
প্রতিবেদক, রাজনীতি ডটকম

ঢাকা, চট্টগ্রাম ও গাজীপুর মহানগর এলাকায় এবং নারায়ণগঞ্জ, গোপালগঞ্জ ও ফরিদপুর জেলায় সেনাবাহিনী মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের কারণ হিসেবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদ বলেছেন, ‘কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের অপতৎপরতা বৃদ্ধি পাওয়ায় দেশের ছয় জায়গায় সেনা মোতায়েনের সিদ্ধান্ত হয়েছে।’
সোমবার (২২ জুন) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। এ সময় তিনি বলেন, ‘কোনো কোনো জায়গায় তাদের (আওয়ামী লীগ) অপতৎপরতা বৃদ্ধি পেয়েছে, সে ব্যাপারে গোয়েন্দা রিপোর্টের ভিত্তিতে সেনা মোতায়েনের সিদ্ধান্ত হয়েছে।’
‘আরো কিছু বিষয়’ আছে জানিয়ে সালাউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘সেগুলো ফাঁস করতে চাই না। দেশে অস্থিরতা সৃষ্টির জন্য কিছু মহল অপতৎপরতায় লিপ্ত আছে, সে জন্য আমরা অ্যালার্ট থাকার অংশ হিসাবে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’
এর আগে ২০২৪ সালের জুলাইয়ে সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে শুরু হওয়া আন্দোলন আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর বাধা ও বল প্রয়োগের মুখে একপর্যায়ে সহিংস রূপ নেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ওই বছরের ১৯ জুলাই কারফিউ জারি করা হয় এবং মাঠে নামানো হয় সেনাবাহিনীকে।
পরে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মুখে ৫ অগাস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটে। ওই সময় দেশের বিভিন্ন থানাসহ পুলিশের স্থাপনায় ব্যাপক হামলার ঘটনা ঘটে এবং পুলিশি ব্যবস্থা কার্যত ভেঙে পড়ে।
পরবর্তী সময়ে দায়িত্ব নেওয়া অন্তর্বর্তী সরকার আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সেনাবাহিনীকে মাঠে বহাল রাখে। একই বছরের ১৭ সেপ্টেম্বর সেনাবাহিনীকে ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতাও দেওয়া হয়।
এরপর চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি জয়ী হয়ে সরকার গঠন করে। আইনশৃঙ্খলা ও অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা পরিস্থিতি মূল্যায়ন এবং প্রয়োজনীয় কর্মপদ্ধতি নির্ধারণে গত ২১ এপ্রিল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকে সভাপতি করে আইনশৃঙ্খলা-সংক্রান্ত কোর কমিটি পুনর্গঠন করা হয়।
পরে ওই কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মে মাস থেকে ধাপে ধাপে সেনাবাহিনীকে ব্যারাকে ফিরিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়। গত ১৫ জুন সেই কার্যক্রম সম্পন্ন হয়।
তবে আগামীকাল ২৩ জুন কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত দল আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কায় আজ সোমবার সেনাবাহিনীর প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার বরাবর লেখা এক চিঠিতে ছয় জেলায় সেনা মোতায়নের অনুরোধ জানায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
চিঠিতে বলা হয়, ‘কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত বিভিন্ন সংগঠন কর্তৃক দেশের বিভিন্ন স্থানে বেআইনি মিছিল, শোডাউন ও অন্যান্য কর্মসূচির মাধ্যমে নাশকতা ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে। এর ফলে দেশের বিভিন্ন জেলার সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটার পাশাপাশি জানমালের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে।’
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওই চিঠিতে আরও বলা হয়, “এমতাবস্থায়, ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকা, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন এলাকা, গাজীপুর মেট্রোপলিটন এলাকা, নারায়ণগঞ্জ জেলা, গোপালগঞ্জ জেলা এবং ফরিদপুর জেলার শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা, জননিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং জনগণের জানমালের সুরক্ষার লক্ষ্যে ২২ জুন হতে ৩০ জুন পর্যন্ত ‘ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার’-এর আওতায় প্রয়োজনীয় সংখ্যক সেনাসদস্য মোতায়েনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো।”
