ঢাকা থেকে দাম্মাম-রিয়াদগামী ফ্লাইট ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত স্থগিত

সৌদি আরবে বিমানবন্দর ও বিভিন্ন স্থাপনায় হামলার ঘটনায় নিরাপত্তাঝুঁকি বিবেচনায় ঢাকা থেকে দাম্মাম ও রিয়াদগামী সব ফ্লাইট ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত স্থগিত করেছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস। যা বৃহস্পতিবার বিকেলে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী সংস্থাটি।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, স্থগিত ফ্লাইটগুলোর বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত ও নতুন সময়সূচি যথাসময়ে জানানো হবে। তবে জরুরি প্রয়োজনে যাত্রীরা জেদ্দা ও মদিনা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ব্যবহার করে সৌদি আরবে যাওয়া এবং বাংলাদেশে ফিরতে পারবেন।
যাত্রীদের চাহিদা বিবেচনায় মদিনা রুটে বোয়িং ৭৮৭-এর পরিবর্তে বোয়িং ৭৭৭ উড়োজাহাজ যুক্ত করেছে বিমান। এতে প্রতি ফ্লাইটে আসনসংখ্যা ১৪৮টি বেড়েছে। পাশাপাশি জেদ্দা রুটে অতিরিক্ত তিনটি ফ্লাইট পরিচালনার ব্যবস্থা করা হয়েছে। টিকিট ও ভ্রমণসংক্রান্ত তথ্যের জন্য যাত্রীদের নিকটস্থ বিমান সেলস সেন্টারে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।
এদিকে, বেসরকারি উড়োজাহাজ সংস্থা ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসও ২১ অক্টোবর পর্যন্ত ঢাকা থেকে রিয়াদগামী সব ফ্লাইট বাতিল করেছে।
১০৩ ফ্লাইট ব্যাহত, ১৫ হাজার যাত্রীর ভোগান্তি
সৌদি আরবে ইরান-সমর্থিত ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের হামলার জেরে গত পাঁচ দিনে দেশটির সঙ্গে বাংলাদেশের আকাশপথে যোগাযোগে বিঘ্ন ঘটেছে। সরাসরি ও ট্রানজিট রুটের মোট ১০৩টি ফ্লাইট বাতিল বা স্থগিত হওয়ায় ভোগান্তিতে পড়েছেন ১৫ হাজার ৭৭৯ জন যাত্রী।
বৃহস্পতিবার বেলা দুইটায় প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) জানিয়েছে, বিঘ্নিত ফ্লাইটগুলোর মধ্যে ৪২টি সরাসরি এবং ৬১টি ট্রানজিট ফ্লাইট। এর আগে বুধবার পর্যন্ত ১০০টি ফ্লাইটে বিঘ্নের তথ্য পাওয়া গিয়েছিল। এক দিনের ব্যবধানে এ তালিকায় আরও তিনটি ফ্লাইট ও ৩৮৬ জন যাত্রী যুক্ত হয়েছেন।
সরাসরি ফ্লাইটের মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ১৭টি, ইউএস-বাংলার ১০টি, সৌদিয়া এয়ারলাইনসের আটটি এবং রিয়াদ এয়ারের সাতটি ফ্লাইট রয়েছে। ট্রানজিট ফ্লাইটের মধ্যে ইন্ডিগোর ২২টি, এমিরেটসের ১৪টি, কাতার এয়ারওয়েজের আটটি, সালাম এয়ারের সাতটি, ফ্লাইদুবাইয়ের ছয়টি, এয়ার ইন্ডিয়ার তিনটি এবং ইজিপ্ট এয়ারের একটি ফ্লাইটে বিঘ্ন ঘটেছে।
ফ্লাইট বাতিল ও স্থগিত হওয়ায় সৌদি আরব থেকে ছুটিতে দেশে আসা অনেক প্রবাসী নির্ধারিত সময়ে কর্মস্থলে ফিরতে পারছেন না। কারও কারও ছুটির মেয়াদ শেষ হয়ে আসছে। সময়মতো কাজে যোগ দিতে না পারলে ইকামা বা কাজের অনুমতি বাতিল হওয়া এবং চাকরি হারানোর আশঙ্কা করছেন তারা। এ পরিস্থিতিতে কেউ কেউ বিকল্প গন্তব্যের ফ্লাইটে সৌদি আরব ফেরার চেষ্টা করছেন।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা সৌদি আরবে একের পর এক হামলা চালাচ্ছে। গত শনিবারের হামলায় দুই বাংলাদেশিসহ মোট ১৪ জন নিহত হন। আহত হন আরও অনেকে। এরপর সৌদিগামী ফ্লাইট চলাচলে বিঘ্ন বাড়তে থাকে।
নিরাপত্তাঝুঁকির কারণে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস প্রথমে রিয়াদ এবং পরে দাম্মামগামী ফ্লাইট স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেয়। অন্যদিকে, রিয়াদের কিং খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর লক্ষ্য করে হামলার পর সৌদি কর্তৃপক্ষ কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেয়। মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তির আওতায় সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের জোটের পক্ষ থেকেও হুতিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
এরপরও রিয়াদ বিমানবন্দর লক্ষ্য করে একাধিক হামলার খবর পাওয়া যায়। এসব হামলায় বিমানবন্দরের স্থাপনায় আগুন লাগার খবরও আসে। নিরাপত্তাঝুঁকির কারণে বিমানবন্দরের কার্যক্রম বন্ধ রাখতে বাধ্য হয় সৌদি কর্তৃপক্ষ।
গতকাল বুধবারও রিয়াদের কিং খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি করে ইয়েমেনের সশস্ত্র হুতি গোষ্ঠী। তবে এর কয়েক ঘণ্টা আগে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট জানায়, রাজধানীর দিকে ছোড়া একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র আকাশেই ধ্বংস করা হয়েছে।

















-39080c-256x144.webp)

-f8c04e-256x144.webp)
