখন সকলে বলছেন, আওয়ামী লীগ আমলে কর্মরতদেরকে চাকরিতে রাখা যাবে না, দায়িত্ব দেওয়া যাবে না, অন্যদিকে আওয়ামী লীগের আমলে চুক্তিতে নিয়োগ পাওয়া ও বিএনপির আমলে মেয়াদ শেষ করতে না পারা একজনকে স্বাধীনতা পুরস্কার দেওয়া হচ্ছে। এমনটি স্ববিরোধী হলো না!’
ড. জহুরুলের সঙ্গে অন্তর্বর্তী সরকারের একজন উপদেষ্টার সম্পর্ক তুলে ধরে সাবেক এই সচিব লিখেছেন, ‘তিনি (অধ্যাপক জহুরুল) একজন উপদেষ্টার আপন ভগ্নিপতি। লোকজন বলাবলি করছে, তার নামটি বহাল রাখার জন্য চালাকি করে ম্যাডাম খালেদা জিয়ার নামটি এক নম্বরে রাখা হয়েছে!’
‘ম্যাডাম খালেদা জিয়ার সরকারের আমলে যিনি মেয়াদ শেষ করতে পারলেন না, ম্যাডামের পুত্র ক্ষমতায় বসেই তাকে স্বাধীনতা পুরস্কার দিলেন, বিষয়টা কেমন হলো?,’— প্রশ্ন রাখেন আবদুল আউয়াল মজুমদার।
যার নাম থাকুক আর না থাকুক, এ বছরের স্বাধীনতা পুরস্কারপ্রাপ্তদের নামের তালিকাসহ প্রজ্ঞাপনটি বাতিল করে সংশোধিত প্রজ্ঞাপন জারি করা ছাড়া কোনো বিকল্প নেই বলেই মনে করছেন সাবেক সচিব আবদুল আউয়াল। মনোনয়নে আরও কিছু অসঙ্গতি রয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
সাবেক এই সচিব শেষ প্রশ্নটি রেখেছেন এক বছরে স্বাধীনতা পুরস্কারপ্রাপ্তদের মোট সংখ্যা নিয়ে। লিখেছেন, ‘একসঙ্গে এতজনকে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পুরস্কার দেওয়ার নজির পৃথিবীতে নেই। আমাদের দেশেও আর কোনো আমলে এত বিশাল সংখ্যা ছিল না। বিএনপি সরকারের আমলে এ সংখ্যা আগে কখনো ১০-এর বেশি ওঠেনি। ১০ জনকেও দেওয়া হয়েছে দুয়েকবার। অধিকাংশ বছরই দুই-তিনজনে সীমিত ছিল।’
এবারের বিশাল তালিকা নিয়ে দুই ধরনের অনুমান রয়েছে আবদুল আউয়াল মজুমদারের— হয় নিজেদের স্বার্থের জন্য অন্যরা বিএনপি সরকারের ঘাড়ে বিশাল সংখ্যা তুলে দিয়েছে, অথবা এ সরকার ভুল করেছে।
এর আগে বৃহস্পতিবার স্বাধীনতা পুরস্কারপ্রাপ্তদের তালিকা প্রকাশের পরপরই অবশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কেউ কেউ তালিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর একাধিকবার এ পুরস্কার পাওয়ার প্রসঙ্গটি উল্লেখ করেছেন তাদের কেউ কেউ। কেউ কেউ অবশ্য এ তালিকায় বিভিন্ন ক্ষেত্রের স্বনামধন্য ব্যক্তিদের জায়গা পাওয়া নিয়ে উচ্ছ্বাসও প্রকাশ করেছেন।

কুমিল্লা থেকে ঢাকা যাওয়ার পথে অপহরণের শিকার হয়েছেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের প্রভাষক আবদুর রাজ্জাক সোহেল। দুর্বৃত্তরা তাকে জোর করে একটি প্রাইভেটকারে তুলে নিয়ে নগদ টাকা, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ও বিকাশ থেকে প্রায় এক লাখ টাকা লুট করে পরে ছেড়ে দেয়।
১২ ঘণ্টা আগে
দিবসটি উপলক্ষে সরকারের নির্ধারিত প্রতিপাদ্য—‘আজকের পদক্ষেপ, আগামীর ন্যায়বিচার, সুরক্ষিত হোক নারী ও কন্যার অধিকার’—ব্যাংকিং খাতের প্রতিটি কর্মসূচিতে তুলে ধরতে বলা হয়েছে।
১৩ ঘণ্টা আগে
বিমানবন্দরে তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা ও আর্থিক সহায়তা প্রদানের পাশাপাশি, পাচারের ঝুঁকি সম্পর্কে জনসচেতনতা বাড়াতে তাদের এই ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা সবার সঙ্গে বিনিময় করার আহ্বান জানিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
১৩ ঘণ্টা আগে
মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, অনলাইনে জামিননামা দাখিলের এই পদ্ধতি চালু হওয়ায় মধ্যস্বত্বভোগীদের হয়রানি কমেছে। একই সঙ্গে অল্প সময়ের মধ্যে আসামির মুক্তি নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে।
১৩ ঘণ্টা আগে