রিকনসিলিয়েশন ভালো উদ্যোগ, তবে তা আ.লীগকেই চাইতে হবে: তথ্য উপদেষ্টা

আওয়ামী লীগের সঙ্গে রাজনৈতিক পুনর্মিলন বা ‘রিকনসিলিয়েশন’ ভালো উদ্যোগ হতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান। তবে এ উদ্যোগের জন্য আওয়ামী লীগকেই আগ্রহ দেখাতে হবে বলে মনে করেন তিনি।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সচিবালয়ে সরকারের কর্মকাণ্ড তুলে ধরতে আয়োজিত নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন তথ্য উপদেষ্টা।
জাহেদ উর রহমান বলেন, রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে ক্রমাগত হুমকির প্রেক্ষাপটে সরকারের দিক থেকে রিকনসিলিয়েশনের আলোচনা শুরু করা কঠিন। তাঁর মতে, এ ধরনের আলোচনার আগে মৌলিক কিছু শর্ত নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, ‘...কিন্তু আমরা খুব অবাক হয়ে ৫ তারিখের পর (২০২৪ সালের ৫ আগস্ট) থেকে এখন পর্যন্ত দেখছি, সেই দলটি, সেই দলটির প্রধান নেত্রী, তিনি এখনো ব্লেম করছেন, আমাদের হুমকি দিচ্ছেন। আমি একটা সময় তাঁর বক্তব্য...মনে হয় প্রথম কথা বলতে শুনলাম, খুব শোনার চেষ্টা করেছি। তিনি সমানে হুমকি দিচ্ছেন, সবাইকে দেখে নেবেন, পাল্টা এই করে ফেলো, ওই করে ফেলো, নানান রকম হুমকি ক্রমাগত দিয়ে গেছেন।’
এর আগে সোমবার রাজধানীর একটি হোটেলে সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস) আয়োজিত ‘বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন-২০২৬’-এ আলোচকেরা অপরাধের বিচার ও জবাবদিহির পাশাপাশি জাতীয় পুনর্মিলনের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন। তাঁদের মতে, রিকনসিলিয়েশন না হলে সমাজ গভীরভাবে বিভক্ত থেকে যায়। মুক্তিযুদ্ধ, পার্বত্য অঞ্চলের সহিংসতা এবং জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত অপরাধের বিচার ও জবাবদিহির পাশাপাশি পুনর্মিলনের প্রয়োজনীয়তার কথাও আলোচনায় উঠে আসে।
ওই আলোচনার প্রসঙ্গ টেনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে জাহেদ উর রহমান বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর সরকার রিকনসিলিয়েশন নিয়ে অনেক আলোচনা করেছে। দেশের একটি অংশ এখনো আওয়ামী লীগকে সমর্থন করে উল্লেখ করে তিনি বলেন, তাঁরা দেশের নাগরিক। যারা আওয়ামী লীগ সক্রিয়ভাবে করেছে, তাদের সঙ্গে রিকনসিলিয়েশন খারাপ ধারণা নয়, বরং ভালো উদ্যোগ হতে পারে।
তিনি বলেন, ‘এই আলাপগুলো ৫ আগস্টের (২০২৪ সালের ৫ আগস্ট) পর থেকে আমরা প্রচুর করেছি, দুভার্গ্যজনকভাবে দেশের একটা সংখ্যার মানুষ, আমি আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মী, যাঁরা পালিয়ে গেছেন, তাঁদের কথা বলছি না। যাঁরা এ দেশে আছেন, তাঁদের মধ্যে একটি পারসেন্টেজের মানুষ, পারসেন্টেজ নিয়ে ডিবেট করতে পারি, সেই ডিবেটে যাচ্ছি না, মানুষ এখনো আওয়ামী লীগ সমর্থনও করেন। সুতরাং এ দেশের নাগরিক তাঁরা।...সুতরাং এই মানুষগুলোকে বা যাঁরা আওয়ামী লীগ সক্রিয়ভাবে করেছেন, তাঁদের সঙ্গে রিকনসিলিয়েশন খারাপ আইডিয়া নয়, ভালো আইডিয়া। এটা হলে ভালো হতো। কিন্তু রিকনসিলিয়েশনের আদি শর্তটি কী? কোন ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে রিকনসিলিয়েশন হয়?’
রিকনসিলিয়েশনের ভিত্তি হিসেবে অপরাধের স্বীকৃতি ও অনুতাপের ওপর গুরুত্ব দেন তথ্য উপদেষ্টা। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে আওয়ামী লীগ এ ধরনের উদ্যোগ চাইছে না বলে মন্তব্য করেন তিনি।
জাহেদ উর রহমান বলেন, ‘তারা চাচ্ছে না, রিকনসিলিয়েশন তো তাদের চাইতে হবে।’
যারা মাঝখান থেকে রিকনসিলিয়েশনের উদ্যোগের পক্ষে কথা বলছেন, তাদের আওয়ামী লীগের সঙ্গে যোগাযোগ করার আহ্বানও জানান প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা।
তিনি বলেন, ‘কেউ যদি মাঝখান থেকে রিকনসিলিয়েশন চেয়ে থাকেন, তাঁদের যদি মনে হয় এটা ভালো, আমিও মনে করি ভালো, তাঁদের উচিত আওয়ামী লীগের সঙ্গে যোগাযোগ করা, আওয়ামী লীগের সঙ্গে কথা বলা।’

















