
অরুণ কুমার

সপ্তদশ শতাব্দীর চল্লিশের দশক। নেদারল্যান্ডের ডেলফট শহরে এক চশমার দোকানে ঠাঁই দাঁড়িয়ে থাকে এক কিশোর। দোকানের কর্মচারিরা কাচ ঘসে চশমা তৈরি করে। সেটাই মন দিয়ে দেখে ছেলেটা। কী মজা পায়, কে জানে?সপ্তদশ শতাব্দীর চল্লিশের দশক। নেদারল্যান্ডের ডেলফট শহরে এক চশমার দোকানে ঠাঁই দাঁড়িয়ে থাকে এক কিশোর। দোকানের কর্মচারিরা কাচ ঘসে চশমা তৈরি করে। সেটাই মন দিয়ে দেখে ছেলেটা। কী মজা পায়, কে জানে?
ছেলেটার বাবা মারা গেছে কয়েক বছর আগে। আর্থিক অবস্থা খুব খারাপ। তাই স্কুলের পাঠ শেষ না করেই চাকরি নেয় এক মুদির দোকানে। মাইনে সামান্যই। এরই মধ্যে পৌরসভার একটা চাকরি জুটে যায়। বড় চাকরি নয়, ঝাড়ুদারের কাজ। পেট চালাতে হলে এ ছাড়া উপায়ই বা কী?
ছেলেটা চশমার দোকানে কাঁচ কাটা দেখে একটা ব্যাপার বুঝেছে। এক টুকরো কাচ ঘষে মাঝখানেটা উঁচু করতে পারলে সেটা লেন্সে পরিণত। তার ভেতর দিয়ে তাকালে ছোট জিনিস বড় দেখায়। সে নিজেই এই জিনিস তৈরির কথা ভাবে এক সময়। বোঝে, কাচ আরও সুন্দর করে ঘষে, আর নিখুঁত করে তুলতে পারলে সেটা লেন্সে পরিণত হবে।
বাড়ি ফিরে সত্যি সত্যিই কাঁচ ঘষে লেন্স তৈরি করে ছেলেটা। চশমার দোকানের চেয়েও ভালো লেন্স। সেই লেন্সের ভেতর দিয়ে তাকালে যে জিনি দু শ/তিন শ গুণ বড় দেখায়। ছেলেটার উৎসাহ বাড়ে। আরও ভালো লেন্স তৈরি করে সে। তামার পাত দিয়ে তৈরি একটা ফাঁপা নলের মাথায় লাগিয়ে দেয় লেন্স। তৈরি হয় অণুবীক্ষণ যন্ত্র। আর ছেলেটার সামনে হাট করে খুলে যায় খুদে প্রাণীদের এক অবিশ্বাস্য জগৎ।
প্রথম দিকে সামনে যা পেত, তা-ই অণুবীক্ষণ যন্ত্রের নিচে রেখে দেখত।
ছেলেটার বয়স বাড়তে থাকে। কিন্তু অণুবীক্ষণ যন্ত্রের নেশা তাঁকে ছাড়ে না। তিনি কাচ ঘসে ঘসে লেন্স বানান। আর একে একে প্রায় চার শটির মতো অণুবীক্ষণ যন্ত্র বানিয়ে ফেলেন। একদিন কী মনে করে অণুবীক্ষণ যন্ত্রের নিচে ফোটা পানি ফেলে পরীক্ষা শুরু করলেন। আর অমনি আরেকটা প্রাণীজগতের দুয়ার খুলে গেল। বিকট, ভয়ংকর দর্শন সব জীব ঘুরে বেড়াচ্ছে ওই এক ফোঁটা পানির ভেতর। তাঁর অজান্তেই ঘটে গেল চিকিৎসাবিজ্ঞানের এক মহাবিপ্লব। পরে এডওয়ার্ড জেনার ও লুইপাস্তুরের হাতে সেই জগৎ আরও বড় হতে থাকে।
