কাতারে গ্রেপ্তার সাবেক বিমান বাহিনী প্রধান শেখ আব্দুল হান্নান

প্রতিবেদক, রাজনীতি ডটকম
আপডেট : ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৫: ১১
বিমান বাহিনীর সাবেক প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল শেখ আব্দুল হান্নান। ছবি: সংগৃহীত
বিমান বাহিনীর সাবেক প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল শেখ আব্দুল হান্নান। ছবি: সংগৃহীত

অবৈধ সম্পদ অর্জন ও অর্থ পাচারের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা দুটি মামলার আসামি বিমান বাহিনীর সাবেক প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল শেখ আব্দুল হান্নান কাতারে গ্রেপ্তার হয়েছেন।

রোববার দুদকের উপপরিচালক মো. আকতারুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তবে হান্নানকে কবে, কীভাবে এবং কোন কর্তৃপক্ষ গ্রেপ্তার করেছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে পারেননি তিনি। দুদক কীভাবে গ্রেপ্তারের খবর পেয়েছে, তা-ও তার জানা নেই। এ বিষয়ে দুদক সচিব সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিত জানাবেন বলে জানান আকতারুল ইসলাম।

২০২৫ সালের ২৭ জুলাই শেখ আব্দুল হান্নান ও তার স্ত্রী তাহমিদা বেগমের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জন ও অর্থ পাচারের অভিযোগে পৃথক দুটি মামলা করে দুদক। সংস্থাটির উপপরিচালক মো. তানজির হাসিব সরকার বাদী হয়ে ঢাকার সমন্বিত জেলা কার্যালয়-১-এ মামলা দুটি করেন।

সেদিন দুদকের মহাপরিচালক মো. আক্তার হোসেন জানিয়েছিলেন, অনুসন্ধানে শেখ আব্দুল হান্নানের জ্ঞাত আয়ের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ ৩ কোটি ২৮ লাখ ৫১ হাজার ৫০৬ টাকার সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে। এ ছাড়া তার নামে থাকা ছয়টি ব্যাংক হিসাবে ২৭ কোটি ৬৩ লাখ ৬৬ হাজার ৭০০ টাকার সন্দেহজনক লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে।

দুদকের অভিযোগ, ক্ষমতার অপব্যবহার ও অপরাধমূলক অসদাচরণের মাধ্যমে এসব সম্পদ অর্জন করেন সাবেক এই বিমান বাহিনী প্রধান। ব্যাংক হিসাবে সন্দেহজনক লেনদেনের মাধ্যমে অর্থের উৎস গোপন করার অভিযোগও আনা হয় তাঁর বিরুদ্ধে। মামলাটি দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন ও মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে করা হয়।

অন্য মামলায় তাহমিদা বেগমের বিরুদ্ধে ১ কোটি ৯১ লাখ ৯০ হাজার ৩০৪ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয়েছে। পাশাপাশি তাঁর নামে থাকা ৩২টি ব্যাংক হিসাবে ১ কোটি ১৮ লাখ ১৯ হাজার ৯২৩ টাকার সন্দেহজনক লেনদেনের তথ্য পাওয়ার কথা জানিয়েছে দুদক। সংস্থাটির অভিযোগ, স্বামীর সহায়তায় এসব সম্পদ অর্জন করেছেন তাহমিদা। এ মামলায় তাঁর পাশাপাশি শেখ আব্দুল হান্নানকেও আসামি করা হয়েছে।

দুদকের অনুসন্ধানে কাতার ও দুবাইসহ বিভিন্ন দেশে হান্নানের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও সম্পদের তথ্য পাওয়ার কথা জানানো হয়েছিল। কানাডায় তাঁর সন্তানদের নামেও বিপুল সম্পদ থাকার তথ্য পাওয়ার দাবি করে সংস্থাটি। এসব সম্পদের বিস্তারিত তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা হবে বলে তখন জানানো হয়।

দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধানের মধ্যেই ২০২৫ সালের ৫ মে শেখ আব্দুল হান্নান, তার স্ত্রী তাহমিদা বেগম ও ছেলে শেখ লাবিব হান্নানের বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা দেন আদালত। পরদিন আদালত হান্নানের জমি, বাড়ি ও তিনটি ফ্ল্যাট জব্দের পাশাপাশি তাঁর ছয়টি ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ করার আদেশ দেন। একই বছরের ২৪ মে হান্নান, তাঁর স্ত্রী ও ছেলের নামে থাকা মোট ৩৮টি ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়।

এরপর ২০২৫ সালের ১১ নভেম্বর হান্নানের সহযোগী সানজিদা আক্তারের নামে থাকা দুটি ফ্ল্যাট জব্দ এবং ১০টি ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ করার আদেশ দেন আদালত। দুদকের আবেদনে অভিযোগ করা হয়, অবৈধভাবে অর্জিত সম্পদ আড়াল করতে সানজিদার নামে ফ্ল্যাট দুটি কেনা হয়েছিল।

চলতি বছরের ৩০ মার্চ মামলার তদন্তের প্রয়োজনে শেখ আব্দুল হান্নান ও তাঁর স্ত্রী তাহমিদার আয়কর নথি জব্দের আদেশ দেন আদালত। সর্বশেষ গত ২০ সেপ্টেম্বর বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলায় হান্নানের নামে থাকা ৩৪ শতাংশ জমি ক্রোকের নির্দেশ দেওয়া হয়। দুদকের আবেদনে জমিটির দলিলমূল্য ১৭ লাখ ৬৪ হাজার টাকা উল্লেখ করা হয়েছিল।

শেখ হাসিনা সরকারের সময় ২০২১ সালের ১২ জুন বিমান বাহিনীর প্রধান হিসেবে দায়িত্ব নেন শেখ আব্দুল হান্নান। ২০২৪ সালের ১১ জুন তিনি অবসরে যান। ওই বছরের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতন ঘটে।

Ad
ad
Ad 300x250

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

Ad 300x250
ad
Advertisement