বসন্তে শিশুদের জলবসন্ত: কী করবেন, কী খাওয়াবেন?

বসন্তকালে শিশুদের মধ্যে জলবসন্ত বা চিকেন পক্স বেশি দেখা যায়। এটি ভাইরাসজনিত, অত্যন্ত ছোঁয়াচে এবং কিছু ক্ষেত্রে গুরুতর জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে।
চিকিৎসকদের মতে, সঠিক সময়ে সতর্কতা ও যত্ন নিলে শিশু দ্রুত সুস্থ হতে পারে এবং শরীরে স্থায়ী ক্ষতি কম হয়।
১. আইসোলেশন ও সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ
- আক্রান্ত শিশুকে আলাদা রাখা: শিশুকে ঘরের অন্য সদস্যদের থেকে আলাদা রাখুন।
- স্কুল বা বাইরে না পাঠানো: সংক্রমণ রোধে বাইরে যাওয়া বা অন্য শিশুর সংস্পর্শে আসা না দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।
- ব্যক্তিগত জিনিস আলাদা ব্যবহার: পোশাক, তোয়ালে, বিছানাপত্র ও খেলনা অন্য কেউ ব্যবহার করবেন না।
- পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা: রোগী সুস্থ হওয়ার পর ব্যবহৃত সব কাপড় গরম পানি ও জীবাণুনাশক দিয়ে ধুয়ে নিন।
২. দৈনন্দিন যত্ন ও গোসল
- প্রাথমিক গোসল: হালকা গরম পানিতে প্রতিদিন গোসল করান।
- নিমপাতা ও হলুদ ব্যবহার: পক্স হওয়ার ৫-৬ দিন পর নিমপাতা ও হলুদ বেটে গোসল করানো ত্বকে আরাম দেয়।
- নখ ছোট রাখা: চুলকানি কমাতে এবং খোসা জোর করে উঠতে না দিতে।
- পরিষ্কার পোশাক: ঢিলা, সুতির কাপড় ব্যবহার করে ত্বককে ঘষা থেকে রক্ষা করা।
৩. উপযুক্ত খাবার ও পুষ্টি
উপকারী খাবার:
- আলু ভর্তা, লাউ, মুরগির মাংস, শিং মাছ।
- স্যুপ, ফল, ফলের রস ও গরম মিষ্টি (সীমিত পরিমাণে)।
এড়িয়ে চলার খাবার:
- গরুর মাংস, বেগুন, মসুর ডাল, অতিরিক্ত তেল-ঝাল খাবার।
- এগুলো চুলকানি ও অস্বস্তি বাড়াতে পারে।
- পুষ্টি নিশ্চিত করা: রোগ সেরে গেলে প্রোটিন, ভিটামিন ও খনিজ সমৃদ্ধ খাবার নিয়মিত দেওয়া জরুরি।
৪. জ্বর ও চুলকানি নিয়ন্ত্রণ
- জ্বর কমানো: প্যারাসিটামল জাতীয় ওষুধ চিকিৎসকের পরামর্শে দেওয়া যেতে পারে।
- চুলকানি কমানো: অ্যান্টিহিস্টামিন জাতীয় ওষুধ প্রয়োজনে ব্যবহার করা যেতে পারে।
- খোসা না তুলে ফেলা: জোর করে খোসা তুলে দিলে দাগ স্থায়ী হতে পারে।
৫. ত্বকের যত্ন ও দাগ কমানো
- দাগ হ্রাসের উপায়: বাজারে পাওয়া বিশেষ লোশন বা প্রাকৃতিক উপায় (কচি ডাবের পানি) ব্যবহার করা যায়।
- ঝরে পড়া খোসা: খোসা নির্দিষ্ট স্থানে ফেলে দিন, যাতে সংক্রমণ না ছড়ায়।
- নিয়মিত গোসল: গোসল ও পরিচ্ছন্নতা ত্বককে আরাম দেয় এবং নতুন সংক্রমণ কমায়।
৬. প্রতিরোধ ও টিকাদান
- ভেরিলিক্স টিকা: এক বছর বয়স পূর্ণ হলে এই টিকা শিশুকে জল বসন্ত থেকে সুরক্ষা দেয়।
- সংক্রমণ এড়ানো: আক্রান্ত শিশুর সংস্পর্শ এড়িয়ে চলা, পোশাক ও জিনিস আলাদা রাখা সবচেয়ে কার্যকর।
৭. সতর্কতা ও অতিরিক্ত নজরদারি
- শিশুকে ঠাণ্ডা ও ধুলো-ময়লা থেকে দূরে রাখুন।
- পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিশ্চিত করুন।
- যদি শিশুর উপসর্গ বাড়ে বা জটিলতা দেখা দেয়, সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
- জটিলতা যেমন- মস্তিষ্কে প্রদাহজনিত কারণে খিঁচুনি, কিডনি জটিলতা, নিউমোনিয়া প্রভৃতি দেখা দিতে পারে। এক্ষেত্রে রোগীকে সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দিতে হবে।
- রোগ সেরে যাওয়ার পরও কিছুদিন শিশুর ত্বক ও খাদ্যাভ্যাসের প্রতি নজর দিন।
সারসংক্ষেপ:
- আইসোলেশন– সংক্রমণ কমায়।
- পরিচ্ছন্নতা– চুলকানি ও সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।
- পুষ্টিকর খাবার– দ্রুত সুস্থতা নিশ্চিত করে।
- চিকিৎসা ও ওষুধ– জ্বর ও চুলকানি নিয়ন্ত্রণে রাখে।
- টিকা– দীর্ঘমেয়াদি সুরক্ষা দেয়।
এই নিয়মগুলো মেনে চললেই বসন্তে শিশুদের জলবসন্ত নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।
লেখক: সহকারী রেজিস্ট্রার (শিশু স্বাস্থ্য)














-c173ff-256x144.webp)
-f7dee2-256x144.webp)

