৬ মাসের মধ্যে ‘মাদার ট্রি’ চিহ্নিত করে সংরক্ষণের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

প্রতিবেদক, রাজনীতি ডটকম
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সভায় বিভিন্ন নির্দেশনা দেন। ছবি: পিএমও
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সভায় বিভিন্ন নির্দেশনা দেন। ছবি: পিএমও

দেশের বন ও পরিবেশ রক্ষায় আগামী ছয় মাসের মধ্যে ‘মাদার ট্রি’ চিহ্নিত করে সংরক্ষণের নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে গাছ লাগানোর পর সেগুলোর পরিচর্যা ও টিকে থাকার বিষয়টি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ, পার্বত্য চট্টগ্রামে বনায়ন বাড়ানো এবং রাজধানীর বায়ুদূষণ কমাতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সচিবালয়ে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রমের অগ্রগতি পর্যালোচনা সভায় এসব নির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী। পরে তার উপপ্রেস সচিব হাসান শিপলু সভার সিদ্ধান্ত ও নির্দেশনার বিষয়গুলো জানান।

হাসান শিপলু বলেন, পরিবেশ ও বন রক্ষায় জনসচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি সরকারি কর্মকর্তাদের নির্ধারিত দায়িত্বের বাইরে গিয়েও দেশের জন্য উদ্যোগী হতে বলেছেন প্রধানমন্ত্রী। গাছ লাগানোর পাশাপাশি সেগুলোর নিয়মিত পরিচর্যা এবং রোপণ করা চারা বেঁচে আছে কি না, তা নিজস্ব লোক পাঠিয়ে পর্যবেক্ষণের নির্দেশনাও দিয়েছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সভা। ছবি: পিএমও
বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সভা। ছবি: পিএমও

‘মাদার ট্রি’ বলতে বনের পুরনো ও বড় গাছকে বোঝায়, যেগুলো আশপাশের গাছ ও চারার বেড়ে ওঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। মাটির নিচে ছত্রাকের জালের মাধ্যমে এসব গাছের সঙ্গে অন্য গাছের সংযোগ তৈরি হতে পারে। এ ব্যবস্থার মাধ্যমে পানি ও বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান আদান-প্রদান হয়। বনের বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্য রক্ষায়ও এ ধরনের গাছ গুরুত্বপূর্ণ।

সভায় প্রকৃতির কাছাকাছি মানুষের যাওয়ার সুযোগ বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী। হাসান শিপলু বলেন, “সভায় প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, মানুষের প্রকৃতির মাঝে যাওয়ার জায়গা কম। এ ধরনের জায়গা বাড়াতে হবে। পাশাপাশি ছাদবাগান, স্কুলবাগানসহ বিভিন্ন ভবনে বাগান তৈরিতে মানুষকে উৎসাহ দিতে হবে।”

রাজধানীর বায়ুদূষণ নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “অনেক বছর ধরে ঢাকা বিশ্বের দূষিত শহরগুলোর তালিকায় প্রথম বা দ্বিতীয় স্থানে উঠে আসছে। এটি দেশের জন্য লজ্জার বিষয়। এ পরিস্থিতি পরিবর্তনে প্রত্যেককে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্ব নিতে হবে।”

পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আপনি আপনার যেটা ডিউটি, তার থেকে কিন্তু একটু বেশি করার সক্ষমতা আপনার রয়েছে। দেশের জন্য কাজ করার সুযোগ সবার কাছে আসে না। যারা আজ দায়িত্বশীল অবস্থানে রয়েছেন, তাদের সেই সুযোগ রয়েছে। শুধু নির্ধারিত দায়িত্ব পালন করেই থেমে গেলে হবে না। দেশের মানুষের জন্য আরও কিছু করার চেষ্টা থাকতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, “আল্লাহ তাআলা আমাদের একটা সুযোগ দিয়েছেন এই দেশের জন্য, এই দেশের মানুষের জন্য কিছুটা করার। আপনি নয়টা-পাঁচটা অফিস করতেই পারেন। এরপরে যদি আপনি কিছু না করেন, কেউ কিছু বলবে না। কিন্তু পরিবেশটা যদি খারাপ হয়ে যায়, ভবিষৎ প্রজন্ম ক্ষতিগ্রস্ত হবে। কারণ, আপনার পরবর্তী প্রজন্ম তো দেশেই থাকবে।”

দেশে পাঁচ বছরে ২৫ কোটি গাছ লাগানোর পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, “ঠিকভাবে কাজ করতে পারলে এর সুফল দেশের সব মানুষ পাবে। সবাই এগিয়ে এলে দেশের মানুষের জন্য সম্মিলিতভাবে ভালো কিছু করা সম্ভব হবে।”

প্রধানমন্ত্রীর উপপ্রেস সচিব হাসান শিপলু জানান, সভায় আরও সিদ্ধান্ত হয়েছে যে অন্যান্য মন্ত্রণালয় নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে কম গাছ লাগালে সেই ঘাটতি পূরণে পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয় উদ্যোগ নেবে। পাশাপাশি রোপণ করা গাছের পরিচর্যা ও তদারকি নিশ্চিত করতে হবে।

বন, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক মন্ত্রী আব্দুল আউয়াল মিন্টুর সভাপতিত্বে সভায় প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী সাইমুম পারভেজ, ভারপ্রাপ্ত সচিব ফাহমিদা খানমসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

Ad
ad
Ad 300x250

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

Ad 300x250
ad
Advertisement