বিজ্ঞান

চোখ, ছবি ও কোয়ান্টাম মেকানিকস

অরুণ কুমার
বিভিন্ন প্রাণী ভিন্ন ভিন্ন চেহারায় পৃথিবীকে দেখে

আমরা যা দেখি, মহবিশ্বটা তেমন নয়। আমরা যেভাবে ভাবি, জগৎ হয়তো সেভাবে চলে না। এমন কি চোখের দেখাতেও অসঙ্গতি রয়েছে। আমরা যেভাবে দেখি পৃথিবীটাকে, মাছের চোখে তা একদম অন্যরকম। পাখির চোখের দৃশ্য অন্যরকম। আমরা যেভাবে দেখি, ক্যামেরাকে, ক্যামেরার লেন্সকে সেভাবেই বানিয়েছি আমরা। কিন্তু পাখি বা মাছেরা যদি ছবি তুলতে পারত, কেমন হত জগতের চেহারা। অবশ্য পাখির চোখে পৃথিবী দেখা যায় ড্রোন ক্যামেরা দিয়ে। অন্যদিকে মাছের চোখে দেখা পৃথিবীর ছবি তোলার জন্য রয়েছে ফিশ আই লেন্স। আমরা যা দেখি, মহবিশ্বটা তেমন নয়। আমরা যেভাবে ভাবি, জগৎ হয়তো সেভাবে চলে না। এমন কি চোখের দেখাতেও অসঙ্গতি রয়েছে। আমরা যেভাবে দেখি পৃথিবীটাকে, মাছের চোখে তা একদম অন্যরকম। পাখির চোখের দৃশ্য অন্যরকম। আমরা যেভাবে দেখি, ক্যামেরাকে, ক্যামেরার লেন্সকে সেভাবেই বানিয়েছি আমরা। কিন্তু পাখি বা মাছেরা যদি ছবি তুলতে পারত, কেমন হত জগতের চেহারা। অবশ্য পাখির চোখে পৃথিবী দেখা যায় ড্রোন ক্যামেরা দিয়ে। অন্যদিকে মাছের চোখে দেখা পৃথিবীর ছবি তোলার জন্য রয়েছে ফিশ আই লেন্স।

ছবি যেমনই হোক, এগুলো আসলে কী? ছবি কি আদৌ ছবি নাকি বিভ্রম?

ছবি মানে আমাদের প্রতিবিম্ব। সেটা তৈরি হয় বস্তু থেকে প্রতিফলিত হওয়া আলো থেকে। সেই আলো স্থায়ীভাবে ধরে রাখা হয় ফটোগ্রাফিক প্লেট বা কাগজের পাতায়। সেটাকেই তো ছবি বলে। মোদ্দাকথা হলো, কোনো বস্তু থেকে প্রতিফলিত আলো প্রতিবিম্ব আকারে ফটোগ্রাফিক প্লেট, আর্টপেপার কিংবা মনিটরে ধরে রাখার ব্যাপারটাই হলো ছবি।

কিন্তু আলোকে কি ধরে রাখা যায়? কোয়ান্টাম বলবিদ্যা বলে আলো একই সঙ্গে কণা এবং তরঙ্গ। কিন্তু চিরায়ত আলোকতত্ত্ব বলে আলোকে কোনোভাবেই আটকে রাখা যায় না। এর গতি সেকেন্ডে তিন লাখ কিলোমিটার। আইনস্টাইনের বিশেষ আপেক্ষিকতা বলে, আলোর গতি সব সময় এক। তাহলে আলোকে আটকে রাখে কার সাধ্যি!

বড়জোর বস্তুর দ্বারা আলো শোষিত হতে পারে। কিন্তু কখনোই আটকে রাখা সম্ভব নয়। তাই, যদি হয়, তাহলে ফটোগ্রাফিক প্লেট, কাগজ বা মনিটরে যে ছবি আটকে থাকে, সেটা আমরা দেখছি কেমন করে?

আলো আটকে থাকে না। ছবিকে আলো দিয়ে দেখতে হয়। ঘর যদি অন্ধকার হয়, তাহলে যত চেষ্টায় করুন ছবি আপনি দেখতে পাবেন না। সেটা কাগজের ছবিই বলুন, কিংবা ফটোগ্রাফিক প্লেট। তার মানে ছবিতে বাইরে থেকে কোনো আলো ফেললে, সেই আলো ছবির ওপর থেকে প্রতিফলিত হয়ে যখন আমাদের চোখে এসে পড়বে, তখনই শুধু ছবিটা দেখতে পাব। নইলে পাব না।

কাগজের প্রিন্ট করার আগে কম্পিউটারের মাধ্যমে ছবি আপনি তুলেছেন, সেটার তথ্য সাজানো পিক্সেল ডট আকারে। অর্থাৎ বস্তু থেকে আসা আলোকে মিলিয়ন মিলিয়ন বিন্দুতে ভাগ করে, সেই প্রতিটা ডটের তথ্য সংরক্ষণ করা হয়। প্রতিটা ডট বা বিন্দুর জন্য একটা নির্দিষ্ট রং থাকে। পরে সেই তথ্য অনুসারে কম্পিউটার একটা ছবি তৈরি করে। তার কোন ডটে কী রং হবে সেটা বলে দেয় কম্পিউটার। সেই অনুযায়ী প্রতিটা ডটের জন্য আলাদা আলাদ রং তৈরির নির্দেশ প্রিন্টারকে দেয় কম্পিউটার। সেভাবেই প্রতিটা ডটের জন্য আলাদা আলাদা রং সাজিয়ে কাগজে ছবি প্রিন্ট করে দেয়।

