প্রমাণ ও প্রক্রিয়া নিয়ে বিতর্ক—ইবির ৩০ শিক্ষক-কর্মকর্তা চাকরিতে পুনর্বহাল

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি
আপডেট : ১৮ মার্চ ২০২৬, ২১: ৩৩

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) ২০২৪ সালের জুলাই–আগস্ট আন্দোলনবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে সাময়িক বরখাস্ত হওয়া ১৯ শিক্ষক ও ১১ কর্মকর্তার শাস্তি মওকুফ করে তাদের চাকরিতে পুনর্বহালের সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রশাসন। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, অভিযোগ থাকলেও তা প্রমাণ ও প্রক্রিয়ার মানদণ্ডে শাস্তি ছিল যথার্থ বা অপরাধ-সাপেক্ষে পর্যাপ্তভাবে প্রতিষ্ঠিত নয়—এমন মূল্যায়ন থেকেই শেষ পর্যন্ত এ সিদ্ধান্ত এসেছে।

বুধবার (১৮ মার্চ) দুপুরে অনুষ্ঠিত জরুরি সিন্ডিকেট সভায় এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় বলে বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শীর্ষ কর্মকর্তা বিষয়টি নিশ্চিত করলেও আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করতে রাজি হননি।

এর আগে, গত বছরের ৩০ অক্টোবরের ২৭১তম সিন্ডিকেট সভায় অভিযোগের ধরন, শাস্তির মাত্রা নির্ধারণ এবং নতুন অভিযোগ পর্যালোচনার জন্য উপাচার্য অধ্যাপক ড. নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহ একটি রিভিউ কমিটি গঠন করেন। ওই কমিটি তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে শাস্তির সুপারিশ করে, যার পরিপ্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্টদের সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। তবে পরবর্তীতে গত ৩০ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত ২৭২তম সিন্ডিকেট সভায় বিষয়টি একজন অবসরপ্রাপ্ত বিচারিক কর্মকর্তার মতামতের জন্য পাঠানো হয়। তিনি তদন্ত কমিটি ও রিভিউ কমিটির কার্যক্রম পর্যালোচনা করে মত দেন যে, Islamic University Employee’s Efficiency and Discipline Rules, 1986 যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়নি। ফলে অভিযোগের ভিত্তি ও শাস্তির প্রক্রিয়া—দুটিই আইনগতভাবে দুর্বল থেকে গেছে, যা শাস্তিকে টেকসই করে না।

এই মতামতের প্রেক্ষিতে আজকের জরুরি সভায় শাস্তি মওকুফ করে সংশ্লিষ্টদের পুনর্বহাল করা হলেও, ভবিষ্যতে কোনো ধরনের বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে জড়ানো থেকে বিরত থাকার জন্য তাদের সতর্ক করা হয়েছে।

এদিকে প্রশাসনের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মনজুরুল হকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

উল্লেখ্য, গত বছরের ১৫ মার্চ আন্দোলনবিরোধী ভূমিকা শনাক্ত করতে আল হাদিস বিভাগের জামাতপন্থী শিক্ষক অধ্যাপক আকতার হোসেনের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। লিখিত অভিযোগ, ভিডিওচিত্র ও বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে কমিটি সংশ্লিষ্টদের সম্পৃক্ততার কথা উল্লেখ করলেও, সেই তথ্য-প্রমাণের গ্রহণযোগ্যতা, যাচাই পদ্ধতি ও শাস্তির মাত্রা নিয়ে পরবর্তীতে প্রশ্ন ওঠে।

