সরকার ‘এনজিও-গ্রাম’— ফেসবুকে জবাব দিলেন প্রেস সচিব

প্রতিবেদক, রাজনীতি ডটকম
শফিকুল আলম ও তার ফেসবুক স্ট্যাটাসের স্ক্রিনশট

অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারকে ‘এনজিও-গ্রাম’ অভিহিত করে যারা সমালোচনা করে থাকেন, তাদের জবাব দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম। ১৪টি বিষয়ে সরকারের ‘অর্জন’ তুলে ধরে বলেছেন, সরকারের সমালোচনাকারীর সমালোচনা অন্যায্য।

মঙ্গলবার (১৮ নভেম্বর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক প্রোফাইল থেকে এক পোস্টে এসব অর্জনের কথা তুলে ধরেছেন শফিকুল আলম।

পোস্টে প্রেস সচিব লিখেছেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকার: নামেই শুধু সরকার, আসলে এক প্রকার এনজিও-গ্রাম। অনেকের দৃষ্টিতে এটি বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে দুর্বল প্রশাসন— এতটাই দুর্বল যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র পর্যন্ত এর সঙ্গে পারস্পরিক শুল্ক চুক্তি করতে আগ্রহী হয়নি!’

অন্যদের সমালোচনার কথা তুলে ধরে শফিকুল লিখেছেন, ‘এর (সরকারের) নেতারা প্রায়ই ভীত বা অদক্ষ বলে মনে হয়। রাস্তাঘাটে নিয়ন্ত্রণ রাখতে ব্যর্থ হয়েছেন এমন এক সময়ে, যখন ৫০০ দিনে ১৭০০টির বেশি বিক্ষোভ হয়েছে! তারা যেন নতুন ও অদক্ষ, আইন পাস করতেও হিমশিম খাচ্ছেন, প্রয়োগ তো দূরের কথা! অন্তর্বর্তী সরকার বারবার তুলনামূলক ছোট বা অখ্যাত গোষ্ঠীর চাপের সামনে নতি স্বীকার করেছে!’

সমালোচনা ও এর জবাব দিয়ে তিনি লিখেছেন, “গত ১৫ মাসে এই সরকারকে অক্রিয়তা ও অযোগ্যতার অভিযোগে ঘিরে ফেলা হয়েছে। অনেকেই এটিকে ব্যঙ্গ করে বলেন, এটি এক ‘কিছু না করা, মাখন-খাওয়া দল’, যারা কাকতালীয়ভাবে ক্ষমতায় এসেছে, কিছুই করতে পারেনি, আর এখন অপমানজনক নিরাপদ প্রস্থানের পথ খুঁজছে! তবু পেছনে তাকিয়ে আমি দৃঢ়ভাবে বলি— এটি গত কয়েক দশকে বাংলাদেশের সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ সরকারগুলোর একটি। তারা তাদের প্রায় সব লক্ষ্যই অর্জন করেছে।’

অন্তর্বর্তী সরকারের যে ১৪টি অর্জন প্রেস সচিব তার স্ট্যাটাসে তুলে ধরেছেন সেগুলো হলো—

