পাবনা-১ আসনের সীমানা নিয়ে ঢাকায় ইসির সামনে বিক্ষোভ

প্রতিবেদক, রাজনীতি ডটকম
আপডেট : ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১৫: ০০
আগের সীমানায় পাবনা-১ আসন পুনর্বহাল চেয়ে বেড়া উপজেলার বাসিন্দারা মঙ্গলবার নির্বাচন কমিশন ভবনের সামনে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করেন। ছবি: রাজনীতি ডটকম

সীমানা পুনর্বহালের দাবিতে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন (ইসি) কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেছেন পাবনা-১ আসনের কয়েকশ বাসিন্দা। মঙ্গলবার (৯ সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে এই কর্মসূচি পালন করেন তারা।

কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া লোকজনের হাতে ছিল— “ইসির অবৈধ গেজেট মানি না, মানব না”, “পাবনার সাঁথিয়া-বেড়া ভাই ভাই, বিভক্তি মানি না”— এসব স্লোগান সম্বলিত প্ল্যাকার্ড।

বেড়া পৌর ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি আসাদ্দুজ্জামান নয়ন বলেন, “আমরা বেড়া উপজেলার জনগণের পক্ষ থেকে এখানে এসেছি। ভৌগলিক ও সামাজিক বাস্তবতায় সাঁথিয়ার সঙ্গে বেড়ার সংযোগ সবচেয়ে যৌক্তিক। তাই আমরা আগের সীমানা পুনর্বহাল চাই।”

Inhabitants Of Pabna-1 Protest In Front Of EC 09-09-2025 (2)

ইসির গেজেট অনুযায়ী, এবার পাবনা-১ আসনে থাকছে সাঁথিয়া উপজেলা ও বেড়া উপজেলার— বেড়া পৌরসভা, হাটুরিয়া নাকালিয়া, নতুন ভারেংগা, চাকলা ও কৈটোলা ইউনিয়ন। অপরদিকে সুজানগর উপজেলা এবং বেড়ার অবশিষ্ট অংশ যুক্ত হয়েছে পাবনা-২ আসনে।

এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়ে বিক্ষোভকারীরা ৭টি যৌক্তিক কারণ তুলে ধরেন—

১. ভৌগলিক নিকটবর্তীতা: বেড়া উপজেলা পরিষদ থেকে সাঁথিয়া উপজেলা পরিষদের দূরত্ব ৮ কিলোমিটারেরও কম, যেখানে সুজানগরের দূরত্ব প্রায় ৪০ কিলোমিটার।

২. ভোটার ভারসাম্য: সাঁথিয়া ও আংশিক বেড়া মিলিয়ে ভোটার সংখ্যা প্রায় ৩ লাখ ১৭ হাজার, যা ইসির নীতিমালার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। কিন্তু বেড়া-সুজানগর একত্র করলে ভোটার সংখ্যা দাঁড়ায় প্রায় ৪ লাখ ৬২ হাজার, যা অসামঞ্জস্যপূর্ণ।

৩. নীতিমালা লঙ্ঘন: ইসির নিয়ম অনুযায়ী আসনভিত্তিক ভোটার পার্থক্য সর্বোচ্চ ৩০ শতাংশের মধ্যে থাকতে হবে। বেড়া-সুজানগর মিলিয়ে এ হার ৪০ শতাংশ ছাড়িয়ে যায়।

৪. শিক্ষা ও সংস্কৃতি: সাঁথিয়া-বেড়া ও সুজানগরের মানুষের শিক্ষা, সংস্কৃতি ও জীবনধারা অভিন্ন।

৫. নদী বন্দর ও যোগাযোগ: বেড়ায় ৩টি নদী বন্দর রয়েছে। নতুন সীমানায় এগুলো সব চলে যাচ্ছে পাবনা-২ আসনে, অথচ সাঁথিয়ায় কোনো নদী বন্দর থাকছে না। এতে উন্নয়ন ব্যাহত হবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

