রিক্রুটিং এজেন্সি ৩ হাজারের বেশি, মান যাচাইয়ে টিকবে সর্বোচ্চ ৫০০: প্রতিমন্ত্রী নুর

প্রতিবেদক, রাজনীতি ডটকম
মঙ্গলবার রামরুর ত্রিশ বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে আয়োজিত সম্মেলনে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক নুর। ছবি: সংগৃহীত
মঙ্গলবার রামরুর ত্রিশ বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে আয়োজিত সম্মেলনে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক নুর। ছবি: সংগৃহীত

দেশে তিন হাজারের বেশি রিক্রুটিং এজেন্সি থাকলেও কাজের মান ও দক্ষতার ভিত্তিতে গ্রেডিং করা হলে সর্বোচ্চ ৩০০ থেকে ৫০০টি টিকে থাকতে পারে বলে মনে করেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর। এজেন্সিগুলোর অনিয়ম ও প্রতারণা বন্ধে তাদের কার্যক্রমের মূল্যায়ন করে শ্রেণিবিন্যাসের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) ঢাকার হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে ‘সোনার মানুষ সম্মিলন’ অনুষ্ঠানের প্রথম অধিবেশনে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী নুর। অভিবাসন ও শরণার্থীবিষয়ক গবেষণা প্রতিষ্ঠান রিফিউজি অ্যান্ড মাইগ্রেটরি মুভমেন্টস রিসার্চ ইউনিটের (রামরু) ৩০ বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে দুইদিনব্যাপী এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।

অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর বলেন, বিদেশে কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কিছু রিক্রুটিং এজেন্সি দায়িত্ব পালন করে। কর্মীরা কোন কাজে যাচ্ছেন, তাদের বেতন কত এবং কী ধরনের সুযোগ-সুবিধা পাবেন, সে বিষয়ে এসব এজেন্সির তথ্য দেওয়ার কথা।

তিনি আরো বলেন, “বিদেশে যাওয়ার ক্ষেত্রে তো দেশেই তো কিছু সিলেক্টেড রিক্রুটিং এজেন্সি থাকে, যারা সেটার জন্য রেসপন্সিবল থাকে; যে তারা কোন কাজে যাচ্ছে, তাদের বেতন কত, তাদের কী ধরনের সুযোগ-সুবিধা আছে— এটা তো তারা বলে নেয়।”

“কিন্তু বাংলাদেশের অনেকগুলো রিক্রুটিং এজেন্সি, যাদের অনলাইনে যেটা আমাদের ডিজিটাল সিস্টেম, ‘বোয়েসেল’— যেটার মাধ্যমে মূলত ডিমান্ড লেটার, অ্যাটেস্টেশন থেকে শুরু করে বিভিন্ন ধরনের কাজ করা যায়। এবং যেটা লঞ্চিংয়ের ক্ষেত্রে সুইজারল্যান্ড হেল্প করেছে, আইওএম হেল্প করেছে— এজন্য তাদেরকে স্পেশাল থ্যাংকস জানাই,” বলেন নুর।

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, অনলাইন ব্যবস্থা চালু থাকার পরও অনেক রিক্রুটিং এজেন্সি নানা অনিয়মে জড়াচ্ছে। অনিয়মের কারণে কোনো এজেন্সির কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হলেও কেউ কেউ আদালতের মাধ্যমে বা প্রভাবশালীদের সহায়তায় আবার ব্যবসা শুরু করছে। ফলে একই ধরনের অনিয়ম ও প্রতারণা চলতে থাকছে।

নুরুল হক নুর বলেন, “কিন্তু আমাদের এই অনলাইন প্রক্রিয়া থাকার পরেও দেখা যায় অনেক এজেন্সি, তারা নানা ধরনের অনিয়মের সাথে ইনভলভ থাকে, তাদের ওটা লক করে দেওয়া হয়। তারা গিয়ে কোর্টে গিয়ে, কেউ পেছনের লোক ধরে আবার তাদের ব্যবসাটা শুরু করে। এবং তারা এই ধারাবাহিক অনিয়মটা কিংবা প্রতারণাটা করেই যাচ্ছে।”

“আমরা চেষ্টা করছি যে, বিশেষ করে রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোকে একটা ক্যাটাগরির মধ্যে নিয়ে আসতে। বাংলাদেশে প্রায় তিন হাজারের মতো রিক্রুটিং এজেন্সি আছে, তিন হাজার প্লাস। তো আমার ধারণা যে, এটাকে যদি একটা গ্রেডিং করা হয়, তাদের পারফরমেন্সের ভিত্তিতে খুব বেশি টিকবে না। তার মানে আমি বলতে চাই না, সংখ্যাটা একেবারেই ৩ থেকে ৪ শ কিংবা ৫০০ হাইয়েস্ট হতে পারে,” যোগ করেন তিনি।

প্রবাসীদের প্রণোদনা বাড়ানোর পরিকল্পনা

প্রবাসীদের ব্যাংকিং সুবিধা সহজ করা ও আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার উদ্যোগের কথাও জানান প্রতিমন্ত্রী। বৈধ পথে দেশে রেমিট্যান্স পাঠালে বর্তমানে আড়াই শতাংশ প্রণোদনা দেওয়া হয়। প্রবাসী কার্ডধারীদের জন্য তা বাড়িয়ে ৩ শতাংশ করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান তিনি।

প্রবাসী কার্ডের পরীক্ষামূলক কার্যক্রম সম্পর্কে নুরুল হক নুর বলেন, “জর্ডান, দক্ষিণ কোরিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে এই স্পেশাল কার্ডের ট্রায়াল ফেজ চলছে। যা একদিকে এটিএম কার্ড হিসেবে লেনদেনে ব্যবহৃত হবে এবং অন্যদিকে দেশে সরকারি-বেসরকারি সেবা ও চিকিৎসার ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার নিশ্চিত করবে।”

প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংককে বাণিজ্যিক ব্যাংকে রূপান্তরের প্রক্রিয়া চলছে জানিয়ে তিনি বলেন, “প্রবাসীদের প্রেরিত রেমিটেন্সের ওপর ভিত্তি করে দেশে নতুন ব্যবসা, কর্মসংস্থান বা ঘরবাড়ি তৈরির ক্ষেত্রে আমরা ৩ থেকে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত লোন প্রদানের ক্ষেত্রে বিশেষ অগ্রাধিকার দেবো।”

অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন যুক্তরাজ্যের এক্সেটার বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক উইলিয়াম নিল অ্যাডজার। অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান, সুইজারল্যান্ড দূতাবাসের শার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স ডিয়েপাক এলমার, বিশ্বব্যাংকের সাবেক মুখ্য অর্থনীতিবিদ দিলীপ রাথা এবং রামরুর প্রতিষ্ঠাতা সদস্য চৌধুরী রফিকুল আবরার।

Ad
ad
Ad 300x250

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

Ad 300x250
ad
Advertisement