  • শান্তি ও স্থিতিশীলতা পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে। বিপ্লব-পরবর্তী প্রতিশোধমূলক হামলা থামানো হয়েছে।
  • মার্কিন শুল্ক চুক্তি কোনো লবিং ফার্ম ভাড়া না করেই সম্পন্ন হয়েছে।
  • মাত্র ১৫ মাসে রেকর্ডসংখ্যক আইন পাস হয়েছে, যার মধ্যে বিস্তৃত শ্রম সংস্কার আইনও অন্তর্ভুক্ত।
  • জুলাই ঘোষণা (July Declaration) একটি ঐতিহাসিক নতুন প্ল্যাটফর্ম তৈরি করেছে এবং জুলাই চার্টার (July Charter) এমন এক রাজনৈতিক সমঝোতা গড়ে তুলেছে যা আগামী প্রজন্মের জন্য বাংলাদেশের রাজনীতিকে পুনর্গঠন করতে পারে।
  • সুপ্রিম কোর্ট নিম্ন আদালতের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে। ফলে ভবিষ্যতে কোনো সরকারের রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে জামিন বা মামলাকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা অনেক কঠিন হবে।
  • বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ বন্দর অপারেটর লালদিয়া টার্মিনাল চুক্তি সই করেছে, যা বাংলাদেশের শিল্প রূপান্তরের ভিত্তি স্থাপন করেছে। এটি এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় ইউরোপীয় বিনিয়োগ।
  • নতুন পররাষ্ট্রনীতি কাঠামো বাংলাদেশকে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের কেন্দ্রস্থলে নিয়ে এসেছে।
  • অর্থনীতি স্থিতিশীল হয়েছে ও পুনরায় প্রবৃদ্ধির পথে ফিরেছে।
  • ব্যাংকিং খাতের লুটপাট রোধ করা হয়েছে, টাকা স্থিতিশীল হয়েছে এবং মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে এসেছে। খাদ্য মূল্যস্ফীতি ১৪ শতাংশ থেকে নেমে ৭ শতাংশে।
  • আদালতের কার্যক্রম অনুযায়ী অতীতের নিপীড়নের জন্য জবাবদিহিতা শুরু হয়েছে এবং দীর্ঘ প্রতীক্ষিত ন্যায়বোধের আবির্ভাব ঘটেছে। শেখ হাসিনাকে তার অবস্থান দেখিয়ে দেওয়া হয়েছে!
  • গুম বন্ধ হয়েছে। একসময় জাতীয় জীবনে আধিপত্যকারী বিএএল চরমপন্থি রাজনৈতিক সংস্কৃতি নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে এবং একটি সাংস্কৃতিক পুনর্জাগরণ এসেছে— পূর্ববর্তী নির্যাতনের ওপর নির্মিত জনপ্রিয় প্রামাণ্যচিত্রগুলো এর প্রমাণ। এটি এক ফারুকি-ইফেক্ট!
  • র‍্যাব এখন আইনের অধীনে পরিচালিত হয়, কোনো অনানুষ্ঠানিক মতবাদে নয়। গোয়েন্দা সংস্থাগুলোও ভিন্নমতাবলম্বীদের হয়রানি থেকে সরে এসেছে।
  • গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও বাকস্বাধীনতা পুনর্প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। গত ১৬ মাসে একটিও সাজানো ‘ক্রসফায়ার’ ঘটনার রিপোর্ট পাওয়া যায়নি।

প্রেস সচিব বলেন, আমি আরও বলতে পারতাম। আমাদের ইতিহাসের এক আগ্রহী পাঠক হিসেবে আমার বিশ্বাস— বাংলাদেশের ইতিহাসে এত অল্প সময়ে কোনো সরকার এত কিছু অর্জন করতে পারেনি, যতটা অন্তর্বর্তী সরকার এই ১৫ মাসে করেছে।

ad
ad

খবরাখবর থেকে আরও পড়ুন

দেশের বিভিন্ন স্থানে বজ্রবৃষ্টি ও ঝড়ের পূর্বাভাস

আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, রংপুর, বগুড়া, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ এবং সিলেট অঞ্চলসমূহের ওপর দিয়ে পশ্চিম অথবা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৬০ থেকে ৮০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। সেই সঙ্গে বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এসব এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ২ নম্বর নৌ হুঁশিয়ারী সংকেত

৩ ঘণ্টা আগে

যশোর বিমানবন্দরে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী

সফরসূচি অনুযায়ী, শার্শা থেকে ফিরে যশোর সার্কিট হাউসে স্বল্প বিরতির পর বিকেলে যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন প্রধানমন্ত্রী।

৩ ঘণ্টা আগে

শেরে বাংলা ছিলেন অসাধারণ প্রজ্ঞাবান ও অসম সাহসী রাজনীতিবিদ: রাষ্ট্রপতি

মো. সাহাবুদ্দিন বলেন, শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক তার বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনে বঙ্গীয় আইন পরিষদের সদস্য, সর্বভারতীয় মুসলিম লীগের সভাপতি (১৯১৬-১৯২১), কলকাতার মেয়র (১৯৩৫), অবিভক্ত বাংলার প্রথম মুখ্যমন্ত্রী (১৯৩৭-১৯৪৩), পূর্ব বাংলার মুখ্যমন্ত্রী (১৯৫৪) ও পূর্ব বাংলার গভর্নরের (১৯৫৬-১৯৫৮) পদসহ বহু গুরুত্বপূ

৪ ঘণ্টা আগে

এ কে ফজলুল হক ছিলেন অখণ্ড ভারতের অবিসংবাদিত নেতা: প্রধানমন্ত্রী

এ কে ফজলুল হকের ঐতিহাসিক ভূমিকার ওপর আলোকপাত করে তারেক রহমান বলেন, ১৯৪০ সালে ঐতিহাসিক লাহোর প্রস্তাব উত্থাপনের মাধ্যমে শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক এই উপমহাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেন। প্রস্তাবটি আজও ঐতিহাসিকদের মধ্যে আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এবং এটি তার দূরদর্শী নেতৃত্বের প্রতিফ

৪ ঘণ্টা আগে