৬. প্রশাসনিক ভারসাম্য: বেড়ার অংশ সুজানগরের সঙ্গে যুক্ত হলে ওই আসনে পৌরসভা ও ইউনিয়নের সংখ্যা বেড়ে যায় দ্বিগুণ, যা প্রশাসনিক ভারসাম্য নষ্ট করবে।

৭. ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট: গত চার দশক ধরে ভৌগলিক বাস্তবতা বিবেচনায় পাবনা-১ এ ছিল সাঁথিয়া ও আংশিক বেড়া, আর পাবনা-২ এ সুজানগর ও আংশিক বেড়া।

Inhabitants Of Pabna-1 Protest In Front Of EC 09-09-2025 (3)

বেড়া কলেজ শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক সালমান হোসেন বলেন, “আমাদের দাবি মানা না হলে আমরা আন্দোলন চালিয়ে যাব।”

এদিকে নির্বাচন কমিশনার মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেন, “সীমানা পুনঃনির্ধারণে ইসি সর্বোচ্চ সতর্কতা ও নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করেছে। এ নিয়ে আদালত বা অন্য কোনো কর্তৃপক্ষের কাছে প্রশ্ন তোলার সুযোগ নেই।”

সারাদেশের বিভিন্ন আসনের মতো পাবনা-১ আসন নিয়েও এখন উত্তপ্ত পরিস্থিতি বিরাজ করছে। এলাকাবাসীর দাবি, ভৌগলিক অবস্থান, ভোটার ভারসাম্য, নীতিমালা, শিক্ষা-সংস্কৃতি ও যোগাযোগব্যবস্থার দিক বিবেচনা করলে সাঁথিয়া-বেড়া পুনর্বহালই একমাত্র যৌক্তিক সমাধান।

Ad
Ad
ad
ad
ad

খবরাখবর থেকে আরও পড়ুন

সৌর বিদ্যুতের যন্ত্রপাতি আমদানিতে ৬ মাস কর ছাড়

এর আগে ছাদে সৌর বিদ্যুতের প্ল্যান্ট স্থাপন করে উৎপাদিত বিদ্যুৎ নিজেদের চাহিদা মিটিয়ে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের জন্য প্রণোদনা ঘোষণা করেছিল সরকার। বিদ্যুৎ বিভাগের এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, এ ক্ষেত্রে সরকার জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হওয়া প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের জন্য সাড়ে ১০ টাকা করে দেবে।

১০ ঘণ্টা আগে

সংসদে আরও ৪টি স্থায়ী কমিটি গঠিত

স্থায়ী কমিটিগুলোর মধ্যে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ কার্যপ্রণালী বিধি সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটিতে সভাপতি করা হয়েছে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমকে (ভোলা-৩ আসনের সংসদ সদস্য)।

১১ ঘণ্টা আগে

গাজী নজরুলকে নিয়ে বিরোধীদলীয় নেতা ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ‘বাগ্‌যুদ্ধ’

এ সময় কেবল দল থেকে বহিষ্কার নয়, সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ ব্যবহার করে ফ্লোর ক্রসিংয়ের দায়ে গাজী নজরুলের সংসদ সদস্যপদ বাতিলের ‘বুদ্ধি’ দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ‘টিপস’ দেওয়াকে দুর্বল মানুষকে জব্দ করতে গ্রামে মেম্বার নির্বাচনে প্রার্থী দাঁড় করিয়ে দেওয়ার প্রচলিত কথার সঙ্গে তুলনা করেন

১২ ঘণ্টা আগে

অটোরিকশায় বসবে নম্বর প্লেট, থাকবে কিউআর কোড: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অটোরিকশা চলাচল সুশৃঙ্খল করতে একটি সুনির্দিষ্ট নীতিমালা তৈরির কাজ চলছে। নীতিমালা প্রণয়ন ও অনুমোদনের পর বৈধ ও অনুমোদিত অটোরিকশাকে নম্বর প্লেট ও কিউআর কোডের মাধ্যমে শনাক্ত করা হবে। একই সঙ্গে চালকদের নিবন্ধন ও পর্যায়ক্রমে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দিয়ে লাইসেন্সের আওতায় আনার পরিকল্পনাও

১৩ ঘণ্টা আগে
Advertisement