ইউপি নির্বাচনের ঘোষিত সময়সূচি ‘একেবারেই প্রাথমিক’: ইসি সচিব

সাত ধাপে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন আয়োজনের যে সম্ভাব্য সময়সূচি ঘোষণা করা হয়েছে, সেটিকে ‘একেবারেই প্রাথমিক’ বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ। তিনি বলেছেন, সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর (বৃহস্পতিবার) আলোচনা শেষে নির্বাচনের সময়সূচি চূড়ান্ত করা হবে।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ইসি সচিব এ কথা বলেন।
আখতার আহমেদ বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন হবে, এটি নিশ্চিত। তবে নির্বাচন কবে, কী পদ্ধতিতে বা কোন পর্যায়ে হবে, তা নিয়ে কমিশনে গত দুই দিন ধরে প্রাক্-প্রস্তুতিমূলক আলোচনা হয়েছে। এর ধারাবাহিকতায় গতকাল একটি টেন্টেটিভ (প্রাথমিক) সময়সূচি করা হয়েছে। সেখানে পাঁচটি ধাপে নির্বাচন আয়োজনের কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি দুটি ধাপ রিজার্ভ রাখা হয়েছে। তবে এটি একেবারেই প্রাথমিক সময়সূচি। ১৭ সেপ্টেম্বর সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে বৈঠকের পর স্থানীয় নির্বাচনের সময়সূচি চূড়ান্ত করা হবে।
এর আগে সোমবার নির্বাচন কমিশন জানিয়েছিল, সাত ধাপে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন আয়োজনের পরিকল্পনা করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ জানান, প্রথম ধাপের ভোট আগামী ১২ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাব্য তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। দ্বিতীয় ধাপের ভোট হতে পারে ১৩ ডিসেম্বর, তৃতীয় ধাপের ভোট ৩০ ডিসেম্বর, চতুর্থ ধাপের ভোট আগামী বছরের ১৭ জানুয়ারি, পঞ্চম ধাপের ভোট ৪ ফেব্রুয়ারি, ষষ্ঠ ধাপের ভোট ২২ এপ্রিল এবং সপ্তম ধাপের ভোটের সম্ভাব্য তারিখ ২৭ মে।
মঙ্গলবার সকালে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম সাংবাদিকদের বলেন, তারা পত্রিকা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও টেলিভিশনে দেখেছেন যে নির্বাচন কমিশন কয়েক ধাপে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করেছে। এ বিষয়ে সরকার কিছুই জানে না। সরকারের সঙ্গে ইসির কোনো পত্র যোগাযোগ বা অন্য কোনোভাবে আলোচনা হয়নি বলেও জানান তিনি।
স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রীর এ বক্তব্যের কিছু সময় পর নির্বাচন কমিশনের অবস্থান স্পষ্ট করেন ইসি সচিব আখতার আহমেদ। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, গতকালই এ বিষয়ে বিস্তারিত বলা হয়েছে। সাংবাদিকদের কৌতূহলের কারণে তিনি বিষয়টি স্পষ্ট করছেন।
স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের মন্তব্যের বিষয়ে কোনো পাল্টা মন্তব্য করতে রাজি হননি ইসি সচিব। এ বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘উনি যেটা বলেছেন, সেটা শিরোধার্য। তবে এ বিষয়ে পাল্টা কোনো মন্তব্য করার ধৃষ্টতা আমি দেখাব না। নো কমেন্টস ফ্রম মাই সাইড।’
মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রয়োজন হবে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে ইসি সচিব বলেন, ১৭ সেপ্টেম্বরের বৈঠকের পর প্রয়োজনীয় ইনপুট পাওয়ার ভিত্তিতে কমিশনই এ বিষয়ে বিস্তারিত জানাবে। ‘সরকারের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে কি না’ প্রশ্নের জবাবে আখতার আহমেদ বলেন, আলোচনা তো একটা চলমান প্রক্রিয়া। কার সঙ্গে কখন, কীভাবে আলোচনা হয়েছে, এ বিষয়ে এ মুহূর্তে বাড়তি কোনো মন্তব্য করতে তিনি রাজি নন।



















