
ডেস্ক, রাজনীতি ডটকম

বর্তমান সময়ে বাংলাদেশের মানুষের বড় একটি স্বাস্থ্য সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে হার্ট অ্যাটাক। প্রতিবছর অনেক মানুষ অল্প বয়সেই এই রোগের কারণে প্রাণ হারাচ্ছেন। অথচ একটু সচেতন হলেই হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি অনেক কমানো সম্ভব। কারণ বেশিরভাগ সময় হার্ট অ্যাটাকের মূল কারণগুলো আমাদের নিজেদেরই তৈরি করা। আমাদের কিছু বদ-অভ্যাসই আসলে হৃদরোগের বড় শত্রু। এই অভ্যাসগুলো ঠিক করতে পারলেই আমরা সুস্থ থাকতে পারি।
ধূমপান এবং তামাকজাত পণ্য ব্যবহার হার্ট অ্যাটাকের সবচেয়ে বড় কারণগুলোর একটি। তামাকের মধ্যে থাকা নিকোটিন ও কার্বন মনোক্সাইড আমাদের রক্তচাপ বাড়িয়ে দেয়। এ ছাড়া এগুলো ধমনীতে চর্বি জমার প্রক্রিয়াকে দ্রুততর করে। ফলে রক্ত চলাচলে বাধা তৈরি হয় এবং হৃদযন্ত্রের ওপর বাড়তি চাপ পড়ে। তাই হার্টের সুস্থতার জন্য প্রথম কাজ হলো ধূমপান পুরোপুরি বন্ধ করা। ধূমপান ছাড়তে চাইলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে নিকোটিন রিপ্লেসমেন্ট থেরাপিও নেওয়া যেতে পারে।
খাবারের অভ্যাসও হৃদরোগের ঝুঁকির সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত। আজকাল ফাস্টফুড ও প্রক্রিয়াজাত খাবারের প্রতি মানুষের আকর্ষণ বেড়েছে। অথচ এসব খাবার ধমনীর দেয়ালে দ্রুত চর্বি জমাতে সাহায্য করে, যা হার্ট অ্যাটাকের আশঙ্কা বাড়িয়ে দেয়। তাই প্রতিদিনের খাবারে প্রচুর শাকসবজি, ফল, এবং আঁশযুক্ত খাবার রাখা জরুরি। লবণ ও চিনির পরিমাণ কমানো উচিত এবং বাইরের খাবারের বদলে ঘরের রান্না করা স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়ার চেষ্টা করা উচিত।
শরীরচর্চার অভাবও হার্ট অ্যাটাকের একটা বড় কারণ। এখনকার ব্যস্ত জীবনে আমরা বেশিরভাগ সময় বসে কাজ করি। ফলে ওজন বাড়ে, রক্তচাপ বেড়ে যায়, এবং কোলেস্টেরল মাত্রা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। এই সমস্যা থেকে রক্ষা পেতে দিনে অন্তত ৩০ মিনিট হাঁটা বা হালকা ব্যায়াম করা জরুরি। অফিসে দীর্ঘক্ষণ বসে থাকলেও মাঝেমধ্যে উঠে কিছুক্ষণ হাঁটা উচিত।
মানসিক চাপও হার্টের জন্য ক্ষতিকর। অতিরিক্ত চাপ শরীরে কর্টিসল হরমোন বাড়িয়ে দেয়, যা রক্তচাপ এবং হৃদস্পন্দনের ওপর খারাপ প্রভাব ফেলে। স্ট্রেস কমাতে মেডিটেশন, যোগব্যায়াম বা গভীর শ্বাস-প্রশ্বাসের অনুশীলন খুব উপকারী। এছাড়া পরিবার ও প্রিয়জনদের সঙ্গে সময় কাটানো এবং প্রয়োজনে পরামর্শকের সাহায্য নেওয়াও ভালো উপায়।
ঘুমের অভাবও হার্টের শত্রু। প্রতিদিন ৭-৮ ঘণ্টা পরিমিত ঘুম প্রয়োজন। ঘুমের আগে মোবাইল বা ল্যাপটপ ব্যবহার না করাই ভালো। কারণ স্ক্রিনের আলো ঘুমের স্বাভাবিক ছন্দ নষ্ট করে দেয়। ঘুম ঠিকঠাক হলে হার্টও ভালো থাকে।
আরেকটি বড় কারণ হলো মদ্যপান। অতিরিক্ত মদ্যপান রক্তচাপ বাড়ায় এবং হার্টের পেশিকে দুর্বল করে দেয়। সুস্থ থাকতে মদ্যপান পুরোপুরি এড়িয়ে চলা উচিত। পরিবর্তে পানি, গ্রিন টি বা ফলের রসের মতো স্বাস্থ্যকর পানীয় গ্রহণ করাই ভালো।
ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপ ঠিকমতো নিয়ন্ত্রণ না করলে হার্টের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে এবং ধমনীতে চর্বি জমে। তাই নিয়মিত রক্তচাপ ও রক্তের সুগার পরীক্ষা করানো এবং প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ সেবন করা দরকার।