লোকটা খুদে জিনিস-পত্র পর্যবেক্ষণ করেন, আর সেগুলো খাতায় টুকে রাখেন। ভবিষ্যতে কোনো কাজে লাগবে ভেবে এটা করেননি। হয়তো নিজের পর্যবেক্ষেণেরই সুবিধা হেবে। তিনি তখনো ঝাড়ুদারি করেন। তাই এটা যে বৈজ্ঞানিক আবিষ্কার, সেটাই হয়তো বোঝেননি।
এর মধ্যে কেউ একজন জানায়, তাঁর এই ব্যাপারটা যদি লন্ডনের রয়্যাল সোসাইটির লোকজনকে জানায়, তাহলে হয়তো তাঁরা এর মর্ম বুঝবেন। কিন্তু তিনি একজন ঝাড়ুদার। এক দেশ থেকে আরেক দেশে যাওয়ার মতো পয়সা তাঁর ছিল না। তাই রয়্যাল সোসাইটির ঠিকানা জোগাড় করে তাদেরকে চিঠি লিখে জানালেন। রয়্যাল সোসাইটির বিজ্ঞানীরা এটাকে আমল দিতেই চাননি। সবাই তো এক নয়। কেউ কেউ গুরুত্ব দিয়েছিলেন। এরই মধ্যে লিউয়েনহুক ছাব্বিশটা অণুবীক্ষণ যন্ত্র পাঠিয়ে দিলেন রয়্যাল সোসাইটির বিজ্ঞানীদের ঠিকানায়।
রয়্যাল সোসাইটি তখন বিজ্ঞান জগতের হর্তাকর্তা। তাঁদের থেকে কোনে আবিষ্কারের স্বীকৃতি না পেলে বিজ্ঞান জগতে সেটার টিকে থাকা মুশকিল। এবার অণুবীক্ষণ যন্ত্র হাতে পেয়েছেন রয়্যাল সোসাইটির বিজ্ঞানীরা। পরীক্ষা করে দেখতে তো দোষ নেই! কোনো কোনো বিজ্ঞানী সেই যন্ত্রের নলে চোখ লাগিয়ে দেখলেন, এতদিন ঝাড়ুদার লোকটা যা জানিয়েছেন তার সবই সত্যি।
সুতরাং তাঁকে রয়্যাল সোসাইটির সদস্য করে নেওয়া হলো। বিশ্বের তাবড়-তাবড় বিজ্ঞানীরাই কেবল এই সোসাইটির সদস্য হতে পারেন। সুতরাং ঝাড়ুদারের সম্মান বাড়ল অনেকখানি। তাঁর সঙ্গে দেখা করার জন্য খোদ রাশিয়ার রাজা এবং ইংল্যান্ডের রানি পর্যন্ত ডেলটফ নামের সেই ছোট্ট শহরে গিয়েছিলেন। পা ফেলেছিলেন দিয়েছিলেন তার জীর্ণ কূটিরে।
সেই ঝাড়ুদার লোকটার নাম হলো লিউয়েন হুক। যিনি অনুবীক্ষণ যন্ত্রের আবিষ্কারক হিসেবে ইতহাসে ঠাঁই করে নিয়েছেনে।

সপ্তদশ শতাব্দীর চল্লিশের দশক। নেদারল্যান্ডের ডেলফট শহরে এক চশমার দোকানে ঠাঁই দাঁড়িয়ে থাকে এক কিশোর। দোকানের কর্মচারিরা কাচ ঘসে চশমা তৈরি করে। সেটাই মন দিয়ে দেখে ছেলেটা। কী মজা পায়, কে জানে?সপ্তদশ শতাব্দীর চল্লিশের দশক। নেদারল্যান্ডের ডেলফট শহরে এক চশমার দোকানে ঠাঁই দাঁড়িয়ে থাকে এক কিশোর। দোকানের কর্মচারিরা কাচ ঘসে চশমা তৈরি করে। সেটাই মন দিয়ে দেখে ছেলেটা। কী মজা পায়, কে জানে?