এই সেনা মোতায়েনের সিদ্ধান্তের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, “‘ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার’ সেনাবাহিনীকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার কাজে আনার বিষয়টি ‘রুটিন ওয়ার্ক’। মাঝে মধ্যে প্রয়োজনে সেনাবাহিনীকে আনি, বিজিবিকে আনা হয়। গত দেড় বছর যাবৎ মাঠে থাকা সেনাবাহিনীকে নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় আসার পর প্রত্যাহারের প্রক্রিয়া শুরু হয় এবং গত ১৫ জুন প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। আগের সেনা মোতায়েন পরিস্থিতির সাথে এটার কোনো মিল নেই।”
সালাউদ্দিন আহমদ বলেন, “কার্যক্রম নিষিদ্ধ ‘মাফিয়া বাহিনী’ আওয়ামী লীগের কিছু অপতৎপরতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বিভিন্ন জেলায় দেখেছি আমরা মিছিল মিটিং কার্যক্রম হাতে নিয়েছে, তাতে আমাদের মনে হয়েছে তারা একটা অস্থিরতা সৃষ্টির পাঁয়তারা করলেও করতে পারে। এই বিবেচনায় আমাদের সকল বাহিনীকে সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছি, যেটা সব সময় থাকে।”
তিনি আরও বলেন, “তার বাইরে আমরা আজকে থেকে ৩০ তারিখ পর্যন্ত ‘ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার’ আইন মোতাবেক সেনাবাহিনী মোতায়েন করেছি, যাতে যে কোনো ধরণের অপতৎপরতা অ্যাড্রেস করা যায়।”
পুলিশের ওপর আস্থার অভাব থেকেই সেনাবাহিনীর প্রয়োজন পড়ল কি না— এমন প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘এখানে আস্থাহীনতার প্রশ্ন আসে কেন? আমাদের পুলিশ বাহিনী যে সমস্ত কৃতিত্বপূর্ণ কার্যকলাপ করেছে, তাদের পুরস্কৃত করা হয়েছে। দুয়েকটি জায়গায় যেখানে উচ্ছৃঙ্খলতা করেছে, তাদের সাজা নিশ্চিত করা হয়েছে। এখানে আস্থাহীনতার কোনো বিষয় নয়।’

আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির কারণে সরকার সেনা মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নিল কি না— এমন প্রশ্নে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হয়নি, তবে আমাদের সব সময় সতর্ক থাকতে হয়।’
এ ছাড়া রায়ণগঞ্জ-৩ (সোনারগাঁ-সিদ্ধিরগঞ্জ) আসনে বিএনপির সংসদ সদস্য আজহারুল ইসলাম মান্নানের ছেলে খাইরুল ইসলাম সজীবকে গোয়েন্দা পুলিশের হেফাজতে নেওয়ার ঘটনা নিয়েও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে প্রশ্ন করেন সাংবাদিকরা। জবাবে তিনি বলেন, ‘নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের এমপির ছেলের কি কোনো বিশেষ অধিকার আছে? আইনের চোখে সবাই সমান। পুলিশের কাছে বিভিন্ন রকমের অভিযোগ ছিল তার বিরুদ্ধে, জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিয়ে এসেছে, জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। প্রয়োজন মনে করেছে মুচলেকা নেওয়ার, মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দিয়েছে।’
সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার আগে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে পূজা উদযাপন পরিষদের নেতাদের সাক্ষাৎ হয়। সে সময় তিনি বলেন, ‘বর্তমান সরকার সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও সর্বজনীন অধিকারে দৃঢ়ভাবে বিশ্বাসী। বিগত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকারের আমলে কক্সবাজারের রামু, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর ও কুমিল্লাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সংখ্যালঘু নির্যাতনের যেসব অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে। বর্তমান সরকারের আমলে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর নির্যাতনের হার সবচেয়ে কম। দুয়েকটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটলেও প্রশাসন তাৎক্ষণিকভাবে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।’
গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে হরিদাস চন্দ্রের রামমন্দির নির্মাণের উদ্যোগ এবং অ্যাডভোকেট চৈতালী চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে ‘দেশের সার্বভৌমত্ববিরোধী বক্তব্য’ দেওয়ার অভিযোগের বিষয়গুলোও আলোচনায় ওঠে। এ প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা সামাজিক, রাজনৈতিক ও ধর্মীয় সম্প্রীতিতে বিশ্বাস করি। সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা ও স্বার্থ সুরক্ষাকে সরকার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। তবে এক্ষেত্রে সকল সম্প্রদায়েরই দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করা আবশ্যক। ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানে— এমন যে কোনো বক্তব্য বা কর্মকাণ্ড থেকে সকলকে বিরত থাকতে হবে।’
সাক্ষাৎকালে দেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষা, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজায় আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ এবং অর্পিত সম্পত্তি আইনসহ হিন্দু সম্প্রদায়ের বিভিন্ন দাবি-দাওয়ার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি বাসুদেব ধর ও সাধারণ সম্পাদক সন্তোষ শর্মার নেতৃত্বে আট সদস্যের প্রতিনিধিদল এই সাক্ষাতে অংশ নেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান ও নৃ-গোষ্ঠী বিষয়ক বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার উপস্থিত ছিলেন।

ঢাকা, চট্টগ্রাম ও গাজীপুর মহানগর এলাকায় এবং নারায়ণগঞ্জ, গোপালগঞ্জ ও ফরিদপুর জেলায় সেনাবাহিনী মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের কারণ হিসেবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদ বলেছেন, ‘কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের অপতৎপরতা বৃদ্ধি পাওয়ায় দেশের ছয় জায়গায় সেনা মোতায়েনের সিদ্ধান্ত হয়েছে।’
সোমবার (২২ জুন) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। এ সময় তিনি বলেন, ‘কোনো কোনো জায়গায় তাদের (আওয়ামী লীগ) অপতৎপরতা বৃদ্ধি পেয়েছে, সে ব্যাপারে গোয়েন্দা রিপোর্টের ভিত্তিতে সেনা মোতায়েনের সিদ্ধান্ত হয়েছে।’
‘আরো কিছু বিষয়’ আছে জানিয়ে সালাউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘সেগুলো ফাঁস করতে চাই না। দেশে অস্থিরতা সৃষ্টির জন্য কিছু মহল অপতৎপরতায় লিপ্ত আছে, সে জন্য আমরা অ্যালার্ট থাকার অংশ হিসাবে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’
এর আগে ২০২৪ সালের জুলাইয়ে সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে শুরু হওয়া আন্দোলন আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর বাধা ও বল প্রয়োগের মুখে একপর্যায়ে সহিংস রূপ নেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ওই বছরের ১৯ জুলাই কারফিউ জারি করা হয় এবং মাঠে নামানো হয় সেনাবাহিনীকে।
পরে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মুখে ৫ অগাস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটে। ওই সময় দেশের বিভিন্ন থানাসহ পুলিশের স্থাপনায় ব্যাপক হামলার ঘটনা ঘটে এবং পুলিশি ব্যবস্থা কার্যত ভেঙে পড়ে।
পরবর্তী সময়ে দায়িত্ব নেওয়া অন্তর্বর্তী সরকার আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সেনাবাহিনীকে মাঠে বহাল রাখে। একই বছরের ১৭ সেপ্টেম্বর সেনাবাহিনীকে ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতাও দেওয়া হয়।
এরপর চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি জয়ী হয়ে সরকার গঠন করে। আইনশৃঙ্খলা ও অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা পরিস্থিতি মূল্যায়ন এবং প্রয়োজনীয় কর্মপদ্ধতি নির্ধারণে গত ২১ এপ্রিল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকে সভাপতি করে আইনশৃঙ্খলা-সংক্রান্ত কোর কমিটি পুনর্গঠন করা হয়।
পরে ওই কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মে মাস থেকে ধাপে ধাপে সেনাবাহিনীকে ব্যারাকে ফিরিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়। গত ১৫ জুন সেই কার্যক্রম সম্পন্ন হয়।