অতিরিক্ত ওজনও হৃদরোগের বড় কারণ। ওজন বাড়লে রক্তচাপ এবং কোলেস্টেরলও বেড়ে যায়। তাই স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া এবং নিয়মিত ব্যায়াম করা ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে।
পর্যাপ্ত পানি পান করাও খুব জরুরি। পানি শরীরের বিষাক্ত পদার্থ বের করে দেয় এবং রক্ত সঞ্চালন ঠিক রাখে। দিনে অন্তত ৮ গ্লাস পানি পান করা উচিত। কাজের ফাঁকে ফাঁকে পানি পান করার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।
সব মিলিয়ে বলা যায়, জীবনযাত্রায় একটু পরিবর্তন আনলেই আমরা হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি অনেকটাই কমাতে পারি। ছোট ছোট অভ্যাস যেমন ধূমপান, অলসতা, খারাপ খাবার খাওয়া বা ঘুমের অভাব—এসবই একসময় বড় বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তাই সময় থাকতে সচেতন হওয়া দরকার। সুস্থ হৃদয় মানেই দীর্ঘ, আনন্দময় জীবন—এটা মনে রেখে এখনই নিজেদের জীবনধারা ঠিক করে নেওয়া দরকার।
সূত্র: ল্যানসেট

বর্তমান সময়ে বাংলাদেশের মানুষের বড় একটি স্বাস্থ্য সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে হার্ট অ্যাটাক। প্রতিবছর অনেক মানুষ অল্প বয়সেই এই রোগের কারণে প্রাণ হারাচ্ছেন। অথচ একটু সচেতন হলেই হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি অনেক কমানো সম্ভব। কারণ বেশিরভাগ সময় হার্ট অ্যাটাকের মূল কারণগুলো আমাদের নিজেদেরই তৈরি করা। আমাদের কিছু বদ-অভ্যাসই আসলে হৃদরোগের বড় শত্রু। এই অভ্যাসগুলো ঠিক করতে পারলেই আমরা সুস্থ থাকতে পারি।
ধূমপান এবং তামাকজাত পণ্য ব্যবহার হার্ট অ্যাটাকের সবচেয়ে বড় কারণগুলোর একটি। তামাকের মধ্যে থাকা নিকোটিন ও কার্বন মনোক্সাইড আমাদের রক্তচাপ বাড়িয়ে দেয়। এ ছাড়া এগুলো ধমনীতে চর্বি জমার প্রক্রিয়াকে দ্রুততর করে। ফলে রক্ত চলাচলে বাধা তৈরি হয় এবং হৃদযন্ত্রের ওপর বাড়তি চাপ পড়ে। তাই হার্টের সুস্থতার জন্য প্রথম কাজ হলো ধূমপান পুরোপুরি বন্ধ করা। ধূমপান ছাড়তে চাইলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে নিকোটিন রিপ্লেসমেন্ট থেরাপিও নেওয়া যেতে পারে।
খাবারের অভ্যাসও হৃদরোগের ঝুঁকির সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত। আজকাল ফাস্টফুড ও প্রক্রিয়াজাত খাবারের প্রতি মানুষের আকর্ষণ বেড়েছে। অথচ এসব খাবার ধমনীর দেয়ালে দ্রুত চর্বি জমাতে সাহায্য করে, যা হার্ট অ্যাটাকের আশঙ্কা বাড়িয়ে দেয়। তাই প্রতিদিনের খাবারে প্রচুর শাকসবজি, ফল, এবং আঁশযুক্ত খাবার রাখা জরুরি। লবণ ও চিনির পরিমাণ কমানো উচিত এবং বাইরের খাবারের বদলে ঘরের রান্না করা স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়ার চেষ্টা করা উচিত।
শরীরচর্চার অভাবও হার্ট অ্যাটাকের একটা বড় কারণ। এখনকার ব্যস্ত জীবনে আমরা বেশিরভাগ সময় বসে কাজ করি। ফলে ওজন বাড়ে, রক্তচাপ বেড়ে যায়, এবং কোলেস্টেরল মাত্রা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। এই সমস্যা থেকে রক্ষা পেতে দিনে অন্তত ৩০ মিনিট হাঁটা বা হালকা ব্যায়াম করা জরুরি। অফিসে দীর্ঘক্ষণ বসে থাকলেও মাঝেমধ্যে উঠে কিছুক্ষণ হাঁটা উচিত।
মানসিক চাপও হার্টের জন্য ক্ষতিকর। অতিরিক্ত চাপ শরীরে কর্টিসল হরমোন বাড়িয়ে দেয়, যা রক্তচাপ এবং হৃদস্পন্দনের ওপর খারাপ প্রভাব ফেলে। স্ট্রেস কমাতে মেডিটেশন, যোগব্যায়াম বা গভীর শ্বাস-প্রশ্বাসের অনুশীলন খুব উপকারী। এছাড়া পরিবার ও প্রিয়জনদের সঙ্গে সময় কাটানো এবং প্রয়োজনে পরামর্শকের সাহায্য নেওয়াও ভালো উপায়।