ছেলেটার বাবা মারা গেছে কয়েক বছর আগে। আর্থিক অবস্থা খুব খারাপ। তাই স্কুলের পাঠ শেষ না করেই চাকরি নেয় এক মুদির দোকানে। মাইনে সামান্যই। এরই মধ্যে পৌরসভার একটা চাকরি জুটে যায়। বড় চাকরি নয়, ঝাড়ুদারের কাজ। পেট চালাতে হলে এ ছাড়া উপায়ই বা কী?
ছেলেটা চশমার দোকানে কাঁচ কাটা দেখে একটা ব্যাপার বুঝেছে। এক টুকরো কাচ ঘষে মাঝখানেটা উঁচু করতে পারলে সেটা লেন্সে পরিণত। তার ভেতর দিয়ে তাকালে ছোট জিনিস বড় দেখায়। সে নিজেই এই জিনিস তৈরির কথা ভাবে এক সময়। বোঝে, কাচ আরও সুন্দর করে ঘষে, আর নিখুঁত করে তুলতে পারলে সেটা লেন্সে পরিণত হবে।
বাড়ি ফিরে সত্যি সত্যিই কাঁচ ঘষে লেন্স তৈরি করে ছেলেটা। চশমার দোকানের চেয়েও ভালো লেন্স। সেই লেন্সের ভেতর দিয়ে তাকালে যে জিনি দু শ/তিন শ গুণ বড় দেখায়। ছেলেটার উৎসাহ বাড়ে। আরও ভালো লেন্স তৈরি করে সে। তামার পাত দিয়ে তৈরি একটা ফাঁপা নলের মাথায় লাগিয়ে দেয় লেন্স। তৈরি হয় অণুবীক্ষণ যন্ত্র। আর ছেলেটার সামনে হাট করে খুলে যায় খুদে প্রাণীদের এক অবিশ্বাস্য জগৎ।
প্রথম দিকে সামনে যা পেত, তা-ই অণুবীক্ষণ যন্ত্রের নিচে রেখে দেখত।
ছেলেটার বয়স বাড়তে থাকে। কিন্তু অণুবীক্ষণ যন্ত্রের নেশা তাঁকে ছাড়ে না। তিনি কাচ ঘসে ঘসে লেন্স বানান। আর একে একে প্রায় চার শটির মতো অণুবীক্ষণ যন্ত্র বানিয়ে ফেলেন। একদিন কী মনে করে অণুবীক্ষণ যন্ত্রের নিচে ফোটা পানি ফেলে পরীক্ষা শুরু করলেন। আর অমনি আরেকটা প্রাণীজগতের দুয়ার খুলে গেল। বিকট, ভয়ংকর দর্শন সব জীব ঘুরে বেড়াচ্ছে ওই এক ফোঁটা পানির ভেতর। তাঁর অজান্তেই ঘটে গেল চিকিৎসাবিজ্ঞানের এক মহাবিপ্লব। পরে এডওয়ার্ড জেনার ও লুইপাস্তুরের হাতে সেই জগৎ আরও বড় হতে থাকে।
লোকটা খুদে জিনিস-পত্র পর্যবেক্ষণ করেন, আর সেগুলো খাতায় টুকে রাখেন। ভবিষ্যতে কোনো কাজে লাগবে ভেবে এটা করেননি। হয়তো নিজের পর্যবেক্ষেণেরই সুবিধা হেবে। তিনি তখনো ঝাড়ুদারি করেন। তাই এটা যে বৈজ্ঞানিক আবিষ্কার, সেটাই হয়তো বোঝেননি।
এর মধ্যে কেউ একজন জানায়, তাঁর এই ব্যাপারটা যদি লন্ডনের রয়্যাল সোসাইটির লোকজনকে জানায়, তাহলে হয়তো তাঁরা এর মর্ম বুঝবেন। কিন্তু তিনি একজন ঝাড়ুদার। এক দেশ থেকে আরেক দেশে যাওয়ার মতো পয়সা তাঁর ছিল না। তাই রয়্যাল সোসাইটির ঠিকানা জোগাড় করে তাদেরকে চিঠি লিখে জানালেন। রয়্যাল সোসাইটির বিজ্ঞানীরা এটাকে আমল দিতেই চাননি। সবাই তো এক নয়। কেউ কেউ গুরুত্ব দিয়েছিলেন। এরই মধ্যে লিউয়েনহুক ছাব্বিশটা অণুবীক্ষণ যন্ত্র পাঠিয়ে দিলেন রয়্যাল সোসাইটির বিজ্ঞানীদের ঠিকানায়।
