বিজ্ঞান

কেমোথেরাপি কীভাবে কাজ করে?

ডেস্ক, রাজনীতি ডটকম
কেমোথেরাপির প্রতিকী ছবি

ক্যান্সার চিকিৎসায় কেমোথেরাপি একটি গুরুত্বপূর্ণ পদ্ধতি। এই চিকিৎসায় বিশেষ ধরনের ওষুধ ব্যবহার করা হয়, যা ক্যান্সার কোষগুলোকে ধ্বংস করে বা তাদের বাড়া-চলা থামিয়ে দেয়। তবে এই ওষুধ তৈরি করা এবং শরীরে প্রয়োগ করার প্রক্রিয়া বেশ জটিল ও সময়সাপেক্ষ।

কেমোথেরাপির ওষুধ তৈরি হয় নানা উৎস থেকে। সাধারণত চার ধরনের উৎস আছে। প্রথমত, প্রাকৃতিক উৎস থেকে ওষুধ বানানো হয়। যেমন, পেরিওয়িঙ্কল গাছ থেকে ভিঙ্ক্রিস্টিন ও ভিঙ্কাব্লাস্টিন নামের কেমোথেরাপির ওষুধ তৈরি হয়। আবার, ডক্সোরুবিসিন নামের একটি ওষুধ তৈরি হয় বিশেষ ধরনের ব্যাকটেরিয়া Streptomyces থেকে।

দ্বিতীয়ত, কিছু কেমোথেরাপির ওষুধ রাসায়নিকভাবে ল্যাবরেটরিতে তৈরি করা হয়। যেমন, সাইক্লোফসফামাইড ও মেথোট্রেক্সেট। এগুলো জটিল রাসায়নিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বানানো হয়। তৃতীয়ত, বায়োটেকনোলজি ব্যবহার করে শরীরের প্রাকৃতিক উপাদান (যেমন প্রোটিন বা এনজাইম) দিয়ে কিছু ওষুধ তৈরি করা হয়। যেমন, মনোক্লোনাল অ্যান্টিবডি নামের ওষুধ। আর কখনো কখনো প্রাকৃতিক উৎস আর রাসায়নিক প্রক্রিয়া একসঙ্গে ব্যবহার করে আরও কার্যকর ওষুধ বানানো হয়।

কেমোথেরাপির ওষুধ তৈরির কাজ শুরু হয় গবেষণাগার থেকে। প্রথমে বিজ্ঞানীরা গবেষণা করে ক্যান্সার কোষের আচরণ বোঝেন। এরপর ল্যাবে নতুন ওষুধের উপাদান তৈরি করা হয়। এরপর সেই ওষুধ প্রাণীর শরীরে প্রয়োগ করে দেখা হয় কাজ করছে কিনা, পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া কতটা। এরপর আসে মানুষের শরীরে পরীক্ষার ধাপ। কয়েক ধাপে রোগীদের শরীরে ওষুধ প্রয়োগ করে দেখা হয় সঠিক মাত্রা কী হওয়া উচিত, এবং ওষুধ কতটা কার্যকর।

সব পরীক্ষা সফল হলে, শুরু হয় বড় আকারে উৎপাদন। বিশেষ কারখানায় খুব কড়া মান নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে ওষুধ তৈরি করা হয় যাতে ওষুধের গুণগত মান ঠিক থাকে।

কেমোথেরাপির ওষুধ রোগীকে মুখে খাওয়ানো হতে পারে ট্যাবলেট বা ক্যাপসুল আকারে। কখনো সরাসরি ত্বকে লাগানো হয় ক্রিমের মতো করে, যাকে টপিক্যাল কেমোথেরাপি বলা হয়। আবার কোনো কোনো সময় ইন্ট্রাথেকাল পদ্ধতিতে ওষুধ মেরুদণ্ডের তরলে দেওয়া হয়, অথবা ইন্ট্রাপেরিটোনিয়াল পদ্ধতিতে পেটের ভেতরের তরলে মিশিয়ে ওষুধ প্রবেশ করানো হয়।

কেমোথেরাপির মূল লক্ষ্য হলো দ্রুত বিভাজনশীল ক্যান্সার কোষগুলোকে আক্রমণ করা। ক্যান্সার কোষ খুব দ্রুত গজায় ও ছড়িয়ে পড়ে, তাই কেমোথেরাপির ওষুধ এদের ডিএনএ বা প্রোটিনে বাধা দিয়ে তাদের বৃদ্ধি বন্ধ করে দেয়।

তবে কেমোথেরাপির একটা বড় সমস্যা হলো, এটি শুধু ক্যান্সার কোষ নয়, শরীরের সুস্থ কোষকেও আঘাত করতে পারে। বিশেষ করে চুলের গোড়া, হাড়ের মজ্জা আর হজমতন্ত্রের কোষগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ কারণেই কেমোথেরাপি নেওয়ার পর রোগীদের চুল পড়ে যেতে পারে, বমি বমি ভাব হয়, ক্লান্তি আসে।

কেমোথেরাপির ওষুধ তৈরি করতে বহু বছর সময় লাগে। প্রাকৃতিক উপাদান, রাসায়নিক প্রযুক্তি আর আধুনিক বায়োটেকনোলজির মিশ্রণে এসব ওষুধ তৈরি হয়। দিনে দিনে গবেষণা আরও এগিয়ে চলেছে। বিজ্ঞানীরা চেষ্টা করছেন কেমোথেরাপির কার্যকারিতা আরও বাড়াতে এবং পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া যতটা সম্ভব কমাতে।

ad
ad

খবরাখবর থেকে আরও পড়ুন

৯৮ শতাংশ শিশুকে হামের টিকা দেওয়া হয়েছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

তিনি আরও জানান, বিগত সময়ে কেন হামের টিকা দেওয়া হয়নি, সে বিষয়টি তদন্ত করে দেখবে সরকার। এসময় জুন মাস থেকে দুই ধাপে ভিটামিন এ ক্যাপসুল দেয়া হবে বলেও জানান তিনি।

৩ ঘণ্টা আগে

সাবেক মন্ত্রী ও আ.লীগ নেতা ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন আর নেই

বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন জটিলতায় ভুগছিলেন চট্টগ্রাম-১ আসনের সাবেক এই সংসদ সদস্য। মুক্তিযুদ্ধকালে তিনি এক নম্বর সেক্টরের ডেপুটি কমান্ডার ছিলেন। ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ স্বাধীনতা পদকপ্রাপ্ত ছিলেন।

৩ ঘণ্টা আগে

দেশের ৮ অঞ্চলে ঝোড়ো হাওয়াসহ বজ্রবৃষ্টির পূর্বাভাস

উত্তর ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় জেলাগুলোর ওপর দিয়ে ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৬০ কিলোমিটার বেগে দমকা হাওয়া বয়ে যেতে পারে বলে এসব এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। মেঘলা আকাশ আর বৃষ্টির এই প্রবণতায় সংশ্লিষ্ট এলাকার সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে আবহাওয়া অফিস।

৫ ঘণ্টা আগে

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ডিজি হলেন হেলাল উদ্দিন

আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগে সংযুক্ত যুগ্ম সচিব মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিনকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মহাপরিচালক পদে নিয়োগ দিয়েছে সরকার। মঙ্গলবার (১২ মে) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।

১৭ ঘণ্টা আগে