জানা যায়, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে জুলাই আন্দোলনের সময় কোনো রক্তপাতের ঘটনা ঘটেনি। ওই সময়ের প্রশাসন প্রকারান্তরে, আন্দোলনকারীদের প্রতি সহমর্মিতা দেখিয়েছিল। শুধুমাত্র ৪ আগস্ট ক্যম্পাসে আন্দোলন বিরোধী একটি মিছিল হয়। সেখানে ব্যনারসহ বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত আওয়ামী ধারার বেশকিছু শিক্ষক-কর্মকর্তা ও ছাত্রলীগের কর্মীরা অংশগ্রহণ করে। এটিকে অপরাধ হিসেবে প্রতিপন্ন করে তাদের শাস্তি দেয়া হয়। তবে সেখানেও স্বজনপ্রীতি করা হয়। অনেক শিক্ষক ওই মিছিলে অংশ নেন, যারা আওামী রাজনীতির সাথে প্রকাশ্যে জাড়িত থাকলেও তারা জামায়াত-বিএনপির গুপ্ত বলে তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয় না। এসব কারণে শাস্তি প্রদান বহু বির্তক অর্জন করে।

সর্বশেষ সিদ্ধান্তে প্রশাসন একদিকে অভিযোগের বিষয়টি সম্পূর্ণ অস্বীকার না করলেও, অন্যদিকে শাস্তির যৌক্তিকতা, প্রমাণের মান এবং প্রক্রিয়াগত স্বচ্ছতার ঘাটতিকে গুরুত্ব দিয়ে পুনর্বহালের পথ বেছে নিয়েছে—যা একটি সংশোধিত ও তুলনামূলকভাবে ভারসাম্যপূর্ণ প্রশাসনিক অবস্থান হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড এম এয়াকুব আলী জানান, একটি সিদ্ধান্ত হয়েছে, এ বিষয়ে ভাইস চ্যান্সেলরকে ক্ষমতা দেয়া হয়েছিল, তিনি সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। কি কি বিষয়ে ফয়সালা হবে সেটি সিদ্ধান্ত বেরিয়ে এলে বোঝা যাবে।

Ad
Ad
ad
ad
ad

খবরাখবর থেকে আরও পড়ুন

কওমি মাদরাসার জন্য ৬ শিক্ষা বোর্ড গঠনের কথা জানালেন প্রধানমন্ত্রী

দেশের কওমি মাদরাসাগুলোর সমন্বয়, উন্নয়ন ও পাবলিক পরীক্ষা গ্রহণের জন্য ছয়টি কওমি মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে এসব বোর্ডের সনদকে সরকারি ও বেসরকারি মাদরাসার দুটি নির্দিষ্ট পদে নিয়োগের যোগ্যতা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার বিষয়টিও সংসদকে জান

৪ ঘণ্টা আগে

দাম কমেছে এলপিজির, বেড়েছে সয়াবিনের

এলপিজির দামে কিছুটা স্বস্তি মিললেও সয়াবিন তেলের দামে বাড়ল চাপ। ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ১৩ টাকা কমিয়ে ১ হাজার ৫৮৫ টাকা নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। অন্যদিকে বোতলে ভরা সয়াবিন তেলের দাম লিটারে ৫ টাকা বাড়িয়ে ২০৪ টাকা করা হয়েছে।

৫ ঘণ্টা আগে

স্ত্রীর মৃত্যুর এক মাস না যেতেই সাংবাদিক কাজিম রেজার প্রয়াণ

কিডনি জটিলতা, নিউমোনিয়াসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে তিনি ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। জটিল ও ব্যয়বহুল রোগের চিকিৎসার খরচ বহন করতে গিয়ে আর্থিক সংকটেও পড়েছিলেন কাজিম রেজা।

৬ ঘণ্টা আগে

ঢাবি অধ্যাপক অহিদুজ্জামানসহ ৩ শিক্ষককে বরখাস্তে প্রতিবাদ, উদ্বেগ

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, অধ্যাপক অহিদুজ্জামান তথ্য-উপাত্ত উপস্থাপনের মাধ্যমে তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন প্রমাণ করেছেন। তা সত্ত্বেও তাকে শাস্তি দেওয়ার মধ্য দিয়ে পূর্বনির্ধারিত সিদ্ধান্ত, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা কিংবা ভিন্নমত দমনের সংস্কৃতি চালু করা হয়েছে।

৬ ঘণ্টা আগে
Advertisement