ঘুমের অভাবও হার্টের শত্রু। প্রতিদিন ৭-৮ ঘণ্টা পরিমিত ঘুম প্রয়োজন। ঘুমের আগে মোবাইল বা ল্যাপটপ ব্যবহার না করাই ভালো। কারণ স্ক্রিনের আলো ঘুমের স্বাভাবিক ছন্দ নষ্ট করে দেয়। ঘুম ঠিকঠাক হলে হার্টও ভালো থাকে।
আরেকটি বড় কারণ হলো মদ্যপান। অতিরিক্ত মদ্যপান রক্তচাপ বাড়ায় এবং হার্টের পেশিকে দুর্বল করে দেয়। সুস্থ থাকতে মদ্যপান পুরোপুরি এড়িয়ে চলা উচিত। পরিবর্তে পানি, গ্রিন টি বা ফলের রসের মতো স্বাস্থ্যকর পানীয় গ্রহণ করাই ভালো।
ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপ ঠিকমতো নিয়ন্ত্রণ না করলে হার্টের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে এবং ধমনীতে চর্বি জমে। তাই নিয়মিত রক্তচাপ ও রক্তের সুগার পরীক্ষা করানো এবং প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ সেবন করা দরকার।
অতিরিক্ত ওজনও হৃদরোগের বড় কারণ। ওজন বাড়লে রক্তচাপ এবং কোলেস্টেরলও বেড়ে যায়। তাই স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া এবং নিয়মিত ব্যায়াম করা ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে।
পর্যাপ্ত পানি পান করাও খুব জরুরি। পানি শরীরের বিষাক্ত পদার্থ বের করে দেয় এবং রক্ত সঞ্চালন ঠিক রাখে। দিনে অন্তত ৮ গ্লাস পানি পান করা উচিত। কাজের ফাঁকে ফাঁকে পানি পান করার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।
সব মিলিয়ে বলা যায়, জীবনযাত্রায় একটু পরিবর্তন আনলেই আমরা হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি অনেকটাই কমাতে পারি। ছোট ছোট অভ্যাস যেমন ধূমপান, অলসতা, খারাপ খাবার খাওয়া বা ঘুমের অভাব—এসবই একসময় বড় বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তাই সময় থাকতে সচেতন হওয়া দরকার। সুস্থ হৃদয় মানেই দীর্ঘ, আনন্দময় জীবন—এটা মনে রেখে এখনই নিজেদের জীবনধারা ঠিক করে নেওয়া দরকার।
সূত্র: ল্যানসেট

যে শিশুটিকে পরিবার মৃত বলেই ধরে নিয়েছিল, সেই মোহাম্মদ ফরিদ দীর্ঘ ২৫ বছর পর শুক্রবার (২১ আগস্ট) সকালে কক্সবাজারের উখিয়ার নিজ বাড়িতে ফিরে এসেছেন। ১০ বছর বয়সে বাবার হাত ধরে বিদেশে যাওয়ার পর মানবপাচারের শিকার হয়ে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ হারিয়ে ফেলেছিলেন তিনি।
১৬ ঘণ্টা আগে
বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) জাতীয় সংসদে ২৫৫ জন সংসদ সদস্যের ভোটে তিনি রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। তার একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বী অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল অলি আহমদ ভোট পান ৮৮টি।
১৯ ঘণ্টা আগে
প্রথিতযশা এই জনস্বাস্থ্যবিদ নিরাপদ পানি ও জনস্বাস্থ্য আন্দোলনের অন্যতম পরিচিত মুখ ছিলেন। বস্তিবাসীর জন্য নিরাপদ পানি নিশ্চিত করতে কাজ করে গেছেন তিনি। চিকিৎসা ও ওয়াশ খাতসহ (ওয়াটার, স্যানিটেশন অ্যান্ড হাইজিন) নানা বিষয়ে সংবাদপত্রে কলাম লিখতেন তিনি।
১ দিন আগে
ফরিদের ছোট ভাই স্থানীয় একটি মসজিদের ইমাম সৈয়দ আলম বলেন, “আমরা ধরে নিয়েছিলাম, ফরিদ ভাই আর বেঁচে নেই। কিন্তু এত বছর পর তাকে ফিরে পেয়ে আমরা ভাষায় প্রকাশ করতে পারছি না। কক্সবাজারে আমাদের বৃদ্ধ মা বড় ছেলের অপেক্ষায় আছেন। আমরা গরিব মানুষ। জানি না কী হবে। তবে আমরা আমাদের ভাইকে নিয়ে থাকব।”
২ দিন আগে