তবে আগামীকাল ২৩ জুন কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত দল আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কায় আজ সোমবার সেনাবাহিনীর প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার বরাবর লেখা এক চিঠিতে ছয় জেলায় সেনা মোতায়নের অনুরোধ জানায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
চিঠিতে বলা হয়, ‘কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত বিভিন্ন সংগঠন কর্তৃক দেশের বিভিন্ন স্থানে বেআইনি মিছিল, শোডাউন ও অন্যান্য কর্মসূচির মাধ্যমে নাশকতা ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে। এর ফলে দেশের বিভিন্ন জেলার সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটার পাশাপাশি জানমালের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে।’
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওই চিঠিতে আরও বলা হয়, “এমতাবস্থায়, ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকা, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন এলাকা, গাজীপুর মেট্রোপলিটন এলাকা, নারায়ণগঞ্জ জেলা, গোপালগঞ্জ জেলা এবং ফরিদপুর জেলার শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা, জননিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং জনগণের জানমালের সুরক্ষার লক্ষ্যে ২২ জুন হতে ৩০ জুন পর্যন্ত ‘ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার’-এর আওতায় প্রয়োজনীয় সংখ্যক সেনাসদস্য মোতায়েনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো।”
এই সেনা মোতায়েনের সিদ্ধান্তের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, “‘ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার’ সেনাবাহিনীকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার কাজে আনার বিষয়টি ‘রুটিন ওয়ার্ক’। মাঝে মধ্যে প্রয়োজনে সেনাবাহিনীকে আনি, বিজিবিকে আনা হয়। গত দেড় বছর যাবৎ মাঠে থাকা সেনাবাহিনীকে নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় আসার পর প্রত্যাহারের প্রক্রিয়া শুরু হয় এবং গত ১৫ জুন প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। আগের সেনা মোতায়েন পরিস্থিতির সাথে এটার কোনো মিল নেই।”
সালাউদ্দিন আহমদ বলেন, “কার্যক্রম নিষিদ্ধ ‘মাফিয়া বাহিনী’ আওয়ামী লীগের কিছু অপতৎপরতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বিভিন্ন জেলায় দেখেছি আমরা মিছিল মিটিং কার্যক্রম হাতে নিয়েছে, তাতে আমাদের মনে হয়েছে তারা একটা অস্থিরতা সৃষ্টির পাঁয়তারা করলেও করতে পারে। এই বিবেচনায় আমাদের সকল বাহিনীকে সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছি, যেটা সব সময় থাকে।”
তিনি আরও বলেন, “তার বাইরে আমরা আজকে থেকে ৩০ তারিখ পর্যন্ত ‘ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার’ আইন মোতাবেক সেনাবাহিনী মোতায়েন করেছি, যাতে যে কোনো ধরণের অপতৎপরতা অ্যাড্রেস করা যায়।”
পুলিশের ওপর আস্থার অভাব থেকেই সেনাবাহিনীর প্রয়োজন পড়ল কি না— এমন প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘এখানে আস্থাহীনতার প্রশ্ন আসে কেন? আমাদের পুলিশ বাহিনী যে সমস্ত কৃতিত্বপূর্ণ কার্যকলাপ করেছে, তাদের পুরস্কৃত করা হয়েছে। দুয়েকটি জায়গায় যেখানে উচ্ছৃঙ্খলতা করেছে, তাদের সাজা নিশ্চিত করা হয়েছে। এখানে আস্থাহীনতার কোনো বিষয় নয়।’

আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির কারণে সরকার সেনা মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নিল কি না— এমন প্রশ্নে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হয়নি, তবে আমাদের সব সময় সতর্ক থাকতে হয়।’
এ ছাড়া রায়ণগঞ্জ-৩ (সোনারগাঁ-সিদ্ধিরগঞ্জ) আসনে বিএনপির সংসদ সদস্য আজহারুল ইসলাম মান্নানের ছেলে খাইরুল ইসলাম সজীবকে গোয়েন্দা পুলিশের হেফাজতে নেওয়ার ঘটনা নিয়েও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে প্রশ্ন করেন সাংবাদিকরা। জবাবে তিনি বলেন, ‘নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের এমপির ছেলের কি কোনো বিশেষ অধিকার আছে? আইনের চোখে সবাই সমান। পুলিশের কাছে বিভিন্ন রকমের অভিযোগ ছিল তার বিরুদ্ধে, জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিয়ে এসেছে, জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। প্রয়োজন মনে করেছে মুচলেকা নেওয়ার, মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দিয়েছে।’
সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার আগে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে পূজা উদযাপন পরিষদের নেতাদের সাক্ষাৎ হয়। সে সময় তিনি বলেন, ‘বর্তমান সরকার সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও সর্বজনীন অধিকারে দৃঢ়ভাবে বিশ্বাসী। বিগত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকারের আমলে কক্সবাজারের রামু, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর ও কুমিল্লাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সংখ্যালঘু নির্যাতনের যেসব অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে। বর্তমান সরকারের আমলে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর নির্যাতনের হার সবচেয়ে কম। দুয়েকটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটলেও প্রশাসন তাৎক্ষণিকভাবে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।’
গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে হরিদাস চন্দ্রের রামমন্দির নির্মাণের উদ্যোগ এবং অ্যাডভোকেট চৈতালী চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে ‘দেশের সার্বভৌমত্ববিরোধী বক্তব্য’ দেওয়ার অভিযোগের বিষয়গুলোও আলোচনায় ওঠে। এ প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা সামাজিক, রাজনৈতিক ও ধর্মীয় সম্প্রীতিতে বিশ্বাস করি। সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা ও স্বার্থ সুরক্ষাকে সরকার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। তবে এক্ষেত্রে সকল সম্প্রদায়েরই দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করা আবশ্যক। ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানে— এমন যে কোনো বক্তব্য বা কর্মকাণ্ড থেকে সকলকে বিরত থাকতে হবে।’
সাক্ষাৎকালে দেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষা, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজায় আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ এবং অর্পিত সম্পত্তি আইনসহ হিন্দু সম্প্রদায়ের বিভিন্ন দাবি-দাওয়ার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি বাসুদেব ধর ও সাধারণ সম্পাদক সন্তোষ শর্মার নেতৃত্বে আট সদস্যের প্রতিনিধিদল এই সাক্ষাতে অংশ নেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান ও নৃ-গোষ্ঠী বিষয়ক বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার উপস্থিত ছিলেন।

রাজধানীর ধানমন্ডির একটি ভবন থেকে ফেলে রিক্তা মণি নামে এক শিশু গৃহকর্মীকে হত্যার অভিযোগে করা মামলায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী সবিবুর রহমান ও তার স্ত্রী ফারাহ নুসরাতকে রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
৩ ঘণ্টা আগে
দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন— বাংলাদেশ তার ও টেলিফোন বোর্ডের চট্টগ্রাম আগ্রাবাদ কার্যালয়ের বিভাগীয় প্রকৌশলী (ইমারত নির্মাণ) অফিসের সাবেক উচ্চমান সহকারী কাম ক্যাশিয়ার মোহাম্মদ হোসেন, একই কার্যালয়ের সাবেক বিভাগীয় প্রকৌশলী (ইমারত নির্মাণ) মো. কামরুল আলম এবং সাবেক বিভাগীয় প্রকৌশলী (ইমারত নির্মাণ) সাদিকুর রহমান খা
৫ ঘণ্টা আগে
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কমিশনার পদে নিয়োগের জন্য সুপারিশ প্রদানের উদ্দেশ্যে পাঁচ সদস্যের একটি বাছাই কমিটি গঠন করেছে সরকার। আজ সোমবার এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।
৫ ঘণ্টা আগে
যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, দীর্ঘদিন ধরে চলমান রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন দুই নেতা। জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়ে বাংলাদেশ যে মানবিক দায়িত্ব পালন করছে, তার প্রশংসা করেছে মালয়েশিয়া এবং ভবিষ্যতেও পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছে।
৭ ঘণ্টা আগে