যেভাবে ক্যামেরায় ছবি তোলা হয়

যেভাবে ক্যামেরায় ছবি তোলা হয়

অর্থাৎ দেখা যাচ্ছে, আমরা তোলা ছবি বলছি, আসলে কোনো ছবিই তোলা ছবি নয়। আধুনিক ডিজিটাল ক্যামেরাও একই ভাবে কাজ করে। কম্পিউটারের মতো না হলেও ছবি প্রসেস করার জন্য ক্যামেরায় প্রসেসর থাকে। থাকে একটা সেন্সর। আগের দিনে ছবি তুলতে ফিল্ম ব্যবহার করা হতো। এখন সেখানে ব্যবহার করা হয় এই সেন্সর। সেন্সরে প্রচুর পিক্সেল ডট থাকে। কোনো ক্যামেরার সেন্সর যদি এক মেগাপিক্সেলের হয়, তাহলে ধরে নিতে হবে প্রতি বর্গইঞ্চিতে দশ লাখ ডট আছে। ক্যামেরার লেন্স ঘুরে আসা আলো পড়ে এই সেন্সরের ওপর। প্রতিটা ডটে যে ফোটন আঘাত করে সেটার তরঙ্গ দৈর্ঘ্য, কম্পাঙ্ক, তাপমাত্রা ইত্যাদি তথ্য রেকর্ড করে সেই পিক্সেল ডট। পরে ক্যামেরার মনিটরে সেই ভাবে ডটগুলো সাজিয়ে তথ্যকে আবার ছবিতে রূপান্তর করে। সেই ছবি দেখতে কাগজের ছবির মতো আলো ফেলার দরকার হয় না, কারণ ক্যামেরা বলুন কিংবা কম্পিউটার, ল্যাপটপ কিংবা মোবাইল ফোনের স্ক্রিনের আলোর উৎস হিসেবে এলইডি থাকে। সেই আলো ডটগুলোকে উজ্জ্বল করে আমাদের চোখে এসে ধরা দেয়। তখন সেটাকে ছবি হিসেবে দেখি। সুতরাং ছবি আসলে কণা লেভেলে প্রসেস করা হয়। সে দৃশ্যমান আলো হোক কিংবা অদৃশ্য আলো। সঙ্গে অবশ্যই কোয়ান্টাম মেকানিকসের প্রয়োজন হবে। কারণ প্রতিটা পিক্সেল কাজ করে কোয়ান্টাম বলবিদ্যার আইন মেনে। আলো তো মানতে বাধ্য। আলো একই সঙ্গে কণা আর তরঙ্গ চরিত্রের যদি না হতো, তা হলে ছবি তোলা আসলে সম্ভবই হতো না।

ad
ad

খবরাখবর থেকে আরও পড়ুন

আমিরাতের প্রেসিডেন্টকে প্রধানমন্ত্রীর ফোন, উপসাগরীয় দেশগুলোর প্রতি সংহতি

বাংলাদেশের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদ (জিসিসি) দেশগুলোর প্রতি গভীর সংহতি প্রকাশ করেন। আমিরাতের প্রেসিডেন্ট বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে ফোন করার জন্য এবং তার আন্তরিক উদ্বেগের জন্য ধন্যবাদ জানান।

২ ঘণ্টা আগে

নিহত ইবি শিক্ষকের শরীরে অন্তত ২০টি আঘাতের চিহ্ন: চিকিৎসক

কর্মচারীর ছুরিকাঘাতে নিহত ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) সমাজকল্যাণ বিভাগের শিক্ষক আসমা সাদিয়া রুনার শরীরের বিভিন্ন স্থানে অন্তত ২০টি আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে।

১৭ ঘণ্টা আগে

নতুন হত্যা মামলায় আইভীর জামিন নামঞ্জুর

ইন্টেরিয়র মিস্ত্রি সেলিম মণ্ডল হত্যা মামলায় নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের (নাসিক) সাবেক মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভীর জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছেন আদালত। বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) দুপুরে শুনানি শেষে সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সেলিনা খাতুন এ আদেশ দেন।

১৮ ঘণ্টা আগে

অফিসে ‘অতিরিক্ত’ লাইট-ফ্যান-এসি বন্ধ রাখাসহ ১১ নির্দেশনা

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয়ের লক্ষ্যে দিনের বেলায় পর্যাপ্ত প্রাকৃতিক আলো থাকলে বৈদ্যুতিক বাতি ব্যবহার পরিহার এবং প্রয়োজনের বেশি বাতি-ফ্যান-এসিসহ অন্যান্য বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি বন্ধ রাখাসহ ১১টি নির্দেশনা দিয়েছে সরকার।

২০ ঘণ্টা আগে