রয়্যাল সোসাইটি তখন বিজ্ঞান জগতের হর্তাকর্তা। তাঁদের থেকে কোনে আবিষ্কারের স্বীকৃতি না পেলে বিজ্ঞান জগতে সেটার টিকে থাকা মুশকিল। এবার অণুবীক্ষণ যন্ত্র হাতে পেয়েছেন রয়্যাল সোসাইটির বিজ্ঞানীরা। পরীক্ষা করে দেখতে তো দোষ নেই! কোনো কোনো বিজ্ঞানী সেই যন্ত্রের নলে চোখ লাগিয়ে দেখলেন, এতদিন ঝাড়ুদার লোকটা যা জানিয়েছেন তার সবই সত্যি।
সুতরাং তাঁকে রয়্যাল সোসাইটির সদস্য করে নেওয়া হলো। বিশ্বের তাবড়-তাবড় বিজ্ঞানীরাই কেবল এই সোসাইটির সদস্য হতে পারেন। সুতরাং ঝাড়ুদারের সম্মান বাড়ল অনেকখানি। তাঁর সঙ্গে দেখা করার জন্য খোদ রাশিয়ার রাজা এবং ইংল্যান্ডের রানি পর্যন্ত ডেলটফ নামের সেই ছোট্ট শহরে গিয়েছিলেন। পা ফেলেছিলেন দিয়েছিলেন তার জীর্ণ কূটিরে।
সেই ঝাড়ুদার লোকটার নাম হলো লিউয়েন হুক। যিনি অনুবীক্ষণ যন্ত্রের আবিষ্কারক হিসেবে ইতহাসে ঠাঁই করে নিয়েছেনে।

হাজার ৪০৮ শিশুর শরীরে হাম ও এর উপসর্গ পাওয়া গেছে। বুধবার (২০ মে) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
১৩ ঘণ্টা আগে
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) নবাব আব্দুল লতিফ হলের একটি কক্ষে অনাবাসিক দুই শিক্ষার্থীকে ‘অবৈধভাবে’ রাখাকে কেন্দ্র করে হল প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক আতাউল্যাহকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে হল শাখা ছাত্রদলের সভাপতি মুরাদ হোসেনের বিরুদ্ধে।
১৩ ঘণ্টা আগে
দেশে গত বছর দীর্ঘ সময় ধরে হামের রুটিন টিকার সংকট ছিল বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের শিশু তহবিল (ইউনিসেফ)। ২০২৪ সাল থেকেই তারা অন্তর্বর্তী সরকারকে টিকা সংকট নিয়ে অন্তত ১০ বার বৈঠকে এবং পাঁচ থেকে ছয়টি আনুষ্ঠানিক চিঠির মাধ্যমে সম্ভাব্য সংকটের বিষয়ে অবহিত করলেও পর্যাপ্ত টিকা সরবরাহ নিশ্চিত না কর
১৪ ঘণ্টা আগে
সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় বিলুপ্ত করে সিনিয়র সচিবসহ ১৫ জন কর্মকর্তাকে আইন মন্ত্রণালয়ে ফেরত পাঠানোর সরকারি সিদ্ধান্তকে ‘জাতির সঙ্গে প্রতারণার শামিল’ বলে মন্তব্য করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা মাহফুজ আলম।
১৫ ঘণ্টা আগে